ঢাকার মজাদার কে এফ সি চিকেন ফ্রাই ঘরে বসে

ঢাকার মজাদার কে এফ সি চিকেন ফ্রাই ঘরে বসে

ঢাকা এর মজাদার কে এফ সি এর চিকেন ফ্রাই কে না পছন্দ করে। কে এফ সি এর চিকেন খুবই মজাদার একটি খাবার। ছোট থেকে শুরু করে বড় সবারই কম বেশি প্রিয় খাবার এইটা। ঢাকা এর বাসিন্দারা তো প্রায় কে এফ সি তে গিয়ে ফ্রাইড চিকেন এর স্বাদ নেয়। আর আমরা যারা ঢাকা এর বাইরের মানুষ তারাও ঢাকা তে গেলে আগে কে এফ সি তে যাই। কিন্তু সব সময় রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে খাওয়া তো আর সম্ভব হয়না বিশেষ করে যারা ঢাকা এর বাইরের মানুষ।কিন্তু তাই বলে কি আর কে এফ সি এর চিকেন ফ্রাই স্বাদ নেয়া হবে না? আসলে সঠিক নিয়মে সঠিক উপকরন দিয়ে কিন্তু ঘরে বসেই বানানো যায় ঢাকা এর মজাদার কে এফ সি এর চিকেন ফ্রাই।

কি অবাক হলেন তো? যে ঘরে বসে আবার কিভাবে কে এফ সি এর মত চিকেন ফ্রাই পাওয়া যাবে? কিছু পদ্ধতি অনুযায়ী করলে আপনিও ঘরে বসে বানিয়ে ফেলতে পারেন ঢাকার মজাদার কে এফ সি চিকেন ফ্রাই।চিকেন সবারই খুব প্রিয় খাবার এবং এইটা একটা স্বাস্থ্যকর খাবার ও। ঘরে বসে যদি আপনি বানান তাহলে সেই খাবার টা হবে আরও স্বাস্থ্যকর এবং হাইজেনিক পরিবেশে তৈরি। হাতের কাছে কিছু সিম্পিল উপাদান থাকলেই খুব সহজে বানাতে পারবেন। যেহেতু এইটা বাচ্চা দের ও অনেক প্রিয় খাবার সেহেতু ঘরে বানালে তাদের সাস্থের কোন ক্ষতিও হবে না এবং চিকেন ফ্রাই টাও হবে সুস্বাদু।বাচ্চাদের খাবার এ মাঝে মাঝে ভিন্নতা আনা দরকার। তাই তাদের মাঝে মাঝে একটু ডিফ্রেন্ট খাবার দেয়া উচিত। অনেকে কমপ্লেন করে যে তাদের খাবার রেস্টুরেন্ট কোয়ালিটি এর হয় না। তাদের জন্যই আজকের এই রেসিপি। আসুন দেখে নেই ঘরে বসে ঢাকার মজাদার কে এফ সি চিকেন ফ্রাই বানানোর প্রস্তুত প্রনালি।

ঘরে বসে ঢাকার মজাদার কে এফ সি চিকেন ফ্রাই বানাতে যা যা লাগবেঃ

চিকেন মেরিনেট করার জন্য যা যা লাগবেঃ

১- চিকেন তিন টুকরা বড়।

২- দুধ হাফ কাপ।

৩- সাদা ভিনিগার এক টেবিল চামুচ।

৪- এক চা চামুচ আদা বাটা।

৫- এক চা চামুচ রসুন বাটা।

৬- এক চা চামুচ পাপ্রিকা পাউডার।

৭- হাফ চা চামুচ কাল গোলমরিচ।

৮- লবন স্বাদ মত।

৯- ধনিয়া পাতা এক চা চামুচ।

১০- বেসিল পাতা এক চা চামুচ।

১১- অরিগানো হাফ চা চামুচ।

১২- মাস্টারড সস হাফ চা চামুচ।

১৩- চিলি পাউডার হাফ চা চামুচ।

কোটিং এর জন্যঃ

১- ময়দা এক কাপ।

২- লবন পরমান মত।

৩- কালো গোলমরিচ এর গুড়া।

৪- ডিম ১ টি।

৫- তিন টেবিল চামুচ দুধ।

৬- আদা বাটা হাফ চা চামুচ।

৭- রসুন বাটা হাফ চা চামুচ।

ঘরে বসে ঢাকার মজাদার কে এফ সি চিকেন ফ্রাই বানানোর পদ্ধতিঃ

চিকেন মেরিনেট করার পদ্ধতিঃ

প্রথমে একটি পরিষ্কার বাটি নিতে হবে এবং এতে লিকুইড দুধ নিতে হবে। দুধ টি অবশ্যই রুম টেম্পারেচার এর হতে হবে। এরপর এতে ভিনিগার দিতে হবে। ভিনিগার দেয়ার পর ৫ মিনিট একে এক সাইডে রেখে অপেক্ষা করতে হবে। ৫ মিনিট পর দেখা যাবে দুধ টায় হাল্কা ছানা হয়ে যাবে। এর জন্য ভয় পাবেন না। কারন এইটাই বাটার মিল্ক এর বৈশিষ্ট। এরপর একে একে আদা বাটা, রসুন বাটা, পাপ্রিকা পাউডার দিতে হবে। পাপ্রিকা পাউডার এখন যেকোন বড় সুপার মল এ পাওয়া যায়। তবে যদি না পান তাহলে লাল মরিচ এর গুড়া ও ব্যবহার করতে পারেন। এরপর দিতে হবে কালো গোলমরিচ, ধনিয়া পাতা, লবন স্বাদ মত দিতে হবে। এরপর দিতে হবে বেসিল পাতা। বেসিল পাতা এক রকমের হারবাল পাতা যা এখন যেকোনো বড় সুপার মল এই পাওয়া যাবে। এইটা একটা বেসিক উপাদান। বেসিল পাতা চিকেন এর স্বাদ টাকে দিগুন বাড়িয়ে দেয়। ফ্লেভার টা অনেক সুন্দর আসে। এরপর দিতে হবে অরিগানো। অরিগানো ও যেকোন সুপার মল এ পাবেন। এরপর মাস্টারড সস ও চিলি ফ্লেস্ক দিতে হবে। এরপর সব উপকরন গুলো একসাথে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে।

এরপর এর মধ্যে চিকেন দিতে হবে। অবশ্যই চামড়া সহ দিতে হবে। এবং চিকেন গুলো এই মসলা এর সাথে মিশিয়ে কমপক্ষে তিন ঘণ্টা রেখে দিতে হবে।

কোটিং বানানোর পদ্ধতিঃ

একটি পরিষ্কার বাটি তে ময়দা এক কাপ লবন স্বাদ মত এবং গোলমরিচের গুড়া দিতে হবে। ভাল করে মিক্স করে এইটা আলাদা করে রাখতে হবে।

আরও একটি পরিষ্কার বাটি নিয়ে তাতে ডিম এক টি, তিন টেবিল চামুচ পরিমান লিকুইড দুধ ও আদা বাটা ও রসুন বাটা দিতে হবে। এরপর এইটা ভাল করে মিক্স করে আলাদা করে রাখতে হবে।

কে এফ সি স্টাইল এর চিকেন ফ্রাই করার পদ্ধতিঃ

একটি টেবিল এ তিন টা বাতিতে মেরিনেট করা চিকেন, ময়দা এর মিস্রন ও ডিম এর মিস্রন টি রাখতে হবে। এরপর একটি চিকেন নিয়ে তার গায়ে লেগে থাকা পানি টা ছরিয়ে সেইটা ময়দার মিস্রন এ ডুবাতে হবে। একটু ভাল ভাবে ডুবিয়ে নিবেন যাতে করে সব ময়দা চিকেন এ লেগে যায়। এরপর দিম এর মিস্রনে চিকেন টা ডুবাতে হবে। ভাল করে ডুবানোর পর আবার ময়দার মিস্রনে দুবাতে হবে। আপ্নারা চাইলে দুইবার ডিমের মিস্রনে এবং চার বার ময়দার মিস্রনে চিকেন টা মাখিয়ে নিতে পারেন। কারন যতবার আপনি এইতা মাখিয়ে নিবেন আপনার চিকেন এর বাইরের লেয়ার টা তত ক্রিস্পি ও মজাদার হবে। এইভাবে সব চিকেন গুলো ময়দা ও ডিমের মিস্রনে মাখিয়ে নিতে হবে।

আপনারা চাইলে এইটা ফ্রজেন করেও রাখতে পারেন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন এইতা ভাল থাকবে। জখন ভাজবেন এইতা তার আধা ঘণ্টা আগে বের করে রাখবেন। তারপর নরমাল তাপমাত্রায় চলে আসলে ডিপ ফ্রাই করবেন।

এখন একটা প্যানে ডুবো তেল এ ভাজার মত রেগুলার তেল নিতে হবে। সম্ভব হলে সব সময় চুলার আচটা মিডিয়াম রাখবেন। কারন হাই হিট এ ভাজলে উপরের লেয়ার এ কালার এসে যাবে কিন্তু ভেতরে কাচা থেকে যাবে। এখন মিডিয়াম আচে বেশ কিছু সময় নিয়ে চিকেন টা ফ্রাই করতে হবে। এক পাশ যখন দেখবেন হয়ে গেছে তখন আর এক পাশ উলটে দিবেন। অনেকে কমপ্লেন করে যে বাইরের যে লেয়ার টা আছে তা খুলে যায়, এর কারন হল বেশি নাড়াচাড়া করা। এই চিকেন টাকে বেশি নাড়া যাবে না। এখন তেল এ ভাজা হয়ে গেলে তুলে ফেলতে হবে এবং এক্তা টিস্যু পেপার এর উপর রাখতে হবে যেন এক্সট্রা তেল শুষে নেয়।

এখন গরম গরম পরিবেশন করুন ঘরে বসে ঢাকার মজাদার কে এফ সি চিকেন ফ্রাই। আপনার পছন্দের সস এর সাথে খেতে পারেন অথবা ফ্রাইড রাইস হলে তো কথাই নেই।

 

 

 

 

মন্তব্যসমূহ

আমি স্টুডেন্ট। পড়াশুনার পাশাপাশি টুকটাক লিখতে ভালবাসি।

মন্তব্য করুন