বাসায় বানানো বেবি সেরিলাক

বাসায় বানানো বেবি সেরিলাক

বাসায় বানানো যেকোনো খাবার বাইরের থেকে অনেক ভাল এবং স্বাস্থ্যকর। বাইরে যত বড় ব্রান্ড ই হোক না কেন বাইরে বানানো খাবার সন্রক্ষন করার জন্য প্রিসারভেটিভ দেয়া থাকে যা একটি কেমিক্যাল যা বাচ্চাদের সাস্থের জন্য ক্ষতিকর। বাসায় বানানো যেকোনো খাবার বাচ্চাদের জন্য অনেক স্বাস্থ্যকর এবং কেমিক্যাল মুক্ত। আজকে আমি যেই রেসিপি দিব তা বড় কারর জন্য নয় তা আমাদের বাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাচ্চাদের জন্য। বাচ্চাদের অনেক প্রিয় একটি খাবার সেরিলাক। আমরা আমাদের বাচ্চাদের কে বাইরের বাযারের সেরিলাক কিনে খাওয়াই। কিন্তু এই সেরিলাক যদি বাসায় বানানো যায় তাহলে তা হবে অনেক গুনে স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু ও কেমিক্যাল মুক্ত। প্রত্যেক টা বাচ্চা আলাদা, প্রত্যেক টা বাচ্চার টেস্ট আলাদা, তাদের এলারজি আলাদা। যেকোনো খাবার দেয়ার আগে দেখে নিবেন যে বাচ্চারা তাতে এলারজিক কিনা। যদি এলারজি থাকে তাহলে সেই খাবার টি বাচ্চাটিকে দেয়া থেকে বিরত থাকবেন। আসুন আজকে দেখে নেই ঘরে বসে বানানো স্বাস্থ্যকর বেবি সেরিলাক, এটি এতই স্বাস্থ্যকর যে আপ্ নারা এর উপাদান গুলা দেখলেই বুঝবেন।

বেবি সেরিলাক বানাতে যা যা লাগবেঃ

১- বুটের ডাল হাফ কাপ।

২- ছোলার ডাল হাফ কাপ।

৩- চটপটির ডাল হাফ কাপ।

৪- মটর ডাল হাফ কাপ।

৫- পোলাও এর চাল ওয়ান থার্ড কাপ।

৬- রান্না করা ভাতের চাল ওয়ান থার্ড কাপ।

৭- মাসকলাইয়ের ডাল ওয়ান থার্ড কাপ।

৯- খেসারি ডাল ওয়ান ফরথ কাপ।

১০- মুগের ডাল ওয়ান থার্ড কাপ।

১১- মুসুরের ডাল ওয়ান থার্ড কাপ।

১২- বাদাম ওয়ান থার্ড কাপ।

১৩- কাজু বাদাম ওয়ান থার্ড কাপ।

১৪- সাবু দানা দুই টেবিল চামুচ।

১৫- তাল মিছরি হাফ টেবিল চামুচ।

১৬- বাটার।

 

বেবি সেরিলাক বানানোর পদ্ধতিঃ

প্রথমে একটি বাটিতে বুটের ডাল, ছোলার ডাল, চটপটির ডাল ও মটর ডাল নিতে হবে। যেহেতু এই ডাল গুলা খুব শক্ত হয় তো এই ডালগুলা কে তিন থেকে চার বার পানির নিচে বার বার কচলে কচলে ধুতে হবে। এরপর পর্যাপ্ত পরিমান পানি দিয়ে ডাল গুলাকে কমপক্ষে চার ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখতে হবে।এরপর চার ঘণ্টা পর আর একটি বাটিতে পোলাও এর চাল, রান্না করা ভাতের চাল, মাসকলাইয়ের ডাল, খেসারি ডাল ওয়ান ফরথ কাপ, মুগের ডাল, মুসুরের ডাল নিতে হবে। এরপর বাদাম, কাজু বাদাম নিতে হবে। কিছু বাচ্চাদের বাদামে এলারজি হয় অবশ্যই দেখে নিবেন বাচ্চা এর এলারজি আছে কিনা যদি থাকে তাহলে বাদাম দেয়া থেকে বিরত থাকবেন। এরপর সাবু দানা নিতে হবে।এরপর এই সব কিছুকে ভাল করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিয়ে হবে যেন কোন ময়লা বা বালু না থাকে। তবে এইটাকে ভিজিয়ে রাখতে হবে না। ধুয়ে পানি টা ভাল মত ঝরিয়ে নিয়ে একটি পাত্রে চাল আর বাদামের মিশ্রণ টিকে নিতে হবে এবং সাথে চার ঘণ্টা আগে ভিজানো ডাল গুলা নিতে হবে। এরপর এই মিশ্রণ টিকে একটু ছড়িয়ে রোদে শুখাতে দিতে হবে। ততক্ষন পর্যন্ত শুখাতে হবে যতক্ষণ না পর্যন্ত এইটাই যেই পানি লেগে আছে তা একেবারে শুখিয়ে ড্রাই না হয়ে যায়। যদি রোদের বেবস্থা না থাকে তাহলে ফ্যান এর তলে রেখেও শুখাতে পারেন, কিছুক্ষন পর পর হাত দিয়ে নেরে চেরে দিলেই হবে। শুখিয়ে জাওয়ার পর মিশ্রণ টিকে একটি প্যান এর মধ্যে দিতে হবে এবং মিডিয়াম আচে টেলে নিতে হবে।পুরোটা সময় নারতে হবে যেন পুড়ে না যায়। কারন পুরে গেলে বেবি সেই ফুড টা খাবে না। নাড়তে নাড়তে একটা পর্যায়ে দেখবেন কালার টা হাল্কা একটু ব্রাউনিশ হয়ে আসবে এবং আপনি খুবই সুন্দর একটা গন্ধ পাবেন। তখনি বুঝবেন এটি ভাজা হয়ে গেছে।ভাজার জন্য কমপক্ষে আট থেকে দশ মিনিটই যথেষ্ট। এরপর এইটা একটা বাটিতে নিতে ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে একটা ব্লেন্ডার এ অল্প অল্প নিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। আপনার বেবি এর সজ্জ ক্ষমতা কতটুকু, তার উপর ডিপেন্ড করে আপনি মিহি গুরা অথবা হাল্কা দানা গুরা করে নিতে পারেন।চাইলে সুজির মত হাল্কা দানা করতে পারেন আবার পাউডার এর মত গুরা ও করে নিতে পারেন। এরপর যেকোনো একটা এয়ার টাইট কনটেইনার এ বেবি সেরিলাক টা রেখে ফ্রিজ এর নরমাল চেম্বার এ রেখে দিবেন। এই সেরিলাক প্রায় এক মাস সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।

বেবি সেরিলাক রান্না করার পদ্ধতিঃ

বেবি সেরিলাক খিচুরির মত মশলা দিয়ে বিভিন্ন সবজি দিয়ে রান্না করা যায় আবার মিষ্টি ভাবেও রান্না করা যায়।আমি মিষ্টি ভাবে রান্না করার পদ্ধতি জানাব। এর জন্য একটি প্যানে হাফ কাপ পানি নিতে হবে এবং পানি টাকে ভাল মত ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর এর মধ্যে তিন টেবিল চামুচ এর মত সেরিলাক নিতে হবে। আপ নারা একদিন রান্না করলে বুঝতে পারবেন যে আপনার বেবির চাহিদা কতটুকু, এতটুকু রান্না করতে হবে না এর থেকে বেশি রান্না করতে হবে। সেই অনুযায়ী রান্না করবেন। তবে এইটা রান্না করার পরে অনেক ঘন হয়ে আসে ও অনেক বেরে যায়। এরপর এইটাকে ভালভাবে নেড়ে মিশিয়ে দিতে হবে যেন কোন আস্ত দলা না থাকে।এখন এর মধ্যে প্রায় হাফ টেবিল চামুচ এর মত তাল মিছরি দিতে হবে। নরমালি বাসার যে নানি দাদিরা আছেন তারা বলে থাকেন যে নরমাল রেগুলার চিনি থেকে তাল মিছরিটা ভাল। তাল মিছরি না থাকলে রেগুলার চিনি ব্যাবহার করতে পারেন কিন্তু চিনির মাত্রা বাচ্চাদের একটু কম দেয়া ভাল। কিছুক্ষন পর হাল্কা ঘন হয়ে আসলে এর মধ্যে ওয়ান ফরথ কাপ দুধ দিয়ে দিতে হবে। আপনারা চাইলে পুরো রান্না টা দুধ দিয়েও করতে পারেন। এর পরে এর মধ্যে হাফ চা চামুচ বাটার দিতে হবে আপনারা চাইলে ঘি ও দিতে পারেন। যদি তেল জাতিও দিতে চান তাহলে তেল না দিয়ে বাটার অথবা ঘি দিতে পারেন তবে তা অবশ্যই আপনার বাচ্চা এর সহ্য হলে কেননা অনেক বাচ্চাই খুব বেশি তেল খেতে পারে না। না হলে বাটার বা ঘি এর কোন দরকার নেই। যখন এইটা ঘন হয়ে আসবে তখন এইটাকে নামিয়ে নিতে হবে। এই সেরিলাক টি ঠাণ্ডা হলে আর ঘন হয়ে যায়।বাচ্চাকে খাওয়ানর আগে অবশ্যই খাবারটি নিজের আঙ্গুলে দিয়ে দেখে নিবেন , কারন খুব বেশি গরম খাবার বাচ্চাদের দেয়া উচিৎ নয়।এরপর পানি আর সেরিলাক। হয়ে গেল আপনার বেবির সঠিক পুষ্টির উৎস।

মন্তব্যসমূহ

আমি স্টুডেন্ট। পড়াশুনার পাশাপাশি টুকটাক লিখতে ভালবাসি।

মন্তব্য করুন