অবসর সময় কাটানোর সেরা কিছু উপায়।

নাগরিক জীবন মানেই ব্যস্ততা। যেনো ব্যস্ত এ জীবনে এক টুকরো অবসর সময়ের বড্ড অভাব। সামান্য অবসর সময় পেলে আমরা সেই সময়টাকে অনীহা করে থাকি।কিন্তু আমরা কি জানি? যেই সামান্য সময়টুকু কাজে লাগিয়ে আমরা খুঁজতে পারি যাযাবার জীবনের অর্থ! একটু প্রাণ খোলে নিঃশ্বাস নিতে পারি! চলুন না আজ জেনে নেই, কিভাবে অবসর সময়টাকে অপচয় না করে,  আপনি তা যথাযথ ভাবে কাজে লাগাতে পারেন।

আজ দেখে নিবো স্বল্প কিছু মাধ্যম যা আপনার অবসর সময়টাকে একই সাথে উপভোগ্য ও সুফলদায়ক করে তুলবে। খাওয়া, দাওয়া, ঘুম, অফিস, ধর্মীয় কাজ পরে আমাদের কাছে যেটুকু সময় বাকি থাকে, তাই তো অবসর,  এবার পালা এই সময়টুকুর সেরা ব্যবহার

১: বই :

অবসর কাটানোর সেরা একটা মাধ্যম হলো বই। কথায় বলে বই হচ্ছে সেরা বন্ধু, এই কথাটা কিন্তু আসলেই সত্য। বই পড়ার মাধ্যমে আপনি আসলেই অনেক কিছু শিখতে পারবেন। জানতে পারবেন নতুন নতুন তথ্য। যেটুকু সময় বই পড়বেন, ঠিক ততক্ষন আপনি নতুন জিনিস শিখতে পারবেন। শিক্ষামূলক বই বলুন, আর মজাদার বই বলুন দুটোই আপনার মন ভাল করে তুলবে মূহুর্তেই!  সময়টা এখন ভার্চুয়াল এ কথা আমার অজানা নয়, কিন্তু বাস্তবিক বইয়ের ঘ্রাণটা আপনি নিশ্চয় মিস করেন তাই না?  তাহলে অবসরটাকে বইময় করে তুলতে দোষ কি বলুন!

২: লেখালেখি :

আচ্ছা, আপনি কি লেখালেখি করতে ভালোবাসেন?  আমি কিন্তু লিখতে বেশ পছন্দ করি। আপনিও কিন্তু অবসর সময়টা লিখালিখি করে কাটিয়ে দিতে পারেন। মনের মাধুরী মিশিয়ে কোন একটা গল্প লিখা শুরু করে দিন। দেখবেন, আপনার অজান্তেই আপনি অসাধারণ একটা গল্প লিখে ফেলেছেন!  কে জানে, জীবনে কোন একদিন হয়তো তা প্রকাশ করার সুযোগ ও পেয়ে যেতে পারেন! তাই, ছোট গল্প, কবিতা, ইত্যাদি লিখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এছাড়া,  একটা ডায়েরিতেতে নিজের নিত্যদিনকার ভালোলাগা মন্দ লাগার কথা লিখে রাখুন। থাকুক তা একান্তই আপন তাও লিখুন। লিখালিখিই অভ্যাস থাকলে  লাভটা আপনারই হবে। লিখালিখির মাধ্যমে আপনার মানসিক উন্নতিও হবে। লিখালিখি মনের খোরাক, অবসর সময়টাতে সাদা পাতায় হোক কলমের বিচরণ।

৩: ক্রাফট :

ক্রাফট এক ধরনের আর্টই বলা যায়। অবসর সময়ে আপনি ও এই আর্টে যোগ দিতে পারেন। আমি খেয়াল করে দেখেছি, নিজে কিছু একটা তৈরী করতে পারলে আসলেই খুব ভালো লাগে। এতে মাইন্ড ও ফ্রেস হয়। কেননা, এই সময়টাতে আপনার সম্পূর্ণ মনযোগ ক্রাফটকেই ঘিরে থাকে। ফলে অযথা অযাচিত চিন্তা এ সময় আপনাকে তাড়া করতে পারেনা।আর শেষকালে, জিনিসটা যখন সুন্দর করে বানানো হয়, তখন তো কথাই নেই!  কি বানাবেন ভেবে পাচ্ছেন না?  এক কাজ করুন, নিজের ফোন কভার টা নিজেই ডিজাইন করে নিন না, নিজের পুরাতন ড্রেসটাকে স্টোন লাগিয়ে দিয়ে দিন নতুন লুক! আমাদের চটপট ওয়েবসাইটেও প্রচুর ক্রাফট রিলেটেড আর্টিকেল আছে, যাতে খুব সহজ ও সুন্দর কিছু ক্রাফট দেওয়া আছে, ইচ্ছা করলে সেগুলোও দেখে নিতে পারেন। আপনার প্রতিভা দিয়ে তাক লাগিয়ে দিতে পারবেন আপনার বন্ধুদেরকেও!

৪: ফটোশপ :

ফটোশপ, আর্টের সেরা জগত, আপনার প্রিয় ল্যাপটপে ফটোশপ ইন্সটল করে রাখুন। যখন অবসর থাকবেন তখনই একটি একটি করে টুলস শিখে রাখুন। শেখানোর জন্য তো ইউটিউব আছেই! ফটোশপ দারণ মজার একটা ব্যাপার। দেখবেন, একটু শিখলেই আপনার শেখার নেশা বেড়ে যাবে। এবং আপনি জিনিসটা উপভোগ করতে শুরু করবেন। আপনারা নিশ্চয় জানেন, ফটোশপ গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের সেরা হাতিয়ার। বিজনেস কার্ড, লগো, ফ্লায়ার, ব্যনার ইত্যাদি জরুরী বিজনেস রিলেটেড কাজ ফটোশপের মাধ্যমেই করা হয়ে থাকে। আপনি যদি ক্রিয়েটিভ হয়ে থাকেন, তাহলে এই জায়গাটা আপনার জন্যই! নেশা একদিন পেশা হয়ে উঠলে মন্দ কি বলুন! আর যদি পেশা নাও বানাতে পারেন, অন্তত আপনার নিজের কিছু কাজ আপনি ফটোশপের মাধ্যমে করতে পারবেন যেমন : গ্রিটিং কার্ড ডিজাইন, ফটো রিটাচিং, ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি।

৫: মুভি :

অবসর সময় কাটানোর অন্যতম আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে, ভালো কোন মুভি দেখা। একটি ভালো মুভি খুব কম সময়ে আপনার মনকে চনমনে করে দেবে। তবে এক্ষত্রে মুভিটা শিক্ষামূলক হলে ভালো হয় এমন অনেক হলিউড মুভি পাবেন যা একই সাথে থ্রিলার কাহীনির এবং শিক্ষামূলক, সেগুলোর একটা লিস্ট করে দেখে নিতে পারেন সেরাটা। হলিউড মুভি দেখলে একই সাথে ইংরেজি  চর্চাটাও হয়ে যাবে। এছাড়া আমাদের দেশেও বেশ ভালো ভালো মুভি হচ্ছে সেগুলো ও দেখে নিতে পারেন, অবসর টা দারুণ কাটবে।

৬: ফটোগ্রাফি :

ফটো তুলার নেশা থাকলে অবসর সময়টা ক্যামেরা হাতে বেড়িয়ে পড়ুন। ব্যস্ত নগরীতে বলুন,  আর গ্রামের নিরবতাই বলুন। ফটোগ্রাফারদের জন্য কিন্তু উপকরনের অভাব নেই!  আর একটা ডি.এস.এল.আর থাকলে তো খুবই ভালো।  পরে কখনো নিজের তোলা ফটোগুলো দেখে সত্যিই ভালো লাগবে আপনার। যেকোন এক্সিভিশন বা ফটোগ্রাফিক্যাল কম্পিটিশনে নিজের তোলা ফটোগুলো কাজে লাগাতে পারেন। বলা যায় না,শখই আপনাকে নিয়ে যেতে পারে অন্য এক মাত্রায়!

৭: গার্ডেনিং :

ফুল পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ মুশকিল। কেমন হয়, যদি আপনি অবসর সময়টাতে নিজ বাগানে ফুটিয়ে তুলেন অসাধারন রঙিন সব ফুল? বাসার ছাদে বা বাইরের দিকে জায়গা থাকলে স্বল্প জায়গাতেই করে নিন ফুল চাষ বা সবজী চাষ। এবং নিয়মিত সেগুলোর যত্ন নিন। এতে আপনার মন স্বাস্থ্য দুটোই ভালো থাকবে।আর জানেন, নিজ হাতে চাষ করা সবজীর স্বাদটাই একদম অন্যরকম! নিজের চাষ করা ফুলগুলো দিয়ে ঘর সাজালেও দারূন লাগবে।

৮: ঘুরাফিরা :

অবসর সময় কাটানোর সব থেকে সেরা উপায় হলো ঘুরে বেড়ানো। ঘুরাফিরা করার কারণে খুব সহজেই আপনার শরীরের ক্লান্তি ও মনের বিষণ্ণতা মুহুর্তেই দূর হয়ে যাবে। হাতে সামান্য সময় থাকলে বাসার পাশেও কোথাও ঘুরে আসতে পারেন চট করে। অথবা হাঁটতে চলে যান বাসার পাশের পার্কটিতে। শরীর মন দুটো একসাথে চনমনে রাখার এ থেকে ভালো উপায় আর কি হতে পারে! অথবা প্রিয়জনদের সাথে কোথাও লং ড্রাইভে চলে যান! এই আইডিয়া ও খারাপ না।

৮:রান্না -বান্না:

রান্নাবান্নার দায়িত্ব যদি আপনার কাঁধে না থাকে, তবে অববসর সময়টায় চটপট কিছু একটা রান্না করে নিতে পারেন। চিকেন বারবিকিউ করেই না হয়,  তাক লাগিয়ে দিন পরিবারের সদস্যদের। ছোটখাটো বারবিকিউ পার্টি আর আপনার রন্ধনশিল্প দুটোই একসাথে হয়ে গেলো! মন্দ কি বলুন!

৯: খেলা :

অবসর সময়টাতে পরিবারের সদস্যদের যেকোন ধরনের খেলা খেলতে পারেন,যেমন: ক্যারম-লুডু ইত্যাদি। এছাড়া, ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের আই-কিউ টেস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। ইচ্ছা করলেও সেগুলোও নিজে নিজে খেলতে পারেন।আই কিউ টেস্টগুলো আপনার বুদ্ধিমত্তা বাড়িয়ে তুলবে।

১০: ছবি আঁকা :

রং তুলির ছোঁয়াতেই কেটে যাক, আপনার অবসর সময়টুকু। যারা আঁকাআঁকি পছন্দ করেন তারা অবসর সময়টাতে সঙ্গী করের নিন সাদা ক্যানভাসটাকে।মনের মাধুরী মিশিয়ে সেখানে রঙের ছোঁয়া ছড়িয়ে দিন। আর একবার ছোটবেলায় ফিরে গেলে ভালো লাগবেই লাগবে !তো এখনই রং আর ক্যানভাস দুটো কিনে ঘরে নিয়ে আসুন!

এছাড়াও অবসর সময়টাতে কাছের কোন বন্ধুকে ফোন দিয়ে তাদের খোঁজখবর নিন। পাখি, বেড়াল ইত্যাদি পশু-পাখি পালার শখ থাকলেও খারাপ নয়। কিন্তু খেয়াল রাখবেন আপনার অবসর সময়টা যেনো অকারণ অবহেলা,  চিন্তা বা পরচিন্তায় পার না হয়ে যায়। মোট কথা আপনার যা করতে ভালো লাগে তাই করুন। কিন্তু অবসর টাকে যতটুক সম্ভব যেভাবে সম্ভব কাজে লাগান। তবে কোন কাজে বিরক্তি থাকলে সে কাজ অবসর সময়ে না করাটাই ভালো। ভালো থাকুন,  সুস্থ থাকুন আর হ্যা, অবশ্যই চটপটের সাথেই থাকুন।

 

 

 

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

মন্তব্য করুন