আপনার গৃহের সৌন্দর্য

নিজ গৃহ ,ছোট একটা শব্দ তবে এতেই লুকিয়ে আছে বিশাল একটা শান্তি। কত সপ্ন সুখ শান্তি জড়িয়ে থাকে একটি ঘর কে ঘিড়ে তা একজন গৃহকর্তা বা কএী জানেন শুধু ।আপনি দেশ বিদেশ ঘুরেই আসুন আর কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়িতে থাকুন।সব শেষে যে নিজ আবাসেই সব শান্তি খোঁজে পান তা অস্বীকার করতে পারবেন না। অফিসের ক্লান্ত সময় কি স্কুল/কলেজ সব শেষে একটুখানি প্রশান্তি খোজেঁ ফেরেন আপন গৃহে।অনেকের ই ভুল ধারনা যে ঘর কে সুন্দর করে সাজাতে মোটা অংকের টাকার প্রয়োজন।কথাটা মোটেই ঠিক নয়। আপনি খুব সল্প মূল্যেই আপনার সপ্নের গৃহকে সুন্দর রূপে সাজাতে পারেন।

তবে চলুন আজ এ সম্পর্কেই আলোচনা করা যাক। ধাপে ধাপে দেখে নেই ঘরের সাজ বা ডেকোরেশন করার কিছু আইডিয়া।

বাসার বাইরের অংশ:আপনার বাসার সামনে যদি খালি জায়গা থাকে সেখানে শখের বাগান করতে পারেন। কিছু ফুল যেমন আপনার বাসার সৌন্দর্য্য় বাড়িয়ে দেবে শতগুন।সাথে আপনার মনকেও রাখবে প্রফুল্ল।কিছু গোলাপ,চামেলী আর জঁবা ফুলের চারা লাগিয়ে দেখুন না কেমন সুন্দর দেখায় আপনার বাসা টাকে।আরেকটা আইডিয়া দিতে চাই।ইচ্ছা হলে বাগানের পাশে ছোট্ট একটা দোলনা রেখে দিতে পারেন।অবসরে এক কাপ চা নিয়ে দোল খেতে পারেন আপনি আর দোলনা আপনার বাসার সৌন্দর্য্য ও বাড়িয়ে দিবে।

বসার ঘর:খুবই গুরত্বপূর্ন অংশ এটি।যতটা সম্ভব নান্দনিক রূপে সাজিয়ে তুলুন। খুব বেশী ভারী ফার্নিচার ব্যবহার না করাই ভালো। চাইলে বেতের সোফা ব্যবহার করতে পারেন । তবে খেয়াল রাখুন বসার ঘরের পর্দা আর সোফার মধ্য়ে সামান্য মিল রেখে ঘর সাজাতে চেষ্টা করুন।খুব সাদামাটা ভাবে না সাজানোই ভালো। মাঝামাঝি করে সাজানোর চেষ্টা করুন।বসার ঘরে কার্পেট ব্যবহার করলে ভালো দেখাবে।সোফার সাথে মিলিয়ে কুশন কভার ব্যবহার করুন। হরেক রঙের কুশন ব্যবহার করলে দেখতে ভালো লাগবে।দেয়াল টা পছন্দের রঙে রাঙিয়ে নিন। দেয়ালের রঙ হালকাই ভালো লাগবে তবে ইচ্ছা হলে দেয়ালে ফুটিঁয়ে তুলতে পারেন বিভিন্ন কারুকাজ। আজকাল ওয়াল আর্ট বেশ চলছে ।মাটিতে টাইলস্ লাগালে খেয়াল রাখবেন তা যেনো দেয়ালের রঙের সাথে মানিয়ে যায়।অপেক্ষাকৃত বড় টাইলস্ ব্যবহার করলে ময়লা আটকাবে না ।ঘরের মাটি পরিষ্কার করাটাও সহজ হবে। বসার ঘরে ইচ্ছে অনুযায়ী কালারফুল লাইট ব্যবহার করুন রাতে জ্বালিয়ে দিন দেখুন অনেক চমৎকার দেখাবে।ইচ্ছা হলে বসার ঘরে ছোটবড় অনেক রকম শো-পিস রেখে দিন দেখতে ভালো লাগবে।ঝাড়বাতি ব্যবহার করতে পারেন বসার ঘরে।একটা টিভিও রেখে দিন অতিথিদের জন্য সুন্দর দেখাবে।দেয়ালে ওয়াল ম্য়াট কিংবা ফ্যামিলি ফটো লাগিয়ে নিতে পারেন।

প্যাসেজ: বাসায় প্যাসেজ থাকে অনেকের ।এটা একটা বাড়তি পাওয়া।মন মতো সাজিয়ে নিন।আপনার ঘরের এ অংশ নজর কাড়বে সবার।আয়না লাগিয়ে নিন।এতে এক ধরনের ইলিউশন সৃষ্টি হবে।আয়নার সামনে ছোট ছোট লাল,নীল বাতি ব্যবহার করতে পারেন। ফ্যামিলি ফটো কিংবা বিভিন্ন পেইন্টিংস ঘরের এই জায়গায় মানিয়ে যায় সহজেই।

 

 

শোবার ঘর: শোবার ঘর সাজানোর ক্ষেএে আরামকে প্রাধান্য দিন।ঘরের পর্দা ,বিছানার চাদর সবই হালকা রঙের ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।ইচ্ছা হলে একটা টিভি রাখতে পারেন।রেখে দিন একটা ইজি চেয়ারও।এ ঘরেও ইচ্ছা হলে দেয়াল আর্ট করাতে পারেন তবে হিজিবিজি আর্ট এড়ানোর চেষ্টা করুন।এ রুমের দেয়ালে হালকা রঙই মানাবে ।প্রথমেই বলেছি এ ঘর সাজাতে আরাম কে প্রাধান্য দিন।দরজায় ডোরবেল লাগিয়ে নিন।ইচ্ছা হলে এখানেও শো পিস রাখতে পারেন।এই রুমে ফুলদানিতে ফ্রেশ কিছু ফুল রাখুন দেখবেন ভালো লাগবে। মাটিতে কার্পেট বা সুন্দর বড় পাপোশ ফেলে রাখুন। আর অবশ্যই সব সময় রুমটা ক্লিন রাখুন।কারন ক্লিন না থাকলে কখনোই শোবার ঘর কি পুরো বাড়িটাই কখনোই সুন্দর লাগা সম্ভব না।

বাচ্চাদের ঘর:এক্ষেএে ঘর সাজানোর ক্ষেএে বাচ্চাদের মত কে প্রাধান্য দিন।কার্টুন ওয়ালা বিছানার চাদর,ওয়াল আর্ট ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন । পড়ার একটা টেবিল ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন ঘর সাজানোর ক্ষেএে ফার্নিচার গুরত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে তাই ভালো ,সিম্পল কিন্তু দেখতে সুন্দর এমন মানের ফার্নিচার ব্যবহার করুন।এ ঘরেও ইচ্ছা হলে দোলনা ব্যবহার করতে পারেন ।এক্ষেএে ছোট সাইজের দোলনা ব্যবহার করুন।

খাবার ঘর: এখানেই আপনার অতিথিরা অনেক সময় পার করে থাকেন। এই ঘর সাজাতে থিম অনুসরন করুন। বেতের জিনিসকে প্রাধান্য দিলে পুরোটাই বেত দিয়ে সাজান।আর কাচেঁর আসবাব ভালো লাগলে পুরোটাই কাচেঁর দিয়ে সাজান।দেখতে সুন্দর এমন সিংক ব্যবহার করুন। চাইলে এ ঘরে একটা শোকেসে বাসন সাজিয়ে রাখতে পারেন। সিংকের পাশে সুন্দর আয়না রাখুন ।ইচ্ছা হলে আয়নায় কালারফুল লাইট লাগিয়ে দিন। একটা কথা বলে রাখি খাবার ঘরের ওয়ালে একটু ডার্ক পেইন্ট করলেই ভালো এতে খাবারের দাগ লাগলেও তা দেখা যাবে না।এ ঘরের দেয়ালে অনেকেই এক রঙ না করে ভিন্ন ভিন্ন রঙ করাচ্ছেন অনেকেই চাইলে আপনিও করিয়ে নিতে পারেন।

রান্নাঘর: এখানেও একই কথা বলব দেয়ালে ডার্ক রঙ আর মাটিতে ডার্ক রঙের টাইলস্ ব্যবহার করুন । কারন রান্নাঘর খুব সহজেই ময়লা হয়ে যায়। ডার্ক রঙের কারনে ময়লা ভাসবে না খুব না একটা।চুলা ,ওভেন ফ্রিজ রেখে দিন রান্নাঘরে তবে তা নিয়মিত পরিষ্কার করলেই রান্নাঘর দেখতে ভালো লাগবে। কেবিনেট লাগিয়ে নিন। মার্বেল পাথরের কেবিনেটে সাজিয়ে রাখুন প্রয়োজনীয় জিনিস পএ। দেখতেও ভালো লাগবে কাজেও পাবেন বাড়তি সুবিদা। ব্যাস এতেই সুন্দর দেখাবে আপনার রান্নাঘর।রান্নাঘরে ইচ্ছা হলে ছোট্ট একটা খাবার টেবিল রেখে দিন। তবে রান্নাঘর ছোট হলে তার দরকার নেই।ফ্রিজ ,ওভেন ইত্যাদি ভালো মানের দেখে কিনুন এগুলো কিচেনের সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিবে শত গুন।

বাথরুম: ওয়াশরুম বা বাথরুম এর সৌন্দর্য্য নির্ভর করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর। তাই সবার আগে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন।

ভালো মানের বেসিন,কমোড ,আয়না ব্যবহার করুন যা সহজেই পরিষ্কার করা যায়।বাজারে বিভিন্ন ধরনের ডেকোরেটেড টাইলস্ পাওয়া যাচ্ছে ওয়াশরুমে তা ব্যবহার করতে পারেন।এখানেও কালারফুল বাতি ব্যবহার করতে পারেন।

বারান্দা: বাসার অত্যন্ত গুরত্বপূর্ন অংশ বারান্দা ইচ্ছামতো করে সাজিয়ে নিতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের ফুল লাগিয়ে দিন টবে। পাখি পছন্দ করেন? তবে একটা খাঁচায় পাখি রেখে দিন ইচ্ছা হলে ।বারান্দায় মাটিতে বসার আয়োজন রাখতে পারেন । তোশকের সুন্দর ম্যাট আর কুশন ফেলে রাখুন দেখবেন ভালো লাগবে। মাটিতে ভালো না লাগলে দুটো ইজি চেয়ার রেখে দিন।অথবা দোলনা রাখলেও বসতে পারেন। এখানে ইচ্ছা হলে লাইট লাগিয়ে দিন ।মোট কথা বারান্দায় প্রাকৃতিক আবহ টা থাকলেই ভালো লাগবে।

 

আরো জেনে নিন বাসা সুন্দর রাখার কিছু টিপস্

  • ফার্নিচার সুন্দর দেখে ব্যবহার করুন। পুরো বাসাতেই একই ধরনের ফার্নিচার ব্যবহার করুন। দাম নয় মানকেই প্রাধান্য দিন।
  • দরজা জানালা কাচেঁর ব্যবহার করতে পারেন ।এতে অভিজাত ভাব টা আসবে।
  • বাসার আশপাশ ভেতর পরিষ্কার রাখুন যতটা সম্ভব ।
  • প্লাস্টিক পেইন্ট করে নিতে পারেন।
  • বাসার গেট টাও রুচিশীল হলে ভাল
  • ছোট ছোট জিনিসপএ নির্বাচনের ক্ষেএে ও দামি নয় বরং রুচিশীল জিনিস পএকেই প্রাধান্য দিন।
  • মনে রাখবেন ছোট ছোট ব্যাপারগুলো খেয়াল রাখলেই আপনার গৃহটাকে অনেক সুন্দর দেখাবে।মূলত ঘর সাজাতে কিছুটা কৌশল অবল্মবন করুন।
  • দিনশেষে সব দামি কিছুই যে দেখতে ভালো লাগবে না তা নয় কিন্তু ।আর সব সুন্দর জিনিসই যে দামি তা কিন্তু নয়।
  • মনের মতো করে সাজিয়ে নিন আপনার ঘর তবে অবশ্যই ঘরের প্রত্যেক সদস্যদের মতামত নিয়েই সাজান এতে নতুন আইডিয়া গুলো পেয়ে যাবেন খুব সহজেই আর আপনার বাড়ির প্রতিটা দিক হয়ে উঠবে আকর্ষনীয় ।

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

১ টি মন্তব্য
  1. Reply Emon Acharjee মার্চ ৩, ২০২০ তারিখে ৭:২২ পূর্বাহ্ন

    খুব ভালো

মন্তব্য করুন