সুস্থ ত্বকের জন্য ন্যাচারাল কিছু ক্লিনজার

সুস্থ ত্বকের জন্য ন্যাচারাল কিছু ক্লিনজার

সুস্থ ও সুন্দর ত্বক কে না চায়। সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের জন্য এক্সসারসাইজ ও ডায়েট যেমন জরুরি তেমনি জরুরি সস্কিন অনুযায়ী সঠিক ক্লিনজিং। যারা বাইরে সারাদিন কাজ করে এবং সারাদিন বাইরে থাকে তাদের জন্য প্রপার ক্লিনজিং টা অনেক জরুরি কেননা সারাদিন বাইরের ধুলাবালি, দূষণ, রোদ এর কারনে স্কিন এর অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়।সঠিক সময়ে যদি স্কিন এর প্রপার কেয়ার না নেয়া হয় তাহলে স্কিন এর জৌলুস আস্তে আস্তে কমতে থাকে এবং স্কিন হয়ে যায় রুক্ষ, শুষ্ক, নির্জীব ও প্রাণহীন। স্কিন এর প্রপার কেয়ার এর সর্বপ্রথম বেসিক কাজ হল ক্লিনজিং করা।সঠিক ভাবে স্কিন কে ক্লিন করলে স্কিন ভাল থাকবে এবং স্কিন হবে উজ্জ্বল, ফর্সা ও মসৃণ। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ক্লিনজার পাওয়া যায়। কিন্তু বাজারে পাওয়া ক্লিনজার গুলায় কেমিক্যাল থাকে যার অতিরিক্ত ব্যাবহার স্কিন এর ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। বাসায় প্রাকিতিক ভাবে তৈরি যেকোনো প্রোডাক্ট অনেক ফলপ্রসূ হয় কেননা এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে না এবং যেকোনো কেমিক্যাল ক্লিনজার থেকে প্রাকিতিক ভাবে তৈরি প্রোডাক্ট হাজার গুন ভাল কাজ করে। প্রাকিতিক ভাবে তৈরি রূপচর্চার জন্য যেকোনো প্রোডাক্ট ধীরে ধী্রে স্কিন কে উজ্জ্বল করবে, স্কিন এর দাগ দূর করবে, স্কিন কে করবে সুস্থ এবং স্কিন এর তারুণ্য ধরে রাখবে। আসুন আজকে দেখে নেই ঘরে তৈরি ন্যাচারাল ক্লিনজার।

ক্লিনজার -১

ক্লিনজার তৈরি করতে যা যা লাগবেঃ

১- মুলতানি মাটি।

২- বেসন।

ক্লিনজার তৈরি করার পদ্ধতিঃ

স্কিন কে ফর্সা করার জন্য মুলতানি মাটির ব্যাবহার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। মুলতানি মাটি শুধু মাত্র স্কিন কে ফর্সা করে না, মুলতানি মাটি স্কিন কে গভির থেকে পরিষ্কার করে সাথে স্কিন এর অয়েল কন্ট্রোল করে এবং নিয়মিত ব্যাবহার এ আস্তে আস্তে স্কিন এর দাগ কমে যায়। এর সাথে আছে বেসন।বেসন এর উপকারিতা সবায় জানে।রূপচর্চায় সবসময় বেসন ব্যাবহার হয়ে থাকে। বেসন স্কিন কে এক্সফলিএট করে, স্কিন এর ডেড সেল দূর করে, উজ্জ্বল করে, স্কিন এর দাগ দূর করে এবং স্কিন কে সফট করে।তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এই দুই টি উপাদান অনেক উপকারি। এই ক্লিনজার টা বাজারে পাওয়া যায় যেকোনো কেমিক্যাল প্রোডাক্ট থেকে অনেক উপকারি কেননা ন্যাচারাল হওয়ায় এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। এই ক্লিনজার টা বানানোর জন্য সমপরিমান মুলতানি মাটি ও বেসন নিতে হবে। এই দুটি একসাথে মিক্স করে এয়ার টাইট কনটেইনার এ ষ্টোর করা যাবে।ক্লিনিং এর সময় অল্প একটু ক্লিনজার টা নিয়ে তার মধ্যে পরিমান মত পানি মিশিয়ে মুখে হাল্কা বৃত্তাকার ভাবে ঘষে ঘষে দুই মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রথম বারেই পার্থক্য দেখা যাবে। বাজারে পাওয়া যায় যেকোনো কেমিক্যাল থেকে এইতা উপকারি।

ক্লিনজার- ২

ক্লিনজার তৈরি করতে যা যা লাগবেঃ

১- ক্যাস্টর অয়েল।

২- আমন্ড অয়েল/ নারকেল তেল/ অলিভ অয়েল।

৩- টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল।

ক্লিনজার তৈরি করার পদ্ধতিঃ

অয়েল ক্লিনজিং টা স্কিন এর জন্য অনেক জরুরি। অয়েল সঠিক পদ্ধতিতে ব্যাবহার করলে স্কিন খুব ভাল থাকে। কেননা অয়েল ত্বকের গভিরে যেয়ে স্কিন কে প্রপার ভাবে ক্লিন করে। বাইরের ধুলা বালি, রোদে পুড়া ত্বক সব কিছু প্রপার ভাবে ক্লিন করে অয়েল। বাইরে থেকে এসে মেকআপ তুলার জন্য সবচেয়ে ভাল ক্লিনজার হল অয়েল। অয়েল ক্লিনজার বানানোর জন্য প্রথমে একটি এয়ার টাইট কনটেইনার নিতে হবে এবং তাতে ৩০% ক্যাস্টর অয়েল নিতে হবে। ক্যাস্টর অয়েল নিয়ে ভয় পাবার কিছু নেই, এটি স্কিন কে প্রপার ক্লিন করতে সাহায্য করে। এরপর ৭০% যেকোনো অয়েল যেমন আমন্ড অয়েল/ নারকেল তেল/ অলিভ অয়েল নিতে হবে। সব শেষে ৩ থেকে ৪ ফোটা টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল নিতে হবে। এই কিলজার টি স্কিন এর জন্য অনেক ভাল। হাল্কা ভাবে ১০ মিনিট ধরে মাসাজ করে হাল্কা উসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললে স্কিন এর সকল জীবাণু সাথে সাথে দূর হয়ে যায় এবং স্কিন প্রপার ভাবে ক্লিন হয়। অয়েল ক্লিনজিং খুবই জনপ্রিয় একটা পদ্ধতি এবং কার্যকারী। প্রায় অনেক দেশেই এই পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয় স্কিন এর প্রপার ক্লিনিং এর জন্য। যাদের স্কিন তৈলাক্ত তাদের জন্য ও এই ক্লিনিং পদ্ধতি সমান কার্যকরী।

ক্লিনজার- ৩

ক্লিনজার তৈরি করতে যা যা লাগবেঃ

১- নিম্ পাতা গুরা।

২- আমলা পাউডার।

৩- বেসন।

ক্লিনজার তৈরি করার পদ্ধতিঃ

নিম পাতা অনেক আগে থেকেই রূপচর্চায় ব্যাবহার হয়ে আসছে। এটি খুবই জনপ্রিয় একটি উপাদান। নিম পাতা স্কিন এর যেকোনো ইনফ্লামাশন, লাল ভাব, ব্রন এর দাগ এবং ব্রন আসা রোধ করে। আমলা পাউডার স্কিন কে ফর্সা করে এবং স্কিন এর দাগ দূর করে।আমলা পাউডার এ আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের গভীরে যেয়ে ত্বকের বিভিন্ন দাগ, ইনফ্লামাশন দূর করে। বেসন যুগ যুগ ধরে রূপচর্চায় ব্যাবহার করা হয়। বেসন স্কিন কে এক্সফলিএট করে, ফর্সা করে স্কিন কে ভেতর থেকে ক্লিন করে এবং নিয়মিত ব্যাবহার এ আস্তে আস্তে দাগ দূর করে।এই ক্লিনজার টি বানানোর জন্য সমপরিমান নিম পাতা গুরা এবং বেসন নিতে হবে। এবং এর অর্ধেক পরিমান আমলা পাউডার নিতে হবে। আমলা পাউডার যেকোনো সুপার মল এ পাওয়া যাবে। একসাথে মিক্স করার পর স্টোর করা যাবে এয়ার টাইট কনটেইনার এ। বেবহার করার সময় হাল্কা এক্তু পানির সাথে মিশিয়ে দুই মিনিট ঘষে হাল্কা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতি অনেক কার্যকরী ক্লিনজার। যাদের অতিরিক্ত তৈলাক্ত স্কিন এবং ঘন ঘন ব্রন হয় তাদের জন্য এই ক্লিনজার টি পারফেক্ট। নিয়মিত ব্যাবহার করলে ত্বকের দাগ দূর হয় ও ত্বক হয় কোমল ও মসৃণ।

 

 

 

মন্তব্যসমূহ

আমি স্টুডেন্ট। পড়াশুনার পাশাপাশি টুকটাক লিখতে ভালবাসি।

১ টি মন্তব্য
  1. Reply তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে গোলাপ জল | চটপট - এসো নিজে করি মার্চ ২১, ২০১৮ তারিখে ১১:১২ অপরাহ্ন

    […] উপকরণের সাথে মিশে এটি একাধারে ক্লিনজার, টোনার, ময়শ্চারাইজার এই তিনটি […]

মন্তব্য করুন