৬ টি অতি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রুলস

শিশুকে শিখান ৬ টি অতি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রুলস

একটা শিশু যখন আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে তখন তাকে এই সমাজে কিভাবে চলতে হবে, কিভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারবে সেগুলো শেখানো মা-বাবার দায়িত্ব। বর্তমান সমাজে যেভাবে মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে গেছে, সেটা অনেক বড় চিন্তার বিষয়। আমরা প্রায়ই নিউজে বা পত্র পত্রিকায় দেখি/শুনি, বাচ্চাদেরকে কেন্দ্র করে অনেক অপরাধের খবর। কিন্তু শুধু চিন্তা করলেই তো কোন সমাধান আসবে নাহ।বড়দেরকে সবসময় বাচ্চাকে খুব সাবধানে রাখতে হবে, তার পাশাপাশি বাচ্চাকেও কিছু অতি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রুলস শিখিয়ে দেয়া উচিত। এতে বাচ্চা দরকারে নিজেকে সুরক্ষা দিতে পারবে। দেখে নিন, শিশুকে শিখান ৬ টি অতি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রুলস।

শিশুর জন্য ৬ টি অতি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রুলস

১. নাম, ফোন ও বাসার ঠিকানা শিখিয়ে দেয়া

শিশুর নিজের নাম সম্ভব হলে বাবা-মার নাম মুখস্ত করিয়ে দিতে হবে। বাচ্চা যদি একটু বড় হয় মানে কথা ঠিক মত বলতে শিখলে বাবা/মা এর ফোন নাম্বার ও বাসার ঠিকানা শিখিয়ে দিতে হবে। মাঝে মাঝে বাসার লোকজন এই প্রশ্নগুলো করে শিশুকে মনে করিয়ে দিতে হবে।

২. অপরিচিত কার কাছ থেকে কোন কিছু না নেয়া

বাচ্চাকে খুব ভালভাবে শিখিয়ে দিতে হবে যেন যাদের না চিনে তাদের কাছ থেকে কোন খাবার বা চকলেট বা চিপস কোন কিছুই যেন না নেয়। এমনকি কোন খেলনাও না। অপরিচিত কেউ কিছু দিতে চাইলে, তাকে সুন্দরভাবে না করে দিতে হবে সেটা শিশুকে শিখিয়ে দিতে হবে। কেন আমাদের অপরিচিত কার কাছ থেকে কিছু নেয়া উচিত না কেন তার কারনও বাচ্চাকে শিখিয়ে দিতে হবে।

৩. আগুন বা ইলেকট্রিক তার নিয়ে খেলা যাবে না

স্কুল বা বাড়িতে বা খেলার মাঠে আগুন নিয়ে খেলা যাবে না। এটা ভালোভাবে শিশুকে বুঝিয়ে দিতে হবে। বাসায় বা বাসার বাইরে কোন ইলেকট্রিক তারে হাত দেয়া উচিত না, সেটাও শিশুকে কারনসহ বুঝিয়ে দিতে হবে।

৪. কখনও হারিয়ে গেলে, ওইখানেই দাঁড়িয়ে থেকে সাহায্য নিবে

যদি কখনও শিশু হারিয়ে যায়, তবে সে যেন ওই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে কারও কাছ থেকে সাহায্য চায়। বিশেষ করে কোন মা/বাবার সাথে বাচ্চা থাকলে তাদের কাছ থেকে যেন সাহায্য চায়।

৫. অপরিচিত কারও সাথে কোথাও যাবে না

অনেক সময় এমন হয় খারাপ লোকরা বলে যে, তোমার মা/ বাবা ওই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, আমার সাথে ওই খানে যেতে বলেছে। খবরদার! শিশু যেন কোনও মতেই কারও কথায় প্রয়োচিত হয়ে অপরিচিত কারও সাথে কোথাও না যায়। সে ব্যাপারে তাকে সতর্ক করে দিতে হবে।

৬. কাউকে শরীরে স্পর্শ করতে দিবে না

শিশুকে ছোটবেলা থেকেই বুঝিয়ে দিতে হবে তার শরীরে অন্য কেউ যেন স্পর্শ না করে, সে ব্যাপারে সে যেন খুব সতর্ক থাকে। সে স্কুল থেকে বা বাইরে থেকে এসে যেন মা-বাবার সাথে সব কথা শেয়ার করে। আর মা-বাবারও উচিত শিশুর সব কথাকে গুরুত্তের সাথে নেয়া।

 

আপনার একটু সচেতনতাই পারে শিশুকে বড় কোনও দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচাতে। আসুন সবাই মিলে শিশুর জন্য এক অনাবিল আনন্দের পৃথিবী গড়ে তুলি।

 

 

মন্তব্যসমূহ

নিজের পরিচয় দিতে গেলে সবার আগে বলব, আমি একজন মা। তার সাথে একজন হোমমেকার, শিক্ষক ও ব্লগার। লিখতে ভালবাসি। তার চাইতে ভালবাসি পড়তে, জানতে। এইতো! ছোট এক জীবনে অনেক কিছু, আলহামদুলিল্লাহ!!

মন্তব্য করুন