সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় টুকিটাকি টিপস

কর্মজীবী নারী বলুন অথবা গৃহিণী, নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় সারাদিন। নারীদের কাজের যেন শেষ নেই। সকাল হতে না হতেই রান্না ঘরে ঢুকে পরতে হয়। বাচ্চাদের টিফিন থেকে শুরু করে হাসব্যান্ড এর লাঞ্চ, সব কিছুর খেয়াল ই তার রাখত হয়। এত ব্যস্ততার মাঝে নিজের জন্য সময় ই পাওয়া যায় না। তাই যদি কিছু সহজ টিপস সংসার জীবন কে আরেকটু গোছালো করে দিতে পারে তাহলে ক্ষতি কি? তাহলে চলুন কিছু সহজ টিপস জেনে নেই যেগুলো অতি প্রয়োজনীয়। আর এগুলো জানা থাকলে আপনি আরো টিপটপ থাকতে পারবেন। তাহলে চলুন দেখে নেই টিপস গুলো –

০১। কলা কিনে আনার দু‘ তিনদিনের মধ্যেই তা কালো হয়ে যায়। এটা আটকাতে কলার বোঁটার দিকটা ভালো করে প্ল্যাস্টিক দিয়ে বেঁধে রাখুন।

০২। মাছের ঝোলে সুন্দর রং আনতে চাইলে ফুটন্ত তেলে আধা চা চামচ চিনি মিশিয়ে দিন। এতে সুন্দর লালচে রং আসবে।

০৩। ফলমূল কেটে রাখলে তা কিছুক্ষণের মধ্যে কালো হয়ে যায়‚ বিশেষত আপেল। এটা যাতে না হয় তার জন্য এক চামচ মধু আর দু চামচ পানি ভালো করে মিশিয়ে নিন।এরপর ফলের ওপর এটা ভালো করে ছড়িয়ে দিন।

০৪। ডিমের সাদা অংশ কুসুমের থেকে আলাদা করতে চাইলে ডিমের কুসুমের ওপর একটা খালি পানির বোতল নিয়ে হাল্কা চাপ দিন। কুসুম সহজেই বোতলে ঢুকে যাবে। এছাড়াও হাতে নিচে একটা বাটি রেখে আঙুল ফাঁক করে হাতে একটা ডিম ভাঙুন। বাটিতে সাদা অংশ পড়ে যাবে। আর হাতে কুসুমটি রয়ে যাবে।

০৫। কোন কারণে ডিম ভেঙে গেলে তা এক চামচ ভিনিগার দিয়ে পানিতে সিদ্ধ করে নিন। তাহলে পুরো ডিম পাবেন।

০৬। রসুনের খোসা সহজে ছাড়াতে চাইলে ১ মিনিট রসুন মাইক্রোওয়েভ করে নিন। যাদের মাইক্রোওয়েভ নেই তারা ঠান্ডা পানিতে রসুনের কোয়া ভিজিয়ে রাখুন।

০৭। আলু ভাজা মচমচে করতে আলু কেটে তা কিছুক্ষণ লবন পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

০৮। কাঁচা আনারস পাকাতে আনারসের মুখটা মানে গাছের অংশটা কেটে উলটো করে রাখুন । দেখবেন সহজেই আনরস পেকে গেছে।

০৯। দুধ যাতে উপচে না পড়ে যায় এটা আটকাতে দুধের বাটির ওপর আড়াআড়ি করে একটা কাঠের খুন্তি বা হাতা রেখে দিন।

১০। ক্রিস্টাল ক্লিয়ার বরফ চাইলে পানি আগে ফুটিয়ে তার পর সেই পানি দিয়ে বরফ জমতে দিন।

১১। পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখের পানি নাকের পানি অবস্থায় না পড়তে চাইলে পেঁয়াজ কাটার সময় মুখে একটা চিউয়িং গাম চেবান।

১২। পাত্রের কানায় সামান্য মাখন বা গ্লিসারিন লাগিয়ে নিলে দুধ উথলে পড়ার সমস্যা থাকে না।

১৩। ফ্রিজে একটি পাতিলেবু টুকরো টুকরো করে কেটে রেখে দিলে ফ্রিজের ভেতরে বাজে গন্ধ থাকবে না।

১৪। যে সব সবজি বা আনাজ কাটলে হাতে কালচে দাগ হয় তা কাটার আগে হাতে সরিষার তেল মেখে নিলে কালচে দাগ আর হবে না।

১৫। চায়ের কাপে লেগে থাকা বাদামী দাগ লবণ দিয়ে ঘষলে চলে যায়।

১৬। পানিতে অল্প কেরোসিন মিশিয়ে রান্নাঘর মুছলে মাশা-মাছি ও পিঁপড়ের উৎপাত কমে যায়।

১৭। বাসায় খানিকটা কর্পূর ছিটিয়ে দিলে ছারপোকার উপদ্রব চলে যাবে।

১৮।বাড়তি বাটা মশলা সামান্য তেল ও লবণ মাখিয়ে রেখে দিলে কিছুদিন পরও ব্যবহার করা যায়।

১৯। কয়েক ফোটা ভিনিগার ছিটিয়ে ধুয়ে নিলে বাসনপত্রে আর আঁশটে গন্ধ থাকবে না।

২০। ভাজার জন্য কেটে রাখা বেগুন বেশ কিছুক্ষণ আগে লবণ-হলুদ মাখিয়ে রাখলে ভাজতে তেল কম লাগে।

২১। বেকিং সোডার সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে পাত্রের গায়ে মেখে ৩-৪ ঘন্টা রেখে ধুয়ে নিলে পাত্রের পোড়া দাগ উঠে যাবে।

২২। তরকারি কাটার সময় আঙ্গুলে দাগ লাগলে ভিনিগার অথবা লাবুর রসে লবণ মিশিয়ে আঙ্গুলে লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিলে দাগ উঠে যায়।

২৩। চিনির পাত্রে কয়েকটি লবঙ্গ রাখলে পিঁপড়া আসবে না।

২৪। বিস্কুটের বয়ামের ভেতরে ব্লটিং পেপার রেখে দিলে বর্ষাকালেও বিস্কুট মচমচে থাকে।

২৫। রান্নাঘরে কাগজ পুরিয়ে ধোঁয়া দিলে মাকড়সার উৎপাত কমে যাবে।

২৬। তেলে আচার ডুবিয়ে রাখলে আচারে ফাঙ্গাস পড়ে না।

২৭। সিদ্ধ করা আলু দিয়ে দিন তরকারী বা ডালে। লবণ কমা পর্যন্ত ফুটিয়ে নিন। তারপর আলুগুলো তুলে ফেলতে পারেন যদি ইচ্ছা হয়।

২৮। আচার তৈরি করার সময় তেলে একটু ভিনিগার মিশিয়ে নিলে আচার অনেকদিন ভালো থাকে।

২৯। ফ্রিজ ঘন ঘন খুললে ও বন্ধ করলে ভেতরে বাতাস ঢুকে খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং বিদ্যুৎ খরচ হয় বেশি। তাই বারবার না খুলে চেষ্টা করতে হবে রান্নায় যা যা লাগবে তা একবারে বের করে নেয়া।

৩০। দেশলাই এর বাক্সে কয়েকটা শুকনো চাল রেখে দিলে বর্ষাকলেও দেশলাই কাঠির বারুদ ভাল থাকে।

৩১। রান্নার সময় হাতে হলুদের দাগ হলে, আলুর খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে হাতে ঘষে ধুয়ে নিলে আর হলুদের দাগ থাকে না।

৩২। একসাথে অনেক রসুন ছাড়াতে সময় বেশি লাগে। আস্ত রসুন ফুটন্ত পানিতে মিনিট দুয়েক ভিজিয়ে হাতে ঘষলে ওপরের খোসা ছেড়ে যায়।

৩৩। রান্নার সময় সাধারণ হাঁড়ি-পাতিলের বিপরীতে প্রেসারকুকার ব্যবহার করুন। এতে সময় কম লাগবে।

৩৪। আটার ভুষি দিয়ে বাসন মাজলে পরিষ্কার ও ঝকঝক করে।

৩৫। রেফ্রিজারেটরে রাখা খাবার দ্রুত গরম করতে মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করুন।

৩৬। পিঁয়াজ কাটার আগে দুই টুকরা করে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে কাটলে চোখের পানি আসে না।

৩৭। কম সময়ে রান্না করার জন্য বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তৈরি গুঁড়া মসলা ও সস হাতের কাছে রাখুন।

৩৮। চিনির পাত্রের মধ্যে দু-চারটি লবঙ্গ দিয়ে রাখলে পিঁপড়ে ঢুকবে না।

৩৯। পরেরদিন রান্না করার জন্য মাংস সিদ্ধ এবং ঠান্ডা করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

৪০। ঘরের বাইরে খাবার নিতে হলে যদি সাধারণ টিফিন বক্স ব্যবহার করা হয় তাহলে খাবার  ঠান্ডা করে নিতে হবে। কখনোই গরম গরম খাবার বাক্সে নেওয়া যাবে না, এতে খাবারে গন্ধ হয়ে যেতে পারে।

৪১। ভাত রান্না করার জন্য রাইসকুকার ব্যবহার করুন।

৪২। রান্না করা খাবার রেফ্রিজারেটরে রাখার আগে  ঠান্ডা করে নিতে হবে। গরম খাবার রাখলে রেফ্রিজারেটর নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৪৩। সবজি পরিষ্কার করে কেটে প্যাকেটজাত করে রেফ্রিজারেটরে রাখতে পারেন। এতে কম সময় লাগবে।

৪৪। ভ্রমণে শুকনা খাবার নেয়াই ভালো। অনেকক্ষণ খাবার ভালো থাকে।

৪৫। বাজার থেকে মাছ-মাংস কেনার সময় পরিষ্কার করে কেটে নিয়ে আসুন। এতে কাজ করতে সুবিধা হবে।

৪৬। আচারে তেল কম হলে তেল ফুটিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা করে দিলে গন্ধ হয় না।

৪৭। খাবার বেশিক্ষণ গরম রাখতে চাইলে হটপট বা তাপ অপরিবাহী পাত্র ব্যবহার করুন।

৪৮।পেয়াঁজ এবং আলু একসাথে একই পাত্রে রাখলে খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।

৪৯। রান্নার সময় কোনো কিছু মাপার জন্য পরিমাপক পাত্র (কাপ, চামচ) ব্যবহার করুন। কাজে সুবিধা হবে।

৫০। ভারী বেগুণের চেয়ে হালকা বেগুণ বেশি ভালো। কারণ ভারী বেগুণে বিচি বেশি থাকে।

৫১। ডিম ফাটানোর সময় সাদা অংশটা আলাদা করতে চাইলে ফেটানো ডিম ছাকনিসহ ফানেলের মধ্যে ঢালুন, দেখবেন সাদা অংশ নিচে পড়েছে, কুসুম উপরে রয়ে গেছে।

৫২। বাজার থেকে কেনা যে কোনো পাকা ফল খাওয়ার আগে অন্ততঃ আধঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নেওয়া উচিত। কারণ বেশির ভাগ ফল পাকানো ও সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন ব্যবহার করা হয়।

৫৩। মাছ ও মাংস রান্না করার জন্য রেফ্রিজারেটর থেকে নামালে বরফ গলিয়ে বেশিক্ষণ বাইরে রেখে দেয়া যাবে না। তাতে গরমে সেগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৫৪। ভাত সিদ্ধ করার আগে পানিতে কয়েক ফোটা লেবুর রস ও এক চামচ তেল দিলে ভাত ঝরঝরা থাকে।

৫৫। সিদ্ধ করার পর ডিমগুলোকে রেফ্রিজারেটরে কয়েক দিন রাখতে চাইলে খোসা ছাড়িয়ে পানিতে ডুবিয়ে রেখে দেবেন। যাদের রেফ্রিজারেটর নেই তারা ডিমের উপর সরিষের তেল লাগিয়ে রাখবেন তাহলে গ্রীষ্মকালেও ডিমগুলো অনেকদিন ভালো থাকবে।

৫৬।  মরিচ বাটলে বা কাটলে হাত অসম্ভব জ্বালা করে। ঠান্ডা দুধের সর লাগান। জ্বালা কমে যাবে অথবা ঠান্ডা দুধ দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। হাত পুড়ে গেলেও তখনি ঠান্ডা দুধ দেবেন,  হাতে ফোস্কা পড়বেনা। আর তাতে জ্বালাও কমবে।

৫৭। সালাদ বা অন্য কোনো ভাবে কাঁচা শাক সব্জি খেতে চাইলে সেগুলি ধুয়ে সমপরিমান পানি ও ভিনিগার মিশিয়ে তাতে ভিজিয়ে রাখুন, খানিকক্ষণ ভেজার পর তবেই ব্যবহার করুন, এতে জীবানুমুক্ত হয়।

৫৮। জুতো  ভালো করে মুছে ঘরে ঢোকার জন্য দরজার সামনেই পাপোশ রাখা হয়৷ এতে ঘরে  বাইরের ময়লা জীবাণু ঢুকতে পারে না৷ আর তাই , এই পাপোশ খুব দ্রুত ময়লা হয়ে যায়৷ তাই মাঝে মাঝে পানিতে খানিটা লবণ মিশিয়ে সেই পানি পাপোশের ওপর দিয়ে রাখুন, মাত্র ৫ মিনিট৷ তারপর সেটা ভালো করে ধুয়ে ফেললে পরিষ্কার তো হবেই, সঙ্গে জীবাণুমুক্তও৷

৫৯। কফি বা চা এর দাগ খুব সহজে লেগে যায়, কেটলি বা ফ্লাস্কে  যা দেখতে ভালো তো লাগেই না, উল্টো সেই দাগ লাগা পাত্রে চা পানে কেমন যেন অরুচি হয়৷ তাই দাগের ওপর দু’চামচ বেকিং পাউডার কয়েক ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন এবং পরে গরম পানি দিয়ে ঘষে ঘষে ধুয়ে ফেলুন৷ দেখবেন নিজের কাপ, কেটলি বা ফ্লাস্কটি খুব চকচক করছে।

৬০। রুপার চামচ, ছুড়ি , কেটলি, প্লেট বা ফুলদানি – যাই হোক না কেন তার চকচকে ভাব ফিরিয়ে আনতে চান? কোনো সমস্যা নেই৷ বড় একটা হাড়িতে কয়েকটি ছোট আলু ঢেলে পানিটা সেদ্ধ করুন৷ তারপর ফুটন্ত পানি থেকে আলুগুলো তুলে নিয়ে ওই আলুর পানিতে রুপার
জিনিসগুলো কয়ে ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন৷ সব শেষে সাধারণ পানিতে সেগুলো ধুয়ে আস্তে আস্তে একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন৷ দেখবেন অনেক চকচক করছে।

দেখলেন তো কত সহজ কিছু টিপস অথচ কত প্রয়োজনীয়। তাহলে এই টিপস গুলো অনুসরণ করুন আপনার প্রাত্যহিক কাজে আর হয়ে উঠুন আরো আধুনিক ও জীবন টা কে করে তুলুন আরো সহজ। আর জীবন টা কে করুন আরও উপভোগ্য।

মন্তব্যসমূহ

আমি একজন শিক্ষার্থী। নতুন কিছু সম্পর্কে জানতে ও শিখতে ভালোবাসি এবং অন্যদের সাথে সেটা শেয়ার করতে ভালো লাগে।

মন্তব্য করুন