সঠিক সময়, সঠিক খাদ্যভ্যাস।

আপনার  সুস্থতা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার খাদ্য অভ্যাসের উপর। রোজ পরিমিত খাবার, সঠিক সময়ে খেলে আপনি শারীরিক ভাবে থাকবেন ফিট। দৈনন্দিন জীবনে খাবার খাওয়ার সঠিক সময়, ও সঠিক খাদ্যভাস নিয়েই আমাদের এই আর্টিকেলটি।

সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের খাবার পর্যন্ত আপনাকে নিয়ম মেনে ঠিক খাবারগুলো খেতে হবে।চলুন জেনে নেই বিস্তারিত।

সকালের খাবার :

প্রতিদিনের খাবারের ভেতর সকালের খাবার বা ব্রেকফাস্ট হচ্ছে, সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ব্যাপার। সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে এক গ্লাস বা দেড় গ্লাস পানি খেতে হবে। এতে আপনার গ্যাসের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হবে না।

মনে রাখবেন ,

সকালের খাবার খাওয়ার শ্রেষ্ট সময় হচ্ছে, সকাল ৭-৮ টা। ১০ টা পর সকালের নাস্তা করার অভ্যাস বাদ দিন। ঘুম থেকে উঠার ত্রিশ মিনিটের ভেতর সকালের নাস্তা খেতে হবে।

এক গ্লাস ফ্রেশ ফলের জুস, এগ অমলেট (অল্প তেলে ভাজা),ব্রেড/ রুটির সাথে যেকোন প্রকার সবজী হতে পারে সকালের জন্য পুষ্টিকর খাবার। চা এড়িয়ে গেলে ভালো হয়।

দুপুরের খাবার :

সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবারের মধ্যখানে কমপক্ষে ৪ ঘন্টার গ্যাপ থাকতে হবে। এর বেশি আগে বা পরে না খাওয়ার চেষ্টা করুন। দুপুরের খাবার ১২.৩০ -২.০০ ঘটিকার ভেতর খাওয়াটা বেশি ভালো। অনেকে বিকাল ৪ টা পর দুপুরের খাবার খেয়ে থাকেন যা মোটেই ঠিক নয়।

দুপুরের ম্যানূতে,

মাছ, মাংস ,ডাল এবং যেকোন একধরনের সবজী রাখতে পারেন। তবে মাংস অবশ্যই পরিমিত পরিমাণ খেতে হবে। আপনার প্রিয় সবজী খুব কম তেলে রান্না করে খেতে পারেন। দুপুরের খাবার সকালের নাস্তার মতো ভারী হবে না, এবং রাতের খাবারের মতো হালকা ও হবেনা। খাবারের পরিমাণ হবে মাঝারি।

খেয়াল রাখবেন :

অনেকেই দুপুরের খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েন যা আপনার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।  খাওয়ার অন্তত আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টা পর ঘুমোতে হবে। এবং সেই ঘুম যেনো ত্রিশ মিনিটের বেশি দীর্ঘস্থায়ী না হয়। এতে আপনার ডায়াবেটিকসস হওয়ার আশংকা অনেকটাই বেড়ে যায়।

রাতের খাবার :

সবশেষে আসে রাতের খাবারের পালা। রাতের খাবার খাওয়ার শ্রেষ্ট সময় হচ্ছে সন্ধ্যা  ৬- রাত ৯ টা।  যদিও আমাদের দেশে সন্ধ্যা ৬ টায় রাতের খাবার খাওয়ার প্রচলন খুব কম।কিন্তু, আপনাকে অবশ্যই রাতের খাবার রাত ৯ টার ভেতর খেতে হবে। রাত ১০ টা পর ডিনার না করাই ভালো।

রাতের খাবারে,

যেকোন ছোট মাছ, সবজী সাথে অল্প পরিমাণ ভাত খেতে পারেন। এ সময় অতিরিক্ত তেল, ডিম, বা মাংস এড়িয়ে চলা ভালো। গরুর মাংস এসময় একদম খাওয়া উচিত নয়। আর খেতে হলে অবশ্যই খুব অল্প পরিমাণ খেতে হবে। ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ২-৩ ঘন্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিতে হবে।

আরো মনে রাখুন,

প্রতিদিন খাবারের সাথে ৮ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন।

খাবারে সবজী এবং ফ্রুটসের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

এক নাগারে চার ঘন্টা খালি পেটে থাকবেন না। দরকার হলে মাঝখানের সময়টুকুতে যেকোন হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।

হয়তো বা আপনারা অনেকেই এই বিষয়গুলো আগে থেকে জানেন। তবে আজ আমরা আপনাদের নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টাটুকু করলাম। মেনে চলার চেষ্টা করুন। ভালো থাকুন আর  হ্যা ,চটপটের সাথেই থাকুন।

মন্তব্যসমূহ

বর্তমানে শিক্ষার্থী এছাড়া আর কিছু করছি না। সিলেটে থাকি। লেখালেখি আমার পুরাতন শখ। আর কখনোই এই শখ বাদ দিতে চাই না। এছাড়া বলার মতো আর কিছু আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না।

মন্তব্য করুন