Social Media

Social Media তে আপনার Security কতটুকু স্ট্রং?

আজকাল আমাদের সধারন লাইফের পাশাপাশি একটি ভার্চুয়াল লাইফ চলে এসেছে। আর এই লাইফ হলো আমাদের Socila Media প্লাটফর্মগগুলো। আমাদের দেশে Socila Media বলতে সবাই ফেইসবুককেই বুঝে থাকে। আমাদের মধ্যে অনেকেই সাধারন লাইফের চেয়ে এই Social Media গুলোতে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করে।

এই কারনে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের অনেক স্পর্সকাতর তথ্য এখানে থাকে। এই অবস্থায় যদি আপনার একাউন্ট অন্যের দখলে চলে যায় মানে হ্যাক হয়ে যায় তাহলে তো চিন্তার কোন শেষ থাকে না। তো কি কি পদক্ষেপ নিলে আমাদের একাউন্ট হ্যাক হওয়া থেকে বাচাঁনো যেতে পারে তা দেখে নেই

স্ট্রং পাসওয়ার্ড :

আমরা একাউন্ট খোলার সময় ভেবে থাকি কে আমার একাউন্ট হ্যাক করবে? নিজের যেন সহজেই মনে থাকে এরকম একটা সহজ পাসওয়ার্ড দেই। অনেক সময় নিজের নাম, ফোন নাম্বার, বন্ধুর নাম বা 12345 এরকম সহজ পাসওয়ার্ড দিয়ে থাকি যা হ্যাকারকে আরো সুবিধা দিয়ে থাকে। আমাদের উচিত এই সহজ পাসওয়ার্ডের ধারনা থেকে বের হয়ে স্ট্রং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা।

আপনারা অনেকেই জানেন মার্ক জুকারবার্গের একাউন্টও হ্যাক হয়েছিলো সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহারের কারনে। একই ভুল আপনারা হয়তো করতে চাইবেন না। এখন আপনি ভাবতে পারেন পাসওয়ার্ড স্ট্রং কিভাবে বানাবো। তো আপনার পাসওয়ার্ড স্ট্রং বানানোর জন্য কমপক্ষে ৮ সংখ্যার একটি পাসওয়ার্ড দিতে হবে। পাসওয়ার্ডে ছোট হতের অক্ষর, বড় হাতের অক্ষর, নাম্বার এবং স্পেশাল ক্যারেক্টার ( @#$%& ) অবশ্যই দিতে। এই পদ্ধতি অনুসরন করলে পাসওয়ার্ড স্ট্রং হওয়ার সাথে সাথে ব্রুট ফোর্স হ্যাকিং এর মত এটাক থেকে সহজেই রক্ষা পাবেন।

একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার না করা :

মনে রাখার সুবিধার্থে এখানেও আমরা একই ভুল করে থাকি। আমরা মনে করি বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন পাসওয়ার্ড দিলে পরে মনে থাকবে না। কিন্তু অনেক সময় এমনটা দেখা গেছে যে আপনার একটা একাউন্ট হ্যাক হলে অপানার অন্যান্য একাউন্টও হ্যাক হয়ে যাচ্ছে। এর মূল কারন হলো একই পাসওয়ার্ড সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা। এখন আপনি যদি মনে করেন আপনার পাসওয়ার্ড ভুলে যাবেন তাহলে কোথাও পাসওয়ার্ড নোট করে তা লক করে রাখতে পারেন।

পাসওয়ার্ড আপডেট করুন :

প্রতি ২-৩ মাস পর পর আপনার উচিৎ পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করা। হতে পারে কোন বন্ধুর ফোন বা পিসি দিয়ে আপনি আপানার একাউন্ট লগ ইন করেছিলেন। সেই ফোনের বা পিসির ডেটাবেসে কিন্তু আপনার পাসওয়ার্ড থেকে যায়। তো এই কারনে ২-৩ মাস অন্তর অন্তর পাসওয়ার্ড আপডেট করুন। এটা যদি ঝামেলাদায়ক মনে হয়ে থাকে তাহলে কমপক্ষে বছরে দুই বার আপডেট করুন।

এছাড়া আরেকটা বিষয় সব সময় মনে রাখবেন তা হলো কখনো পাবলিক পিসি দিয়ে আপনার একাউন্টে লগ ইন করবেন না। হতে পারে সেটা কোন সাইবার ক্যাফে বা অন্য কোন জায়গা। কারন এইভাবে অনেকে কি লগার ব্যবহার করে আপনার পাসওয়ার্ড চুরি করতে চাইবে। এই ধরনের চুরি বা কি লগার থেকে বাচার জন্য অবশ্যই পাবলিক পিসি এরিয়ে চলতে হবে।

2 Step Verification ব্যবহার করুন :

এই ধরনের সিস্টেম হলো অন টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) সিস্টেম। এক্ষেত্রে একাউন্টে লগ ইন করার জন্য আপনার আইডি পাসওয়ার্ড এর সাথে একটি বিশেষ কোড দরকার হবে যা আপনার ফোনে এসএমেসের মধ্যমে বা অ্যাপের মধ্যমে পাবেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে আপনার আইডি পাসওয়ার্ড হ্যাকার যেনে গেলেও আপনার একাউন্ট হ্যাক করতে পারবে না। গুগল, ফেইসবুক, টুইটার সহ প্রায় সকল সামাজিক ওয়েবে এই সুবিধা পাবেন।

Social Media

এই সিস্টেম চালু করতে আপনাকে সেটিংস এর সিকুরিটিতে গিয়ে two -factor authentication চালু করে দিতে হবে। তাহলে প্রতিবার লগ ইনের সময় একটি বিশেষ কোড আপনার ফোনে যাবে। এই কোড ইনপুট করে লগ ইন করতে হবে। আর আপনি যদি অ্যাপের মধ্যেমে কোড পেতে চান তাহলে গুগল অথিন্টিকেটর নামের অ্যাপ নামিয়ে নিতে পারেন। এই অ্যাপ ইন্টারনেট ছাড়াই আপনাকে কোড জেনারেট করে দিবে।

ফিসিং থেকে সাবধান :

কেমন হবে যদি আপনি হঠাৎ করে একদিন মেইল চেক করে দেখেন যে আপনি ১ লক্ষ টাকার লটারি পেয়েছেন এবং নিচে তাদের ফেইসবুকের লিংক দেয়া আছে। এর জন্য শুধু আপনাকে তাদের ফেইসবুকের লিংক এ গিয়ে লাইক দিয়ে আসতে হবে। আপনি হয়তো এটা দেখে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যবেন এবং সাথে সাথে তাদের ফেইসবুক লিংক এ ক্লিক করে লগ ইন করবেন।

কিন্তু এই লগ ইন করার পর আপনার খুশির মুহূর্ত দুঃখে পরিনত হবে। কারন ওই লিংকটা ফিসিং ছিলো। আপনি লগ ইন করার সাথে সাথে হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড পেয়ে যাবে। তাই অন্য কোথাও থেকে লিংকে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই শিওর হয়ে নিবেন যে সেটি আসলেই ফেইসবুক কিনা নাকি একই রকম দেখতে অন্য কোন ওয়েবসাইট। এছাড়া আপনারা যদি উন্নত মানের ব্রাউজার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে ব্রাউজারই আপানাকে এলার্ট করে দিবে।

সঠিক ইনফরমেশন দিয়ে একাউন্ট খোলা :

ফেইসবুকে এই দিকটা অনেকেই খেয়াল করেছেন যে এমন অনেকেই আছে যারা নিজেদের আসল নাম পরিচয় না দিয়ে এঞ্জেল অমুক, এঞ্জেল তমুক, নীল আকাশ এই রকম নাম দিয়ে থাকে। কিন্তু ফেইসবুক আপনার একাউন্ট ব্যান করে দিলে আসল ডকুমেন্টর নাম পরিচয় না ম্যাচ করলে একাউন্ট ফিরিয়ে আনতে পারবেন না।

এখন অনেকে ভাবতে পারেন ফেইক NID তৈরি করে একাউন্ট ফিরিয়ে আনবো। কিন্তু ফেইসবুক আজকাল স্মার্ট হয়ে গিয়েছে। আপানার চালাকি সহজেই ধরে ফেলবে। তাই আপনার উচিৎ আসল ইনফরমেশন, ই-মেইল, ফোন নাম্বার দিয়ে একাউন্ট খোলা।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন