সুন্দর ও সাবলীল জীবনযাপনের কিছু স্মার্ট উপায়

এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ ই চায় তার জীবন টা সহজ, ঝামেলাবিহীন ও সুন্দর হোক। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন কাজের চাপ, টেনশন ও নানা রকম পারিবারিক বা সামাজিক ঝামেলায় জড়িয়ে নিজের জীবনের খেই হারিয়ে ফেলে। তাই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। তাহলেই জীবন টা হবে আনন্দময়। জীবন তো একটাই তাইনা? তাহলে কেন আমরা এই জীবনকে নানান ঝুট ঝামেলায় পূর্ণ করে রাখি? চলুন দেখে নেই কি কি উপায় অবলম্বন করলে আমরা একটা দুশ্চিন্তাহীন নির্ভেজাল জীবন পেতে পারি।

সকালে ঘুম থেকে উঠে দিনটি কীভাবে শুরু করবেন, দিনের কাজগুলো কীভাবে সাজাবেন, দিনটি কত সুন্দর ও সাবলীল ভাবে অতিবাহিত করবেন, তা নির্ভর করবে আপনার নির্দিষ্ট  পরিকল্পনার ওপর।

সকালে ঘুম থেকে উঠে দিনটি কীভাবে শুরু করবেন, দিনের কাজগুলো কীভাবে সাজাবেন, দিনটি কত সুন্দর ও সাবলীল ভাবে অতিবাহিত করবেন, তা নির্ভর করবে আপনার নির্দিষ্ট  পরিকল্পনার ওপর। মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বেশিরভাগ মানুষ অর্থবিত্ত, মান-সম্মান, যশ-প্রতিপত্তির জন্য প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে বলে তাদের অজান্তেই তাদের শরীর ও মনের ওপর এর  একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটা অনেক সময় মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ করে তোলে। তাই আপনাদের আজকে  এমন কিছু টিপস দেবো যা অনুসরণ করলে আপনার জীবনে আর কোন দুর্ভাবনা থাকবে না।

# প্রার্থনা করুন:

আপনি যে ধর্মের ইই হোন না কেন সকালে ঘুম থেকে উঠে দিনটি প্রার্থনা দিয়ে শুরু করুন। এতে আপনি অন্যপ্রকার একটা প্রশান্তি পাবেন। আর সারাদিন আপনার মনটা থাকবে ফুরফুরে। এতে আপনি সারাদিন কাজ করে শান্তি পাবেন।

# হালকা ব্যায়াম করুন:

সকালে নাস্তা খাওয়ার আগে হালকা ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম অথবা ৩০- ৪০ মিনিট হাটার চেষ্টা করুন। প্রথমদিকে অল্প দূরত্ব টার্গেট করে হাঁটা শুরু করা দরকার। আস্তে আস্তে দূরত্ব ও হাঁটার গতি এমন পর্যায়ে বাড়ানো উচিত, যাতে হৃৎস্পন্দন বাড়ে। হাঁটার জন্য নরম ও হালকা জুতা ব্যবহার করলে গতি ও আরাম পাওয়া যায়। বাইরে খোলামেলা জায়গায় দূষণমুক্ত বাতাস ও সূর্যের আলোয় হাঁটার উপকারিতা অনেক। এতে সারা দিনের শারীরিক-মানসিক ক্লান্তি,অবসাদ ও দুশ্চিন্তা দূর হবে।এতে আপনার শরীর ফিট থাকার পাশাপাশি নানা রকম জটিল রোগ থেকেও মুক্ত থাকবেন আপনি।

# নিজের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা :

ঠিক এই মুহূর্তে আপনি নিজে যেমন, তেমন মানুষটাকেই ভালোবাসুন। নিজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাখুন।হয়তো কাউকে আদর্শ মেনে নিয়ে তাঁর মতো হতে চান, কিন্তু ওই অবস্থানে না যাওয়া পর্যন্ত মনে আক্ষেপ পুষে রাখবেন না। এতে স্বপ্নগুলো বেঁচে থাকবে এবং আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন।

# জীবনের লক্ষ্য ঠিক করা:

জীবনের একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হয় তা না হলে জীবন এলোমেলো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পছন্দনীয় বিষয় এবং জীবনের মূল লক্ষ্য  ঠিক করে ফেলুন। সম্পর্ক, ভালোবাসার মানুষ, ক্যারিয়ার, দায়িত্ব,  ধন সম্পদ, জীবনযাপন ইত্যাদি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নোট করে রাখুন। বেঁচে থাকতে শিক্ষা, সৃজনশীলতা, আধ্যাত্মিক বিষয় ইত্যাদি নিয়েও চিন্তা করুন। কল্পনা বাস্তবায়নের উপায় বিশ্লেষণে ব্যস্ত হয়ে পরুন।

# বেড়াতে যান :

জীবনের নানা জটিলতায় যদি আপনি আক্রান্ত হয়ে যান তাহলে কিছু দিনের জন্য  দেশে বা বিদেশে বেড়াতে যেতে পারেন। এটি আপনার অস্বস্তিকর চাকরি কিংবা বিরক্তিকর সম্পর্কের জটিলতাগুলো দূর করবে এবং জীবনকে নতুন করে উপভোগ করার সুযোগ তৈরি করে দেবে। এরপর আবার ফিরে এসে সবকিছু নতুন দৃষ্টিতে দেখতে পারবেন।

# আত্মবিশ্বাসী হোন :

আমার বন্ধু বান্ধব এত কঠিন কিছু করে দেখিয়েছে, আমি কেন এত সোজা বিষয়টাও পারি না এই ভাবনা নিয়ে যদি হতাশায় ভোগেন তাহলে আপনার দ্বারা জীবনে কিছুই হবে না। আত্মবিশ্বাসী হতে হবে কারন সবার যোগ্যতা এক নয়। সবাই সবকিছু পারে না। চিন্তা করে দেখুন, আপনার অ হয়তো এমন কোন গুন আছে যা অনেকেরই নেই। তাই কখনো হতাশ হওয়া চলবে না।

# আপনজনদের সময় দিন :

আপনার কাছের মানুষ দের সময় দিন। তাদের নিয়ে বেড়াতে যান, শপিং করুন। উপভোগ করার জন্য বড় কোনো ঘটনার আশা করা বোকামি। তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্ত উপভোগ করুন। সূর্যাস্ত, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মজার সময় কাটানো, গান শোনা, মজার খাবার ইত্যাদির মাধ্যমেও মুহূর্তগুলো উপভোগ্য করে তোলা যায়।

# বর্তমান কে হ্যা বলুন :

এখন যে পরিস্থিতিতে আছেন তা নিয়েই ব্যস্ত থাকুন। বর্তমানের গুরুত্ব সবচাইতে বেশি। বর্তমানের সৌন্দর্য এবং অসীম সম্ভাবনাকে ধারণ করুন। এটা ঠিক যে অতীত মানুষকে শিক্ষা দেয়। কিন্তু এমন সময় হয়তো পেছনে ফেলে এসেছেন যা কেবল অনুতাপ আর কষ্টই  দিয়ে চলেছে।  এগুলো বর্তমানে বারবার ফিরে এলে প্রাণশক্তি, ক্ষমতা, ভালোবাসা আর উদ্দীপনা খোয়াতে থাকবেন।

# পুষ্টিকর খাবার খান :

খাবারের দিকটা সবার আগে খেয়াল রাখা উচিত। কারন অস্বাস্থ্যকর খাবার আমাদের শরীর খারাপের ও রোগ ব্যাধির অন্যতম কারন। তাই সবার আগে খাওয়ার সময় খেয়াল রাখা উচিত যে পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছেন কি না। কাঁচা শাক সবজি ও ফলমূল বেশি বেশি খাবার অভ্যাস করতে হবে। এতে আমাদের শরীর ফিট থাকবে। আর শরীর ভালো থাকলে যে মন ও ভালো থাকে এ কথা তো আমরা সবাই জানি।

# ক্ষমাশীল হোন :

কথায় আছে ‘ ক্ষমাই মহৎ গুন’। তাই আমাদের সবার উচিত ক্ষমাশীল হওয়া। আপনার কারো উপর রাগ থাকতে পারে কিন্তু একথা মনে রাখবেন, রাগ পুষে রাখলে মনের ক্ষতি। তাই প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে যাদের উপর আপনার রাগ তাদের ক্ষমা করে দিন আর একদম ফ্রেস একটা মন দিয়ে ঘুমাতে যান।

পরিশেষে বলতে চাই, জীবনে ভালো থাকাটাই আসল উদ্দেশ্য। তাই সবার উচিত ভালো থাকার চেষ্টা করা। আপনার আশেপাশে  একটু খেয়াল করে দেখবেন, হয়তো আপনি যতটা কষ্টে আছেন তার চেয়েও অনেক মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাই নিজে ভালো থাকুন এবং আপনজন দের ভালো রাখুন।

মন্তব্যসমূহ

আমি একজন শিক্ষার্থী। নতুন কিছু সম্পর্কে জানতে ও শিখতে ভালোবাসি এবং অন্যদের সাথে সেটা শেয়ার করতে ভালো লাগে।

মন্তব্য করুন