বাড়িতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন

Green Outdoor Party Decor Stunning DIY Party Decoration Ideas

কথায় আছে বাঙালিদের বারো মাসে তেরো উৎসব,কথাটা সত্যি একদম। বিভিন্ন ধরনের উৎসব বছরের প্রায় সারাটা সময় ধরে চলতে থাকে। বিয়ে,জন্মদিন,বিবাহ বার্ষিকী এই সেই নানান কিছু। আপনার বাড়িতেই আপনি এই ধরনের অনুষ্ঠান গুলো আয়োজন করতে পারেন। চলুন একটু জেনে নেওয়ার চেষ্টা করি কিভাবে আপনি বাড়িতেই এ অনুষ্ঠানগুলোর আয়োজন করতে পারেন।

জন্মদিন: এটা সাধারনত বাচ্চাদেরই অনুষ্ঠান। বড়দের জন্মদিন কখনো এরকম করে পালন করা হয় না সাধারনত। তাই পার্টির আয়োজন করার সময় ও বাচ্চাদের পছন্দটাকেই প্রাধান্য দিন। ঘরের চারপাশটা ছোট বড় বেলুন, কার্টুন দিয়ে সাজিয়ে নিন। বাচ্চাদের বন্ধুবান্ধবদের আগে থেকেই দাওয়াত দিয়ে রাখুন। কেক আগে থেকেই অর্ডার দিয়ে রাখুন। খাওয়ার জন্য থালা বাসন ইত্যাদিও আগে থেকে রেডি করে রাখুন এতে কাজের সময় ঝামেলা লাগবে না আর অতিথিদের সময়ও দিতে পারবেন আপনি। খাবারের আয়োজনটা জন্মদিনে ঘরে করলেই ভালো হয় তবে এটা সম্পূর্ন আপনার ইচ্ছা। বাইরে থেকে চাইলে অর্ডার করেও আনতে পারেন। তবে যাই হোক অতিথিদের আন্তরিকতার সাথে আপ্যায়ন করানোটা আপনার কাজ মনে রাখবেন। সবার প্রতি সমানভাবে খেয়াল রাখবেন। সব কাজের দায়িত্বটা আপনার উপর আনবেন না, সবার সাহায্য নিবেন। আগে থেকে রেডি হয়ে নিন যাতে অতিথিদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন। যার জন্মদিন তাকে সব চেয়ে সুন্দর করে তৈরী করে নিন। জন্মদিন ইচ্ছা হলে বড় করেও আয়োজন করতে পারেন তবে বাড়িতে পালন করলে ছোট পরিসরে পালনের চেষ্টা করাটাই ভালো। পার্টি শেষ হওয়া পর ঘরটাও জলদি পরিষ্কার নিন আলসেমি করবেন না।

পহেলা বৈশাখ: অনেক শৌখিন মানুষ আছেন যারা এ দিনটাও নিজের বাসায় আয়োজন করে থাকেন। এক্ষেত্রে ঘরে তৈরী মিষ্টান্ন দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করতে পারেন। পান্তা ইলিশের ব্যবস্থাও করতে পারেন। নিজের সামর্থ্য বিবেচনায় রেখে আয়োজন করে নিন। এদিন মাটির থালা বাসন ব্যবহার করলে ভালো লাগবে। দেশীয় জিনিসপত্র দিয়ে ইচ্ছা করলে ঘর সাজিয়ে নিতে পারেন। দেশীয় আমেজ আসবে এতে।

ঈদ: মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর আর ঈদ উল-আযহা। এ উৎসব দুটোকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের পরিকল্পনা থাকে সবার। পোশাক থেকে শুরু করে পুরো ঘরে থাকে উৎসবের আমেজ। ঈদে আপনার ঘর কে আলাদা করে সাজানোর প্রয়োজন পড়ে না তবে অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে ঘর পরিষ্কার করা শুরু করে দিন। যতই কাজের চাপ থাকুক এ দিকটা ছাড় দিবেন না। ঘর যাতে থাকে টিপটপ! খাবারের আয়োজন করুন যতটুকু ইচ্ছা তবে এ ব্যাপারে ও অবশ্যই নিজের সামর্থ্যটা বিবেচনায় রাখবেন। ঈদের শপিং ও আগে থেকেই করে রাখুন। বিভিন্ন ধরনের নাস্তা বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন ঠান্ডা জাতীয় খাবারগুলো এক্ষেত্রে উপযোগী, কারণ এগুলো অনেকদিন ফ্রিজে রাখা যায়। পিঠাপুলি যা কিছুই বানাবেন আগের দিনই করে রাখার চেষ্টা করুন। ইচ্ছা করলে আগের দিন রান্নাটাও করে রাখতে পারেন এতে পরের দিন আর ঝামেলা থাকবে না। আর রান্না পরের দিন করলেও কাজগুলো যতটা সম্ভব এগিয়ে রাখুন। নিজেও সুন্দর করে তৈরী হয়ে নিন। যে রুমে অতিথিদের বসাবেন সেই ঘরটা একটু বাড়তি যত্ন নিয়ে সাজিয়ে দিন। প্রয়োজনীয় বাসনগুলো আগে থেকেই বের করে রাখুন। বিকালে সব কিছু শেষে একটু সময় নিয়ে আপনার পরিবার নিয়ে বেড়াতে যান।

বিয়ে: বিয়ের মতো বিরাট আয়োজন বাড়িতে করাটা কষ্ট সাধ্য ব্যাপারই বটে। আজকাল ঝামেলা এড়াতে ৭০% বিয়েই কমিউনিটি সেন্টারে হচ্ছে। তবু বৌ-ভাত, পানচিনি, হলুদ ইত্যাদির আয়োজন অনেকেই নিজের বাসায় করে নিতে পারেন। তবে আয়োজনটা সম্ভব কি না তা পুরোটাই নির্ভর করছে আপনার বাড়ির আয়তনের উপর। বাড়ি ছোট হলে বিয়ের মতন এলাহি কান্ডের আয়োজন বাড়িতে না করাই ভালো। হল ভাড়া করে নিন তবে নিতান্ত ঘরোয়া পরিবেশে করতে চাইলে তা ভিন্ন ব্যাপার। যাদের বাড়ি বড় তারা এ ধরনের আয়োজন নিজ বাসায় করতে পারেন। বাসার সামনে খালি জায়গা থাকলে সেখানে অতিথিদের বসার আয়োজন করুন অথবা ছাদে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে সেখানে ও বসার ব্যবস্থা করতে পারেন। পুরো বাসায় লাইটিং করে নিন অন্তত দুদিন আগে থেকে। লেগে যাক উৎসবের আমেজ! বাড়ি সাজানোর কাজ কোন ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানিকেও দিয়ে রাখতে পারেন। অতিথিরা যেখানে বসবেন এর পাশেই বড়/কনের স্টেজ তৈরী করে নিন। চাইলে আপনি দশজনের সাহায্য নিয়ে তাজা ফুল দিয়ে নিজেই স্টেজ সাজাতে পারেন অথবা ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানির উপর দায়িত্ব ছেড়ে দিন। চেয়ার টেবিল, থালা বাসন ভাড়া করে আনুন আগে থেকেই। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু আয়োজন করা যায় করুন। স্মৃতিগুলো ক্যামেরা বন্দী করে রাখতে কন্টাক্ট করতে পারেন প্রফেশনার ফটোগ্রাফারদের সাথে। বিয়ের রান্নার দায়িত্বটা বাবুর্চির হাতেই ছেড়ে দিন। কতটুকু রান্না হবে, কী কী আইটেম থাকবে সব বলে দিন তবে রান্নাটা বাবুর্চিকেই করতে দিন। অতিথিদের সুন্দর করে স্বাগত জানান, তাদের খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে তদারকি করুন। আপনি নিজেও সুন্দর ভাবে তৈরী হয়ে নিন। ইচ্ছা করলে সহজে সাজতে পার্লারেও যেতে পারেন। কি পরবেন তাও আগে থেকে ঠিক করে নিন। তবে অবশ্যই সব কিছুর আগেই বর কনের সাজের প্রতি যত্নশীল হোন কেননা তাদের কেন্দ্র করেই এত শত আয়োজন।

পূজা বা অন্যান্য যে কোন উৎসবে উপরের আইডিয়াগুলো কাজে লাগান। জেনে রাখুন, একটু মাথা খাটালেই সল্প খরচে সুন্দর আয়োজন সম্ভব। ম্যানেজম্যান্ট এর কারনেই সুন্দর এরেন্জম্যন্ট সম্ভব। উৎসবে পরিপূর্ন থাকুক আপনার জীবন। ভালো থাকুন সব সময়।

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

মন্তব্য করুন