ঘরের বসেই বানাতে পারবেন সৌরচুলা

আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রসরের ফলে অসংখ্য প্রাকৃতিক উপাদানের মতো সুর্যকেও উৎস হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন সৌরপ্রযুক্তির উপকার পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এদের মধ্যে অন্যতম এই সৌরচুলা, সুর্যালোকের উপস্থিতিতে তাপ শোষণের মাধ্যমে যার মধ্যে খাবার উত্তপ্ত করে রান্নার কাজ হয়ে থাকে। বাসায় এই চুলা থাকলে অন্তঃত দিনের বেলায় গ্যাস নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। মূলত ব্যাবহার আর উপকরণের ভিত্তিতে বক্স, প্যানেল কিংবা এন্টেনার ন্যায় প্রমুখ আকার আকৃতির হয়ে থাকে। সৌরচুলা ঘরের মধ্যেই বানানো সম্ভব, সুতরাং বাহিরে থেকে কিনে টাকা নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন হয় না।

উল্লেখযোগ্য আর সহজে বানানো সম্ভব এরুপ একটি সৌরচুলার বানানোর নিয়ম নিম্নে দেয়া হলো

উপকরণঃ

সৌরচুলা বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে বলে সব উপকরণই একই চুলার জন্যে ব্যবহার করা যায় না। তবে বিভিন্ন উপাদান, যেমন এলুমিনিয়ামজাতীয় প্রতিফলক বস্তু কিংবা কাগাজ প্রায় সব ধরণের সৌরচুলা বানাতে ব্যবহার করা সম্ভব। বাসায় পড়ে থাকা অথবা দোকানে কিনতে পাওয়া যায় এমন সব টুকিটাকি জিনিস থেকে সৌরচুলা তৈরি করা যায়। একটি বাক্স হতে সৌরচুলা বানানোর জন্যে যা যা লাগবে তার একটি নমুনা নিচে দেওয়া হলোঃ

  • ছূরি বা কাঁচি।
  • পর্যাপ্ত এলুমিনিয়ামের পাত।
  • ৩টি মাঝারি আকারের কার্ডবোর্ড বাক্স। দুটি বাক্স সমান হবে এবং অন্যটি যথেস্ট ছোট হতে হবে যাতে অপেক্ষাকৃত ছোট বাক্সটি বড় বাক্সের ভেতরে ঢোকানো সম্ভব হয় এবং বড় এবং ছোট বাক্সদ্বয়ের মাঝের ভেতরে অতিরিক্ত উপকরণ ঢুকানোর জন্যে যথেষ্ট যায়গা থাকে। ঘনাকার হোক বা আয়তাকার সব বাক্সগুলোর আকৃতি একই থাকা সুবিধাজনক।
  • কালো রঙের স্প্রে।
  • ডাক্ট টেপ।
  • পত্রিকার কিছু কাগজ।
  • একটা কাঁচের টুকরো বা প্লাস্টিক যা বড় বাক্সের ওপর লাগবে। কাঁচের টুকরো হলে সেটি যাতে বড় বাক্সটি হতে কিছুটা বড় হয়।
  • আঠা।
  • কাঠের টুকরো।
  • থার্মোমিটার।

 

পদ্ধতিঃ

১। ছোট কার্ডবোর্ডের ঢাকনাগুলো কেটে ফেলুন।

২। পত্রিকাগুলো কেটে টুকরো টুকরো করে বড় বাক্সের ভেতরে এমনভাবে রাখুন যাতে পাতাগুলো বাক্সের তলপৃষ্ঠের পুরোটা সমানভাবে ঢাকা দিয়ে রাখে।

৩। এবার স্প্রে করে ছোট বাক্সটির ভেতরের তলের অংশটির রঙ কালো করুন।

৪। এরপর ছোট বাক্সের মুখের প্রান্তগুলো থেকে বাইরের অংশের নিচে দিকে সামান্য আঠা লাগান, এরপর এলুমিনিয়ামের পাতটি বাক্সটির মুখে এমনভাবে লাগান যাতে পাতের অতিরিক্ত অংশটি বাক্সের বাহিরের প্রান্তে লাগানো আঠার সাথে লেগে থাকে।

৫।  এখন ছোট বাক্সটি এইবার বড়টির ভেতরে রাখুন।

৬। অতিরিক্ত পত্রিকার কাগজের টুকরোগুলো এবার মুচরিয়ে ছোট আর বড় বাক্সের মাঝের ফাঁকা যায়গায় দিয়ে ভরিয়ে ফেলুন।

৭। অতিরিক্ত থাকা বড় বাক্সটির একটি প্রান্ত কেটে ফেলুন, বাক্সগুলো যদি আয়তাকার হলে এর দৈর্ঘ্যের একটি প্রান্ত হতে কর্তন করলে ভালো হয়।

৮। কাটা প্রান্তটি বড় বক্সের ভেতরে সামান্য কয়েক ইঞ্চি ভেতরে নিয়ে টেপ দিয়ে বড় বাক্সটির পাখার সাথে যুক্ত রাখবেন। অথবা বড় বাক্সটির সাথে কাটা প্রান্তটি সংযুক্ত করার পর উপয় প্রান্তগুলোর মাঝখানে দুইটি গর্ত করে কাঠের টুকরো দিয়ে সংযুক্ত রাখতে পারবে। এই সংযুক্ত অংশটির যে প্রান্তের মুখ বাক্সের দিকে থাকবে প্রতিফলক হিসেবে কাজ করবে।

৯। প্রতিফলক প্রান্তটির সাথে আঠা দিয়ে আরো এলুমিনিয়ামের পাত সংযুক্ত করুন।

১০। সর্বশেষে কাঁচ অথবা প্লাস্টিকের টুকরোটি বড় বাক্সের ওপরে রাখুন এবং প্রতিসারক প্রান্তটি বাক্সের মাঝখান বরাবর বাঁকিয়ে রাখুন।

 

সব ঠিকমতো করতে পারলে আপনার সৌরচুলাটি হবে প্রায় এইরকমই

 

প্রক্রিয়াঃ

সৌরচুলা ঠিকমতো কাজ করে দিনের বেলায় এবং খোলা জায়গায় যেখানে সুর্যের আলো বাধাগ্রস্থ হতে পারে না। এরুপ একটি জায়গায় এনে বাক্সটিকে রোদ বরাবর ঘুরিয়ে এরপর প্রতিফলক প্রান্তটি সুর্যের দিকে মুখ করে রাখুন। থার্মোমিটার দ্বারা খেয়াল রাখুন যে চুলাটি গরম হচ্ছে কিনা। এরপর রান্নার জন্যে উপযোগী তাপমাত্রায় আসলে চুলার ওপরে পাত্র বসিয়ে রান্না বিভিন্ন খাদ্যই রান্না করতে পারবেন।

 

সুবিধা ও অসুবিধাঃ

সৌরচুলা ব্যবহার করলে কেবল রান্না করা সহজ হয় না, বরং একবেলার জন্যে প্রচুর খরচ কমে যায়। আপনি দিনের বেলা রোদাচ্ছ্বল্য সময়ে এই চুলা ব্যবহার করে গ্যাসের ব্যয় হ্রাস করতে পারবেন। অবশ্য সুর্যের ওপর নির্ভরশীল থাকার কারণে সুর্যের অনুপস্থিতিতে রাতে কিংবা মেঘাচ্ছন্ন দিনে রান্না করা সম্ভব হয় না। তাই শুধুই দিনের বেলা যতটুকু সম্ভব ব্যবহার করে নিতে পারেন।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন