শীতকালের প্রস্তুতি শুরু হোক এখন থেকেই।

চলছে কার্তিক মাস। এখন হিম ঠান্ডা থাকার কথা ছিলো। তবে, প্রকৃতি যেনো তার ভাব পাল্টে নিয়েছে বহু আগেই। আসি আসি করেও শীত আসছে না। তবে মাঝরাতে হালকা অনুভূতি, হালকা কুয়াশার চাদর বলে দিচ্ছে শীত পড়তে খুব অল্প সময় বাকি। গরমে যেমন একটু বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হয় ঠিক তেমনি শীতেও কিছু বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হয়। কখনো শীতকে অবহেলা করবেন না। আজ শীত পূর্বকালীন ও শীতকালীন পাচঁমিশালী কিছু প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনে নিন।

👉 শীত আসার আগেই আপনার ওয়াটার হিটার ঠিক আছে কি না দেখে নিন। আমাদের দেশে ফায়ারপ্লেসের তেমন একটা চল নেই। তবু যদি থেকে থাকে তাও ভালো মতো পরিষ্কার করে ঠিক আছে কিনা দেখে নিন।

👉 শীতকালের প্রয়োজনী ভারী কাপড়, লেপ, কম্বল, সোয়েটার সব কিছু বের করে রোদে শুকান। থ্রো কভার,কাঁথা ইত্যাদি আগে থেকে ধুয়ে রাখুন।

👉 হাত মোজা, পা মোজা কোথাও তুলে রাখলে তা আগে থেকেই বের করে হাতের নাগালে রাখুন।

👉 শীতকালে রোদের তীব্রতা খুব বেশী থাকে তাই, আগে থেকেই একটা ছাতা অথবা সানগ্লাস কিনে রাখুন।

👉 শু বা কেডস শীতকাল টাতে খুব প্রয়োজন। এগুলোও ঝেড়ে পরিষ্কার করে হাতের নাগালেই রাখুন। কোথাও স্যান্ডেল পড়ে যাওয়া শীতকালে এড়িয়ে চলুন।

👉 শীতকালে ঠান্ডা লাগা খুব কমন একটা ব্যাপার। তাই ভিক্স, মধু হাতের কাছেই রাখুন। ঠান্ডা ধরা রোগ সারাতে এরাই সেরা মনে রাখবেন।

👉 এয়ার কন্ডিশন শীতকালে কোন কাজে আসে না।তাই এসময় এয়ার কন্ডিশনের তার খুলে রাখুন।

👉 আপনার যদি ছোট্ট সোনামনি থেকে থাকে তবে ,তার জন্য প্রয়োজনীয় শীত কাপড় আগে থেকেই কিনে রাখুন।

👉 এ সময় বিকেল বা রাতে গোসল না করাটাই ভালো, আরো ভালো হয় যদি দুপুর বারোটার ভেতরই গোসল সারা যায়।

👉 শীত কালে ঠান্ডা পানি একদম খাবেন না। অনেকে গরমের সময় ঠান্ডা পানি খেয়ে অভ্যাস হয়ে যায় তারা শীতকালেও ঠান্ডা পানি ছাড়তে পারেন না। সাবধান এ ভুল করবেন না। মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, ঠান্ডা লেগে।

👉 পুরাতন জানা কথা তবু নতুন করে বলছি। শীতকালে গোসলে সব সময় গরম পানি ব্যবহার করুন। আলসেমি করে অনেকেই গরম পানি ব্যবহারে অনীহা করেন। এটা ঠিক নয়। তবে খেয়াল করবেন কখনো খুব বেশী গরম পানি মাথায় ঢালবেন না।

 

👉 শীতকাল শাক- সবজি খুব বেশি পাওয়া যায়। বছরের এ সময় অনেক ধরনের শাক সবজি পাওয়া যায়। এগুলো বেশি করে খান।

👉 শীতকালে পানি কম খান অনেকে। এই খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করুন। শীতকালেও শরীরে সমানভাবে পানির প্রয়োজন নয়তো, ত্বকের আদ্রতা হারিয়ে ত্বক নিষ্প্রাণ হয়ে যাবে।

👉 এ সময় ধুলা – বালির প্রকোপ বেড়ে যায়। তাই নিজেকে পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি চারপাশটা পরিষ্কার রাখুন। ঘর নিয়মিত ঝাড়ুন। ফার্নিচারেও ধুলো জমতে দিবেন না।

👉 ঠান্ডার সময় ঠান্ডা ভয়ংকর ব্যাপার। শীতকালে ঠান্ডা লাগা মানে মারাত্মক ব্যাপার। আপনি জানেন কি ? বড়দের নিউমোনিয়া হওয়া মানে জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়া। ছোটদের নিউমোনিয়া স্বাভাবিক ব্যাপার হলেও বড়দের এ রোগ হলে মৃত্যু ও হতে পারে। তাই সচেতন হোন আরো বেশি।

আরো কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখুন :

শরীর সুস্ত থাকাটা অবশ্যই জরুরী কিন্তু, তার সাথে ত্বক, চুল ইত্যাদির যত্ন টাও নেওয়া শুরু করুন আগে থেকেই তাই এক্ষেত্রে ছোটখাটো কিছু ব্যাপার মনে রাখুন।

প্রতিদিন ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

অলিভ অয়েলের সাথে ভ্যাসেলিন মিশিয়ে রাতে মুখে লাগিয়ে ঘুমোতে যান। সকালে মুখ টানবে না বা শুকনো লাগবে না ।

প্রতিদিন অন্তত দু লিটার পানি খান।

লাল শাঁক, সবুজ শাঁক ইত্যাদি শাঁক সবজি নিয়মিত খান।

ঠোঁট ফাটা রোধ করতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খান। ভেজা ঠোঁটে গ্লিসারিন অথবা ভ্যাসেলিন লাগিয়ে রাখুন।

পা ফাটলে গ্লিসারিন লাগিয়ে মোজা পড়ে ঘুমোতে যান। পা কোমল থাকবে , ফাটবে না। একই পদ্ধতি প্রয়োগ করুন হাত ফাটা রোধ করতে।

শীতকালে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে সতর্ক থাকুন। চুলের আদ্রতা ধরে রাখবে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

অয়েলযুক্ত ফেসওয়াস এবং মাইল্ড সাবানকে প্রাধান্য দিন।

চুলে নিয়মিত তেল ব্যবহার করুন।

চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করাটা শীতকালে গুরত্বপূর্ণ। কারণ এ সময় চুল বেশি খসখসে হয়ে যায়। কন্ডিশনার চুলকে মোলায়েম রাখবে।

 

শীতকালে মরা চামড়া বেশি উঠে। নিয়মিত স্ক্রাব ব্যবহার করুন। নয়তো মরা চামড়া দীর্ঘদিন জমে মুখে কালো দাগ পড়ে যেতে পারে।

 

শীতকালটা সবচেয়ে সুন্দর সময়। বছরের এ সময়টাতে প্রকৃতি যেনো একটু বেশি সুন্দর হয়ে উঠে। সামান্য হেলাফেলার কারণে যেনো আপনার কোন প্রকার অসুবিধা না হয়, এই প্রত্যাশা করছি। ভালো থাকুন। আর হ্যা শীতকালের ভাপা খাওয়াটা কিন্তু মিস করবেন না, একদম!

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

মন্তব্য করুন