মাল্টিপারপাস চকোলেট সস

মাল্টিপারপাস চকোলেট সস

আমি আজ আপনাদের সাথে একটা চকোলেট সসের রেসিপি শেয়ার করব। এই চকোলেট সসটাকে আমি মাল্টিপারপাস চকোলেট সস বলে থাকি। এর অনেক গুলো কারণও আছে। যেমন আপনি এই চকোলেট সস দিয়ে আইসক্রিম ডেকোরেট করতে পারবেন। আপনি এটা দিতে কোল্ড কফি বানাতে পারবেন। আবার ইচ্ছা হলে চকোলেট কেকের উপর আইসিং হিসেবেও এই চিকোলেট সস আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু তাই না। আপনি এই চকোলেট সস দিয়ে একটু ভিন্ন স্বাদের কাস্টার্ডও বানাতে পারবেন। এই কারণে আমার মনে হয় এই চকোলেট সসের নামকরণের জন্য মাল্টিপারপাস চকোলেট সস একেবারেই যথার্থ হয়েছে।

বাজারে কিন্তু রেডি মেড চকোলেট সস কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু ঐ চকোলেট সস গুলো বিদেশি হওয়ায় অনেক বেশি খরচ করেই সেগুলো আমাদের কেনা লাগে। আর তাছাড়া এই সব চকোলেট সস গুলোতে যথেষ্ঠ বেশি পরিমাণেই প্রিজারভেটিভ দেয়া থাকে যাতে করে নরমাল রুম টেম্পারেচারে বহু দিন যাবত এগুলো ভাল থাকতে পারে। আর আমরা সবাই জানি এই সব প্রিজারভেটিভ আমাদের বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্য আসলে কতটা ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। এজন্য এই সব বাজারের চকোলেট সস না কিনে যদি ঘরেই চকোলেট সস বানিয়ে নেয়া যায় তাহলে কিন্তু একেবারেই মন্দ হয় না। তাহলে চলুন দেরি না করে কিভাবে ঘরে বসেই মজাদার মাল্টিপারপাস চকোলেট সস বানিয়ে নেয়া যায় তা দেখে নেয়া যাক।

মাল্টিপারপাস চকোলেট সস নাম শুনে আপনার এটা মনে হতেই পারে যে এটি বানাতে মনে হয় অনেক রকম উপকরণ দরকার হবে। কিন্তু এতী একেবারেই ভুল একটা ধারণা। হাতে গোণে মাত্র চারটি থেকে পাঁচটি উপকরণ ব্যবহার করেই আপনি কিন্তু এই মাল্টিপারপাস চকোলেট সসটি বাসায় বানিয়ে নিতে পারবেন। শুধু তাই না। এই সসটি বানানো অত্যন্ত সহজ। সেই সাথে এটি বানাতে সময় ও শ্রম লাগে অত্যন্ত কম। আপনার কাছে যদি সব উপকরণ থাকে তাহলে এখনই ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে আপনি এটি বানিয়ে ফেলতে পারবেন। তাহলে চলুন দেরি না করে কিভাবে এই মাল্টিপারপাস চকোলেট সস বানাতে হয় তা দেখে নেয়া যাক। তবে তার আগে এটি বানাতে কি কি উপকরণ কি পরিমাণে লাগবে তা জেনে নেই চলুন।

মাল্টিপারপাস চকোলেট সস বানাবার উপকরণ সমূহ

  • পানি দেড় কাপ
  • গুড়া দুধ ২ টেবিল চামচ
  • চিনি দুই টেবিল চামচ
  • কোকো পাউডার দুই টেবিল চামচ
  • কর্ণফ্লাওয়ার দুই টেবিল চামচ

মাল্টিপারপাস চকোলেট সস যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

প্রথমে একটা সস প্যানে দেড় কাপ পানি নিতে হবে। এর মধ্যে দুই টেবিল চামচ গুড়া দুধ মিশিয়ে নিতে হবে। আপনি ইচ্ছা হলে গুড়া দুধের বদলে লিকুইড দুধও ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে দুধটাকে আগে এওটু জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিতে হবে। তারপর বাকি প্রসেসটা কমপ্লিট করতে হবে।

সস প্যানে দুধ নেয়া হয়ে গেলে এর মধ্যে একে একে কোকো পাউডার, চিনি আর কর্ণফ্লাওয়ার মিশিয়ে নিতে হবে। একটা হ্যান্ড হুইস্ক দিয়ে খুব ভাল করে বিট করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে সব কিছু যেন খুব ভাল করে একে অন্যের সাথে মিশে যায়। আর একটা জিনিস লক্ষ্য রাখতে হবে। সেটা হচ্ছে এই দুধের মশ্রণে যেন কোন লাম্পস না থাকে সে ব্যাপারটা খুব লক্ষ্য রাখতে হবে। একদম স্মুথ ভাবে সব কিছু মিশিয়ে নিতে হবে।

এই বার চুলা জ্বালিয়ে দিতে হবে। প্রথমে চুলার আঁচ মিডিয়াম রাখতে হবে। চার থেকে পাঁচ মিনিট পর দুধের মিশ্রণে বলক উঠে যাবে। তখন চুলার আঁচ একদম কমিয়ে দিতে হবে। এরপর আর দশ থেকে পনেরো মিনিট এই চকোলেট সসের মিশ্রণ জ্বাল দিতে হবে। এই সময়ে অনবরত একটা চামচ দিয়ে এটি নাড়তে থাকতে হবে। তা না হলে চকোলেট সস সস প্যানের তলায় লেগে যাবে। প্রায় বিশ মিনিট পর দেখবেন চকোলেট সস অনেকটাই ঘন হয়ে এসেছে। এই বার আপনার পছন্দ মত ঘনত্ব রেখে সসটি চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। চকোলেট সসটি পুরোপুরি ঠান্ডা হবার পরে আরো একটু ঘন হবে। এই ব্যাপারটা বুঝেই আপনি চুলা থেকে চকোলেট সস নামিয়ে নিবেন।

এই বার দুই থেকে তিন ঘন্টার জন্য চকোলেট সসটি রুম টেম্পারেচারে রেখে দিতে হবে। তারপর ফ্রিজে রেহে দিতে হবে আরো দুই থেকে তিন গহন্টা। ব্যাস ঠান্ডা ঠান্ডা মাল্টিপারপাস চকোলেট সস রেডি। এই বার আপনার পছন্দ অনুযায়ী যখন ইচ্ছা তখন ব্যবহার করতে পারবেন এই মালিপারপাস চকোলেট সস।

মাল্টিপারপাস চকোলেট সস সংরক্ষণ করবার পদ্ধতি

আপনি যদি চকোলেট সসটি এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবহার করে ফেলতে চান তাহলে এটি নরমাল ফ্রিজে সংরক্ষণ করলেই হবে। তবে যদি আপনি আরো লম্বা সময়ের জন্য এই মাল্টিপারপাস চকোলেট সস ব্যবহার করতে চান তাহলে অতি অবশ্যই ডিপ ফ্রিজ সংরক্ষণ করবেন। এই মাল্টিপারপাস চকোলেট সসটি ডিপ ফ্রিজে এক মাস পর্যন্ত ভাল থাকতে পারে। শুধু ব্যবহার করার দুই থেকে তিন ঘন্টা আগে এটি ডিপ ফ্রিজ থেকে বের করে নিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে চকোলেট সসটি গলে যাবে। তখন নিজের ইচ্ছা মত চকোলেট সসটি ব্যবহার করে আবার ডিপ ফ্রিজে তুলে রাখতে হবে।

 

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন