ভীষণ মজার ডিম ও বেগুন ভর্তা

ভীষণ মজার ডিম ও বেগুন ভর্তা

আমাদের বাঙ্গালিদের ভর্তা প্রেম সব জায়গায় জনপ্রিয়। এক প্লেট গরম গরম ঝরঝরে সাদা ভাত, এক বাটি ডাল আর যে কোন এক রকমের ভর্তা। এই তিনটি জিনিস হলে বাঙ্গালিদের আর কিছুই যেন খাবার টেবিলে দরকার হয় না। এই দিয়েই চেটে পুটে খাওয়া দাওয়া কমপ্লিট। আর এই জন্যেই আমরা বাঙ্গালিরা নানা ভাবে বিভিন্ন সবজি দিয়ে ভররাতা বানাবার চেষ্টা করে থাকি। ট্রাডিশনাল ভাবে বানানো ভর্তার রেসিপি গুলো তো সব সময়ই জনপ্রিয়। কিন্তু এখন আমাদের হেশেলে প্রায় সময়ই ট্রাডিশনাল ভর্তা রেসিপি গুলো নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা হয়ে থাকে। আর এসব এক্সপেরিমেন্ট গুলো ফলাফল বেশির ভাগ সময়ই খুব ভাল ফল বয়ে আনে। আমার এরকমই একটি এক্সপেরিমেন্টের ফল হচ্ছে এই মজাদার ডিম বেগুন ভর্তা।

ট্রাডিশনাল ভাবে বেগুন ভর্তা কিভাবে করতে হয় তা আমরা সবাই কম বেশি জানি। সাধারণত আস্ত বেগুন পুড়িয়েই এটির ভর্তা বানানো হয়ে থাকে। আমাদের মা খালারা সব সময় এভাবেই বেগুন ভর্তা করে এসেছেন। কিন্তু আস্ত বেগুন পোড়ানো কিন্তু বেশ কষ্টকর একটা ব্যাপার। সেই সাথে ধৈর্যের ব্যাপারও বটে। কারণ বেগুণ পোড়াতে যথেষ্ঠ সময় লাগে। আর এই পুরোটা সময় চুলার পাশে দাঁড়িয়ে বেগুন ওলট পালোট করে পোড়াতে হয়। য়ার একটা ব্যাপার আছে। সেটি হচ্ছে কাঠের চুলার আগুনে বেগুন পোড়ালে যে টেস্টটা আসে সেটা গ্যাসের চুলার আগুনে বেগুন পোড়ালে সেই ভাবে আসেনা। কিন্তু তাই বলে আমরা যারা শহরে থাকি আর গ্যাসের চুলা ব্যবহার করি তারা কি বেগুন ভর্তা খাব না? অবশ্যই খাবো। তবে একটু অন্য ভাবে।

আজ আমি এই অন্য ভাবে বেগুন ভর্তা করার রেসিপিটাই আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি। চলুন তাহলে দেরি না করে চটপট জেনে নেই এই ডিম বেগুন ভর্তা বানানোর জন্য আমাদের কি কি উপকরণ এর প্রয়োজন হবে। সেই সাথে এই ভর্তা বানানোর পুরো প্রসেস্টাও জেনে নেই চলুন।

ডিম ও বেগুন ভর্তা বানাতে যে যে উপকরণ দরকার হবে

  • বেগুন ১টা
  • ডিম ১টা
  • মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ ২ টেবিল চামচ
  • মিহি করে কুচি করে রাখা রসুন ১ টেবিল চামচ
  • হলুদ গুড়া ১/২ চা চামচ
  • লাল মরিচ গুড়া ১ চা চামচ
  • লবণ পরিমান মত
  • চিনি ১/৪ চা চামচ
  • আস্ত কাঁচা মরিচ ৫ থেকে ৬টি
  • মিহি করে কুচি করে রাখা ধনে পাতা ১ টেবিল চামচ
  • লেবুর রস ১ চা চামচ
  • কালো গোল মরিচ গুড়া ১/৪ চা চামচ
  • সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ
  • সরষের তেল ২ চা চামচ
  • আস্ত শুকনা মরিচ ১টি কিংবা ২টি
  • তেজপাতা ১টি

ডিম ও বেগুণ ভর্তা যে প্রক্রিয়াতে বানাতে হবে

১ম ধাপ

প্রথএ ডীম সিদ্ধ করে নিতে হবে। সিদ্ধ করে নেয়া ডিমটি খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এরপর একটা গ্রেটারে সিদ্ধ ডিমটি গ্রেট করে নিতে হবে। গ্রেটারের একদম মিহি অংশ দিয়ে ডিম গ্রেট করবেন না। তাহলে একদমই ভর্তা হয়ে যাবে ডিমটি। তখন আর খাওয়ার সময় গালে ডিম বাধবে না। এজন্য গ্রেটারের একটু বড় যেই গ্রেট করার অংশটি থাকে সেটি দিয়ে ডিমটি গ্রেট করে নিতে হবে। এতে করে ডিম ও বেগুন ভর্তা খাবার সময় গালে অল্প অল্প করে ডিমের অংশ পড়বে। খেতে সুস্বাদু লাগবে।

২য় ধাপ

বেগুনটি গোল গোল চাক চাক করে কেটে নিতে হবে প্রথমে। এরপর বেগুনের টুকরো গুলোয় হলুদ গুড়া, লাল মরিচ গুড়া আর পরিমাণ মত লবণ মেকে নিতে হবে। একটা লাহার তাওয়াতে অল্প করে সয়াবিন তেল দিতে হবে। এবার এই তেলে বেগুনের টুকরো গুলো ভাজতে দিতে হবে। চুলার জ্বাল মিডিয়াম করে রাখতে হবে। বেশ কিছুক্ষণ ভাজার পর যখন বেগুনের টুকরো গুলোর এক পিঠ ভাজা হয়ে যাবে তখন এগুলো উলটে দিতে হবে। একই ভাবে বেগুনের টুকরো গুলোর অপর পিঠও ভেজে নিতে হবে।

বেগুনের টুকরো গুলো লোহার তাওয়াতে ভাজার একটা কারণ আছে। মিডিয়াম আঁচে অল্প তেলে লোহার তাওয়াতে বেগুনের টুকরা গুলো ভাজার কারণে এগুলোতে একটু পোড়া পোড়া ভাব আসবে। এতে করে ভর্তা করার পর বেগুন পোড়ার টেস্টটা পাওয়া যাবে।

বেগুনের টুকরো গুলোর দুই পাশ হালকা পোড়া পোড়া ভাব সহ ভাজা হয়ে গেলে একটা প্লেটে নামিয়ে নিতে হবে। এরপর এই গুলো একটু ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ভেজে রাখা বেগুনের টুকরো গুলো একটু ঠান্ডা হয়ে গেলে এগুলো হাত দিয়ে বর্তা করে নিতে হবে। অনেকে বেগুনের খোসা একেবারেই পছন্দ করেন না। আপনি কিংবা আপনার বাসার কোন সদস্য যদি এই দলের হয়ে থাকেন তবে ভর্তা করার সময় ভাজা বেগুনের টুকরো গুলো থেকে হাত দিয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে পারবেন।

৩য় ধাপ

আস্ত কাঁচা মরিচ গুলো পুড়িয়ে নিতে হবে। এরপর এই পোড়ানো কাঁচা মরিচ গুলো শীল পাটায় মিহি করে বেটে নিতে হবে। পোড়া কাঁচা মরিচ বাটা থেকে খুব সুন্দর একটা টেস্ট আসে যেটা যে কোন রকম ভর্তার সাথে খুব ভাল যায়।

৪র্থ ধাপ

এই বার একটা ফ্রাইং প্যান চুলায় বসাতে হবে। চুলা জ্বালিয়ে এই ফ্রাইং প্যানে  ২ চা চামচ সরষের তেল গরম করতে দিতে হবে। সরষের তেল গরম হয়ে গেলে এতে একটা তেজপাতা ও দুটা শুকনা মরিচ ফোড়ন দিতে হবে। আপনি যদি ঝাল খুব একটা পছন্দ না করেন তবে একটি শুকনা মরিচ ফোড়ন দিলেও চলবে।

সরষের তেল থেকে যখন মশলা ফোড়নের সুন্দর একটা গন্ধ বের হবে তখন এর মধ্যে মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ দিয়ে দিতে হবে। পেঁয়াজ কুচি একটু নরম হয়ে আসলে এর মধ্যে মিহি করে কুচি করে রাখা রসুন দিয়ে দিতে হবে। মিডিয়াম আঁচে নেড়ে চেড়ে মশলা দুটো ভেজে নিতে হবে। যখন পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি ভাজা ভাজা হয়ে একদম গোল্ডেন ব্রাউন কালার হয়ে যাবে তখন এর মধ্যে আগে থেকে ভেজে নিয়ে ভর্তা করে রাখা বেগুন দিয়ে দিতে হবে। যদিও বেগুন ভাজার সময় লবণ দেয়া হয়েছে। তার পরেও এই সময়ে অল্প একটু লবণ যোগ করতে পারেন। কারণ এই ভর্তার মধ্যে ডিম যোগ করা হবে। তাই আর একটু লবণ যোগ কররলে ভাল হয়। তা না হলে ডিম বেগুন ভর্তা খাওয়ার সময় আনলি লাগতে পারে।

৫ম ধাপ

এর পরে বেগুনের মধ্যে বেটে রাখা পোড়ানো কাঁচা মরিচ দিয়ে দিতে হবে। সিদ্ধ করে গ্রেট করে রাখা ডিমও এই সময়ে দিয়ে দিতে হবে। ভাল করে নেড়ে চেড়ে মিশিয়ে নিতে হবে। এই অবস্থায় কিছুক্ষণ ডিম ও বেগুন ভর্তার মিশ্রণ তেলে ভাজতে হবে। কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে ভর্তার মিশ্রণ থেকে তেল ছেড়ে দেওয়া শুরু করেছে। এই সময়ে উপর থেকে মিহি করে কুচি করে রাখা ধনে পাতা ও কালো গোল মরিচ গুড়া ছড়িয়ে দিতে হবে। আরো দুই থেকে তিন মিনিট এই মিশ্রণটি ভাজতে থাকতে হবে। তারপর চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। চুলা বন্ধ করে দেবার পর উপর থেকে একটু লেবুর রস ছড়িয়ে দিতে হবে। খুনতি দিয়ে নেরে চেড়ে ভাল করে সব উপকরণের সাথে লেবুর রস ভাল করে মিশিয়ে দিতে হবে। দুই থেকে তিন মিনিট এই অবস্থায় ফ্রাইং প্যান ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এরপর একটা সার্ভিং বোলে সার্ভ করতে হবে ভীষণ মজার ডিম ও বেগুন ভর্তা।

 

 

 

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন