ফর্সা হতে বেসন আর হলুদের ম্যাজিক ফেস প্যাক

ফর্সা হতে বেসন আর হলুদের ম্যাজিক ফেস প্যাক

আমি আজ এমন একটা ফেস প্যাক নিয়ে কথা বলব যেটা হাজার হাজার বছর ধরে এই উপমহাদেশের রমণীরা তাদের রূপচর্চায় ব্যবহার করে আসছে। আমাদের দাদি নানিরাও হয়তো এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। আর ব্যতিক্রম হবেনই বা কেন? রূপচর্চার জন্য ক্ষতিকর কেমিকেল সমৃদ্ধ ক্রীমের থেকে এসব ঘরোয়া উপায় যে অনেক বেশি নিরাপদ এই কথাটা আমরা সকলে তো জানি। আমার আজকের এই ফেস প্যাকটি বানাতে খুব সাধারণ কয়েকটি উপকরণ প্রয়োজন হবে। এসব উপকরণ গুলো আমাদের ঘরে প্রায় সব সময়ই থাকে। কিন্তু এই সাধারণ উপকরণ গুলোই একসাথে মিশে আমাদের স্কিনে অসাধারণ একটা উজ্জ্বলতা এনে দেয়। এজন্যই আমি এই ফেস প্যাকটিকে ম্যাজিক ফেস প্যাক বলি। কারণ বেসন ও হলুদ দিয়ে বানানো এই ফেস প্যাকটি প্রথম বার ব্যবহার করার পরই আপনি আপনার মুখে এর প্রভাব দেখতে পারবেন। তাই চলুন দেরি না করে এই ফেস প্যাকটি বানাতে কি কি উপকরণ লাগবে তা জেনে নেই। সেই সাথে চট করে জেনে নেই এটি কিভাবে ব্যবহার করতে হবে। আর আমাদের স্কিনে এই প্যাকটি আসলে কি কি উপকার করে সেটাও জেনে নেই।

বেসন হলুদের ফেস প্যাক বানাতে যা যা লাগবে

  • বেসন ১ টেবিল চামচ
  • খাটি হলুদ গুড়া ১/৪ চা চামচ
  • কাঁচা দুধ ১.৫ থেকে ২ টেবিল চামচ
  • লেবুর রস ২ থেকে ৩ ফোটা

বেসন ও হলুদের ফেস প্যাক যেভাবে বানাবেন

প্রথমে ফেস ওয়াশ দিয়ে খুব ভাল করে নিজের মুখ ও গলা পরিস্কার করে নিতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যদি মুখে লাগানো ফেস ওয়াশ পরিস্কার করার জন্য হালকা উষম গরম পানি ব্যবহার করেন। কারণ উষম গরম পানি ত্বকের পোরস গুলো খুলে দেয়। ফলে ত্বক যেকোন পুষ্টি গ্রহণের জন্য আরো ভাল ভাবে রেডি হয়ে যায় অর্থাত ফেস প্যাক এর প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গুলো আরো ভাল ভাবে ত্বকের গভীর পর্যন্ত পৌছে যেতে পারে।

এবার একটা বাটিতে প্রথমে বেসন ও খাটি হলুদ গুড়া নিতে হবে। একটা ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা খুব প্রয়োজন। সেটি হচ্ছে আপনাকে অবশ্যই এই প্যাকটিতে ব্যবহার করার জন্য সম্পূর্ণ খাটি হলুদ গুড়া যোগাড় করতে হবে। কারণ আমরা বাজার যেসব প্যাকেট জাত হলুদ গুড়া কিনতে পাই সেগুলোর বেশির ভাগের মধ্যে ক্ষতিকর কেমিকেল সমৃদ্ধ রঙ মেশানো থাকে। এজন্য যদি শধু মাত্র বিশ্বস্ত জায়গা থেকে খাটি হলুদ গুড়া যোগাড় করতে পারেন তবেই তা এই বেসন ও হলুদের ফেস প্যাকে ব্যবহার করবেন।

এবার এই বেসন ও হলুদের মিশ্রণে দেড় টবিল চামচ মত কাঁচা দুধ ঢেলে দিন। কাটা চামচ দিয়ে আস্তে আস্তে নেড়ে মিশিয়ে নিন। যদি মনে হয় বেসন ও হলদের ফেস প্যাকটি খুব বেশি ড্রাই হয়ে গেছে তাহলে আর একটু দুধ যোগ করে নিতে পারেন। মটামুটি পেস্টের মত ঘনত্বের একটা মিক্সচার তৈরী করে ন্ন। এরপর এই প্যাকের মধ্যে একটু লেবুর রস যোগ করুন। খুব বেশি লেবুর রস যোগ করবার প্রয়োজন নেই। মোটামুটি দু থেক তিন ফোটা লেবুর রস যোগ করলেই যথেষ্ঠ। সব উপকরণ চামচ দিয়ে নেড়ে চেড়ে খুব ভাল ভাবে মিশিয়ে নিন।

বেসন ও হলুদের ফেস প্যাক যেভাবে ব্যবহার করবেন

এবার আপনার পরিস্কার মুখে আর গলার ত্বকে এই ফেস প্যাকটি লাগিয়ে নিন। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে থাকুন। এই সময়ের মধ্যে আপনার মুখের ও গলার ফেস প্যাক সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাবে। এরপর হাতে অল্প করে পানি নিয়ে মুখে ও গলায় ছিটিয়ে দিন। হাতের আঙ্গুল ভিজিয়ে নিয়ে সার্কুলার মুভমেন্টে আস্তে আস্তে মুখে ও গলায় ম্যাসাজ করে নিন। বেশিক্ষণ ম্যাসাজ করার দরকার নেই। দুই থেকে তিন মিনিট ম্যাসাজ করলেই হবে। এরপর খুব ভাল করে মুখ আর গলা ধুয়ে নিন।

ত্বকের যত্নে বেসন হলুদের ফেস প্যাকের উপকারিতা

ত্বকের যত্নে বেসনের উপকারিতা

বেসন একটি অত্যন্ত কার্যকারী প্রাকৃতিক ক্লিনিং এজেন্ট। এটি আমাদের ত্বকের একেবারে গভীর থেকে ময়লা আর জীবাণূ তুলে আনে। এজন্য নিয়মিত বেসন ব্যবহার করলে ত্বকের উপরিভাগের সাথে সাথে ত্বকের গভীর থেকেই ময়লা আর জীবাণ পরিস্কার হয়ে যায়। ফলে ত্বক পরিস্কার হবার সাথে সাথে নতুন করে ব্রণ বা একনের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকে।

ত্বকে থাকা পুরোনো জেদী ব্রণের বা একনের দাগ বেসন আস্তে আস্তে হালকা করতে সাহায্য করে।

বেসন মুখের ত্বকের পোরস গুলো টাইট করতেও যথেষ্ঠ ভূমিকা রাখে।

বেসন একটি প্রাকৃতিক হেয়ার রিমুভার। এজন্য নিয়মিত মুখের ত্বকে এই বেসন ও হলুদের ফেস প্যাক ব্যবহার করলে তা ধীরে ধীরে মুখের লোম কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করবে।

ত্বকের যত্নে হলুদের উপকারিতা

হলুদ খুব ভাল একটি এক্সফোলিয়েটিং এজেন্ট যেটা আবার এন্টি এজিং এজেন্ট হিসেবেও কাজ করে। ফলে নিয়মিত ত্বকের যত্নে খাটি হলুদ ব্যবহার করলে তা আমাদের ত্বকে বয়সের ছাপ ফলতে দেয় না এবং দ্রুত বলিরেখা পড়াকেও প্রতিরোধ করে। সেই সাথে খা্টি হলুদ গুড়া আমাদের স্কিনকে টাইট করতেও সয়াহতা করে।

হলুদ আছে হাই কোয়ালিটির এন্টি ইনফ্লেমেটরি প্রোপার্টিজ। এজন্য ত্বকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির ফলে সৃষ্টি হওয়া সানবার্ন আর সানবার্নের জ্বালা পোড়া দূর করতে হলুদের কোন জুড়ি খুজে পাওয়া যাবে না।

হলুদ ত্বককে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল ও ফর্সা করে তোলে।

ত্বকের যত্নে কাঁচা দুধের উপকারিতা

কাঁচা দুধ নিয়মিত ব্যবহার করলে তা আস্তে আস্তে ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করে তোলে।

কাঁচা দুধ ত্বকের প্রিম্যাচিউর এজিং প্রতিরোধ করে।

কাঁচা দুধ একনে আর ব্লেমিশের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

কাঁচা দুধ খুবি ইফেক্টিভ একটি এন্টি অক্সিডেন্ট যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি আর ভিটামিন ই থাকে। এজন্য আমাদের স্কিনে কাঁচা দুধ নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক সব সময় সজীব থাকবে।

কাঁচা দুধ খুব ভাল প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজার। এটি আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা ত্বকের মধ্যেই লক করে দেয়। শুধু তাই নয়। কাঁচা দুধ ত্বকে বাড়তি আর্দ্রতা দিয় ত্বককে আরো কোমল ও নরম কর তোলে।

ত্বকের যত্নে লেবুর উপকারিতা

লেবু একটি দারূণ প্রাকৃতিক ব্লিচ। তাই ত্বকে নিয়মিত লেবুর ব্যবহার ত্বকের রঙ আস্তে আস্তে হালকা করতে সাহায্য করে। এজন্য বিভিন্ন ফেস প্যাকের সাথে নিয়মিত লেবু ব্যবহার করলে আমাদের ত্বক দিনের পর দিন ফর্সা থেকে ফর্সাতর হতে থাকবে।

শুধু তাই নয়। লেবুতে আছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রোপার্টিজ। তাই লেবুর রস আমাদের ত্বক থেকে সব ধরণের জীবাণু গভীর থেকে ধ্বংস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন