ঘরেই বানান মজাদার বোম্বে টোস্ট

ঘরেই বানান মজাদার বোম্বে টোস্ট

শিরোনাম দেখে কি একটু অবাক হচ্ছেন? অবাক হবারই কথা। কারন ফ্রেঞ্চ টোস্টের কথা আমরা সবাই শুনেছি। কিন্তু বোম্বে টোস্ট নামটার সাথে পরিচয় আছে এমন মানুষের সংখ্যা খুব একটা বেশি না। এটি মূলত ভারতীয় একটা খাবার। ভারতের মুম্বাই শহরের খুব জনপ্রিয় একটা স্ট্রীট ফুড হচ্ছে এই বোম্বে টোস্ট। মুম্বাই এর পুরাতন নাম ছিল বোম্বে। সেই থেকেই এই স্ট্রীট ফুডটির নামকরণ।

এখন অনেকেই ভাবতে পারেন এই বোম্বে টোস্ট খাবারটি আসলে কি? কেমন দেখতে আর টেস্টই বা কেমন? এটা কি ঝাল না মিষ্টি নাকি টক? আসলে এটি খুব সাধারণ একটি খাবার। আমাদের অতি পরিচিত ফ্রেঞ্চ টোস্টের ঝাল ঝাল মশলাদার একটি রূপ হচ্ছে এই বোম্বে টোস্ট। এই সাধারণ খাবারটি বানানোও অতি সোজা। এই রেসিপিটির উপকরণ গুলো খুজতে আপনাকে বাড়ির বাইরেও যেতে হবে না। আমাদের রান্না ঘরে থাকা অতি সাধারণ কিছু উপকরণ আর মশলা পাতি দিয়ে অতি সহজে আর অতি অল্প সময়ে এই বোম্বে টোস্ট বানিয়ে ফেলা যায়। চলুন তাড়াতাড়ি এই অন্যরকম ফ্রেঞ্চ টোস্ট মানে বোম্বে টোস্টের রেসিপি জেনে নেই।

বোম্বে টোস্ট বানাতে যা যা লাগবে

  • ডিম ১টা
  • লিকুইড দুধ ২ টেবিল চামচ
  • লবণ স্বাদমত
  • লাল মরিচের গুড়া ১/৪ চা চমচ থেকে ১/২ চা চামচ
  • মিহি করে কুচি করা পেঁয়াজ ২টি
  • মিহি করে কুচি করা কাঁচা মরিচ ১টি
  • মিহি করে কুচি করা ধনে পাতা ২ টেবিল চামচ
  • মিহি করে কুচি করা টমেটো ১ টেবিল চামচ
  • কালো গোল মরিচ গুড়া ১/২ চা চামচ
  • ভাজা জিরা গুড়া ১/২ চা চামচ
  • ভাজা ধনে গুড়া ১/৪ চা চামচ
  • সয়াবিন তেল দুই টেবিল চামচ
  • মাখন ১ চামচ
  • ব্রেড ২ পিস
  • চিনি ১/৪ চা চামচ

বোম্বে টোস্ট বানাবার প্রণালী

১ম ধাপ

প্রথমে ব্রেড গুলো রেডি করে রাখুন। সব কটি ব্রেডের সাইডের শক্ত অংশটি ছুরি দিয়ে সমান করে কেটে নিন। এবার ব্রেড পিসগুলো কোণাকুণি করে কেটে নিন। এমনভাবে কাটবেন যেন একটা ব্রেড থেকে দু পিস ত্রিকোণাকার ব্রেড পিস তৈরী হয়।

২য় ধাপ

এবার ডিম ফেটানোর পালা। তবে তার আগে ডিমের মশলা রেডি করতে হবে। প্রথমে টমেটোর ভেতরের নরম অংশটা ফেলে দিন। এরপর এটি খুব ছোট ছোট টুকরো করে কুচি করে নিন। টমেটোর নরম অংশটা ফেলে দেয়া খুবি জরুরী। তা না হলে ডিম পানি পানি হয়ে যাবে। আর ডিম পানি পানি হয়ে গেলে বোম্বে টোস্ট খেতে একদমই ভাল লাগবে না। অন্যান্য আস্ত মশলাগুলোও একই ভাবে মিহি করে কুচি করে নিন।

এবার একটা বাটিতে মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, টমেটো আর ধনে পাতা নিন। এই মশলাগুলোর সাথে স্বাদমত লবণ মিশান। খুব ভাল করে আঙ্গুল দিয়ে চেপে চেপে মাশলা গুলো মেখে নিন। দুই থেকে তিন মিনিট মাখানোর পর দেখবেন মশলা গুলো থেকে পানি ছেড়ে দিচ্ছে। তখন একে একে ভাজা জিরা গুড়া, ভাজা ধনে গুড়া আর কালো গোলমরিচ গুড়া দিয়ে দিন। এই সময়ে লাল মরিচ গুড়াও দিয়ে দিবেন। প্রথমে ১/৪ চা চামচ লাল মরিচ গুড়া দিয়ে মশলার সাথে মিশিয়ে নিবেন। এরপরও যদি মনে হয় ঝাল কম হয়েছে তাহলে ১/২ চা চামচ লাল মরিচ গুড়া আবারো যোগ করতে পারেন। চাইলে এই সময়ে সামান্য চিনিও যোগ করতে পারেন। ভারতীয়রা তাদের সব খাবারেই অল্প স্বল্প চিনি যোগ করে থাকে।। তাই মূল রেসিপিতে চিনির উল্লেখ আছে। তবে আমাদের বাঙালিদের টেস্ট বাড অন্য কথা বলে। ঝাল খাবারে বেশির ভাগ বাঙালিই চিনির ব্যবহার পছন্দ করেন না। এজন্য এই ডিমের মিশ্রণে চিনি দেয়া বা না দেয়াটা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে।

এবার এই মশলার মিশ্রণে ডিম দিয়ে দিন। কাটা চামচ দিয়ে খুব ভাল ভাবে ফেটে নিন যাতে করে সম্পূর্ণ মশলাটাই ডিমের সাথে খুব ভাল ভাবে মিশে যায়। এবার এই মিশ্রণ লিকুইড দুধ দিন এবং চামচ দিয়ে ভাল করে নেড়ে মিশিয়ে নিন। ডিমের মিশ্রণে লিকুইড দুধ দেবার একটা কারণ আছে। দুধ শুধু এই বোম্বে টোস্টের টেস্টই বাড়াবে না। সেই সাথে এটি টোস্টটাকে তেলের মধ্যে একটু ফুলে উঠতে আর মচমচে হতেও সাহায্য করবে।

৩য় ধাপ

ব্রেড আর ডিমের মিশ্রণ তো রেডি হয়ে গেলো। এবার হচ্ছে মজাদার বোম্বে টোস্ট ভেজে নেবার পালা। একটা ফ্রাইং প্যানে সয়াবিন তেল নিন। তেল হালকা গরম হলে মাখন দিয়ে দিন। দেখবেন মাখন তেলে দেয়ার সাথে সাথেই গলে গেছে। এবার একটা করে ব্রেড পিছ নিন। পিসটি ডিমের গোলায় ভাল করে ডুবিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন ব্রেড পিসের দুই পাশেই যেন মশলা সহ ডিমের কোটিং লাগে। এরপর ফ্রাইং প্যানে ব্রেড পিসটি ভাজতে দিয়ে দিন। চুলার আঁচ মিডিয়াম রাখুন। তিন থেকে চার মিনিট অপেক্ষা করুন। এই সময়ের মধ্যে ব্রেদের এক পিঠ ভাজা হয়ে যাবে। এরপর বড়েদট পিসটি উল্টে দিন। দুই মিনিট একই ভাবে রান্না করুন। রেডি হয়ে যাবে মজাদার মচমচে বোম্বে টোস্ট। একই নিয়ম বাকি ব্রেড পিস গুলোও ভেজে নিন। এরপর এক কাপ ধোয়া ওঠা গরম চায়ের সাথে বিকেলের নাস্তায় পরিবেশন করুন টেস্টি ও ক্রিসপি বোম্বে টোস্ট।

 

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন