লেবুর খোসা ফেলনা নয় !

লেবু, নিত্যদিনের আহারে একটু লেবুর রস না মেশালে যেনো আহার পূর্ণতাই পায় না। তবে অবহেলার শিকার হয় লেবুর খোসা। এই লেবুর খোসাতেও কিন্তু আছে দারুণ সব জাদুকরীয় গুণাগুণ ! যা অনেকটা অবাকই করবে আপনাকে ।

চলুন না এক ঝলক দেখে নেই লেবুর খোসার উপকারীতা বা ভিন্নধর্মী ব্যবহার।

১: পুডিং তৈরীতে: ভাবছেন নিশ্চয় পুডিং তৈরীতে কি এমন বিশেষ কাজে আসবে লেবুর খোসা ! কিন্তু আপনি জানেন কি সামান্য লেবুর খোসাই আপনার পুডিংটাকে করে তুলতে পারে আরেকটু স্পেশাল ! জি ,হ্যা পুডিং তৈরী করার সময় চিনি লাল করে তার উপর সামান্য লেবুর খোসা মিশিয়ে নিন। দেখবেন কি দারুণ একটা ভিন্ন ধর্মী ফ্লেভার পাবেন।

২: দাঁতের যত্নে : শুধু লেবু নয় , লেবুর খোসাও অনেক সময় দাঁতকে সাদা করে তুলতে পারে। দাঁত সাদা করতে লেবুর খোসা খুব ভালো করে দাঁতে ঘষুন। লেবুর রসে প্রচুর এসিড থাকে, যা দাঁতের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু লেবুর খোসায় এসিডের পরিমাণ খুব কম। তাই এতে দাঁতের ক্ষতি হওয়ার আশংকাও অনেকটা কম থাকে। মুখের দুর্গন্ধ দুর করতে চাইলে সামান্য লেবুর খোসা চিবিয়ে খেতে পারেন। একটু তিতা লাগবে ঠিকই কিন্তু ফায়দাটা কিন্তু বেশ মিষ্টি ! চাইলে লেবুর খোসা শুকিয়ে তা সপ্তাহে তিনদিন টুথপেস্টের সাথে মিশিয়ে ব্রাশ করতে পারেন। মুখের দুর্গন্ধ থেকেও মুকি্ত পাবেন খুব সহজে। তো আর দেরি কেনো ! দাঁতের সমস্যায় এক্ষুনি বেছে নিন লেবুর খোসা ! তাছাড়া এতে উপস্থিত ভিটামিন সি দাতের ব্যাথা, মাড়ি ক্ষয় থেকে মুক্তি দেবে।

৩: ক্যান্সার , মরণব্যাধি এক ভয়ানক রোগ। এখন প্রায় প্রতি পরিবারেই ক্যান্সার রোগী দেখা যায়। ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে লেবুর খোসা। লেবুর খোসায় “salvestrol Q40 নামক উপাদান আছে যা ক্যান্সার কোষ ধংস করতে পারদর্শী।

৪: হাড়ের সুরক্ষায় : হাড় ক্ষয় , ব্যাথা ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করতে পারে লেবুর খোসা। লেবুর খোসায় প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি আছে। এছাড়া আর্থারাইটিস রোগ প্রতিরোধ করতে পারে লেবুর রস।

৫: অবসাদ তাড়াতে : মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি দিতে পারে লেবুর খোসা। এতে উপস্থিত সাইট্রাস বায়ো উপাদানগুলো মানসিক অস্থিরতা ও শারীরিক অস্থিরতা কমাতে পারদর্শী

৬: টক্সিন দুর করতে : সফট ড্রিংকস, দূষিত বাতাস, বাজে খাদ্যভ্যাস সব কিছু আমাদের শরীরে টক্সিন সৃষ্টি করতে পারে। খারাপ টক্সিনের কারণে শরীরে নিস্তজতা দাঁনা বাঁধতে পারে। শরীরের এই টক্সিন ধংস করবে লেবুর খোসা !

এছাড়াও,

কোলেস্টোরল কমাতে

হার্টের সুরক্ষায়

ওজন কমাতে

ত্বক ভালো রাখতে

এলার্জি সারাতে

বেশ কাজে আসে লেবুর খোসা। এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে লেবুর খোসা খেতে পারেন ?

জেনে নিন —–

যেকোন ধরনের সালাদে লেবুর খোসা মিশিয়ে খেতে পারেন। এভাবে খেলে সালাদে বাড়তি ফ্লেভার ও পাবেন সাথে আপনার উপকার ও হবে। অথবা লেবুর খোসা জ্বাল দিয়ে চিনি ছাড়া চা করে খেতে পারেন। আর যদি এমনি ই খেতে পারেন তাহলে তো আর কথাই নেই !

আশা করি এখন থেকে আর লেবুর খোসা ফেলবেন না আপনি !

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

২ টি মন্তব্য
  1. Reply মাত্র এক উপাদানের কার্যকর কিছু ফেস মাস্ক | চটপট - এসো নিজে করি জানুয়ারী ৩, ২০১৮ তারিখে ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

    […] লেবুর অম্লতা ও ভিটামিনের জন্য এটি ত্বক পরিষ্কারে খুব কাজে আসে। লেবুর ফেস মাস্ক যেমন ত্বক পরিষ্কার করে, তেমনি ত্বকের মৃত কোষগুলো দূর করে। ত্বকের সরাসরি লেবুর রস প্রয়োগে যদি কারো সমস্যা হয়, তবে লেবুর রসে সামান্য পানি মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। […]

  2. Reply ইফতার রেসিপিঃ ৩টি পুষ্টিকর ড্রিঙ্কস | চটপট - এসো নিজে করি মে ২৫, ২০১৮ তারিখে ১:৩২ অপরাহ্ন

    […] লেবুর রস – ২ টেবিল চামচ […]

মন্তব্য করুন