হোম ম্যানেজম্যান্ট

হোম ম্যানেজম্যান্ট

গৃহ পরিচালনা ব্যাপক একটা ব্যাপার। এর উপর অনেকাংশে নির্ভর করে আপনার দৈনন্দিন জীবনের সবটাই। আমরা ব্যাপারটাকে অতটা পাত্তা দেই না, ভাবি চলছে তো চলুক না। ভুলটা সেখানেই হচ্ছে পরিকল্পনা বা দক্ষতা ছাড়া আপনার সুন্দর সংসার টাকে সুন্দর ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব না। আজ আমরা এ সম্পর্কেই অল্প স্বল্প জেনে নেই চলুন।

বাজেট

হোম ম্যানেজম্যন্টে সর্বপ্রথম বাজেট ব্যাপারটাই আসে। এর উপর নির্ভর করে সংসারের বিরাট একটা অংশ। মাসের শুরুতেই একটা বাজেট করে ফেলুন না হয় আপনার সংসারের আয়ের উপর নির্ভর করে। ঘরের খরচাপাতি যিনি করেন বাজেটের দায়িত্ব তাকেই দিয়ে দিন। মাসে কত খরচ হবে কিভাবে খরচ হবে, কোনটাতে বেশী খরচ হবে, কিভাবে টাকার অপচয় রোধ করবেন তা ভেবে নিন। একটা লিস্ট তৈরী করে নিন ঘরের খাবার খরচ, বিল বাবদ কত খরচ হবে বিভিন্ন ব্যাপার চিন্তা করে একটা তালিকা তৈরী করুন। দেখবেন অযথা খরচ এড়াতে পারবেন সাথে আর্থিক সমস্যায়ও খুব একটা কখনো পড়তে হবে না। বাজেট ছাড়া আপনার সংসার শত ভাগ শৃঙ্খলা অনুযায়ী চালনা অসম্ভব। আপনার সংসারের আয় বিবেচনায় রেখেই বাজেট তৈরী করবেন।

সময়

সময়— একটা ঘর পরিচালনার আরো একটি গুরত্বপূর্ন বিষয়। যে কোন কাজ করার সময় এই ব্যাপারটা খেয়াল রাখুন। জরুরী কাজে বেশী সময় দিন। অযথা টিভি দেখা, গান শোনা ইত্যাদিতে বেশী সময় ব্যয় করবেন না। বিনোদন, জরুরী কাজ, অফিসের কাজ সাংসারিক কাজ কর্ম সব কিছুর জন্য আলাদা আলাদা সময় ঠিক করে নিন। প্রতিদিন একই কাজ একই সময়ে করার অভ্যাস করুন দেখবেন সময়টা কাজে লাগবে। ধরুন বাচ্চাকে স্কুল থেকে আনতে যেতে হবে এক্ষেত্র ঘর থেকে সময় মতো বের হয়ে যান অযথা ঝামেলা পোহাতে হবে না ঠিক সময় ঠিকই কাজটা হয়ে যাবে। ঘড়ি ধরে চললে অফিসে লেট হওয়া বা জরুরী কাজ মিস হয়ে যাওয়া এধরনের সমস্যায় পড়তে হবে না। রোজ একই টাইমে ব্যায়াম, ধর্মীয় কাজ, অফিসের কাজ করে নিন আপনার উপর প্রেশার পড়বে না। রোজ সময় মতো ঘুমোতে যান। একই সময় উঠারও চেষ্টা করুন। দরকার হলে কাজগুলো লিখে সময় অনুযায়ী প্রতিদিন তালিকা করে নিন। এ রুটিন আপনাকে অনেক সাহায্য করবে আশা করি।
মনে রাখবেন— ছোট বড় সব কাজই কিন্তু সমান গুরুত্বপূর্ন। কোন কাজকেই কখনো হেলা করবেন না। সময় দিন সব কাজকে, মূল্য দিন সব কাজকে।

এছাড়াও…

যাই করুন না কেনো সব সময় পরিবারের মতামত টাকে প্রাধান্য দিন। কখনো একা কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনি যদি পরিবারের কর্তা বা একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তবুও কখনও নিজেকেই সর্বেসর্বা ভাববেন না। সবার মতামতের সাহায্যেই আসলে জীবনকে বা সংসারকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।

পরিবারের সবার মাঝে সুসম্পর্ক বজায় রাখার দায়িত্বটাও কিন্তু আপনাকেই নিতে হবে। পারিবারিক ঝামেলা বা ব্যক্তিগত কোন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে নিন। অযথা ছোট ব্যপারকে বড় করে দেখবেন না। সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম মিলেমিশে করার চেষ্টা করুন। দেখবেন কারো উপরই এককভাবে চাপ পড়বে না। তবে আপনার কাজগুলো আপনি নিজে করে নিন, অন্য কারো উপর নির্ভর করা মানে সময় নষ্ট করা।

বিনোদন, সাংসারিক কাজ, শিক্ষামুলক কাজ সব কিছুর জন্যই আলাদা আলাদা সময় বের করে নিন। মনে রাখবেন জীবনে সব কিছুরই দরকার আছে।

একে অন্যকে সম্মান করতে শিখুন। একে অন্যের মতামতকে ছোট করে দেখবেন না।
সংসারে সব সময় একাধিক আয়ের উৎস রাখুন। কখনো একটা দূর্ঘটনা ঘটে গেলে সমস্যা পোহাতে হবে না। ব্যাংকে কিছু টাকা জমা রাখাটাও বুদ্ধিমানের কাজ বিপদে আপদে কাজে আসবে। বাচ্চাদের ভেতরও ম্যানেজম্যান্ট ব্যাপারটার ভিত্তি গড়ে তুলুন। তাদের ও ছোট ছোট দায়িত্ব দিন।
সংসারটাকে আগলে রাখতে নিজের ভেতর কার আলসে ভাবটাকে মাটি চাপা দিতে হবে আপনাকে। আলসেমির কারনে আপনার সময়, কাজ দুটো ব্যাপারই বিগড়ে যেতে পারে। কাজ করার সময় মাথা ঠান্ডা রেখে করুন। নিজের মাথাটাকে রেস্ট ও দিন সময় বুঝে। আরেকটা ব্যাপার অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করে নিন বাসায় অফিসের কাজগুলো জমাবেন না।

ব্যাপারগুলো মনে রাখার চেষ্টা করুন ভালো থাকুন সব সময়।

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

মন্তব্য করুন