মজাদার ও স্বাস্থ্যকর ওটস আম স্মুদি

মজাদার ও স্বাস্থ্যকর ওটস আম স্মুদি

আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি কোন খাবারের নাম যদি কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয় তবে সব থেকে বেশি উত্তর আসবে ওটস। যদিও এই খাবারটি খেতে খুব একটা টেস্টি না। তবুও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আমাদের মধ্যে অনেকেই ওটস নিয়মিত খেয়ে থাকেন। কেমন হয় এই স্বাদহীন বোরিং খাবারটাকে যদি মজাদার করে বানানো যায়। এতে করে স্বাস্থ্য রক্ষাও হবে। সেই সাথে স্বাদেরও কোন হেরফের হবে না। আজ আমি এমনি একটি রেসিপি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। সেটি হচ্ছে ওটস আম স্মুদি। আমকে বলা হয়ে থাকে মধু ফল। আর ওটস এর মত বিস্বাদ একটা খাবার এর সাথে এই মধু ফল যোগ করেই বানানো হবে এই ওটস আম স্মুদি। এক বার এই ওটস আম স্মুদি বানিয়ে খেয়েই দেখুন না। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি এরপর থেকে আপনি আর ওটসকে বিস্বাদ খাবার বলতেই পারবেন না।

ওটস আম স্মুদি এর স্বাস্থ্য গুণ

বাজারে যত রকম ফল কিনতে পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে স্বাদের দিক থেকে আম সেরাদের মধ্যে সেরা। কিন্তু আপনি কি জানেন আম শুধু স্বাদেই সেরা না। আমরা যদি আম এর পুষ্টি গুণ বিচার করতে যাই তাহলেঅ আম অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল গুলোর তালিকার মধ্যেই পড়বে। আমের মধ্যেয়াছে প্রচুর পরিমাণে নানা রকমের এন্টি অক্সিডেন্ট প্রপার্টিজ। যার কারণে আম আমাদের কোলন ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার আর ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও আমের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণে পেকটিন, ভিটামিন সি ও ফাইবার যা আমাদের সিরাম কোলেস্টেরল লেভেল কমাতে অনেক সাহায্য করে থাকে। ফ্রেশ আমে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। এই পটাশিয়াম আমাদের হার্ট রেট আর ব্লাড প্রেসার কন্ট্রোল করতে সাহায্য করতে পারে। এগুলো ছাড়াও আমের মধ্যে আছে টারটারিক এসিড, মালিক এসিড ও খুব অল্প পরিমাণে সিট্রিক এসিড। এই উপাদান গুলো শরীরের অ্যালকাইল রিসার্ভ ঠিক রাখতে সাহায্য করে থাকে।

এই বার আসি ওটসের স্বাস্থ্য গূণ নিয়ে আলোচনা করতে। ওটস এর মধ্যে বেটা গ্লুকোন নামে একটা ফাইবার ভরপুর মাত্রায় থাকে। এই বেটা গ্লুকোন এর প্রচুর উপকারিতা আছে। তবে এর প্রধাণ কাজ হচ্ছে এটি শরীর থেকে ব্যাড কোলেস্টেরল কমিয়ে ফেলতে খুব বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও ওটস এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস ও ফ্লাভনয়েডস আছে। এই সব কয়টী উপকরণই আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ওটস আম স্মুদি বানাতে যে যে উপকরণ দরকার হবে

  • বড় পাকা আম ১টি (পাল্প করে নিতে হবে)
  • ওটস ১/২ কাপ
  • লো ফ্যাট দুধ পরিমাণ মত
  • চিনি কিংবা মধু পরিমাণ মত
  • বরফের টূকরো ৪ থেকে ৫টি

ওটস আম স্মুদি যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

১ম ধাপ

রাতের বেলা ওটস পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। যেহেতু এই স্মুদি বানাবার জন্য ওটস রান্না করা হবে না। এজন্য অন্তত ছয় ঘন্টা থেকে সাত ঘন্টা ওটস পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

২য় ধাপ

একটা পাকা বড় আম নিতে হবে। আমের পাল্প বের করে নিতে হবে।

৩য় ধাপ

এখন বিভিন্ন সুপার শপেই স্কিম মিল্ক বা লো ফ্যাট মিল্ক সব কিছুই কিনতে পাওয়া যায়। তবে আপনি যদি এই দুই রকম লিকুইড দুধের কোনটাই খুজে না পান তবে আপনি বাড়িতেই লো ফ্যাট মিল্ক বানিয়ে নিতে পারেন। এজন্য আপনাকে এক কাপ দুধের সাথে এক কাপ পানি মিশিয়ে নিতে হবে। এই বার এই দুধটা চুলায় ফুটতে দিতে হবে। দুধটা ফুটে গেলে উপর থেকে সর উঠিয়ে ফেলতে হবে। খুব বেশি ভাল হয় আপনি যদি দুধটা ছেকে নিয়ে সরটা পুরোপুরি আলাদা করে ফেলতে পারেন। আসলে দুধের প্রায় সমস্ত ফ্যাটই এর সরের মধ্যে থাকে। এজন্য দুধ পাতলা করে জ্বাল দিয়ে এর থেকে সর সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেললে দুধটা লো ফ্যাট মিল্ক হয়ে যায়।

৪র্থ ধাপ

এই বার একটা ব্লেন্ডারে প্রথমে আম নিতে হবে। এর সাথে সারা রাত ভিজিয়ে রাখা ওটস আর লো ফ্যাট দুধ যোগ করতে হবে। আম যদি মিষ্টি হয় তবে আলাদা করে চিনি কিংবা মধু যোগ করার দরকার পড়ে না। তবে আপনার যদি মিষ্টি বেশি পছন্দ হয় তবে সামান্য চিনি যোগ করতে পারেন। আরো ভাল হয় যদি চিনির বদলে মধু যোগ করা যায়। এরপর এই সব গুলো উপকরণ খুব ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। ব্যাস রেডি মজাদার ওটস আম স্মুদি। এই স্মুদিটি বানাবার পর এক ঘন্টা থেকে দুই ঘন্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে ঠান্ডা হবার জন্য। ওটস আম স্মুদি ঠান্ডা হয়ে গেলে প্রথমে গ্লাসে বরফ দিতে হবে। এর পরে উপর থেকে স্মুদি ঢেলে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করতে হবে।

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন