নিজেকে সেরা করে তুলতে অবশ্যই খেয়াল রাখুন এই বিষয়গুলো।

চার্ত্রিক যোগ্যতাই সবচেয়ে বড় গুণ, কথায় আছে প্রথমে দর্শনদারী পরে গুণবিচারী। আপনার গুনগুলোই সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ। নিজেকে গড়ে তোলাটাই পৃথীবির কঠিনতম ব্যাপার। নিজেকে সেরা অবস্থানে নিয়ে যেতে খেয়াল রাখুন অল্প কিছু ব্যাপার যা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে আপনাকে মানসিকভাবে দৃঢ় রাখবে।

👆 প্রতিদিন ধর্মীয় কাজে সময় দিন। প্রতিদিন নিজের সব অর্জন বা ব্যার্থতার কথা সৃষ্টিকর্তাকে বলুন। তার উপর বিশ্বাস রাখুন। এতে আপনার মানসিক অবস্থা সবসময় শক্তিশালী থাকবে।

👆 নিজের দোষগুলো সবসময় স্বীকার করুন। যদি কখনো নিজের দোষ বুঝতে পারেন তবে অবশ্যই তা অন্যর সামনে স্বীকার করার মতো সাহসও মনের ভেতর রাখুন। কখনো দোষ মেনে নিয়ে অন্যর কাছে ক্ষমা চাইতে কুন্ঠাবোধ করবেন না। নিজেকে শুধরানোর মাঝে লজ্জার কিছু নেই।

👆 আপনার কিছু সীমাবদ্ধতা বা অপারগতা রয়েছে অবশ্যই সেই সীমাবদ্ধতা মেনে নিন। তবে এজন্য অবশ্যই কখনো নিজেকে অক্ষম মনে করবেন না। কথায় আছে একটি মাছকে তার গাছ বেয়ে উঠার ক্ষমতা দিয়ে বিচার করলে সেই মাছ সারাজীবন নিজেকে অক্ষমই ভেবে যাবে। সবক্ষেত্রে সফল হতে পারবেন না , কথাটা হয়তো সত্য। কিন্তু সবকিছুতে ব্যর্থও হবেন না এটাও সত্য। আশা রাখুন। আপনি যে কাজটা ভালো পারেন সেখানেই নিজের শতভাগ দিতে চেষ্টা করুন

👆 শো-অফ বাদ দিন। কথাটা সামান্য কঠিন মনে হলেও এই ব্যাপারটা আপনার ভেতর থাকলে তা বাদ দিতে হবে। লোক দেখানোর জন্য কখনো কিচ্ছু করবেন না। নিজের জন্য বাঁচুন। কাছের মানুষ ছাড়া আর কে কি ভাবলো বা আপনার জীবন কেমন যাচ্ছে ! তা সবার সামনে প্রকাশ না করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

👆 অহমিকা ও বাজে একটা ব্যাপার। নিজের সাফল্য, গুণ, স্ট্যাটাস নিয়ে কখনো অন্যর সামনে অহংকার করবেন না। মনের ভেতর অহমিকা জমতে দিবেন না। তা প্রকাশ পাক বা নাই পাক। অন্যকে ছোট করে দেখার মধ্যে কোন আনন্দ নেই ! আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ছোট হলে মনটা কখনো বড় হবে না।

👆 নিজের গুণগুলোকে কখনোই বড় করে দেখবেন না। নিজের ঢোল নিজে পেটানোটা বেমানানসই। অন্যর সামনে তাই নিজের প্রশংসা করা থেকে বিরত থাকুন। এই ধরনের কাজ বাচ্চামীর পর্যায়ে পড়ে। নিজের সক্ষমতার উপর কখনোই পুরোপুরি বিশ্বাস করবেন না। কেননা কোন কিছুই চীরস্থায়ী নয়।

👆 অন্যর প্রশংসা করতে কখনোই কার্পন্য করবেন না। কাউকে সফল হতে দেখলে অবশ্যই তাদের প্রশংসা করুন। তাদের উৎসাহ দিন। কোন কিছুতে কারো অবদান কখনোই ছোট করে দেখবেন না।

👆 হিংসা এক প্রকার রোগ। কখনো অন্যর সাথে হিংসা করবেন না। হিংসা আপনাকে কখনোই সাফল্য দেবে না। যাই করবেন নিজের মতো করে করবেন।অন্যর সাথে কখনোই কম্পিটিশন করবেন না। হিংসা বরং মধের শান্তিটাই কেড়ে নেয় , আর কোন কাজে আসে না। নিজের যোগ্যতা বা অবস্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন।কখনো অন্যর সাথে নিজেকে তুলনা করবেন না।

👆 সবসময় অন্যর মতামত বা পরামর্শ কে গুরত্ব দিন। কারো আত্মসম্মানবোধ বা অনূভূতিকে আঘাত করে কক্ষনো কিছু করবেন না । অন্যর সাথে দয়ালু আচরণ করুন। অন্যর সমস্যা শোনার মতোন ধৈর্য্য শক্তি রাখুন।

 

👆 অন্যের বিপদে আপদে সব সময় পাশে থাকুন। কোন প্রকার বিনিময় আশা না করে অন্যকে সাহায্য করার মতো গুণ নিজের ভেতর রাখুন। মনে রাখবেন কাউকে সাহায্য করে কোন কিছু পাওয়া যায় না হয়তো। তবে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার ।

 

👆 প্রকৃতির কাছাকাছি থাকুন। এতে আপনার মন সব সময় চনমনে রাখবে । মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকবে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে আপনি হতাশা থেকে নিজেকে দুরে রাখতে পারবেন কথা আছে ” nature have healing power ”

👆 বর্তমানটায় বাঁচার চেষ্টা করুন। ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা বিচলিত হবেন না। অতীতের ক্ষতটাও ভুলতে চেষ্টা করুন। অতীত কখনো ফিরে আসবে না। আর ভবিষ্যতের কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই বর্তমানটায় বাঁচার মতো করে বাঁচুন। জীবন তো একটাই ! একটা মুহুর্তও নষ্ট করা কি বুদ্ধিমানের কাজ?

 

👆 সবসময় নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন। একটা ব্যাপারে ব্যার্থ হলেই হাল ছেড়ে দিবেন না। আপনি এক পিস। আপনার মতো করে কেউ হাসতে পারবে না, কেউ ভাবতে পারবে না ! মানুষের আত্মিক কোন কার্বণ কপি নেই এই ব্যাপারটা মন থেকে বিশ্বাস করুন। নিজকে নিয়ে অহংকার করাটা যেমন বোকামী তেমনি নিজেকে ছোট করে দেখাটাও বোকামী। আপনি নিজেকে সম্মান করতে শিখলেই আপনার চারপাশের সবাই আপনাকে সম্মান করবে।

👆 অতি আবেগ ধরে রাখতে শিখুন। যেকোন পরিস্থিতে নিজেকে সামলানোর মতো ক্ষমতা আপনার থাকতে হবে। আবেগ থাকা ভালো তবে, এমন আবেগ থাকা ভালো নয় যা আপনাকে দুর্বল করে দেয়। পরিস্থিতি যাই হোক কখনো থেমে গেলে চলবে না। স্রোতে গা ভাসালে ডুবতেই হবে !

 

 

👆 ড্রিপেশন বা অতি চিন্তা থেকে দুরে থাকুন।চিন্তা করে কোন কিছুর সমাধান সম্ভব নয়। অতি চিন্তা আপনাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে। একটা সময় এতে আপনি ভেঙ্গে পড়বেন। হতাশা কখনো আশাকে বাঁচতে দেয় না এই ব্যাপারটা মনে রাখবেন।

👆 জীবনটা হাজার বিষয়ের সমষ্টি। সবকিছু যাতে ব্যালেন্স করে চলতে পারেন সেই চেষ্টা করুন। যেমন সফলতার পিছু ছুটে , পরিবারকে ভুলে যাবেন না। পরিবার সব থেকে গুরত্বপুর্ন তবে বন্ধুদের অবদানও কখনোই ছোট করে দেখবেন না। সবকিছুর অগে আপনজনদেরকেই প্রাধান্য দিন।

👆 জীবনে বাঁচার জন্য অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারন করুন।যাকে বলে গোল ! নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া বেঁচে থাকাটা অনেকটাই কষ্টকর ও ভিত্তিহীন। লক্ষ্য নির্ধারন করুন, এবং সে অনুযায়ী সামনে অগ্রসর হোন। দেখবেন সফলতা আসবেই !

👆 ভদ্রতার উপর আর কোন কিছু নেই। যখন যার সাথে পরিচিত হবেন তার সাথেই ভদ্র আচরণ করুন। কিভাবে কার সাথে আচরণ করতে হবে তা ফুঝতে পারাটাও এক ধরনের ম্যাচুরিটি।সব পরিস্থিতে সব ধরনের কথা বলবেন না।

👆 সহানুভূতিও চারিত্রিক একটি বড় গুণ। মানুষের প্রতি যতটা সম্ভব সৌহার্দ্যপূর্ন আচরণ করুন। অন্যর মন্দ থাকাটা যদি আপনাকে কষ্ট না দেয় তবে কেমন করে চলবে বলুন !

👆 একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা অবলম্বন করুন। ভয় ভীতি সফলতার ক্ষেত্রে বিরাট বাঁধা । সফল হতে হলে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে

গুণীজন বলেছেন ” you miss 100% of the shots you never take !

 

👆 অন্যকে সম্মান করতে শিখুন।অন্যকে সম্মান দিতে হবে তবেই সম্মান ফেরত পাবেন কথাটা মনে রাখবেন। ভালো কাজের যেমন প্রতিদান আছে তেমনি খারাপ কাজের ও প্রতিদান আছে।

👆 ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে “to give live to get love” মানে মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে তাদেরকেও ভালোবাসতে হবে। বেঁচে থাকতে চারপাশের মানুষের ভালোবাসারও ভীষন প্রয়োজন রয়েছে। সবার সাথে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করে চলুন।

 

👆 আপনার চিন্তাধারাকে বাস্থবতার ভিত্তিতে গড়ে তুলুন। সফল হতে হলে স্বপ্নের সাথে প্র্যাকটিকেল চিন্তাধারারও দরকার আছে । যেকোন পরিস্থিতে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিন। মনসিক দক্ষতাও এক ধরনের বিশেষ গুণ।

 

👆 নিজেকে গড়ে তোলার পাশাপাশি অন্যকে নেতৃত্ব দিতে শিখুন। যেকোন কাজ দলীয় ভাবে করতে চেষ্টা করুন। লিডারশীপ থাকতে হবে আপনার ভেতর।

👆 নিজের সাথেই নিজের প্রতিযোগীতা করুন। নিজেকে প্রতিদিন উন্নত করতে চেষ্টা করুন। কালকের চেয়ে আগামীকালে নিজেকে নিজেই ট্রেইন করুন।

👆 সময়ের চেয়ে আর নিজের পূর্বের ভুলের চেয়ে বড় কোন শিক্ষক পৃথীবিতে নেই। পুর্বের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে পথ চলুন। প্রতি হারেরই পরবর্তি একটা জেত আছে।

নিজেকে গড়ে তুলতে নিজের আত্মবিশ্বাসই যথেষ্ট। নিজের স্বপ্ন , যোগ্যতা ইত্যাদিতে বিশ্বাস করতে শিখুন। নিজের জন্য চরম হতাশা দিনে নিজেকেই আলো জ্বালতে হবে। সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিন। সফলতা আসবেই।

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

মন্তব্য করুন