হোটেল স্টাইলের ছোলার ডাল রেসিপি

হোটেল স্টাইলের ছোলার ডাল রেসিপি

বাংলাদেশের সব হোটেলেই সকালের নাস্তার মেন্যুতে একটা কমন ডিশ থাকে। সেটি হচ্ছে মজাদার, ঝাল ঝাল, ঘন ছোলার ডাল। লুচি অথবা পরোটা কিংবা সাধারণ আটার রুটি, সব কিছুর সাথেই দারুণ জমে যায় এই ছোলার ডাল। বিভিন্ন হোটেলে বিভিন্ন ভাবে এই ছোলার ডাল বানানো হয়ে থাকে। তবে বেশির ভাগ হোটেলেই একটা সাধারণ রেসিপি অনুসরণ করা হয়ে থাকে। এই রেসিপিটা মূলত ঝাল ঝাল হয় খেতে। তবে সেই সাথে হালকা একটা টক মিষ্টি স্বাদও মুখে লেগে থাকে। একই ডিশে এত রকমের স্বাদের মেল বন্ধনের কারণেই এই ছোলার ডাল আমাদের দেশে ঘরে ঘরে এত জনপ্রিয়।

স্বাদের এত রকম ফের দখে আপনার মনে হতেই পারে এই ডিশটা বানাতে বোধহয় এক গাদা উপকরণ লাগে। আর বানানো মনে হয় সেই রকম ঝক্কির কাজ। কিন্তু এই জনপ্রিয় ডিশটা বানানো একেবারেই কঠিন কিছু না। ছোলার ডাল বানাতে তেমন কোন আনকমন উপকরণ লাগে না। আমাদের রান্নাঘরে পড়ে থাকা সাধারণ কিছু জিনিস দিয়েই আপনি খুব সহজেই ছোলার ডাল বানাতে পারবেন। আর আপনি যদি ছোলার ডাল আগের রাতে ভিজিয়ে রাখেন এবং রান্নাটি প্রেশার কুকারে করেন তাহলে অনায়াসে খুব দ্রুত সকালের নাস্তার টেবিলেই আপনি এই মজাদার ছোলার ডাল সার্ভ করতে পারবেন। চলুন দেরি না করে দেখে নেই মজাদার হোটেল স্টাইলের ছোলার ডাল বানাতে কি কি লাগবে। আর কিভাবে এই ছোলার ডাল বানাবেন তাও দেখে নেই।

হোটেল স্টাইলে ছোলার ডাল বানাবার উপকরণ

ছোলার ডাল সিদ্ধ করবার উপকরণ

  • ছোলার ডাল ১ কাপ
  • পানি ১.৫ কাপ
  • নারকেলের দুধ ১ কাপ
  • পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ
  • রসুন বাটা ১ চামচ
  • আদা বাটা ১ চা চামচ
  • কাঁচামরিচ বাটা ১ চা চামচ
  • টমেটো কুচি ১টি বড়
  • লবণ প্রয়োজন মত
  • চিনি ১ চা চামচ
  • হলুদ গুড়া ১ চা চামচ
  • লাল মরিচ গুড়া ১ চা চামচ
  • ভাজা জিরা গুড়া ১ চা চামচ
  • ভাজা ধনে গুড়া ১ চা চামচ
  • কাজু বাদাম ৬ থেকে ৭টি
  • কিশমিশ ১০ থেকে ১২টি

ছোলার ডাল বাগাড় দেবার জন্য যা যা লাগবে

  • সয়াবিন তেল ২ তেবিল চামচ
  • ঘি ১ টেবিল চামচ
  • তেজপাতা ১টি
  • শুকনা মরিচ ২ থেকে ৩টি
  • আস্ত জিরা ১/২ চা চামচ
  • হিং ১ চিমটি
  • গ্রেট করা নারকেল ১ চা চামচ
  • পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ
  • রসুন কুচি ১ চা চামচ
  • আদা কুচি ১ চা চামচ
  • কাঁচা মরিচ কুচি ১ চা চামচ
  • আস্ত কাঁচা মরিচ ৪ থেকে ৫টি
  • বেরেস্তা করা পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ
  • ভাজা গরম মশলা গুড়া ১ চা চামচ

ভাজা গরম মশলা গুড়া বানাবার উপকরণ

  • বড় এলাচ ১টি
  • ছোট এলাচ ৬টি
  • দারচিনি ৪ টুকরা
  • লবঙ্গ ৬টি

হোটেল স্টাইলে ছোলার ডাল বানাবার পদ্ধতি

১ম ধাপ

প্রথমে ছোলার ডাল, মশলা আর বাদাম রেডি করতে হবে। ছোলার ডাল ভাল করে ধুয়ে পরিস্কার করে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

কাজু বাদাম আর কিশমিশ ২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর পাটায় বেটে নিতে হবে। আপনার কাছে ব্লেন্ডার থাকলে ব্লেন্ড করেও নিতে পারেন।

ভাজা গরম মশলা গুড়া রেডি করার জন্য একটা ফ্রাইং প্যানে বড় এলাচ, ছোট এলাচ, দারচিনি ও লবঙ্গ নিতে হবে। অল্প আঁচে খুনতি দিয়ে নেড়ে নেড়ে গরম মশলা গুলো ভাজতে হবে। কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে মশলা গুলোর রঙ পাল্টাতে শুরু করেছে। সেই সাথে ফ্রাইং প্যান থেকে ভাজা মশলার খুব সুন্দর একটা গন্ধও বের হবে। তখন চুলা বন্ধ করে মশলা গুলো একটু ঠান্ডা হতে দিতে হবে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর এই মশলা গুলোও বেটে বা ব্লেন্ড করে গুড়া করে নিতে হবে। আমাদের রান্নার একদম শেষে পর্যায়ে এক চা চামচ পরিমাণ এই ভাজা গরম মশলা গুড়া প্রয়োজন হবে। বাকি মশলা আপনি পরবর্তীতে আবার ছোলার ডাল বানাবার জন্য এয়ার টাইট কৌটায় ভরে রেখে দিতে পারেন। বহু দিন পর্যন্ত মশলা ভাল থাকবে।

২য় ধাপ

এবার ছোলার ডাল সিদ্ধ করার পালা। একটা প্রেসার কুকারে প্রথমে ছোলার ডাল, নারকেলের দুধ আর পানি দিতে হবে। একই সাথে পেঁয়াজ বাটা, আদা বাটা, রসুন বাটা, কাঁচা মরিচ বাটা আর টমেটো কুচি দিতে হবে। একেক একে সব গুড়া মশলা মানে ভাজা জিরা গুড়া, ভাজা ধনে গুড়া, লাল মরিচ গুড়া আর হলুদ গুড়া দিতে হবে। এই সময়ে পরিমাণ মত লবণ ও চিনিও দিয়ে দিতে হবে। সেই সাথে বেটে রাখা কিশমিশ ও কাজু বাদাম দিয়ে দিতে হবে। এবার প্রেসার কুকারে ঢাকনা লাগিয়ে চুলার আঁচ মিডিয়াম করে রাখতে হবে। দুই থেকে তিনটা সিটি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।চুলা বন্ধ করে ১০ মিনিট মত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর প্রেসার কুকারের বাতাস বের হয়ে গেলে ঢাকনা খুলে ছোলার ডালের ঘনত্ব দেখতে হবে। ডাল সিদ্ধ করার সময় একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। ছোলার ডাল পুরো পুরি সিদ্ধ হয়ে গলে যাওয়া লাগবে। কিন্তু ছোলার ডালের দানাগুলা ভাঙ্গা যাবে না। আস্ত আস্ত থাকতে হবে। পছন্দ মত ঘনত্ব না হলে মানে ডাল পাতলা থাকলে ছোলার ডাল আর একটু জ্বাল দিয়ে ঘনত্ব কমিয়ে আনতে হবে। আর যদি মনে হয় বেশি ঘন হয়ে গেছে তবে ছোলার ডালে আর একটূ গরম পানি যোগ করে দুই মিনিট ফুটতে দিতে হবে।

৩য় ধাপ

এই ধাপটি হচ্ছে ছোলার ডাল রান্নার আসল ধাপ। এই ডালের সকল মজাই এই ধাপে যোগ করা হয়ে থাকে। আসল কথা হচ্ছে এই ৩য় ধাপে ছোলার ডালে বাগাড় দেয়া হয়। বাগাড় দেবার জন্য একটা বড় কড়াতে সয়াবিন তেল ও ঘি গরম করতে দিতে হবে। সয়াবিন তেল আর ঘি গরম হয়ে গেলে শুকনা মরিচ, তেজপাতা আর আস্ত জিরা ফোড়ন দিতে হবে। এই মশলা গুলো একটু ভাজা হয়ে গেলে হিং দিতে হবে। হিং দেয়ার সাথে সাথে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিতে হবে। পেঁয়াজ কুচি একটু নরম হয়ে গেলে আদা কুচি আর রসুন কুচি দিয়ে দিতে হবে। লাল লাল করে এই সব মশলা ভাজতে হবে। অনেকের বাসায় এমন সদস্য থাকেন যারা আদা কুচি খাবারে পছন্দ করেন না। আপনার বাসায়ও যদি এমন কোন সদস্য থেকে থাকেন তাহলে আপনি আদা কুচির বদলে হাফ চা চামচ আদা বাটা ব্যবহার করতে পারেন। এবার গরম সয়াবিন তেল ও ঘির মিশ্রণে কাঁচা মরিচ কুচিও দিয়ে দিন। এরপর গ্রেট করে রাখা নারকেল এই মশলার অধ্যে দিয়ে দিন। সব কিছু মিডিয়াম আঁচে খুব সুন্দর করে ভেজে নিন।

কিছুক্ষণ পর দেখবেন নারকেল কোরা সহ অন্যান্য মশলা লাল লাল হয়ে গেছে। সেই সাথে দেখবেন ঘির সাথে নারকেল কোরা আর মশলা ভাজা মিশে খুব সুন্দর একতা গন্ধ বের হচ্ছে। এই সময় আগে থেকে সিদ্ধ করে রাখা ছোলার ডাল এই মশলার মধ্যে সাবধানে ঢেলে দিন। খুনতি দিয়ে নেড়ে খুব ভাল করে নারকেল কোরা ও সব মশলার মিশ্রণের সাথে সিদ্ধ ছোলার ডাল মিশিয়ে নিন। অল্প আঁচে ঢাকনা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটতে দিন। পাঁচ থেকে ছয় মিনিট পর ঢাকনা খুলে আস্ত কাঁচা মরিচ, ভাজা গরম মশলা গুড়া আর বেরেস্তা করে রাখা পেঁয়াজ উপর থেকে ছড়িয়ে দিন। খুনতি দিয়ে নেড়ে সব কিছু একসাথে মিশিয়ে নিন। আরো পাঁচ মিনিট দমে রান্না করুন। তারপর গরম গরম লুচি, পরোটা বা নানের সাথে পরিবেশন করুন মজাদার হোটেল স্টাইল ছোলার ডাল।

সতর্কতা

ছোলার ডাল রান্না করার পর ঠান্ডা হলে কিছুটা ঘন হয়ে যায়। এজন্য ডাল সিদ্ধ করার সময় আপনি যেমন ঘনত্ব চান তার থেকে একটু পাতলা অবস্থায় চুলা বন্ধ করবেন। দেখবেন সার্ভ করবার সময় ছোলার ডাল আপনার পছন্দ মত ঘনত্বে এসে হেছে।

কোন রান্নার বাগাড়ে হিং ব্যবহার করলে খুব সতর্ক থাকতে হয়। কারণ ফোড়নের তেল কিংবা ঘি একটু বেশি গরম হলেই হিং পুড়ে যায়। শুধু তাই নয় অল্প গরম তেল বা ঘিতেও আপনি যদি বেশি সময় হিং দিয়ে রাখেন তাহলেও হিং পুড়ে যাবে। আর হিং কোন ভাবে যদি সামান্য পুড়ে যায় তাহলে খুব বাজে করা তিতকুটে একতা গন্ধ বের হয় যেটা পুরো খাবারের স্বাদ নষ্ট করে দেবার জন্য যথেষ্ঠ। তাই অবশ্যই অল্প আঁচে মিডিয়াম গরম তেল বা ঘিতে হিং যোগ করবেন। এবং হিং যোগ করার সাথে সাথেই পেঁয়াজ কুচি বা রসুন কুচি অথবা টমেটো কুচি জাতীয় মশলা যোগ করে দিবেন। তা না হলে হিং অউড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

 

 

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

১ টি মন্তব্য
  1. Reply রমাদানে রান্নাঘরের আগাম প্রস্তুতি | চটপট - এসো নিজে করি মে ১৯, ২০১৮ তারিখে ৯:৩৭ অপরাহ্ন

    […] রাতে ছোলার ডাল ভিজিয়ে রাখুন। একসাথে ২/৩ দিনের ছোলার […]

মন্তব্য করুন