খাবারকে আরো বেশি সুস্বাদু করে তুলতে টিপস।

খাবার তৈরী করার ব্যাপারটা বাঙ্গালী নারীদের নিত্যদিনের জীবনের বিরাট একটা অংশে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে কিছুটা ভুল হওয়াটাও বেশ স্বাভাবিক ব্যাপার। ভুল এড়াতে ও খাবারকে অরো বেশি সুস্বাদু করে তুলতে মনে রাখুন অল্প কিছু টিপস…..

👉 খাবারে ব্যালেন্স ব্যাপারটা খুব বেশি গুরত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে লবনের ব্যাপারটা সবার আগেই খেয়াল রাখুন।কারণ অল্প লবন খাবারকে পানসে আর অতিরিক্ত লবন খাবারকে তিতা করে তুলতে পারে। সবজী রান্নার ক্ষেত্রে সবার শেষে লবন যোগ করুন, কারণ লবন সবজীর রঙ নষ্ট করে দিতে পারে। মিষ্টিজাতীয় খাবারে চিনির পরিমাণ সঠিক রাখার চেষ্টা করুন।

👉 প্রেজেন্টশন বা পরিবেশন খাবারের আরেকটি বড় দিক। কোন খাবারকে আরো বেশি আকর্ষনীয় করে তুলতে পারে পরিবেশন ! নোংরা ময়লা প্লেটে কি পোলাও খেতে ভালো লাগবে ? অথবা সালাদ ছাড়া মাংস জাতীয় খাবার খেতে কি ভালো লাগবে , বলুন ! তাই অবশ্যই ডেকোরেশন ব্যাপারটাকে গুরত্ব দিন। কোন খাবার সিম্পল কিন্তু সুন্দরভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করুন। এতে অথিতিদের নজরও কাড়বে আপনার ডিশ !

👆 সব সময় ফ্রেশ খাবার রান্না করতে চেষ্টা করুন। দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা মাছ, মাংস খেতে ভালো লাগবে না ! বাজারের ফ্রেশ মাছ, মাংস ও সবজীর টেস্টই আলাদা ! আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখবেন রান্না করার ঠিক আগ মূহুর্তই শাক সবজী কাটবেন।বেশি আগে থেকে শাক সবজী কেটে রাখলে সবজীর উপর কালচে ভাব চলে আসবে। এবং সবজীর স্বাদ ও ঘ্রাণ দুটোই কমে যাবে। সবজী একটু বড় করে কাটতে চেষ্টা করবেন। সালাদে খুব বেশি ড্রেসিং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে সালাদের সঠিক পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কাঁচা সালাদ যেমন, টমেটো , শশা , ও লেটুসপাতাকে বেশি গুরত্ব দিন।

👆 রান্নায় কোন ধরনের তেল ব্যবহার করছেন তার উপরও কিন্তু খাবারের স্বাদ অনেকটাই নির্ভর করে।আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল ইত্যাদিতে প্লচুর পরিমাণে পুষ্টি আছে। কিন্তু এই ধরনের তেলে বাড়তি ফ্লেভার থাকে, যা খাবারের টেস্ট পরিবর্তন করে দিতে পারে। ধরা যাক আপনি ডিম ওমলেট করবেন, এক্ষেত্রে অলিব অয়েল ব্যবহার করলে ডিম অমলেট খেতে মোটেও ভালো লাগবেনা। খাবারের স্বাদ পারফেক্ট রাখতে সয়াবিন তেলই সেরা। তবে অলিভ অয়েল যেকোন ধরনের ইটালিয়ান রেসিপিতে কাজে লাগাতে পারেন। ভর্তা জাতীয় খাবারে সরিষা তেল বেশ ভালো লাগবে। ডাল , আলু ভাজি ইত্যাদি বাঙ্গালীয়ানা খাবারে সরিষা তেলে কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ রসুন ভেজে দিলে খাবারের স্বাদ দিগুণ হয়ে যাবে।

👉শোনে ভাবতে পারেন এ আবার নতুন কী ! জি বলছিলাম খাবারে পানির কথা ! রান্না করতে খাবারে পানি তো দিতেই হয় ! তবে জেনে রাখুন এই পানিই খাবারে ফ্লেভার ভালো রূপে বের করে আনে। অনেকেই পানি ছাড়া সবজী রান্না করে থাকেন। এ অভ্যাস বাদ দিন। সামান্য পানি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

👉 এক বেলার আইটেমে ডিম রাখার চেষ্টা করুন। সবজী খেতে ভালোবাসেন ? রাতের খাবারেই এক বাটি সবজী খেয়ে নিন। শুধু খেলেই হবে না! ব্যালেন্স করে খেতে হবে !

👉 ফ্লেভার সুন্দর করতে অনেকই খাবারে অতিরিক্ত ঘি, রঙ ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন, যা মোটেই ঠিক না। খাবারের ফ্লেভার বের করতে একটা দারুচিনিই যথেষ্ট! অহেতুক ক্ষতিকর খাবার খেয়ে লাভ টা কি বলুন !

👉বাসনের ব্যাপারটাও মাথায় রাখুন। রান্নার সময় ভালো মানের স্টিলের প্যান ব্যবহার করুন। সে্টনলেস বাসনে স্টিলের চামচ দিয়ে নাড়বেন না। এ্যালুমিনিয়ামের আস্তরন উঠে আসতে পারে।এরচেয়ে বরং কাঠের চামচই ব্যবহার করতে পারেন। খাবার সার্ভিংএর ক্ষেত্রে কাঁচের বাসনের বিকল্প নেই তবে মাটির বাসন ব্যবহার করলে নান্দনিকতা ফুঁটে উঠবে।

👉দাদী নানীদের দেওয়া পুরাতন উপদেশটা মনে আছে তো ? ” ভালো করে চিবিয়ে খাও ” জি জেনে অবাকই হবেন ! খাবারের স্বাদ ভালো করে উপভোগ করতে হলে খুব ভালো করে চিবিযে খাবার খেতে হবে। তাছাড়া যাদের হজমের সমস্যা আছে তারা যদি ভালো করে চিবিয়ে খাবার খান তবে উপকার পাবেন।

 

👆 রান্নার স্বাদ বজায় রাখতে খাবারে যতটা সম্ভব কম তেল ব্যবহার। কম তেল ও কম ঝাল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। তেল ও খাবারের স্বাদ নষ্ট করে দেয়।আর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঝালও খাবারের টেষ্ট ঠিকমতো বুঝতে দেয় না।তাছাড়া খুব বেশি তেল ও ঝাল স্বাস্থ্যের জন্য যে কতটা ক্ষতিকর তা তো আপনার অজানা নয়।

এছাড়াও কাজে লাগতে পারে আরো কিছু ব্যাপার…

👉 ডিম ভাজি করবেন ? সাথে একটা টমেটো কুচি যোগ করে দিন না ! এবার খেয়ে দেখুন স্বাদটা আরেকটু ভালো লাগবে।

👉 চিকেন রান্না করবেন, এক কাজ করুন সাথে এক টেবিল চামচ টমেটো সস যোগ করে দিন। যেকোন ভাবে যেকোন স্টাইলেই চিকেন রান্না করুন , এক টেবিল চামচ সস স্বাদ বাড়িয়ে তুলবে।

👉 কোন কিছু বেক করার আগে এর উপর সামান্য লবন ছিটিয়ে দিন। সহজে বেক হবে আর সফট ভাবটাও থাকবে। বেক করার পর, বেক করা জিনিস পাউরুটির উপর ছড়িয়ে রাখুন। এতে বেক করা পর বেকড ফুডের মসৃনতা বা সফটনেস বজায় থাকবে।

👉 তরমুজ ফ্রিজে রাখার আগে তা টুকরো করে নিন। এরপর এর উপর সামান্য লবন ছিটিয়ে দিন। লবন তরমুজকে আরো বেশি মিষ্টি করে তুলবে।

👉 মিষ্টি দই ও টমেটো সস একসাথে মিশিয়ে বার্গার, স্যান্ডউইচ বা শর্মার উপর মিষ্টি সস হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

👉 সবজীর রঙ সুন্দর করতে সবজী রান্নার সময় ঝতে এক চা চামচ লেবুর রস অথবা এক চা চামচ ভিনেগার যোগ করে নিন। এতে সবজীর রঙ আরো বেশি ফুটে উঠবে

👉 রসুন বাটার চেয়ে রসুন কুচি বেশি ফ্লেভার যোগ করবে খাবারে। অযথা রসুন বাটার খুব একটা প্রয়োজন নেই আসলে

👉 বাদামি রঙা চাল, চিনি, লবন ময়দা ইত্যাদিতে সাধারনত পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। তাই কেনার সময় এই ব্যাপারটা লক্ষ্য রাখুন।

👉 খাবারে কেনা মসলার পরিবর্তে নিজ হাতে বানানো বা ব্লেন্ড করা মসলা ব্যবহার করতে পারেন। এতে একসাথে স্বাস্থ্যর আর স্বাদের উন্নতি হবে।

👉 ওটমিল খাওয়ার সময় একটি কলা কুচি ও বাদাম এর উপর ছড়িয়ে দিন। এতে ওটমিল খেতে দারুণ লাগবে।

 

👉 যেকোন ধরনের আইসক্রীম অথিতিদের সার্ভ করার আগে এর উপর সামান্য গলানো চকোলেট ছেড়ে দিন। মনে হবে রেস্টুরেন্টই আইসক্রীমটা খাওয়া হচ্ছে !

👉 অন্তন তৈরীর সময় নেই অথচ মজা করে স্যূপ খেতে ইচ্ছা করছে ? এক কাজ করুন স্যূপের সাথে বাজার থেকে কেনা যেকোন ক্রিসপি চিপস মিশিয়ে খেয়ে দেখুন বেশ ভালো লাগবে !

👉 পেঁয়াজের ঝাঁঝ কমাতে পেঁয়াজ কুচি ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে যেকোন সালাদেও কাঁচা পেঁয়াজ যোগ করলে খেতে খারাপ লাগবে না।

 

👉 কফি তৈরী করা পর এতে সামান্য লবন ও সামান্য দারুচিনি গুড়া ছিটিয়ে দিন।

👉 যেকোন ধরনের গুড়া মসলা ঝরঝরে রাখতে মসলার পাত্রে কয়েক দানা চাল রেখে দিন। মসলার স্বাদ গন্ধ অটুট থাকবে।

👉 মাংস রান্নায় পিনাট বাটার বা সরিষা বাটা দিলে খেতে ভালো লাগবে।বাবুর্চিরা সাধারনত মাংস রান্নায় এই উপাদানগুলো ব্যবহার থাকেন।।

👉 কাবাব, আলুর চপ বা বার্গার স্টেক তেরী করার সময় কিমার সাথে সামান্য ব্রেডক্রাম্ব মিশিয়ে নিলে খেতে ক্রিসপি লাগবে।এতে দীর্ঘ সময় পরও এই খাবারগুলো ক্রিসপি থাকবে।

👉 তেল ছাড়াও ডিম পোচ করতে পারবেন এটা কি জানেন? গরম পানিতে করা ডিম পোচ তেলের ডিম পোচ থেকে বেশি স্বাস্থ্যকর।

ব্যাস এই ছিলো রান্নাবান্না সম্পর্কে অতি কাজের কিছু টিপস। আপনার বিষয়গুলো জানা না থাকলে এখনই জেনে নিন। রান্নার সময় এই ব্যাপারগুলো খেয়াল রাখলে আপনার ডিশ আরো বেশি আকর্ষনীয় হয়ে উঠতে পারে। আশা করি টিপসলো কিছুটা হলেও কাজে আসবে।

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

১ টি মন্তব্য
  1. Reply স্প্যানিশ ওমলেট রেসিপি | চটপট - এসো নিজে করি জানুয়ারী ৩১, ২০১৮ তারিখে ৪:৩৯ অপরাহ্ন

    […] নাস্তায় ওমলেট সহজ ও স্বাস্থ্যকর এক খাবার। একই ধরণের […]

মন্তব্য করুন