রক্তস্বল্পতা দুর করুন সহজেই।

রক্তস্বল্পতা আজকাল খুব কমন একটা ব্যাপার হয়ে গেছে। কম বয়সী ছেলে-মেয়ে অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত রক্ত শূন্যতাকে খুব ছোট করে দেখার অবকাশ নেই! কেননা অনেক বড় রোগের মা হলো এই রক্ত শূন্যতা। কিডনির রোগ, চোখের পাওয়ার কমে যাওয়া, হাড়ের ক্ষয় ইত্যাদি রক্ত শূন্যতার কারণেই হয় সব সময় অবসাদ, অল্পতেই হাপিঁয়ে উঠা এগুলো রক্ত শূন্যতার লক্ষণ। রক্ত শূন্যতার কারণে আপনার ঠোঁট এবং ত্বক একদম ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার কি জানেন? রক্ত শূন্যতার কারণে আপনার হার্টের বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে! শরীরে রক্ত কম থাকলে হার্ট পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত পায় না। তাই হার্ট দুর্বল বা অকেজো হয়ে যেতে পারে যা আপনাকে মৃত্যুর দিকেও নিয়ে যেতে পারে। না আমি আপনাদের মোটেও ভয় দেখাচ্ছি না! পৃথীবিতে এমন কোন সমস্যা নেই যার সমাধান নেই! অবশ্যই রক্ত স্বল্পতার ও সমাধান আছে। এজন্য আপনার সামান্য সচেতনতার প্রয়োজন। আয়রনের অভাবেই রক্ত শূন্যতার সৃষ্টি তাই, বেশি করে আয়রন যুক্ত খাবার খেতে হবে। আজ আলোচনা করবো কোন কোন খাবার আপনাকে এ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা থেকে রক্ষা করবে!

কাচঁকলা : কাচঁকলাতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন আছে তাই কাচঁকলা খান যতটুকু সম্ভব! কাচঁকলা দিয়ে মাছের তরকারী রান্না করে খেলে ফল পাবেন। অথবা কাচঁকলার চিপস করে খেতে পারেন। কাচঁকলা পাতলা করে কেটে লবন দিয়ে মেখে তেলে ভেজে চিপস তৈরী করতে পারেন।

জামের রস : জামের রস খেলে রক্তস্বল্পতায় ভালো ফল পাবেন। জামে আছে উচ্চ মাত্রার আয়রন। প্রতিদিন সকালে অথবা বিকালে অন্তত এক গ্লাস জামের শরবত খেয়ে নিন।

কচু : কচু খুবই সহজলভ্য জিনিস। আপনার বাড়িতেই আছে হয়তো কচু খান বেশি করে। খুব কাজে আসবে আশা করা যায়।

রেড মিট : রেড মিট বা লাল মাংস ও রক্ত স্বল্পতাকমাতে সাহায্য করে। খাসির মাংস , গরুর মাংস ইত্যাদি খেতে পারেন। এগুলো ক্ষতিকারক হলে প্রচুর পরিমাণে মুরগীর অথবা গরুর কলিজা খান। এগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রণ আছে।

পিনাট বাটার : সকালের নাস্তায় ব্রেড অথবা রুটির সাথে পিনাট বাটার খাওয়ার অভ্যাস করুন। বাজার থেকে দেখে ভালো মানের পিনাট বাটার কিনে নিন। পিনাট বাটারে প্রচুর পরিমাণ আয়রন আছে।

টমেটো : টমেটো তে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি আছে। ভিটামিন সি শরীরে আয়রন উৎপন্ন করে। টমেটো রান্না করে খেতে পারেন অথবা টমেটো জুস করে খান।

ডিম : ডিমে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন আছে। ডিমে আছে এ্যান্টি অক্সিডেন্ট একটি ডিমে ১ মিলিগ্রাম আয়রন আছে।যা রক্তশূন্যতা কমাবে। সিদ্ধ ডিম খেলে সবচেয়ে ভালো হয় অথবা খুব কম তেলে অমলেট করে খেতে পারেন। প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খাবেন।

 

বাদাম : ১০০ গ্রাম বাদামে ১৫ মি.গ্রা আয়রন পাবেন। বাদাম খেতে পারেন। বাদাম খেলে উপকার পাবেন।

ছোট মাছ : ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন আছে। বেশি করে ছোট মাছ খান।

মধু: মধুতে ও উচ্চমাত্রার আয়রন রয়েছে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস লেবুর শরবতে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এই পানীয় এ্যানিমিয়া খুব দ্রতই দুর করবে।

এছাড়াও জেনে নিন :

👉 লবন একদম খাবেন না! কাঁচা লবন খাওয়া একদম নিষেধ।

👉 তেতুল খাওয়া একদম বাদ দিন।

👉 ভিটামিন ট্যাবলেট অথবা আয়রন ট্যাবলেট খেতে পারেন।

👉 প্রচুর পরিমাণ সবুজ শাক সবজি খান। রক্ত স্বল্পতার অন্যতম কারণ অনিয়মিত খাদ্যভ্যাস। তাই খাবারের প্রতি যত্নশীল হোন।

👉 দিনে অন্তত দু লিটার পানি পান করবেন।

👉 রাত জাগবেন না।

👉 যেকোন ধরনের ফল খান প্রতিদিন।

এ্যনিমিয়া কমাতে খাদ্যভ্যাস ঠিক করাই শ্রেষ্ট উপায়। তবে শরীরে খুব কম রক্ত থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের সাহায্য নিন। নিয়মিত শরীরে রক্তের মাত্রা চেক আপ করুন।

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

মন্তব্য করুন