সুস্থ্য থাকতে টুকটাক সচেতনতা

“স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল” একথা তো আমাদের সকলের জানা। তবুও কি সুখের রাস্তাটা আমরা প্রস্তুত রাখতে পারি সবসময়? পারি না কারণ অসুস্থতা জীবনের অংশ, এটাকে বাদ দিয়ে কারো পক্ষেই জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা অসুস্থতাকে গ্রহণ করে নিয়ে জীবনযাপন করতে পারি না কারণ অসুস্থতা আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় একটা বড় বাধা। তবে কিছু কিছু সচেতনতা আমাদেরকে সুস্থ্য রেখে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে পারে। আসুন সেগুলো কি টা জেনে নেই।

মুখে দুর্গন্ধের প্রতিকারঃ

মুখের বাজে দুর্গন্ধ হ্যালোটসিস নামে পরিচিত। এটা খুব সাধারন একটা সমস্যা কিন্তু এর ফলাফল খুব লজ্জাজনক। এই সমস্যার কারণে আমরা মানুষের সাথে মিশতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, সব সময় হীনমন্যতা কাজ করে আমাদের মধ্যে। নানা কারণে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। যেমনঃ ধুমপান, মাদক সেবন, দাঁত ও মাড়ির ইনফেকশন, ফুসফুস-লিভারের অসুখ, সাইনোসাইটিস, ডায়াবেটিস ও জ্বর মুখে দুর্গন্ধের কারণ। এর প্রতিকার খুব সহজ। মুখের এই দুর্গন্ধ দূর করতে টক দই খান। চিনি বিহীন দইয়ে থাকা ব্যাক্টেরিয়া মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে।

মাথা ব্যথা কমানোর উপায়ঃ

মাথা ব্যথা একটি স্বভাবিক সমস্যা। মাথা ব্যথায় কখনো কষ্ট পেতে হয়নি, এমন মানুষ পাওয়া বিরল। সময়ে সময়ে মাথা ব্যথা এতটাই অসহ্য হয়ে ওঠে যে, কাজ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। কিন্তু আপনার নিয়মিত মাথা ব্যথা হয়? তাহলে মাথা ব্যথা নিয়ে আর মাথা ব্যথা করতে হবে না। আজ থেকে প্রচুর মাছ খাওয়া শুরু করুন। প্রতি দিনের খাদ্যতালিকায় মাছ রাখুন। কারণ মাছের তেল মাথা ব্যথা প্রতিরোধে বেশ সহায়ক।

মাথা ব্যথা কমাতে আদাও বেশ উপকারী ভূমিকা পালন করে। মাথা ব্যথা হলে চট করে একটু আদা খেয়ে ফেলতে পারেন। অনেকাংশে উপকার পাবেন আশা করছি।

 

নখের কোণায় ফাঙ্গাসের প্রতিকার

 

বর্ষারকালে অনেকেরই নখের কোণায় ফাঙ্গাস জমে।  বেশ সাধারণ একটি সমস্যা এটা। তবুও এই অসুখের ওষুধ সব সময় হাতের কাছে পাওয়া যায় না। কিন্তু এই সমস্যাটি সহজ উপায়ে আপনি দূর করতে পারেন মাউথওয়াশ দ্বারা। প্রতিদিন দুবার যে কোনো মাউথওয়াশে পায়ের ফাঙ্গাস আক্রান্ত অংশে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। কিছুদিনের মধ্যেই এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

ভাবছেন তো, মাউথওয়াশ কিভাবে ফাঙ্গাস দূর করতে পারে! পারে কারণ মাউথওয়াশে থাকা অ্যান্টিসেপটিক উপাদান নখের ফাঙ্গাস দূর করতে সাহায্য করে।

 

একজিমার প্রতিকারঃ

 

একজিমা একটি খুব পরিচিত অসুখ। কম বেশি সকলেই একবার হলেই এই অসুখের সম্মুখীন হয়েছেন। এই অসুখও আমাদের মানুষের সাথে স্বাচ্ছন্দ্যভাবে মেলামেশায় বাঁধা প্রদান করে এবং সহজে আমাদের ছেড়ে যেতেও চায় না। এমন গা ন্যাওটা অসুখ দূর করতে অলিভ অয়েলের বিকল্প নাই। অলিভ অয়েলে থাকে ভিটামিন “ই” যা  ত্বকের নমনীয়তা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

গোসল করার পর হালকা ভেজা ত্বকে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল লাগান তাহলে একজিমা সহজে এবং দ্রুত দূর হয়ে যাবে।

 

হেচকির প্রতিকারঃ

 

হেচকি বেশ বিরক্তিকর একটা সমস্যা এবং খুব আনপ্রেডিকটেবলও। এটা কখন শুরু হুবে, কখন শেষ সেটা বোঝা বা বলা খুব মুশকিল।কিন্তু মজার বিষয় কি জানেন, এই বিব্রতকর হেচকি থেকে  মুক্তি  পেতে এক চামচ চিনিই যথেষ্ট।  বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে জেনে নিন চিনি কিভাবে হেচকি থামাতে সাহায্য করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে গেলে হেচকির উৎপত্তি হয়। তাই হেচকির সময় এক চামচ চিনি জিহ্বায় মিষ্টি স্বাদ দেয় যা  স্নায়ূ শীতল করতে ও হেচকি দূর করতে সাহায্য করে।

 

অবসাদ দূরীকরণ উপায়ঃ

বর্তমান সময়ে অবসাদ আমাদের জীবনের একটা অবিচ্ছেন্দ্য অংশ হয়ে গেছে। আমরা সকল চিন্তাভাবনাকে পিছে ছেড়ে আসলেও অবসাদ আমাদের ছাড়তে চায় না।কিন্তু একে দূরীকরণের উপায় আছে। পেপারমিন্ট বা দারুচিনির গাম অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে। যদিও এটা পুরোপুরি অবসাদ দূর করতে পারে না তবে ২০% অবসাদ কমিয়ে আমাদের সুস্থ্য থাকতে সাহায্য করে। এবং এক গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে যে, দারুচিনি ফ্লেভারের চুইংগাম একজন মানুষের ৩০ শতাংশ সচেতনতা বৃদ্ধি  করে এবং তাদের  ২৫% দুশ্চিন্তাও দূর করতে সাহায্য করে।

 

আঁচিল দূরীকরণ উপায়ঃ

 

আঁচিল সরানোর নিয়ম দেখে বেশ অনাক হচ্ছেন তাই না? হ্যাঁ অবাক হওয়ারই কথা কারণ আঁচিল দূর করা একটা অসম্ভব কাজ বলে সর্বজন স্বীকৃত। তবে অবাক হলেও সত্যি যে আঁচিল দূর করা যায়। আঁচিল দূর করতে ডাক্টটেপ ব্যবহার করুন। ডাক্ট টেপ  ব্যবহার করে আঁচিল দূর করতে ৮৫% মানুষ সফল হয়েছে।

 

আঁচিলের উপর উপর এক সপ্তাহ ডাক্ট টেপ লাগিয়ে রাখুন। ৭ দিন পরে টেপ খুলে আঁচিলের জায়গাটা ঝামা পাথর দিয়ে ঘুষুন। এভাবে আপনি বিরক্তিকর আঁচিল থেকে মুক্তি পাবেন।

 

ভ্রমণ জনিত শারিরিক সমস্যার সমাধানঃ

 

বাসে যাত্রা করলে অনেকেরই বমি হওয়া বা বমি বমি ভাব হয়ে থাকে। কিন্তু যদি আপনি চাকরির সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমিয়ে থাকেন তবে বাস ছাড়া আপনার(বেশিরভাগ মানুষের) যাতায়াতের কোন উপায় নাই। সেক্ষেত্রে আপনার এই সমস্যা আপনার জন্য একটা বেশ বড় বিপদ বয়ে আনতে পারে। সে বিপদ থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারবে লেবুর রস বা জলপাই। লেবু এবং জলপাইয়ে আছে ট্যানিন যা বমিভাব দূর করতে সাহায্য করে।
বাসা থেকে বের হওয়ার সময় একটু লেবুর রস বা একটা জলপাই মুখে দিয়ে বের হলে আপনার আর বমি বা বমি বমি ভাব হবে না।

 

ব্রণের প্রতিকারঃ

 

ত্বকে ব্রণের সমস্যা হয় আপনাদের চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। এই সমস্যা দূর করতে হলে একটি টমেটো কেটে বা ছেঁচে এর  রস পুরো ত্বকে বিশেষত্ব ব্রণের এলাকায়  ভাল ভাবে লাগান।  এক ঘন্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। টমেটোর রসে আছে প্রচুর ভিটামিন “সি” এবং “এ”, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যাসিডিক উপাদান যা ত্বক সুস্থ্য রাখতে বিশেষ উপকারী। এভাবে দিনে এক বার করে টানা এক সপ্তাহ ব্রণের জায়গায় টমেটোর রস ব্যবহার করুন। তাহলে ব্রণের সমস্যা থেকে অনায়াসে মুক্তি পেয়ে যাবেন।

 

 

 

জ্বরে আরামঃ

জ্বর হলে প্রচুর পানি পান করুন। পানি বা তরল খাবার জ্বর সারাতে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও জ্বর নিরাময়ে দইও বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দই চিঁড়া হতে পারে জ্বরে প্রধান ওষুধ।

জ্বর সারাতে ফল ও মধুও বেশ কার্যকর।

 

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর উপায়ঃ

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে চা পান করুন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত চা পান করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়।

 

হাঁপানি কমানোর উপায়ঃ

হাঁপানির সমস্যা থাকলে অবশ্যই কাঁচা পিঁয়াজ খাওয়ার অভ্যাস করুন। শ্বাস নালীর সংকোচন রোধে কাঁচা পেয়াজ বেশ কার্যকর ফলে হাঁপানির সমস্যাও অনেকটা কমে।

 

অনিদ্রা দূর করণের উপায়ঃ

অনিদ্রা বর্তমান সময়ের খুব পরিচিত একটা সমস্যা। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে চেহারার লাবণ্য তো নষ্ট হয়ই সাথে স্বাস্থ্যেরও অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই অনিদ্রা দূর করা একান্তই জরুরী।

অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে মধু বেশ উপকারী। কুসুম গরম দুধের সাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে শোবার আগে পান করুন। দেখবেন, কত ভালো ঘুম হয়েছে আপনার!

 

 

ঠাণ্ডা লাগা থেকে রক্ষা পেতে করনীয়ঃ

যাদের ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা আছে তারা নিয়ম করে প্রতিদিন রসুন খেতে পারেন, বেশ উপকার পাবেন। যদি কাঁচা চিবিয়ে না খেতে পারেন তবে সমস্যা নাই। ডালের সাথে মিশিয়ে খাবেন।

 

সকালের অসুস্থতা (Morning sickness) দূর করতে করনীয়ঃ

অনেকেরই সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার পর বমি বমি হয়। এই বমি বমি ভাব রোধ করতে প্রতিদিন সকালে একটু আদা চিবিয়ে খেতে পারেন।যদি চিবিয়ে খেতে ঝাঁঝ লাগে তবে রস করে খেতে পারেন।

 

পেট ব্যথা কমাতে করনীয়ঃ

পেট ব্যথা কমাতে কলা ও আদা বেশ কার্যকর। শুধু পাকা কলা নয়, কাঁচা কলাও ভীষণ উপকারী। এবং পেটের দীর্ঘমেয়াদি অসুখে নিয়মিত কাঁচা কলার তরকারি খান, অনেকটা সুস্থ্য থাকবেন।

 

আমার এই স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপসে যদি আপনি কিছুটা উপকার পেয়ে থাকেন তাহলে আমাদের সাথেই থাকুন। আশা করি

মন্তব্যসমূহ

কল্পবিলাসী আমি বাস্তবতা থেকে অজ্ঞাত নই। আমি সেই বিহঙ্গিনী যে ডানা ভর্তি ভালোবাসা নিয়ে পাখা মেলতে চাই চিলের সাথে সুদূর আকাশে.. ডানা ঝাপটিয়ে লিখে যেতে চাই স্বরচিত কল্পকথা ও মুক্তির মন্ত্র I

মন্তব্য করুন