ঝাল ডিম পিঠা

ঝাল ডিম পিঠা

পিঠা আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয় এবং আমাদের সকলের খুব প্রিয় খাবার।শীতকাল আসলেই যেন চারিদিকে পিঠার রব পরে যায়। আমরা শীতকাল এর অপেক্ষা করি যেন মজার মজার পিঠা খাওয়ার জন্য। পিঠা আমাদের দেশের একটা অথেনটিক খাবার। শীতকাল যেন আমরা পিঠা ছাড়া কল্পনাই করতে পারিনা।পিথা অনেক রকএর হয়। শীতকালে বিভিন্ন রকমের পিঠা বানানো হয়। তার মধ্যে একটি জনপ্রিয় পিঠা হল ঝাল ডিম পিথা। আমরা সাধারনত যেই পিঠা গুলা খাই তা সব গুলাই মিষ্টি পিঠা।কিন্তু ঝাল ডিম পিঠা মিষ্টি পিঠা না। যারা ঝাল খেতে খুব পছন্দ করে এই পিঠা তাদের জন্য। আসুন দেখে নেই অথেনটিক মজাদার ঝাল ডিম পিঠা।

ঝাল ডিম পিঠা বানাতে যা যা লাগবেঃ

১- এক কাপ পরিমান চালের গুরা।

২- হাফ চা চামুচ হলুদ।

৩- হাফ চা চামুচ মরিচের গুরা।

৪- ওয়ান থার্ড চা চামুচ ধনিয়া গুরা।

৫- ওয়ান থার্ড চা চামুচ জিরা এর গুরা।

৬- লবন স্বাদ মত।

৭- এক টেবিল চা চামুচ পেয়াজ বাটা।

৮- হাফ চা চামুচ আদা বাটা।

৯- হাফ চা চামুচ রসুন বাটা।

১০- ডিম দুই টি।

১১- রেগুলার তেল পরিমান মত।

১২- হাফ কাপ পানি।

১৩- কাচামরিচ তিন থেকে ৪ টা কুচি।

১৪- ধনিয়া পাতা কুচি স্বাদ মত।

ঝাল ডিম পিঠা বানানোর পদ্ধতিঃ

প্রথমে একটি বাটিতে চালের গুরা নিতে হবে। বাযারে যেই চালের গুরা পাওয়া যায় সেইটা ব্যবহার করতে পারেন অথবা নিজেদের বাসায় ভাঙ্গানো চালের গুরা ও ব্যবহার করতে পারেন। এর মধ্যে হলু, মরিচের গুরা নিতে হবে। মরিচের গুরা আপনারা আপনাদের পছন্দ মত বারিয়ে বা কমিয়ে নিতে পারেন।এরপর ধনিয়া গুরা আর জিরার গুরা নিতে হবে। জিরার গুরা হাল্কা টেলে নিতে হবে। এর পর নিতে হবে স্বাদ মত লবন। এরপর এই শুকনা উপাদান গুলা একটু মিক্স করে নিতে হবে জেন আলদা কিছু না থাকে। এখন এর মধ্যে এইবার নিতে হবে পেয়াজ বাটা, পেয়াজ বাটা খুব মিহি করে বাটা লাগবে তা নয়, একটু ছোট বড় পেয়াজ থেকে গেলে সমস্যা নয়। এর পর এর মধ্যে আদা বাটা ও রসুন বাটা দিতে হবে।এর পর এর মধ্যে দু টি দিম দিতে হবে। এইবার এই সব কিছু আবার মিক্স করে নিতে হবে। এইবার অল্প অল্প নরমাল পানি দিয়ে গোলা তৈরি করতে হবে। এইখানে হাফ কাপ এর মত পানি ব্যবহার করতে হবে। যেই কাপে চালের গুরা মেপেছি ঠিক সেই কাপের হাফ কাপ পানি দিয়েছি।তবে পানি টা আপনাদের কম বা বেশি ও লাগতে পারে, ডিম টা যদি বড় হয় তাহলে পানি কম লাগতে পারে তাই সুরু দিকে পুরো পানি টা না দিয়ে আসতে আসতে অল্প অল্প করে পানি মিক্স করতে হবে। এইবার এই ব্যাটার টাকে ইলেকট্রিক বিটার দিয়ে পাচ মিনিট বিট করতে হবে। আপনাদের কাছে বিটার না থাকলে আপনারা হ্যান্ড হুইস্ক ও ব্যবহার করতে পারেন।তবে পাচ মিনিট ভাল করে বিট করতে হবে। এর কারন হল আপনি যত বেশি বিট করবেন আপনার ব্যাটার এর মধ্যে তত বেশি বাতাস ঢুকবে ফলে আপনার পিঠা অনেক সফট ও স্নদর হবে। পাচ মিনিট বিট করার পর এর মধ্যে স্বাদ মত কাচা মরিচ ও ধনিয়া পাতা কুচি দিতে হবে। ধনিয়া পাতা আর কাচা মরিচ টা খুবই কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে। সব কিছু ভাল করে মিক্স করার পর দেখে হবে ব্যাটার এর কন্সিসটেন্সি টা থিক আছে কিনা খুব বেশি পাতলা হবে না আবার খুব বেশি ঘন ও হবে না। এবার এইতাকে ১৫ মিনিটের জন্য একটা যায়গায় রেখে দিয়ে তারপর পিঠা তৈরি করতে হবে।একটা কড়াইতে তেল গরম করে , গরম হওয়ার পর আচটা মিডিয়াম এ রেখে একটা গর্ত যুক্ত চামুচে ব্যাটার টা নিয়ে আস্তে আস্তে তেল এ ছেড়ে দিতে হবে। থিক ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড পর দেখতে পাবেন পিঠা টা উপরে উঠে আসবে। তখন আস্তে আস্তে একটা চামুচ নিয়ে কড়াইয়ের মধ্যের তেল পিঠার উপরে উপরে দিয়ে দিতে হবে।এতে করে পিঠাটা আর বেশি ফুলতে সাহায্য হয়। যখন এক মিনিট হয়ে যাবে তখন পিঠা টা উলটে দিতে হবে। এইবার পিঠা টাকে মিডিয়াম আচেই ভেজে নিতে হবে। পিঠা টাকে খুব বেশি জ্বালে ভাজা যাবে না নইলে কাচা থেকে যাবে। অনেকে আছে এই পিঠা হাল্কা ব্রাউন হলে পছন্দ করে অনেকে আছে সাদাটে পছন্দ করে। আপনি আপনার পছন্দ মত ভাজা হলে ঝাঁজরি যুক্ত চামুচ দিয়ে পিঠা টি তুলে নিবেন। পিঠাটি টিস্যু একটা প্লেটের উপর রেখে তার উপর রাখতে হবে। এতে করে এক্সট্রা তেল শুষে নিবে। এইভাবে করে আপনারা প্রতিটা পিঠা ভেজে নিবেন আর আপনারা একসাথে দুইটা তিন্ টা পিঠা ও ভেজে নিতে পারেন যদি পাত্র বড় হয়। এই পিঠাটি খেতে অসম্ভব মজা। টমেটো সস আর কিছু সালাদ দিয়ে পরিবেশন করুন। আপ্নারা চাইলে এইটা শুধুও খেতে পারেন কারন পিঠাটি অনেক মজা।

 

 

মন্তব্যসমূহ

আমি স্টুডেন্ট। পড়াশুনার পাশাপাশি টুকটাক লিখতে ভালবাসি।

মন্তব্য করুন