হতাশা ভুলে, বাঁচুন নতুন করে!

 

সুন্দর ও রঙীন জীবনটাকে, সাদাকালো চোখে দেখার জন্য বেশি কিছু লাগে না, ব্যাস একটু বিষন্নতা বা অবসাদের ছোঁয়াই যথেষ্ট। যাকে এক কথায় বলতে  পারেন “ডিপ্রেশন “। ড্রিপেশনের প্রথম ধাপ , বিষাদ বা অবসাদ ! নিজেকে ঘিরে হীন্নমন্যতা। যখন মাত্রাতিরক্ত বিষন্নতা কাউকে ঘ্রাস করে ফেলে, তখন তার বেঁচে থাকাটাই যেনো অনেকটা মূল্যহীন হয়ে পড়ে। অনেকেই হতাশা থেকে বেছে নেন অত্মহত্যার পথ। দৈনন্দিন জীবনে নানান কারণে সৃষ্টি হতে পারে ডিপ্রেশন।

ডিপ্রেশন কি ?

সহজ ভাষায় চরম হতাশাকেই ডিপ্রেশন বলে ধরে নিতে পারেন। লেখাপড়ায় অনীহা, কাজে মন না লাগা, একা একা থাকার স্বভাব অথবা চারপাশে প্রচুর কোলাহলের মাঝে নিজেকে একা মনে হওয়াটাই হচ্ছে ডিপ্রেশন। বিষাদ বা অবসাদগ্রস্থ ব্যাক্তি সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে পারেন না। বিয়ে বাড়ির ঝঝমকালো আলো আর হাজার মানুষের কোলাহলের ভেতরে থেকেও এরা দিন শেষে নিজেকে একাই মনে করে থাকেন। জীবন নিয়ে এদের তেমন একটা লক্ষ্য থাকে না। এক কাথায় অবসাদের ছোবলে এক সময়কার প্রাণবন্ত মানুষটিও ভুলে যায় স্বপ্ন দেখতে !
কি থেকে সৃষ্টি হতে পারে ডিপ্রেশন?

ডিপ্রেশনের ধরন একই হলেও , ডিপ্রেশন সৃষ্টির পেছনে নানান কারণ থাকতে পারে। বয়সভেদে ডিপ্রেশনের আলাদা আলাদা কারণ থাকতে পারে। সাধারণত ১৬-২৪ এই বয়সে ডিপ্রেশনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। পারিবারিক সমস্যা, লেখাপড়ায় পিছিয়ে থাকা, বা নিজের যোগ্যতা নিয়ে দ্বিধা থেকে ডিপ্রেশন সৃষ্টি হয়ে থাকে। যার যার জীবনে যে যার ছোটখাটো সমস্যা থেকে ডিপ্রেশনে ভোগে থাকেন।

জীবন তো একটাই তাই না ?? আর কত অযথা নিজেকে ডুবিয়ে রাখবেন অবসাদের জগতে ? কিভাবে নিজের ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমেই ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাবেন তাই জেনে নিন আজ।

 

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন : প্রথমেই নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলতে হবে। আমি জানি বলাটা হয়তো সোজা কিন্তু , কাজটা অত সহজ নয়। তবু একটু ভিন্ন ভাবে ভাবতে চেষ্টা করুন। কথায় আছে না ” Think positive be positive! নিজেকে কখনো ছোট করে দেখবেন না। আপনার যে যোগ্যতা আছে তা আগে নিজে বিশ্বাস করতে শিখুন। এরপর তা বাইরের জগতের মানুষ অবশ্যই বিশ্বাস করবে। আজকের দিনটা যে আর ফেরত পাবেন না একথা মনে প্রাণে গেঁতে রাখুন। তাহলেই আর একটা মূহুর্ত মন গোমরা করে বসতে ইচ্ছে করবে না, আই প্রমিজ !

বাঁচুন বর্তমান নিয়ে :
বেশির ভাগ মানুষই ভবিষ্যৎ বা অতীত নিয়ে হতাশায় ভোগে। বর্তমানটা নিয়ে খুব কম মানুষকেই আমি ভাবতে দেখেছি। আজ থেকে সবার আগে বর্তমানটাকেই গুরত্ব দিন। অতীত কখনো ফিরে আসবে না,। অতীতের কষ্টগুলোও চাইলেও আপনি সারাতে পারবেন না তাহলে কেনোই বা সেই অতীতেই পড়ে থাকবেন, বলুন!আর ভবিষ্যৎ যখন আসবে তখন তা দেখা যাবে।আজকের মূহুর্তটা প্রাণ ভরে একটু শ্বাস নিন না! দেখা যায় বর্তমান নিয়ে ব্যস্ত থাকতে শিখে গেলে অতীত আর তেমন একটা কষ্ট দিতে পারে না !

বাদ দিতে হবে রাত জাগা :
ছাড়তে হবে রাত জাগা : অযথা রাত জাগা ডিপ্রেশন দিগুণ করে তুলতে পারে। দিনের বেলা ব্যস্ততায় তেমন একটা চিন্তা মাথায় ভীড় করে না। কিন্তু রাতে যেনো সব চিন্তা বা হতাশা এক সাথে এসে হাজির হয়। তাই অযথা বিনা কাজে রাত জাগবেন না। রাতের ঘুমের মতো সেরা আর কিছুই নয়। ফোনটা এক পাশে রেখে ঘুমোতে চেষ্টা করুন। আর হ্যা, আরেকটা কথা, অতিরিক্ত নেট আসক্তিও কমাতে চেষ্টা করুন। কারণ গবেষণায় দেখা যায় মাত্রাতিরক্ত ফোন এডিকশন থেকেও অনেকে হতাশায় জর্জরিত হয়ে থাকেন। প্রতিদিন যেনো অন্তত আট ঘন্টা ঘুম হয় আপনার এই ব্যাপারটা খেয়াল রাখুন। আর বিকেল বেলা বা দুপুর বেলা যতটা সম্ভব কম ঘুমাতে চেষ্টা করুন। কারণ, এ থেকে মনে প্রাণে এক ধরনের জড়তা চলে আসে।

থাকুন ঝলমলে আলোতে :
কথায় আছে আলো প্রফুল্লতার অংশ, আলো বিষন্নতার অংশ। যতটা সম্ভব আলোকিত রুমে থাকার চেষ্টা করুন। অনেকেই মন খারাপ থাকলে অন্ধকার রুমে থাকতে পছন্দ করেন। তবে এটি যোটেও করা যাবে না। একাকিত্বকে কখনোই প্রশ্রয় দেবেন না দয়া করে। আর নিভু নিভু মন খারাপ করা আলোর নিচে কখনোই থাকবেন না। এটি আপনার মনের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে থাকে। চাইলে ঘরটা হরেক রঙের লাল নীল ঝমকালো বাতি দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন। দেখবেন আলোর ছোঁয়া আপনার মনটাকে ফুরফুরে করে তুলবে !

সময় কাটান ব্যস্ততায় :
চাইলেই হয়তো ব্যস্ত থাকা যায় না। তবে যতটা সম্ভব চেষ্টা করুন ব্যস্ত থাকতে। কথায় আছে ” ব্যস্ততাই মানসিক সুস্থতা। আপনি স্টুডেন্ট হলে পড়ালেখায় দু চামচ বেশি মনযোগ ঢেলে নিন ! কোন জব থাকলে তো কথাই নেই! এক কথায় যতটা সম্ভব ব্যস্থ থাকার চেষ্টা করুন। আচ্ছা ধরে নিলাম , এই কাজগুলোতে তেমন একটা মজা পাওয়া যায় না। তারপরও কাজের কি আর অভাব আছে ! শখের যেকোন কাজই তো করা যেতে পারে , তাই না ? শিখে নিতে পারেন ডিজাইনিং বা ব্লক প্রিন্টের কাজ ! অথবা শখ অনুযায়ী যেকোন কাজ করুন। তবু দয়া করে হাসি হাসি ঐ মুখটা গোমরা করে রাখবেন না।ব্যস্ত থাকলে অহেতুক চিন্তা মনে আসবে না।

 

সময় দিন পরিবার ও বন্ধুদের :
সময় দিন পরিবার ও বন্ধুদেরকে : যতক্ষন আপনি হাসছেন ততক্ষনই আপনি ভালো থাকছেন। আর এই ভালো থাকার জন্য প্রয়োজন হয় কাছের কিছু আপনজনদের। হ্যা বলছি পরিবার ও কাছের কিছু বন্ধদের কথা। ছুটির দিনটায় প্রিয় বন্ধুদের সাথে কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। অথবা ছুটির দিনটায় মায়ের সাথে রান্না করে ফেলুন প্রিয় কোন খাবার ! রাতের খাবার এবং দুপুরের খাবারটা পরিবারের সদস্যদের সাথে খেতে চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনজনদের সাথে সময় কাটালে আপনি অবশ্যই ভালো থাকবেন। কাছের মানুষের সাথে সময় কাটালে ভেতরে যে কষ্টের চাপটা থাকে তা অনেকটাই কমে যাবে। তাই একটু সময় বন্ধুদের দিতে মোটেও অনীহা করবেন না।

শেয়ারিং : কথায় আছে, সুখ গুলো ভাগ করে নিলে তা বেড়ে যায়। আর কষ্ট ভাগ করে নিলে তা কমে যায়। তাই, মনে কখনোই কষ্ট পুষে রাখবেন না। মনে যা চলছে তা খুলে বলুন কাছের মানুষের কাছে। দেখবেন এতে আপনার মনটা অনেকটাই হালকা হবে। আর হতাশাও কিছুটা কমবে। একা একা টেনশন না করে মন খুলে ডাছের কাউকে সব বলুন।

বাদ দিতে হবে নেট আসক্তি : অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে, যে ডিপ্রেশন এর সাথে নেট আসক্তির কি সম্পর্ক!  হ্যা, আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অতিরিক্ত ফেসবুক, টুইটার বা অন্যান্য সোশ্যাল সাইটের প্রতি বেশি আসক্ত এরা ডিপ্রেশনে ভুগে থাকেন, কারণ এরা প্রায়শই সামাজিক ঐ মাধ্যমগুলোতে অন্যদের লাইফ স্টাইল দেখে নিরাশ হয়ে পড়ে। তখন তারা অন্যের জীবনের সাথে নিজের জীবন তুলনা করে থাকেন। এ থেকে তাদের মাঝে হতাশা জন্ম নেয়। তাই অবশ্যই ইন্টারনেট আসক্তি কমাতে হবে।

যাই হোক, দিন শেষে ভালো থাকতে হয়। নিজের জন্য, কাছের কিছু মানুষের জন্য। আপনার যা করতে ভালো লাগে তাই করুন। পছন্দের কোন গান শোনতে পারেন, পড়তে পারেন ভালো লাগার কোন গল্পের বই, অথবা প্রিয় মুভিটা আরেকবার দেখে নিন। ধর্মীয় কাজেও সময় ব্যয় করুন। আর জীবন সাজান রুটিনমাফিকভাবে !তাহলেই দেখবেন ডিপ্রেশন শব্দটাই ভুলে যাবেন আপনি। জীবনটা খুব ছোট, ডিপ্রেশন নিয়ে পড়ে থাকার মতো অতটা বড় নয় এই জীবন । প্রতিটা মূহুর্ত এমনভাবে বাঁচার চেষ্টা করুন যেনো এটাই আপনার জীবনের শেষ মূহুর্ত !

 

তবে, আজ থেকেই শুরু হোক না ভালো থাকা। নিজে ভালো থাকুন এবং চারপাশের সবাইকে ভালো রাখুন।

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

১ টি মন্তব্য
  1. Reply অতিরিক্ত বসে থাকার ফলে , আপনি পড়তে পারেন মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে | চটপট - এসো নিজে করি মার্চ ৮, ২০১৮ তারিখে ৭:১৮ পূর্বাহ্ন

    […] বসে থাকেন তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদ , বিষন্নতা ইত্যাদি তৈরী হয়। এছাড়া দীর্ঘক্ষন […]

মন্তব্য করুন