ঠান্ডা লাগা সমস্যার ঘরোয়া সমাধান

ঠান্ডা লাগা সমস্যার ঘরোয়া সমাধান

আসি আসি করে বৈশাখ মাস তো আমাদের ঘরের দোড় গোড়ায় এসেই গেল। যদিও এই মাস উতসবের মাস, আনন্দের মাস। তারপরও এই মাসের কিছু ঝামেলাও রয়েছে। সেটা হচ্ছে আবহাওয়ার ঝামেলা। কিংবা বলতে পারেন আবহাওয়ার হটাত পরিবর্তনের ঝামেলা। এই হয়তো সারাদিন কড়া মাথা গরম করা রোদ পড়ছে, কিন্তু যেই না সন্ধ্যে হল তো অমনি ঝম ঝম করে বৃষ্টি শুরু। আর সময় নেই, ক্ষণ নেই হুটহাট কাল বৈশাখি ঝড়ের ঝামেলা তো আছেই। রাতে গরমে ঘেমে নেয়ে ঘুম আসে না। আবার ভর বেলা ঠান্দায় কাথা গায়ে দিতে হয়। এই যেন এখনকার ডেইলি রুটিন হয়ে গিয়েছে। এই হটাত পালতানো আবহাওয়ায় আমরা বড়রা তো মানিয়ে নিতে পারি। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় বাসার ক্ষুদে ছোট শিশু গুলোর। এই গরম এই ঠান্ডা আবহাওয়ায় তারা মানিয়ে নিতে পারে না। আর বৃষ্টিতে ভিজার আনন্দ তো আছেই। ফলাফল সারাটা গ্রীস্মকাল জুড়ে বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগা সমস্যা

আমরা সাধারণত বাচ্চাদের একটু ঠান্ডা লাগলেই বাড়ির পাশের ফার্মেসীতে দৌড় দেই। দোকানদার যেই ঔষধটা ধড়িয়ে দেয় সেটাই সরল মনে বিশ্বাস করে বাচ্চাকে খাইয়ে দেই। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় দোকানদার আমাদের কোন একটা এন্টিবায়োটিক ধরিয়ে দেয়। যদিও হালকা ঠান্ডা লাগা কিঙ্গা অল্প সর্দি কাশির জন্য হাই ডোজের এন্টি বায়োটিক ঔষধ খাবার কোন প্রয়োজনই নেই। আর বার বার এন্টি বায়োটিক খাওয়াতে থাকলে বাচ্চার শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়। তাই বাচাদের ছোট খাটো ঠান্ডা লাগা সমস্যার জন্য হুটহাট ঔষধ না খাইয়ে আমাদের উচিত প্রথপমে ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করা।

আমাদের নানি দাদি থেকে শুরু করে মা খালারা পর্যন্ত এই সব ঘরোয়া ঔষধ ব্যবহার করে এসেছেন। আজ আমি এমনি একটি ঘরোয়া উপায়ের কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব। মাত্র চারটি উপাদান দিয়ে তৈরী এই ঔষধটি আপনার বাচ্চার ঠান্ডা লাগা সমস্যায় ম্যাজিকের মত কাজ করবে। শুধু বাচ্চারা কেন। বড়দের ঠান্ডা লাগা অথবা সর্দি জ্বর সমস্যায় এই ঘরোয়া টোটকা একই রকম উপকার করবে। চলুন দেরি না করে এই ঘরোয়া ঔষধটা কিভাবে বানাতে হয় তা দেখে নেই।

ঠান্ডা লাগা সমস্যার ঘরোয়া সমাধানের উপকরণ

  • বাসক পাতা ৬টি
  • তুলসি পাতা ৬টি
  • তাল মিছরি ছোট ১ টুকরা
  • মধু ১/২ চা চামচ

ঔষধটি যেভাবে বানাবেন

প্রথমে হামান দিস্তায় তাল মিছরি নিন। খুব ভাল করে পিষে নিন। তাল মিছরি খুব শক্ত হয়। এজন্য এটা ভাংতে যথেষ্ঠ কষ্ট হবে। এজন্য শুরুতেই তাল মিছরি ভেঙে নিতে হবে। যদি হামান দিস্তায় না পারেন তবে শীল পাটায়ও তালমিছরি গুড়া করে নিতে পারেন। তবে শীল পাটা ব্যবহার করার আগে তা অবশ্যই খুব ভাল করে ধুয়ে পরিস্কার করে নিবেন।

এবার তালমিছরির গুড়ার সাথে বাসক পাতা আর তুলসি পাতা শীল পাটায় অথবা হামান দিস্তায় বেটে নিন। এবার এই পেস্ট হওয়া তুলসি পাতা, বাসক পাতা আর তালমিছরির মিশ্রণ একটি বাটিতে ঢেলে নিন। এর সাথে মিশান মধু। ভাল করে চামচ দিয়ে নেড়ে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি আপনার বাচ্চাকে খাইয়ে দিন।

ঔষধটি সেবনের পূর্বে সতর্কতা

কোন কিছুই অতিরিক্ত করা ভাল না। এজন্য এই ঘরোয়া টোটকাটি দিনে কখনোই দু বারের বেশি বাচ্চাকে খাওয়াবেন না।

প্রত্যেকবার ঔষধটি খাওয়ানোর পূর্বে তৈরী করবেন। এবং বানানোর সাথে সাথেই বাচ্চাকে খাইয়ে দিবেন। সারাদিনের ঔষধ কখনোই একবারে বানিয়ে রেখে দিবেন না। ঔষধ নষ্ট হয়ে বাচ্চার আরো বেশি শরীর খারাপ হয়ে যেতে পারে।

খুব ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সরাসরি এই ঔষধটা দ্যা ঠিক না। এজন্য ১/৪ কাপ পানির মধ্যে এই মিশ্রণটা মিশিয়ে ছোট বাচ্চাদের খাওয়াতে পারেন।

আপনার বাচ্চার বয়স এক বছরের চেয়ে কম হলে কখনোই এই ঔষধ খাওয়াবেন না। বাচ্চার মারাত্নক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। বাচ্চার বয়স একটু বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এই ঔষধ ব্যবহার করুন।

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন