চুল ও ত্বকের যত্নে নিম তেলের ব্যবহার

নিম একটি ঔষধি গাছ। এই গাছটি সকলের পরিচিত  এবং এর  নানান রকম গুনের কথা বিশ্বব্যাপী সবারই জানা। এর পাতা , ফল, ছাল বা বাকল, বীজ অর্থাৎ  এক কথায় নিমের পুরো অংশটাই ব্যবহার করা যায়। আর তাই একে বলা হয় মহৌষধ। আগের দিনে ধারনা করা হতো বাড়ির কাছাকাছি যদি কোন নিম গাছ থাকে তাহলে যে কোন রোগ বা ব্যাধির আক্রমণ অনেকাংশে কমে আসে। নিম দিয়ে তৈরি তেল , সাবান, নিম পাতার পেস্ট বানিয়ে এমনকি যদি গরম পানিতে নিমের পাতা  ফেলে দিয়ে গোসল করা হয় তাহলেও উপকার পাওয়া যায়।

নিমের উপকারের কথা যদি বলতে চাই তাহলে তা আর শেষ হবার নয়। তাই আজ আমরা শুধুমাত্র নিমের তেল চুল ও ত্বকের যত্নে কিভাবে ব্যবহার করা যায় এবং তা কিভাবে কাজ করে সেটা জানবো। তাহলে চলুন দেখে নেই রুপচর্চায় কিভাবে চুল ও ত্বকের যত্নে নিম তেলের ব্যবহার করা যায়  –

ত্বকের যত্নে নিম তেল :

  •  নিম দিয়ে তৈরি তেল ফ্যাটি এসিডে ভরপুর যার ফলে তেলটি খুব সহজেই ত্বকের সাথে মিশে যায় এবং ত্বকের সব সংকোচন এবং প্রসারণ সহজ হয়।

 

  • নিয়মিত  যদি নিম ও নিমের তেল ব্যবহার করা হয় তাহলে ত্বকের সব বলিরেখা ও বার্ধক্য জনিত যত দাগ আছে তা দূর করা সম্ভব।

 

  • নিমের তেলে রয়েছে এস্পিরিন জাতীয় এক উপাদান , যেগুলো ব্রণ হওয়ার জন্য দায়ী যে ব্যাকটেরিয়া গুলো আছে সেগুলো ধ্বংস করে।

 

  • নিমের তেল ত্বকের এলার্জি জনিত লাল লাল ভাব এবং ব্রণ থেকে তৈরি ক্ষত থেকে যদি ব্যথা হলে নিমের তেল সেটা  ভালোভাবে সারিয়ে  তোলে।

 

  • নিম দিয়ে তৈরি তেল ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং এটা ত্বকের অ্যাকজিমা প্রতিরোধ ও প্রতিকার করতে সাহায্য করে। তবে যদি বংশগত কারণে কারও অ্যাকজিমা হয় তাহলে নিমের তেল তা পুরোপুরি ভাবে সারিয়ে তুলতে  নাও সক্ষম হতে পারে।

 

  •  ত্বকে যে ব্রন বা ঘামাচি জাতীয় ছোট ছোট লালচে দাগ হয় সেগুলো নিমের তেল পুরোপুরি দূর করে দেয়।

 

  • নিমের তেল আমাদের ত্বকে অতিরিক্ত মেলানিন তৈরিতে বাধা প্রদান করে এই মেলালিন এর আধিক্যের কারনে আমাদের ত্বক কালো দেখায়।

 

  •  নিম তেলে আছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা আমাদের ত্বকে সহজে বার্ধক্যের ছাপ পরতে বাধা দেয়।

 

  • আমাদের মধ্যে যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক তারা যদি  নিয়মিত এই তেল লাগান তাহলে সমস্যা অনেকটাই কমে আসে।

 

  • প্রতিদিন যদি আপনি নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে নিমের তেল ভালো করে মিশিয়ে ভালো ভাবে সারা শরীরে ম্যাসাজ করেন তাহলে অল্প দিনেই দেখবেন ত্বক সুন্দর ও ফর্সা হতে শুরু করেছে ।

  চুলের যত্নে নিম তেল :

  • প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার মাথার ত্বকে নিমের তেল ব্যবহার করুন। এই তেল  চুলের খুশকি প্রতিরোধ করে থাকে বহুলাংশে। আর ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা দূর করে মাথার ত্বকে নতুন খুশকি  উৎপাদন করতে বাধা সৃষ্টি করে থাকে।

 

  •  এক মুঠো নিম গাছের পাতা দুই বা তিন কাপ পানিতে সিদ্ধ করতে থাকুন যতক্ষন পর্যন্ত না পানিটি রঙ সবুজ হয়ে যায় । তারপর প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর এই নিম সিদ্ধ  পানি দিয়ে চুল ভালোভাবে  ধুয়ে ফেলুন। এই পানি  চুলের গোড়া মজবুত তো করেই একই সাথে চুলের সব খুশকি দূর করে দেবে।

 

  • চুলের উকুনের বংশ ধংস করতে নিমের তেল অনেক অনেক কার্যকরী। নিমের মধ্যে যে উপাদানগুলো আছে সেগুলো উকুনের বংশ বৃদ্ধি রোধ করে দেয় । এমনকি নিম তেলের কারণে উকুনের  মাথার স্কাল্প থেকে রক্ত পান করতে পারে না। যার ফলে উকুনের অভুক্ত থেকে থেকে সব মারা যায়।

 

  •  মাথার স্কাল্পে নতুন চুল গজাতে নিম তেলের কোন জুড়ি নেই। প্রত্যেক সপ্তাহে মাথার ত্বকে নিমের তেল ভালোভাবে  ম্যাসাজ করুন, এটি মাথায় নতুন চুল গজাতে বহুলাংশে সাহায্য করবে।

 

  • মাথার ত্বকের চুলকানি দূর করার জন্য এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেলের সাথে চার থেকে পাঁচ ফোঁটা নিমের তেল মেশান। এই তেলের মিশ্রণটি মাথার ত্বকে ৫ – ৬  মিনিট ভালোভাবে  ম্যাসাজ করুন ।১৫ থেকে ২০ মিনিট পরে ভালোভাবে  শ্যাম্পু করে  ধুয়ে ফেলুন। এতে মাথার স্কাল্পের সব চুলকানি দূর হবে।

 

  • চুল সুন্দর ও ঝলমলে করার জন্য  একটা ডিমের সাদা অংশ নিয়ে এর সাথে বিশ থেকে পঁচিশ  ফোঁটা নিমের তেল নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। তারপর এই মিশ্রণটি চুলে ভালো করে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক রাখার পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন। এতে আপনার  চুল হয়ে উঠবে সুন্দর, স্বাস্থ্যজ্বল এবং ঝলমলে।

  # নিজে নিজেই তৈরি করুন নিমের তেল :

আপনার বাসার কাছের ঔষধের দোকানেই নিমের তেল কিনতে পাওয়া যেতে পারে। তাছাড়াও হামদর্দ ল্যাবরেটরিস , সাধনা ঔষধালয় অথবা অন্যান্য যে কোন ভেষজ ঔষধ প্রতিষ্ঠান বা দোকানে নিমের তেল অল্পমূল্যে পাওয়া যায়।

তারপরেও আপনাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে নিম তেলের প্রস্তুত প্রণালী নিচে তুলে ধরা হোলো –

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

  • নিম ফল – হাফ কেজি
  • পানি – এক লিটার

  প্রস্তুত প্রণালীঃ

  • প্রথমে কিছু নিমের পুষ্ট ফল সংগ্রহ করুন।
  •  তারপর নিম ফলের বিচিগুলো পুতা দিয়ে থেতলে একদম গুড়া করে নিন। আপনার বাড়িতে যদি ব্লেন্ডার বা গ্রাইন্ডার থাকে তাহলে  এই কাজটি আরও সহজভাবে করতে পারবেন।
  • এইবার বড় একটা স্টিল বা প্লাস্টিকের পেয়ালাতে নিমের বিচির গুড়া গুলো রাখুন। পেয়ালায় পানি ঢালুন । যতটুকু বিচির গুড়া দিয়েছেন, পানিটা তার দ্বিগুণ দিতে হবে, এটা খেয়াল রাখবেন।
  •  ২ দিন  এভাবেই রেখে দিন। ২ দিন পর দেখবেন পানির উপরে তেল ভেসে উঠেছে। একটা চামচের সাহায্যে উপরের ভাসমান তেল অন্য একটি বোতল বা পাত্রে সংগ্রহ করুন।

নিম তেল অত্যন্ত দরকারি একটি তেল। এটি ত্বক ও চুলের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের জন্যেও খুবই উপকারী। তাই নিয়মিত নিম তেলের ব্যবহার করুন আর ত্বক ও চুলের সব ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত রাখুন নিজেকে।

মন্তব্যসমূহ

আমি একজন শিক্ষার্থী। নতুন কিছু সম্পর্কে জানতে ও শিখতে ভালোবাসি এবং অন্যদের সাথে সেটা শেয়ার করতে ভালো লাগে।

মন্তব্য করুন