মাত্র তিনটি উপকরণে পান ফর্সা ত্বক

মাত্র তিনটি উপকরণে পান ফর্সা ত্বক

এমন কোন নারী কি আপনি আপনার জীবনে দেখেছেন যিনি উজ্জ্বল ফর্সা ত্বক চান না? আমি তো দেখিনি। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আপনারাও দেখেননি। নারী মাত্রই উজ্জ্বল ফর্সা ত্বকের আকাঙ্কখী। কিন্তু রোজকার ধুলো বালি, সূর্যের তেজ আর কখনো কখনো জেনেটিক কারণ নারীর এই আকাঙ্খার বিরুদ্ধে অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অস্ত্র যেমন আছে, অস্ত্রের সামনে দাড়ানোর জন্য ঢালও তেমন আছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক সময়ে সঠিক ঢালটি বেছে নেওয়া।

উজ্জ্বল ফর্সা ত্বক পাবার সবচেয়ে সঠিক উপায়টি হল প্রাকৃতিক উপায়ে রূপচর্চা। আজ সেরকমই একটি প্রাকৃতিক রূপচর্চার উপায় নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করব। আজ আপনাদের সাথে এমন একটি ফেস প্যাক নিয়ে আলোচনা করব যেটি মাত্র তিনটি উপকরণ দিয়ে বানানো হয়। কিন্তু ত্বক ফর্সা করতে এই অতি সহজ প্যাকটির কোন জুড়ি নেই। আর এই প্যাকটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল উপকরণ গুলো খুব সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায়। আর এই প্যাক বানাতেও খুব কম সময় লাগে। তাই এই প্যাকটি ব্যবহার করলে আপনার সময় ও শ্রম দুটোই বেচে যাবে। আর টাকার সাশ্রয়ের কথা না হয় নাই বা বললাম। চলুন তাহলে প্যাকটি কিভাবে বানাবেন আর কিভাবে ব্যবহার করবেন তা জেনে নেই।

ফর্সা ত্বক এর জন্য প্যাক বানাবার উপকরণ

এই প্যাকটি বানাতে আপনার অতি সাধারণ তিনটি উপকরণ প্রয়োজন হবে। এগুলো হচ্ছে টকদই, মধু আর এক চিমটি হলুদ। এক্ষেত্রে আপনি এক চিমটি গুড়ো হলুদও যেমন ব্যবহার করতে পারেন, তেমনি দুই তিন ফোটা কাঁচা হলুদের রসও ব্যবহার করতে পারেন। তবে দুটো ক্ষেত্রেই একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। সেটি হচ্ছে হলুদটি যেন অবশ্যই খাটি হয়। বাজারের রঙ মেশানো ভেজাল হলুদ ব্যবহার করলে সেটি আপনার স্কিনের জন্য অনেক ক্ষতির কারণও হতে পারে। খাটি হলুদে আছে এন্টি ইনফ্লেমেটরি, এন্টি ব্যাকটেরিয়াল, এন্টি সেপটিক আর এন্টি অক্সিডেন্ট। একারণে সামান্য একটু খাটি হলুদের নিয়মিত ব্যবহার আপনার ত্বকে মিরাকেল ঘটাতে পারে। আপনার ত্বকে যদি একনে বা ব্রণের দাগ থেকে থাকে তাহলে হলুদের নিয়মিত ব্যবহার ঐ দাগ কমাতে সাহায্য করে। আবার ত্বকের একজিমা বা সিরিয়াস র‍্যাশের সাথেও এই ছোট্ট উপাদানটি লড়াই করতে থাকে। তবে হলুদ তার যেই গুণটির জন্য সর্বস্তরের নারীদের মধ্যে জনপ্রিয় সেটি হচ্ছে এর রঙ ফর্সাকারী গুণ। বহু প্রাচীন সময় থেকেই নারীরা তাদের মুখের রঙ ফর্সা করার জন্য হলুদ ব্যবহার করে আসছেন। তাই আপনিও যদি নিয়মিত নিজের রূপচর্চায় হলুদের ব্যবহার রাখেন আপনার ত্বকও ফর্সা হতে বাধ্য।

এই ফেস প্যাকটির আর একটি উপকরণ হচ্ছে টকদই। টকদইকে যেকোন ধরণের ত্বকের পরম বন্ধু বলা যেতেই পারে। টকদইতে আছে প্রোবায়োটিক যা আপনার স্কিন থেকে ব্যাকটেরিয়ার বংশ সমূলে ধ্বংশ করে দেয়। সেই সাথে এতে আছে জিঙ্ক আর ল্যাকটিক এসিড। জিঙ্ক আপনার ত্বক থেকে সূর্যের তেজ আর অতি বেগূণী রশ্মির কারণে সৃষ্টি হওয়া দাগ আর পিগমেন্টেশন দূর করতে সাহায্য করে। আর ল্যাকটিক এসিড ত্বকের উপর জমে থাকা মরা কোষ দূর করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বকে নতুন কোষ তৈরী হয়। আর ত্বকের উপর নতুন কোষ তৈরী হওয়া মানেই উজ্জ্বল ফর্সা ত্বক।

এই ফেস প্যাকটির তৃতীয় ও শেষ উপাদান হচ্ছে মধু। আমার মতে মধু হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ময়শ্চারাইজার। কারণ মধু শুধু ত্বককে আর্দ্রতা যোগায় তাই না। এটি একই সাথে ত্বককে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল করে তোলে। আর মধুতে থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের ভিতর মিশে থাকা জীবাণু দূর করতেও অনেক সাহায্য করে।

প্যাকটি যেভাবে বানাবেন

প্রথমে একটা বাটিতে দুই চা চামচ টকদই নিন। এতে এক চা চামচ মধু মিশান। সেই সাথে মিশান এক চিমটি হলুদ গুড়া। আর আপনার কাছে যদি কাঁচা হলুদ থাকে তাহলে হলুদ গুড়ার পরিবর্তে দুই থেকে তিন ফোটা কাঁচা হলুদের রসও মিশাতে পারেন। এবার চামচ দিয়ে নেড়ে প্যাকটি ভাল করে মিশিয়ে নিন। আপনার মুখ ও গলার ত্বক ফেস ওয়াশ দিয়ে ভাল করে ধুয়ে পরিস্কার করে নিন। এরপর একটি পরিস্কার শুকনো তোয়ালে বা রুমাল দিয়ে মুখ ও গলার ত্বক শুকনো করে মুছে নিন। এবার বানানো ফেস প্যাকটি সমান ভাবে মুখে আর গলার ত্বকে লাগিয়ে নিন। ২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এই সময়ে মধ্যে ফেস প্যাকটি শুকিয়ে যাবে। এবার পানি দিয়ে খুব ভাল করে প্যাকটি ধুয়ে ফেলুন। সধারণত যেকোন ফেস প্যাক ব্যবহার করার পর ত্বক একটু টান টান লাগে, ত্বকে একটা শুষ্ক ভাব এসে যায়। একারণে বলা হয় ফেস প্যাক পরিস্কার করার পর ত্বকে অল্প ময়শ্চারাইজার লাগানো উচিত। কিন্তু এই ফেস প্যাকে দুই দুইটি উপকরণ আছে যা ত্বকে আর্দ্রতা দান করে। তাই এই ফেস প্যাক ধোয়ার পর ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন নেই। প্যাকটি পরিস্কার করার পর আপনি নিজেই বুঝবেন যে আপনার ত্বক উজ্জ্বল হবার সাথে সাথে কোমলও হয়ে গেছে।

প্যাকটি ব্যবহার করার সতর্কতা

এই ফেস প্যাকটিতে হলুদ ব্যবহার করা হয়েছে। আর মুখের ত্বকে হলুদ ব্যবহার করে তাপের সম্মুখীন হলে তা স্কিনকে পুড়িয়ে দেয়। তাই এই প্যাকটি ব্যবহার করার দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে কখনোই রোদের সংস্পর্শে যাবেন না। তাছাড়া আপনি যদি এই ফেস প্যাকটি ব্যবহার করার কিছুক্ষণের মধ্যে রান্না বান্না করেন তাহলেও চুলার তাপে আপনার স্কিন পুড়ে কালো হয়ে যাবে। এজন্যই এই ফেস প্যাকটি ব্যবহারের শ্রেষ্ঠ সময় হচ্ছে রাতে ঘুমাতে যাবার পূর্বের সময়। এসময় আপনার স্কিনকে পরিস্কার করে এই ফেস প্যাকটি নিয়মিত লাগিয়ে দেখুন। ফর্সা আর উজ্জ্বল ত্বক অবশ্যই পাবেন।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

১ টি মন্তব্য
  1. Reply সুন্দর ত্বকের জন্য ওটস ফেস স্ক্রাব | চটপট - এসো নিজে করি মার্চ ২৮, ২০১৮ তারিখে ১২:১০ অপরাহ্ন

    […] ফর্সা, সুন্দর, দাগহীন, উজ্জ্বল ত্বক কে না চায়? কিন্তু দিনের দিনের পর দিন ত্বকের উপরিভাগে ময়লা আর জীবাণু জমে ত্বককে নির্জীব করে তোলে। সেই সাথে ত্বকের উপর ডেড সেলস এর পরতও জমতে থাকে। শুধু ক্লিংজিং করলে এই ময়লা আর ডেড সেলসের পরত কখনোই দূর হয় না। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত স্ক্রাবিং করা। বাজার যেসব স্ক্রাব কিনতে পাওয়া যায় সেগুলো বেশিরভাগই অনেক দামী। আর সেই সাথে এসব ফেস স্ক্রাবে নানা রকম প্রিজারবেটিভ আর ক্ষতিকর কেমিকেল থাকে। এসব কেমিকেল ত্বকের ক্ষতির জন্য অনেকাংশেই দায়ী। তাই ত্বকের মরা কোষ দূর করতে বাজার থেকে স্ক্রাব না কিনে আসুন ঘরে বসেই বানিয়ে নেই ওটস ফেস স্ক্রাব। […]

মন্তব্য করুন