শিশুর কানে ইনফেকশনঃ কারন ও প্রতিকার

শিশুর কানে ইনফেকশনঃ কারন ও প্রতিকার

হঠাৎ খেয়াল করলেন আপনার ছোট্ট সোনামনির মুড কেমন বদলে গেল, খুব বিরক্ত সে ! তার পাশাপাশি সে বার বার কানে হাত দিচ্ছে, কান চুল্কানোর চেষ্টা করছে। এমন লক্ষন দেখলেই বাবুর কান পরীক্ষা করে দেখুন, এটা কানে ইনফেকশনের কারনে হতে পারে। এটাকে গ্রাম বাংলায় বলে থাকে কান পাকা।আসুন জেনে নিই শিশুর কানে ইনফেকশনঃ কারন ও প্রতিকার।

কানে ইনফেকশনের কারন

ছোট বাচ্চাদের কানে ইনফেকশন খুব সাধারন ব্যাপার। ১ বছরের বয়সের আগে প্রায় বাচ্চাদের এটা হয়ে থাকে। অনেক সময় এমনিতেই চলে যায়। তবে ছোটদের বেলায় সাথে সাথে ডাক্তার দেখানোই ভালো। মূলত কানের ইউস্টেশিয়ান টিউব ব্লক বা ছোট থাকার কারনে এই ইনফেকশন হতে পারে । বাচ্চাদের কানের টিউব এই সময় ছোট ও চাপা থাকে, বড় হতে হতে আস্তে আস্তে বড় হয়। এছাড়াও আরও কিছু কারনে এই সমস্যা দেখা দেয়। যেমনঃ

  • এলার্জির প্রবণতা থাকলে
  • শ্বাস কষ্ট থাকলে
  • ঠাণ্ডা লাগলে
  • সাইনাস সমস্যা
  • কানে পানি গেলে
  • সিগারেটের ধোঁয়া

কিভাবে নিশ্চিত হবেন বাবুর কানে ইনফেকশন হয়েছে?

আগেই যা বললাম, বাবু যদি কানে বার বার হাত দিতে চায় বা অস্বস্তিকর ফিল করে তাহলে কান পরীক্ষা করে দেখুন। এর পাশাপাশি আরও কিছু কাজ সে করতে পারে, খেয়াল করুনঃ

  • খাবারে অনিহা
  • ডায়রিয়া বা বমির সমস্যা হলে
  • কানের আশেপাশে হলুদ বর্ণের তরল দেখা
  • কান থেকে খারাপ গন্ধ আসলে
  • ঘুমে সমস্যা দেখা দিলে মানে রাতে ঘুমের মধ্যে খুব নড়াচড়া বা বিরক্তি ফিল করলে

এখন আপনার করনীয়

বেশীরভাগ সময়, সামান্য কানে ব্যথা বা ইনফেকশন এমনিতেই চলে যায়। তবে ঘরোয়া কিছু কাজ করলে আরাম পাওয়া যায়। আপনি যা করতে পারেনঃ

  • একটা কাপড় কয়েকভাঁজ করে হালকা গরম সেঁক দিতে পারেন কানের আশেপাশে।
  • পানি খাওয়াতে হবে বেশি, ডিহাইড্রেট যাতে না হয়ে যায়।

এইতো গেল ঘরোয়া কিছু আরাম পাবার পদ্ধতি। কিন্তু খুব ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রথমেই ডাক্তারের কাছে যাওয়া ভালো। ডাক্তার যদি মনে করেন তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক দিবেন। তবে বাচ্চা না বড় যেই হোক না কেন অ্যান্টিবায়োটিকের ফুল কোর্স সময়মত শেষ করতে হবে।

কোনোভাবেই যা করবেন নাঃ

  • কানে কটন বাড বা অন্য কিছু দিয়ে খোঁচাখুঁচি করবেন না। যদি কখনও দেখেন বাচ্চার কানে ময়লা শক্ত হয়ে আছে তাহলেও একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • বাবুর কান খুব সেনসিটিভ, সাবধানে পরীক্ষা করুন।

ভবিষ্যতে কানের ইনফেকশন রোধে করনীয়

কোথায় আছে না, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো। তাই বাচ্চাদের এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে মা-বাবা বা বাচ্চার আশেপাশের সবাইকে একটু সচেতন থাকতে হবে। কয়েকটি সাধারন নিয়ম মেনে চলুন। যেমনঃ

  • হাত পরিষ্কার রাখতে হবে, মা-বাবা বিশেষ করে বাচ্চার
  • গোসলের সময় কানে যাতে পানি না যায়, খুব সতর্ক থাকতে হবে।
  • ধোঁয়া, ধুলাবালু থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে বাচ্চাকে।
  • কানের চারপাশ একটা কাপড়ে অলিভ/ বেবি অয়েল দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে।
  • বাচ্চার কাপড় -বিছানা পরিষ্কার রাখতে হবে।

আপনার একটু সচেতনতাই পারে আপনার ও বাচ্চাকে সুস্থ রাখতে। ভাল থাকুক পৃথিবীর সব বাচ্চা!  

 

মন্তব্যসমূহ

নিজের পরিচয় দিতে গেলে সবার আগে বলব, আমি একজন মা। তার সাথে একজন হোমমেকার, শিক্ষক ও ব্লগার। লিখতে ভালবাসি। তার চাইতে ভালবাসি পড়তে, জানতে। এইতো! ছোট এক জীবনে অনেক কিছু, আলহামদুলিল্লাহ!!

মন্তব্য করুন