আপনার রান্নঘরের তাকে রাখা মধুর কৌটার ১৬ টি বিস্ময়কর ব্যবহার

মধুর ব্যবহার – মাখন মাখানো একটুকরো শক্ত পাউরুটির উপর মধু ছড়িয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা, কিন্তু আপনি কি জানেন এই প্রাকৃতিক বিস্ময়টি অন্য আরও কাজে ব্যাবহার হতে পারে? জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করার ক্ষমতা ও এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য বিষয়ক কাজে মধুর বহুল ব্যবহার রয়েছে । এখানে আমি আপনাদের জন্য ১৬ টি ব্যবহার দেখিয়েছি। চেষ্টা করেই দেখুন না !

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে নিচের বাটন চাপুন । আমরা এক্সপার্ট হোম টিপস এর কথাগুলো আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে চাচ্ছি ।

১) চুলের জন্য মধু ও ডিমের মাস্ক –

কি ? চুলের জন্য ডিম! শুনে অবাক হচ্ছেন? একটি ডিমের কুসুম, এক টেবিল চামচ মধু এবং দুই টেবিল চামচ নারিকেল তেল নিয়ে উপাদান গুলো একটি বোলে ভাল করে মিশিয়ে নিন । এবার মিশ্রণটি সমগ্র চুলে ভালোভাবে মেখে একটি শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন । এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চুল শ্যাম্পু করে নিন । খেয়াল করবেন, গরম পানি ব্যবহার করা যাবেনা, তাহলে ডিমের কুসুম জমে যেতে পারে !

২) আফটার শেভ হিসেবে ব্যাবহার –

শেভিং এর পর কি আপনার ত্বক জ্বালাপোড়া করে? তাহলে আপনার রান্নাঘরের তাক থেকে মধুর কৌটাটি নিয়ে সেখান থেকে কিছু  মধু আপনার ত্বকে লাগিয়ে নিন । শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। জ্বালাপোড়া কমে গিয়ে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে আর্দ্র । পায়ে জ্বালাপোড়া হলে সেখানেও কিছুটা লাগিয়ে নিন ।

৩) ত্বকের আর্দ্রতায় ব্যাবহার –

এক চা চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার, এক চা চামচ নারিকেল তেল এবং এক চা চামচ মধু একসাথে মিশিয়ে আপনার ত্বকের উপর প্রয়োগ করুন এবং ১০ মিনিট রেখে দিন । উপভোগ করুন নরম এবং আর্দ্র ত্বক । এই বিষয়ে আরও জানতে “কেন অ্যাপল সাইডার ভিনেগার সবচেয়ে ভালো সৌন্দর্য উপাদান, ১৯ টি কারন” – আনুশকার এই পোস্ট টি পড়ুন ।

৪) কালো ঠোঁট থেকে মুক্তি –

ছুটির দিনে রোদে ঘুরাঘুরি করতে যেয়ে রোঁদে পুড়ে ঠোঁট কালো হয়ে গিয়েছে? তাহলে মধু দিয়ে ঠোঁটের কালো দাগ দূর করে ফেলুন । ঘুমোতে যাওয়ার আগে কিছু মধু আপনার ঠোঁটে প্রয়োগ করুন ।আপনার ঠোঁট পরিষ্কার হয়ে যাবে । আকর্র্ষণীয় ঠোঁট পাওয়ার ১৭ টি উপায় দেখুন এখানে ।

৫) এক্সারসাইজ করার আগে মধু পান –

ব্যায়াম করার আগে এক চা চামচ মধু পানিতে গুলে খেয়ে নিন । এটি আপনাকে ক্লান্ত হওয়া থেকে দূরে রাখবে এবং রক্তে চিনির প্রবাহ কমিয়ে দিয়ে আপনার শক্তি বাড়িয়ে দিবে । এছাড়াও এই পানীয় আপনাকে ব্যায়ামের সময় মাংসপেশীর জড়তা থেকে রক্ষা করে শরীর সতেজ রাখবে। যদি ব্যায়াম করা কষ্টকর মনে হয় তাহলে ক্যালরি পুড়ানোর ৩০ টি সহজ উপায় দেখুন এখানে ।

৬) মধু দিয়ে চুলের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি –

এটা খুবই অবাক করার মত ব্যাবহার । উইকি হাও এর নির্দেশনা অনুযায়ী, কিছু অ্যাপল সাইডার ভিনেগার, পানি ও মধু একসাথে মিশিয়ে আপনার চুলে ব্যাবহার করলে আপনার চুলের ঔজ্জ্বল্য কয়েক শেড বেড়ে যাবে । এটি আপনি কন্ডিশনার হিসেবেও ব্যাবহার করতে পারেন ।

৭) হালকা জ্বরে মধু সেবন –

অনেকেই মনে করেন যে, হালকা জ্বর সারাতে এক চামচ মধুই যথেষ্ট । মনে করা হয় ফুলের পরাগ থেকে উৎপন্ন অ্যালার্জির  সংবেদনশীলতার বিরুদ্ধে মধু প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করে ।

৮) হালকা পোড়ায় মধুর ব্যাবহার –

যদি হালকা পুড়ে যাওয়ার শিকার হউন তাহলে পাঁচ মিনিট ধরে টেপ থেকে পানি ঢালতে থাকুন জায়গাটি ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য । এবার প্রাথমিক ড্রেসিং এর জন্য পোড়ার উপর মধুর প্রলেপ দিন । পোড়া বেশি হলে ডাক্তারের কাছে যান ।

৯) সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে মধু –

সারাদিন প্রচুর পরিশ্রমের পর ঘুমোতে যাওয়ার আগে গরম পানিতে এক চামচ মধু গুলে খেয়ে নিন । এটি আপনার মেটাবলিজম ঠিক রেখে ওজন কমাতে সাহায্য করবে । মেটাবলিজম ঠিক রাখতে পরের দিন সকালে আরেক গ্লাস মধু পানি পান করুন ।

১০) খুশকির বিরুদ্ধে মধু –

বিরক্তিকর খুশকির বিরুদ্ধে মধু ভীষণ কার্যকর ।ছয় কোয়া রসুন ও সাত টেবিল চামচ অর্গানিক মধুর মিশ্রণ আপনাকে খুশকি থেকে মুক্তি দিতে যথেষ্ট ।

১১) স্বরভঙ্গ রোধে মধু –

এক টেবিল চামচ মধু সামান্য গরম দুধে মিশিয়ে নিন ভালোকরে । দুধ আপনার গলার শুষ্কতা দূর করবে এবং মধু আপনার কণ্ঠস্বর মিষ্টি করবে । সারাদিন ধরে এই মিশ্রণটি পান করুন এবং বিরক্তিকর স্বরভঙ্গ থেকে মুক্তি পান ।

১২) ব্রণের বিরুদ্ধে মধু –

জীবাণুনাশক ও উপশমকারী গুণের কারণে ব্রণের বিরুদ্ধে মধু একটি আদর্শ উপাদান । প্রতিদিন মধু খাওয়ার চেষ্টা করুন অথবা আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন । আমি অ্যামাজন এ একটি ন্যাচরাল ফেস ওআশ দেখেছি, যেটি মানুকা মধু, ঘৃতকুমারী দিয়ে তৈরী হয় এবং এটা ব্রন, চর্মরোগ, সিরোয়াসিস এবং  অন্যান্য অনেক রোগের জন্য ব্যাবহার করা হয় ।

১৩) বমিভাব দূর করতে মধু –

যদি আপনি বমিভাব অনুভব করেন তাহলে মধুর উপর নির্ভর করতে পারেন । আদা ছোট টুকরা করে কেটে পাঁচ মিনিট পানিতে ফুটান । এবার মধু মিশিয়ে পান করে নিন । ব্যস হয়ে গেল ।

১৪) গোসলে মধুর ব্যবহার –

সামান্য গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মধু  খুব ভালোকরে মিশিয়ে নিন । এবার আপনার গোসলে এটি ব্যবহার করুন । মধু   এন্টিঅক্সিডেন্ট এ পরিপূর্ণ এবং এটি আপনার ত্বকের জন্য উপকারী । আশাকরি আপনি এই দারুণ গোসল উপভোগ করবেন । কিভাবে সবচেয়ে ভাল গোসল করতে হয় এখানে দেখুন ।

১৫) ব্রণের ক্ষতচিহ্ন দূর করতে –

মধু শুধু ব্রণ ই দূর করেনা, এটি ব্রণের ক্ষত ও সারিয়ে দেয় । হোম রেমেডিস ফর লাইফ মধু সহ বিস্ময়কর উপাদানের একটি তালিকা আপনাদের জন্য করেছে ।

১৬) কনুই এর শুষ্কতা রোধে মধু –

মধু একটি দারুণ আর্দ্রতাকারী উপাদান । যদি এই শীতে আপনি কনুইয়ের শুষ্কতার শিকার হন তাহলে নির্ভর করতে পারেন আপনার বিশ্বস্ত মধুর কৌটার উপর । স্নানের পর সামান্য মধু আপনার কনুইয়ে ঘষিয়ে লাগিয়ে নিন ও আধা ঘণ্টা রাখুন । এবার ধুয়ে ফেলুন আর উপভোগ করুন আপনার নরম ও কোমল ত্বক ।

মনে রাখবেন আমরা কোন ডাক্তারি পরামর্শ দেইনা । কোন প্রশ্ন থাকলে আপনার ডাক্তার বা স্বাস্থ্য কর্মীর সাথে যোগাযোগ করুন ।

কে জানতো যে মধু এত কিছু করতে পারে? আপনি কিভাবে মধু ব্যবহার করেন এটা আমাদের নীচের কমেন্ট বক্স এ জানান ।

মন্তব্যসমূহ

নিজের সম্পর্কে বলতে গেলে একটা কথা বলতে চাই - সপ্ন দেখতে ভালবাসি, সপ্ন দেখাতে ভালবাসি

মন্তব্য করুন