কেশো নাট সালাদ রেস্টুরেন্ট স্টাইল এর

কেশো নাট সালাদ রেস্টুরেন্ট স্টাইল এর

কেশো নাট সালাদ আমাদের খুবই পছন্দের একটা খাবার। প্রধানত চাইনিজ এর সাথে কেশো নাট সালাদ পরিবেশন করা হয়। কিন্তু কেশো নাট সালাদ নাস্তা হিসেবে শুধু শুধু খাওয়ার জন্য ও অনেক উপাদেয়। আমাদের যখনই কেশো নাট সালাদ খাওয়ার কথা মনে হয় তখনি আমাদের মাথায় একটাই চিন্তা আসে এবং তা হল রেস্টুরেন্ট। কেননা রেস্টুরেন্ট এই সুন্দর করে সুস্বাদু করে কেশো নাট সালাদ পরিবেশন করা হয়। কিন্তু হটাত করে ইচ্ছা হলে আসলে সব সময় রেস্টুরেন্ট এ যাওয়া সম্ভব হয়না। তখন মন খারাপ করার কিছু নেই।

আসলে ঘরে বসে হাতের কাছের কিছু উপাদান দিয়েই এখন রেস্টুরেন্ট স্টাইলে কেশো নাত সালাদ বানানো সম্ভব। এবং ঘরে বসে বানানো যেকোনো খাবার বাইরে বানানো খাবার থেকে অনেক উপকারি, কেননা ঘরে বসে যে খাবার বানান হয় সেই টা হাইজেনিক পরিবেশে বানানো হয় যা সাস্থের জন্য অনেক উপকারি এবং শরীর খারাপের কোন ভয় নেই।

অপর দিকে বাইরে বানানো খাবার যতই হাইজেনিক বলুক না কেন বাসায় বানানো খাবাব্রের মত হয় না। অনেকেই বলে বাসায় বানান খাবার বাইরের বানানো খাবার এর মত হয় না, তেমন রেস্টুরেন্ট এর মত স্বাদ পাওয়া যায় না।আজকে আমি বাসায় বসে কিভাবে রেস্টুরেন্ট এর মত স্বাদে কেশো নাট সালাদ বানানো যায় তার রেসিপি দিব। কি অবাক হলেন তো? আসুন দেখে নেই কিভাবে ঘরে বসে রেস্টুরেন্ট স্টাইলে কেশো নাট সালাদ বানানো যায়।

কেশো নাট সালাদ বানাতে যা যা লাগবেঃ

১- এক কাপ পরিমান হাড় ছাড়া চিকেন।

২- হাফ কাপ পরিমান চিংড়ি মাছ।

৩- দুই টেবিল চামুচ পরিমান কর্নফ্লাওয়ার।

৪- লবন স্বাদ মত।

৫- এক চা চামুচ পরিমান রসুন বাটা।

৬- হাফ চা চামুচ এর একটু কম আদা বাটা।

৭- হাফ চা চামুচ পরিমান পাপ্রিকা গুড়া।

৮- ডিম ১ টি।

৯- ডুবো তেল এ ভাজার মত তেল পরিমান মত।

১০- কাজু বাদাম।

১১- চিলি সস হাফ কাপ।

১২- হাফ কাপ পরিমান টমাটো কেচাপ।

১৩- সয়া সস ১ টেবিল চামুচ।

১৪- হাফ চা চামুচ তিলের তেল বা সেসেমি অয়েল।

১৫- গোলমরিচের গুড়া স্বাদ মত।

১৬- চিনি হাফ চা চামুচ এর কম।

১৭- টমেটো হাফ কাপ।

১৮- শসা হাফ কাপ।

১৯- সবুজ কাপ্সিকাম হাফ কাপ।

২০- হলুদ কাপ্সিকাম হাফ কাপ।

২১- লাল কাপ্সিকাম হাফ কাপ।

২২- ধনিয়া পাতা হাফ কাপ।

২৩- কাচা মরিচ স্বাদ মত।

২৪- লেবু এর রস ১ টেবিল চামুচ।

কেশো নাট সালাদ বানানোর পদ্ধতিঃ

প্রথমে একটি বাটি তে হাড় ছাড়ানো মুরগির মাংস ও চিংড়ি মাছ নিতে হবে। মুরগি এর মাংস পাতলা করে স্লাইস করে কাটতে হবে এবং চিংড়ি মাছের খোসা টা ছাড়িয়ে পিছনের রগ টা ফেলে দিতে হবে। এবং ভাল করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে যাতে একটুও পানি না থাকে।এরপর এর মধ্যে দিতে হবে কর্নফ্লাওয়ার, রসুন বাটা, আদা বাটা, লবন এবং পাপ্রিকা এর পাউডার। পাপ্রিকা পাউডার যদি না থাকে তাহলে ঘরে থাকা লাল মরিচের গুড়া যা আমরা রান্না তে ব্যবহার করি সেইটাও ব্যবহার করতে পারেন। এরপর নিতে হবে এক টি ডিম। এরপর সব উপাদান গুলাকে সুন্দর করে মাখিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণ টাকে মেরিনেট করার দরকার নেই। সরাসরি তেল এ ভাজা যাবে।

এরপর একটি প্যান এ ডুবো তেল এ ভাজার মত পরিমান তেল নিয়ে তাতে এইটা ভেজে নিব।চিংড়ি এবিং মুরগির মাংসের মিশ্রণ টি হাল্কা ব্রাউন হয়ে গেলে তুলে নিতে হবে। এরপর যেই তেল এ ভেজেছি একই তেল এ কাজু বাদাম হাল্কা গোল্ডেন ব্রাউন করে ভেজে নিতে হবে।এরপর সালদ এর দ্রেসিং তইরি করতে হবে।

ড্রেসিং তৈরি করতে যা যা লাগবেঃ

প্রথমে একটি পরিষ্কার বাটিতে পরিমান মত চিলি সস, টমেটো কেচাপ, সয়া সস নিতে হবে। সয়া সস আমি লাইট তা ব্যবহার করেছি আপ্নারা চাইলে ডার্ক সয়া সস অ ব্যবহার করতে পারেন।এরপর এর মধ্যে গোলমরিচের গুড়া ও চিনি দিতে হবে। এরপর দিতে হবে তিলের তেল অথবা সেসেমি অয়েল। এইতা অপশনাল যদি না থাকে দেয়ার দরকার নেই। এরপর সব উপাদান ভাল করে মিক্স করে নিতে হবে। এতে আলাদা কোন লবন দেয়া লাগবে না কারন সব উপাদান গুলোর মধ্যেই লবন আছে। শালাড বানানোর পর যদি মনে হয় লবন দরকার তখন দিবেন নাহলে দেয়ার দরকার নেই। সব কিছু মিক্স করে নিলেই ড্রেসিং রেডি।

সালাদ এর পদ্ধতিঃ

এখন একটি বাটি তে প্রথমে সালাদ এর জন্য যা যা উপাদান গুলা নেয়া তাই নিতে হবে। শসা, টমেটো, লাল কাপ্সিকাম, সবুজ কাপ্সিকাম, হলুদ কাপ্সিকাম, কাচা মরিচ এবং ধনিয়া পাতা। কাচা মরিচ আপনার ইচ্ছা হলে নাও নিতে পারেন। এরপর এর উপর লেবু এর রস ছড়িয়ে দিতে হবে। তার পর এর মধ্যে একে একে ভেজে রাখা মাংস এবং চিংড়ি মাছ, ভেজে রাখা কাজু বাদাম ও সালাদ এর ড্রেসিং টা দিয়ে ভাল করে মিক্স করে নিলেই তইরি হয়ে যাবে কেশো নাট সালাদ রেস্টুরেন্ট স্টাইল এর।

চাইনিজ অথবা যেকোনো চপ এর সাথেও পরিবেশন করতে পারেন এই সুস্বাদু সালাদ টি।

 

 

মন্তব্যসমূহ

আমি স্টুডেন্ট। পড়াশুনার পাশাপাশি টুকটাক লিখতে ভালবাসি।

মন্তব্য করুন