দেহের প্রয়োজনে প্রোটিন।

প্রোটিন সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? শরীরের যত্নে প্রোটিনের গুরুত্বের কথা সবারই জানা উচিত কারন প্রোটিন ছাড়া আমাদের দেহ বলতে গেলে অচল। তাই আমাদের প্রোটিন কি এবং কোন কোন খাবারে প্রোটিন পাওয়া যায় এবং আমাদের দেহের জন্য প্রোটিনের গুরুত্ব কত খানি এ সব ই আমাদের জানা উচিত। তাহলে চলুন আজকে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গুলো সম্পর্কে ধারনা নেয়া যাক এবং শরীরের প্রয়োজনে প্রোটিন কিভাবে কাজ করে থাকে।

প্রোটিন কি?

মাছ, মাংস, দুুুধ, ডিম, ঘন ডাল—এইসব ছাড়া আমাদের একেবারেই চলা কঠিন। আবার অনেকে আছেন যারা ডায়েটে না বুঝেই দিনের পর দিন বাদ দিয়ে দিচ্ছেন দরকারি প্রোটিন। এর জন্য তৈরি হচ্ছে নানা টাইপের সমস্যা। প্রোটিনকে আমরা সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। সহজ কথায় বলতে গেলে, এক ধরনের প্রোটিন আছে , যা আমরা বিভিন্ন  প্রাণী থেকে পেয়ে থাকি। একে বলাা হয় ফার্স্ট  ক্লাস প্রোটিন।  আর যে  ধরনের প্রোটিন  গুলো আমরা বিভিন্ন  উদ্ভিদ থেকে পেয়ে থাকি তাকে সেকেন্ড ক্লাস প্রোটিন বলা হয়।

প্রোটিন কতটা জরুরী ?

প্রোটিন  কোনটি নেয়া উচিত  আর কতটা নেয়া উচিত এই ব্যাপারে জানা যায় ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ এর কাছ   থেকে, তিনি  বলেন, ” মাছ, মাংস, দুধ, ডিম অথবা ডাল ইত্যাদি প্রোটিন নেওয়ার মাধ্যম টা যেটাই হোক না কেন,        আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মানুষের প্রোটিন নেয়ার পরিমাণ  টা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে তার বয়স, ওজন  এবং কাজের ধরন গুলো  দেখে। সেই ক্ষেত্রে  আমরা  চাইলেই  আমাদের ইচ্ছামতো প্রোটিন নিতে পারব না। আবার আমরা চাইলেই প্রোটিন বাদও দিয়ে দিতে পারব না।

 

ডাক্তাররা সাধারণত ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন নেয়ার কথা বলি। সেই ক্ষেত্রে ডিম খেলে এর সাদা অংশ খাওয়া টা ভালো। আর মাছ আর মাংস এই দুইটার  মধ্যে বেশি মাছ খেলে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি নানা ধরনের অসুখের ঝুঁকি কমে যায়। আর মাংস খাওয়ার হলে সাদা মাংস খাওয়া উচিত, যেমন মুরগি মাংস ।  আর রেড মিট যতটা সম্ভব পরিহার করা উচিত । এতে করে পরে ভালো ফল বয়ে আনবে। আর লাল মাংস খেতে   চাইলে অবশ্যই চর্বি ফেলে দিয়ে তারপর খেতে হবে।”

নিরামিষাশীদের প্রোটিন চাহিদা পুরণ :

উপরে যা বলা হলো তা তো  যাঁরা মাছ-মাংস খান তাঁদের কথা। কিন্তু যাঁরা মাছ বাবা মাংস খেতে একটুও পছন্দ করেন না অথবা বিভিন্ন  কারণে একেবারেই নিরামিষ ভোজী,  তাঁদের বেলায় কী হবে? এই প্রশ্ন টির উত্তরে ডাক্তার শামসুুুুন্নাহার নাহিদ বলেন যে , ডাল অথবা ডাল-জাতীয় যে কোন খাবার যেমন ধরুন ছোলা, কিডনি বিন, বাদাম জাতীয় খাদ্য এসবেও প্রচুর পরিমাণ  প্রোটিন আছে। তবে সেটা কে বলা হয়  সেকেন্ড ক্লাস প্রোটিন।

 

একথা মনে রাখতে হবে  যে,  যে  কোন এক ধরনের ডালে শরীরের সব    ধরনের  চাহিদা পূরণ হবে না। সেই ক্ষেত্রে কয়েক পদের ডাল এক সাথে করে রান্না করে খেতে হবে। তাতে বিভিন্ন  ধরনের ডাল থেকে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন  ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদান পাওয়া যাবে। ডালের সাথে সাথে বাদাম, ছোলা, দুধ,  সয়া ইত্যাদি ও খাওয়া টা জরুরি।

 

বিভিন্ন রোগে  আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রোটিন :

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগী দের জন্য সয়া মিল্ক টা খুুব ভালো। অনেকেই আছেন যারা মিল্ক চর্বি এড়ানোর জন্য দুুধ কম জ্বাল দিয়ে রান্না করেন। সেই ক্ষেত্রে  বলা উচিত  দুধ কম জ্বাল দেয়াটা  কোন ধরনের  সমাধান নয়, বরং দুধের জ্বাল দিতে হবে ঠিক ভাবেই। তবে বাড়ির গরুর দুধ বা বাজারের যে কোন নন-ব্র্যান্ডেড দুধ খেতে চাইলে সে সময় দুধের অর্ধেক টা পরিমাণে পানি দিয়ে দুধ টা জ্ব্বা্ল দিয়ে ঠান্ডা করে তারপর সর টা ফেলে দিয়ে খেতে হবে।  আপনারা চাইলে সয়া  মিল্কও খেতে পারেন।

 

তবে একথা বলে রাখা ভালো যে,  কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সয়া মিল্ক একটু কম খাওয়াই ভালো । উদ্ভিদ-জাতীয় প্রোটিন খেলে একথা  মনে রাখতে হবে যে,  সেটিও কিন্তু আপনার যত ইচ্ছা তত টাই খাওয়া যাবে না। আবার যেন খুব কমও  না হয়। এটা মনে রাখতে হবে  যে, এক বাটি পাতলা ডাল  কিন্তু কখনোই এক বাটি ঘন ডালের যে কাজ সেটা করবে না। তবে একটু বেশি পরিমাণ প্রোটিন খেতে পারবেন উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা , গর্ভবতী মা অথবা ডাক্তারেরা যাদের পরামর্শ দেন বেশি প্রোটিন খাওয়ার জন্য।

 

প্রোটিন সম্পর্কে আজ অনেক কিছুই আপনারা জানলেন।    প্রোটিন কি? এটা  দেহের জন্য কতটা জরুরি , আমাদের কি পরিমানে এটি গ্রহণ করা উচিত , রোগী দের জন্য কি পরিমান  প্রোটিন গ্রহন করলে ভালো হবে ইত্যাদি অনেক কিছুই আজ আপনাদের জানা হলো। তাই আজ  থেকে দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন গ্রহণ করুন এবং ভালো ও সুস্হ থাকুন বহুদিন ।http://শরীরের যত্নে প্রোটিনের গুরুত্ব

মন্তব্যসমূহ

আমি একজন শিক্ষার্থী। নতুন কিছু সম্পর্কে জানতে ও শিখতে ভালোবাসি এবং অন্যদের সাথে সেটা শেয়ার করতে ভালো লাগে।

মন্তব্য করুন