বেডরুম সাজানোর কিছু ভুল যা আপনার মানসিক প্রশান্তি নষ্ট করে

বেডরুম সাজানোর কিছু ভুল যা আপনার মানসিক প্রশান্তি নষ্ট করে

সারাদিনের কর্মব্যস্ত একটি দিন পার করার পর আমরা প্রায় সকলেই সাজানো গোছান পরিপাটি একটি বিছানায় গা এলিয়ে প্রশান্তি পেতে চাই। আমরা চাই আমাদের বেডরুমে প্রবেশের সাথে সাথেই আমাদের মনের ও শরীরের সমস্ত ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যাক। আর এই শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি আমাদের আরেকটি কর্মব্যস্ত দিন শুরু করার জন্য খুব ই প্রয়োজন । রাতের ঘুম আমাদের স্নায়বিক ক্লান্তি দূর করে এবং আমাদের মস্তিস্কের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় ।রাতের ঘুম অবশ্যই ছয় থেকে আট ঘন্টা হউয়া উচিত। এই ঘুম হউয়া উচিত নিরবিচ্ছিন্ন। কেননা ঘুমের মধ্যে ব্যঘাত হলে মস্তিস্ক এনার্জি রিগেইন এর যে কাজ করতে থাকে তার ব্যঘাত হয়। বেডরুম সাজানোর এমন কিছু ভুল যা আপনার মানসিক প্রশান্তি নষ্ট করে তার প্রভাব পরে পরেরদিনের কাজের উপর। আর এই ব্যঘাতের সমগ্র ফলাফল আপনার –

  • কাজের গতি কমে যাওয়া,
  • তন্দ্রাচ্ছন্ন বোধ করা,
  • ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দা অনুভব করা,
  • রাগান্বিত বোধ করা ইত্যাদি । তাই আমাদের বেডরুম টি এমন হউয়া উচিত যেন সেটি ঘুমানো ও বিশ্রাম নেয়ার পরিবেশ উপযোগী হয়। মাঝে মাঝে আমরা নিজের অজান্তেই এমন কিছু কাজ করে থাকি যা এই পরিবেশকে নষ্ট করে।

আসুন জেনে নেই এমন কিছু কাজের কথা এবং আজ থেকেই সতর্ক হয়ে বেডরুমের পরিবেশ সুন্দর রাখি ।

ওয়ারড্রোব গুছিয়ে রাখা–

আমরা বেশিরভাগ মানুষই হয়ত এই কাজটি গুরুত্ব সহকারে করিনা । কাপড় ধুয়ে শুকিয়ে নেয়ার পর আয়রন করে বা আয়রন ছাড়া আমরা সব কাপড় একসাথে ওয়ারড্রোব এ ঢুকিয়ে দেই। এতে করে হয় কি, আমরা কাজের সময় প্রয়োজনীয় কাপড় খুজে পাইনা। আর ওয়ারড্রোবের দরজা যদি স্বচ্ছ কোনো পদার্থের হয়ে থাকে তাহলে বেডরুমে ঢুকেই এই অগোছালো ওয়ারড্রোব টি দেখলে তা আপনার মনের প্রশান্তি নষ্ট করতে যথেষ্ট । তাই একটু কস্ট করে হলেও কাপড় ধুয়ে শুকিয়ে আয়রন করে প্রতিটা কাপড় জায়গা অনুযায়ী গুছিয়ে রাখুন। এতে করে আপনার মূল্যবান সময় যেমন বাঁচবে তেমনি করে মানসিক শান্তি ও অনুভব করবেন।

দেয়ালে টানানো পেইন্টিং–

আপনার বেডরুমের দেয়ালে কখনো খুব গাড় ও তীব্র রঙের কোনো পেইন্টিং বা ছবি টানাবেন না । যেমন- টকটকে লাল, গাড় গোলাপি, ম্যাজেন্টা , গাড় সবুজ ইত্যাদি। এধরণের রঙ আপনার মস্তিস্কের স্না্যু গুলো উত্তেজিত করে দেয় । ফলে আপনি যখন ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বেড রুমে আসলেন তখন এই ছবি গুলো আপনার মন কে প্রশান্তি দেয়ার বদলে মন কে উত্তেজিত করে দিবে। তাই বেড রুমে হালকা কোনো রঙ যেমন- সাদা, হালকা নীল বা আকাশি ইত্যাদি এধরণের রঙের পেইন্টিং ব্যবহার করুন । আরেকটি বিষয়, দেয়ালে ক্যলেন্ডার টানানো থাকলে তা যেন মাস ও দিন তারিখ ঠিক থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখুন। কেননা হয়ত শুয়ে পড়লেন হঠাত চোখে পড়ল দেয়ালের ভুল ক্যলেন্ডারের উপর। দেখবেন মানসিক প্রশান্তি কিভাবে যে দৌড়ে পালাবে ।

দেয়ালের রঙ–

শুধু পেইন্টিং ই নয়, অবশ্যই খেয়াল রাখুন আপনার বেড রুমের দেয়ালের রঙের প্রতিও । বেড রুমের দেয়ালে কখোনো গাড় রঙ ব্যবহার করবেন না। রুমের বড় যে দেয়াল থাকবে সেটি তে ব্যবহার করুন হালকা রঙ যেমন- সাদা, ক্রিম, হালকা নীলের কম্বিনেশন , হালকা বিস্কিট রঙ ইত্যাদি। আর রুমে ভিন্নতা আনতে ছোটো বা কোণার দিকের কোন দেয়ালে এই রঙ গুলোর সাথে অন্য রঙের কম্বিনেশন এ ভিন্নতা আনতে পারেন। যেমন ক্রমাগত গাড় নীল থেকে হালকা নীল বা গাড় বিস্কিট থেকে হালকা বিস্কিট রঙ ইত্যাদি । তবে আপনি যদি কালার এক্সপার্ট না হোন সেক্ষেত্রে একজন কালার এক্সপার্ট এর সাহায্য নিন। বেড কভার, কুশন কভার বা পর্দা–

বেড রুমে স্নিগ্ধ পরিবেশ বজায় রাখতে এই জিনিষ গুলোতে অবশ্যই এমন রঙ এড়িয়ে চলুন যা আপনার স্নায়ু কে উত্তেজিত করে। যেমন – বেডরুমের পর্দা লাল বা কালো এ ধরণের রঙ না হউয়াই ভালো । কুশন কভার বা বেড কভার এর ক্ষেত্রেও একই কথা। চেষ্টা করুন এমন রঙ নির্বাচন করতে যা আপনার মনকে স্নিগ্ধ করে দিবে।

অগোছালো ডেস্ক–

আসলে হোম এক্সপার্ট রা পরামর্শ দিয়ে থাকেন কাজের জায়গা আর ঘুমানোর জায়গা যেন আলাদা আলাদা হয়। কিন্তু আমাদের এই নাগরিক জীবনে আর স্বল্প পরিসরে বসবাসের জায়গায় এমন সুবিধা পাওয়া স্বপ্নের মতো। অনেকের ই আমাদের আলাদা স্টাডি রুম বা ওয়ার্কিং রুম থাকেনা । এক্ষেত্রে বেড রুমের ভিতর আপনার পড়ার ডেস্ক টি বা বুক শেলফ টি ভালো করে গুছিয়ে রাখুন। পরার পর বই খাতা বা অন্যান্য সামগ্রী জায়গা মতো গুছিয়ে রেখে তারপর উঠুন । সম্ভব হলে একটি হার্ডবোর্ড বা ফেন্স দিয়ে বেড রুমের ভিতরে পড়ার জায়গা টি আলাদা করে নিতে পারেন। এতে করে বেড রুম টি একটি নতুন রূপ পাবে।

পোষা প্রাণী বেডরুমের বাইরে রাখুন –

সারাদিন ক্লান্ত হয়ে বাসায় আসলেন একটু শান্তিতে ঘুমোবেন বলে আর এসেই দেখলেন আপনার আদরের বিড়াল বা কুকুর ছানাটি খেলতে খেলতে আপনার বিছানা, শোবার ঘর একদম এলোমেলো করে রেখেছে। তখন কি আর ভালো লাগবে? তাই একটু সতর্ক হয়ে আপনার আদরের পোষা প্রানীটি শোবার ঘরের বাইরে রাখুন। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে পোষা প্রাণীর লোম ও শ্বাস প্রশ্বাস থেকে আপনার শ্বসন তন্ত্রের রোগ যেমন – হাপানি, হাচি, কাশি ইত্যাদি হতে পারে । তাই আপনার আদরের পোষা প্রাণীটি কে আলাদা রুম বা বিছানা করে আরামে ঘুমোতে দিন।

এমন গাছ যাতে পানি জমে–

আপনার বাসায় এমন কোন গাছ বা ফুলের টব রাখা উচিত না যাতে পানি জমে থাকে। বিশেষ করে আপনার শোবার ঘরে । পানি জমে থাকলে সেখানে মশার বংশ বিস্তার হয়। শোবার ঘরে এমন কিছু থাকলে সহজেই মশা আপনার শোবার ঘরের পর্দা বা অন্যান্য জায়গায় আশ্রয় নিয়ে নিবে এবং শুধু ঘুমানোর সময় না, যখনই আপনি বেড রুমে ঢুকবেন আপনার মনের সমস্ত শান্তি কেড়ে নিবে। এছাড়াও আপনি ডেঙ্গু ও মশা বাহিত রোগের ঝুঁকিতে থাকবেন।

অসামঞ্জস্য লাইটের ব্যবহার–

অনেকেই আমরা বিভিন্ন রঙের লাইটিঙের মাধ্যমে ঘর সাজাতে পছন্দ করি । কিন্তু অসামঞ্জস্য লাইটিং কখনো আপনার রুচিশীলতার পরিচয় দিবেনা। তাই এক্ষেত্রে সচেতন থাকুন। বিশেষ করে শোবার ঘরে লাইটিং এ বিশেষ খেয়াল রাখুন। শোবার ঘরে এমন কোন লাইট ব্যবহার করুন যা আপনার মন ও চোখে স্নিগ্ধ ও প্রশান্ত অনুভূতি দেয়। আর শোবার সময় চেষ্টা করুন অন্ধকার ঘরে ঘুমুতে। কেননা অন্ধকারে আমাদের মস্তিস্ক সবচেয়ে ভালো বিশ্রাম পায় এবং তার প্রয়োজনীয় শক্তি আহরণ করে পরেরদিনের কাজের জন্য তৈরি হয়ে যায় ।

ছড়ানো ছিটানো ময়লা কাপড়–

অনেক পরিবারেই দেখা যায় ধোয়ার জন্য ময়লা কাপড় গুলো ঘরের এদিকে ওদিকে এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখতে। এতে করে ঘর শুধু এলোমেলো ও নোংরা ই দেখায়না, সবসময় এলোমেলো পরিবেশ আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ও ক্ষতিকর । খুব সহজেই এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । একটি বড় ও সুদৃশ্য ঝুড়ি বা বালতি বা কন্টেইনার কিনে নিন। এবার পুরো সপ্তাহের সবার ময়লা কাপড় এতে জমিয়ে রাখুন। ধোয়ার সময় বের করে নিন। একটু বড় সাইজের চারকোণা বা গোল শেপের বক্স বা কন্টেইনার হলে আপনি এটিকে আর কাজে ব্যবহার করতে পারেন। ময়লা কাপড় এর ভিতর রেখে বক্স বা কন্টেইনারের মুখ আটকে দিন। এবার এর উপর একটি সুন্দর চাদর বা গদি দিয়ে এর উপর একটি বা দুইটি কুশন দিয়ে দিন। ঘরের এক কোণায় রেখে দিন। এটি আপনার ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়তি বসার জায়গা ও তৈরি করবে।

তাহলে আর দেরি না করে এই বিষয় গুলো মনে রাখুন আর বিদায় বলুন শোবার ঘরের বাড়তি মানসিক চাপ কে। উপভোগ করুন প্রশান্ত, স্নিগ্ধ ও মনোরম এক টি শোবার ঘর ।

মন্তব্যসমূহ

নিজের সম্পর্কে বলতে গেলে একটা কথা বলতে চাই - সপ্ন দেখতে ভালবাসি, সপ্ন দেখাতে ভালবাসি

মন্তব্য করুন