দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে যা করণীয়

দৈনন্দিন জীবনযাপনে আমাদের সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হয় দৃষ্টিশক্তির উপর। বর্তমানে আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে ছোটবেলা থেকেই সেল ফোন, কম্পিউটার বা টেলিভিশন স্ক্রিন দেখতে দেখতে চোখের উপর চাপ যাচ্ছে অনেক বেশি। তাই দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে প্রয়োজন কিছু সচেতন পদক্ষেপ। মনে রাখতে হবে চোখে বিন্দুমাত্র সমস্যা অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াটা অত্যন্ত জরুরি। এর বাইরে দৃষ্টিশক্তি সুস্থ ও তীক্ষ্ণ রাখতে আপনি কিছু বিশেষ কৌশল মেনে চলতে পারেন। চলুন তবে জেনে নেই কৌশলগুলো সম্পর্কে –

সঠিক খাবার গ্রহণ

শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ন্যায় চোখেরও পরিপূর্ণ ভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। চোখের সুস্বাস্থ্যের জন্য আপনাকে চর্বিহীন এবং অধিক ফলমূল ও শাকসবজি সমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা বেছে নিতে হবে।
• ভিটামিন এ, সি ও ই এর সাথে কপার ও জিঙ্কের মতো খনিজ আপনার খাদ্য তালিকায় থাকা উচিত। এই ভিটামিন ও খনিজগুলো ভালো দৃষ্টিশক্তির জন্য অপরিহার্য ও রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। প্রচুর পরিমাণে স্ট্রবেরি, কমলা ,ডিম ও কাঠবাদাম খাবার অভ্যাস করুন।

• বিটা-ক্যারোটিন, লুইটিন ও জিয়াক্সানথিনের মতো এন্টিঅক্সিডেন্ট সূর্যের ক্ষতি থেকে চোখকে রক্ষা করে। যেকোন গাঢ় বাদামি সবজি, কুমড়া, মিষ্টি আলু ও গাজরে এন্টিঅক্সিডেন্টগুলো রয়েছে।

• রসুন ও পেঁয়াজে সালফার ও সিস্টাইন রয়েছে যা চোখের ছানি হওয়া প্রতিরোধ করে। জাম বা আঙ্গুরের মতো ফলমূল চোখের দৃষ্টি বৃদ্ধি করে। ওমেগা-৩ ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার চোখ শুষ্ক হওয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

চোখের ব্যায়াম

চোখকে সুস্থ রাখতে কিংবা চোখের অনুকূল দৃষ্টি বজায় রাখতে ব্যায়াম আপনাকে সাহায্য করবে। ঘুম থেকে উঠে, ঘুমানোর পূর্বে বা দৃষ্টি ঝাপসা মনে হলে চোখের ব্যায়াম করে নিবেন। ব্যায়ামের পূর্বে নিজের হাত দুটি পরিষ্কার করে নিতে ভুলবেন না।
• দিন শুরু হোক সহজ ব্যায়াম দিয়ে। ১০ বার চোখ ঘড়ির কাঁটার দিকে বৃত্তাকারে ঘোরান। এর পর আরো ১০ বার ঘড়ির কাঁটার উল্টোদিকে চোখ ঘুরিয়ে নিন।

• আপনার কোন আঙ্গুল অথবা একটি কলম নাক থেকে ৬ ইঞ্চি দূরে সরাসরি ধরে রাখুন।এবার ৫ সেকেন্ড আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে তাকুন। এরপর আঙ্গুলের পেছনে কাছাকাছি কোন বস্তুর দিকে আরো ৫ সেকেন্ড তাকিয়ে তাকুন। এভাবে ১০ বার করুন। দুই মিনিটেই আপনি ব্যায়ামটা সেরে নিতে পারবেন!

• দুই হাতের তালু ঘষে হাত গরম করে নিন। এবার ৫-১০ সেকেন্ডের জন্য দুই চোখে হাতের তালু হালকা ভাবে চেপে ধরুন। চোখকে উষ্ণ ও আরামদায়ক রাখতে ব্যায়ামটি ৩বার পুনরাবৃত্তি করুন।

চোখকে বিশ্রাম দিন

সজাগ থাকা অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্ত আমরা চোখকে ব্যবহার করি। তাই চোখেরও প্রয়োজন হয় খানিক বিশ্রামের। তাছাড়া রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হওয়াটা অনেক জরুরি যা দৃষ্টিশক্তিকে ভালো রাখে। মনে রাখবেন ঘুমের অভাবে দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
• ৩-৪ মিনিটের জন্য চোখ বন্ধ করে রাখুন। মাথা থেকে সমস্ত দুশ্চিন্তা দূর করে দিন। দেখবেন চোখে অন্যরকম প্রশান্তি অনুভব করবেন ! কাজের ফাঁকে এভাবে চোখকে বিশ্রাম
দিন।
• ২০ ফুট দূরের কোন বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে যেমন চোখের বিশ্রাম হবে তেমনি দেখার ক্ষমতাও বাড়বে।

• বই পড়া, টেলিভিশন দেখা বা কম্পিউটারে কাজ করার সময় পঞ্চাশ মিনিট পর পর ১০ মিনিটের জন্য চোখকে বিশ্রাম দিন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে একনাগাড়ে কিছু করা থেকে বিরত থাকুন।

আলোর সামঞ্জস্য রক্ষা

ঘরে হালকা আলো ব্যবহার করুন। ফ্লুরোসেণ্ট লাইট বা প্রতিফলিত হয় এমন আলো থেকে দূরে থাকা ভালো। বিকিরণ নির্গত হয় বলে এসব আলো সব সময় আমাদের তন্দ্রাচ্ছন্ন করে রাখে।
• বই পড়া বা কাজের সময় আলো আপনার পিছনে রাখুন। এবং খেয়াল রাখবেন আলোটা যেন সরাসরি বই বা কাজের জায়গার উপর আসে।

• অন্ধকারে টেলিভিশন দেখা বা কম্পিউটার ও সেলফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

কম্পিউটার/ল্যাপটপের ব্যবহার সীমিত করুন

কম্পিউটার বা ল্যাপটপের অতিরিক্ত ব্যবহার চোখের বিভিন্ন সমস্যার জন্য অনেকাংশে দায়ী। সারাদিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকে আমরা ডেকে আনছি চোখের নানা রোগ। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে স্ক্রিনটাইম কমিয়ে নিতে চেষ্টা করুন।
• কম্পিউটারে বা ল্যাপটপে একনাগাড়ে কাজ করার প্রয়োজন হলে কিছুক্ষণ পরপর চোখের পাতা ফেলুন। এতে চোখ আদ্র থাকবে।

• ২০-২০-২০ কৌশলটি অনুসরণ করতে পারেন। কাজের সময় ২০ মিনিট পর পর ২০ ফুট দূরের বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড থাকিয়ে থাকুন।

• মনিটর এক হাত দূরে আপনার সরাসরি রাখুন। তবে স্ক্রিন যেন চোখের সরাসরি না হয় বরং স্ক্রিন চোখ থেকে নিচে রাখতে হবে।

• সহজে কিছু পড়া বা ব্রাউজিংয়ের জন্য ফন্টের আকার ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে নিন। এ ধরণের ছোটখাটো সচেতনতাই আপনার চোখকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

মন্তব্যসমূহ

১ টি মন্তব্য
  1. Reply কান্না ছাড়াই পেঁয়াজ কাটা | চটপট - এসো নিজে করি জানুয়ারী ৯, ২০১৮ তারিখে ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

    […] রান্নার কাজে পেঁয়াজ এক অপরিহার্য উপাদান। পেঁয়াজ ছাড়া […]

মন্তব্য করুন