সাউন্ড স্লিপ চান? তবে কিছু অভ্যাস বাদ দিন এখনই !

আজকাল আমাদের জীবন যাত্রায় খুবই অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়।ঘুম বা খাওয়ার কোন কিছুই যেনো নিয়ম মাফিক চলছে না। অনেকে আবার সারা দিন ব্যস্ততা শেষেও ঠিকমতো ঘুমোতে পারছেন না। এর কারণ কি হতে পারে জেনে নিন , আর নিজেকে দুরে রাখার চেষ্টা করুন এসব ক্ষতিকারক অভ্যাস থেকে।

রাতে ঘুম না আসা কি যে কষ্টের ব্যাপার তা শুধু সেই বলতে পারবে, যে এ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। ঘুম ঠিক নয় তো যেনো কোন কিছুই ঠিক নয়। অতিরিক্ত কম ঘুম আপনার মস্তিষ্কের উপর ও কু-প্রভাব ফেলতে পারে।

১ : রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে কি আপনি ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন ? করে থাকলে আজ থেকেই এ অভ্যাস বাদ দিন। কাজ করার জন্য রাতটা উপযোগী সময় নয়। তাছাড়া ল্যাপটপ বা ট্যাবের স্ক্রিন ব্রাইটনেস আপনার ঘুম দুর করতে যথেষ্ট।

তাই ,

ঘুমোতে যাওয়ার দু তিন ঘন্টা আগেই ল্যাপটপ বা ট্যাবের কাজ শেষ করুন।

কিছু করার না থাকলে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পছন্দসই কোন বই কিছুক্ষণ পড়তে পারেন। কিন্তু ল্যাপটপ বা ট্যাব ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকু

বেডরুমে ঘুম ঘুম পরিবেশ আনার জন্য ডিম লাইট ব্যবহার করতে পারেন।

 

২: আচ্ছা , ঘুমোতে তো যাবেন , কিন্তু এর আগে এক ঝলক দেখে নিন যে, আপনার বেডরুম কোন অবস্থায় আছে। অগোছালো বেডরুম আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্কের একটি গবেষণায় দেখা গেছে অগোছালো রুম আপনার মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে , যা সমানভাবে আপনার ঘুমকেও বিঘ্নিত করতে পারে।

তাই,

শত ব্যস্ততাই থাকুক সারাদিন, ঘুমের ব্যাপারে কোম্প্রোমাইজ ? উহু একদম নাহ ! সামান্য কিছু সময় ব্যয় করে ঘরটাকে গুছিয়ে নিন। তারপর শান্তিতে ঘুমোতে পারবেন আপনি !

 

৩ : ট্যাব ও ল্যাপটপের মতোই ক্ষতিকর হলো, মোবাইল ফোন। শতকরা ৬০% ভাগ মানুষ বিছানায় যাওয়া পর ও বারবার তাদের ফোন চেক করে থাকেন। এতে কিন্তু , আপনার ঘুমের খুবই ক্ষতি হয়। ফোনের স্ক্রিনের আলো আপনার ঘুম নষ্ট করে দিতে পারে। চেষ্টা করুন অন্তত ঘুমোতে যাওয়ার এক ঘন্টা আগে মোবাইল ফোন না ব্যবহার করতে।

এজন্য,

ফোন বেড থেকে দুরে রাখুন। দরকার হলে অন্য রুমেও রেখে আসতে পারেন।

ফোন ফ্লাইট মোডে রেখে দিন। বা অফ করেও রাখতে পারেন।

৪: ডি- হাইড্রেটেশন বা পানি স্বল্পতা ঘুম না আসার অন্যতম কারণ। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার অগে এক গ্লাস পানি পান করতে পারেন। সারাদিন যে পানিগুলো শরীর থেকে বের হয়ে যায়, এর অভাব পূরণ করতে ঘুমোতে যাওয়ার এক থেকে দেড় ঘন্টা আগে দু গ্লাসের মতো পানি করুন। পানি আপনার শরীরে মিনারেলস, ও ভিটামিনের ভারসাম্য রক্ষা করে। এতে আপনি রিল্যাক্সড ফিল করবেন। এবং আশা করা যায় যে, ঘুম ও তাড়াতাড়ি চলে আসবে।

৫: রাতে ঘুম না আসার আরেকটি প্রধান কারণ হলো মাত্রাতিরক্ত গরম ! আমাদের দেশে কি পরিমাণ গরম তা তো নিশ্চয় আমাদের অজানা নয়।তাই ঘুমোতে যাওয়ার সময় নরম সুঁতি কাপড়কে প্রাধান্য দিন। ঘরে এসি থাকলে ভালো , ছেড়ে দিতে পারেন। খুব গরমে ঘরের লাইটগুলো সবসময় অফ করেই রাখবেন। এতে ঘর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকবে।

৬: কখনোই ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমোতে যাবেন না । যখন আপনি ক্ষিদা অনুভব করবেন তখন আপনার মস্তিষ্ক সচেতন হয়ে যাবে। যা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাবে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত দু ঘন্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন। এরপর ক্ষিদা লাগলে হালকা যেকোন কিছু খেয়ে নিন। এক্ষেত্রে জলপাই বা ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত অন্য যেকোন ফল সহায়তা করবে। কারণ ম্যাগনেসিয়াম তাড়াতাড়ি ঘুম আসতে সহায়তা করে।

 

৭: আপনি নিশ্চয় জানেন ক্যাফেইন আপনার শরীরে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। মনে রাখবেন রাত জেগে পড়ার ইচ্ছা থাকলে চা ,কফি পান করুন কিন্তু ঘুমানোর ইচ্ছা থাকলে রাতে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় মানে, চা বা কফি পান করবেন না। কেননা এগুলোর প্রভাব দীর্ঘ চার -পাঁচ ঘন্টা থাকে। তাই ঘুমোতে যাওয়ার আগে চা বা কফি পান বুদ্ধিমানের কোন কাজ নয়।

 

৮: ঘুমোতে যাওয়া পর কখনোই অতিরিক্ত কিছু চিন্তা করবেন না। মাথায় আজে বাজে চিন্তা নিয়ে ঘুমানোটা প্রায় অসম্ভব। আমি এটাও জানি যে, আপনার মস্তিষ্কের উপর আপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। তবু , চেষ্টা করতে দোষ কি বলুন ! যতটা সম্ভভ কম চিন্তা করার চেষ্টা করুন। রিল্যাক্সড থাকার জন্য যেকোন ধরনের ইয়োগা , বা ধর্মীয় যেকোন কাজ করতে পারেন। অথবা পড়তে পারেন খুব প্রিয় কোন গল্পের বই বা কবিতা।

 

৯: অনেকেই শখ করে নিজের পোষা প্রাণী নিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করে থাকেন। যেমন বিড়াল, কুকুর ইত্যাদি। রাতের এই অভ্যাসটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর। পোষা প্রাণী ও আপনার নিদ্রায় ছন্দ পতন ঘটাতে পারে। তাই বলি, এ অভ্যাস বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন কারণ এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ও ক্ষতিকর। এসব প্রাণীর লোমা মুখে বা নাকে প্রবেশ করলে আপনি ভাইরাল জনিত রোগে ভোগতে পারেন।

১০: রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে খুব বেশি মসলাযুক্ত খাবার খাবেন না। যেমন : পোলাও , ঝাল কারী , চিপস ইত্যাদি। এসব খাবার খেলে ঘুম দেরীতে আসা স্বাভাবিক।

১১: আপনি কি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ ইয়োগা করছেন ? বা জগিং ? শারীরিক ব্যায়াম না করা অনিদ্রা রোগের প্রধান কারণ। তাই যতটা সম্ভব পরিশ্রম করুন। এতে রাতে ভালো ঘুম আসবে।

 

ভালো ঘুম না হওয়ার কারণ তো জানা গেলো , তাই না ? এবার থেকে আশা করি এই ব্যাপারগুলো খেয়াল রাখবেন। এতে আপনার ঘুম ভালো হবে আশা করা যায়।

ভালো থাকন , প্রতিটা ক্ষণ।

😊

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

১ টি মন্তব্য
  1. Reply থাইরয়েডের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু উপায় | চটপট - এসো নিজে করি অক্টোবর ১২, ২০১৭ তারিখে ১:০৪ পূর্বাহ্ন

    […] মিনিট ম্যাসেজ করুন। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর অগে করুন। পরের দিন সকালে পেয়াঁজের রস ধুয়ে […]

মন্তব্য করুন