তৈলাক্ত ত্বকে মেকআপ দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে যা করণীয়

তৈলাক্ত ত্বকে মেকআপ দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে যা করণীয়

সব ধরণের ত্বকের থাকে নিজস্ব কিছু গুনাগুন। তেমনি তৈলাক্ত ত্বকে রয়েছে কিছু উপকারিতা। এ ধরণের ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না, সেই সাথে ত্বকে সব সময় প্রাকৃতিক আদ্রতা বজায় থাকে। তবে সবকিছুরই ভালো মন্দ দুটি দিক থাকে। তৈলাক্ত ত্বকের প্রধান কিছু সমস্যার মধ্যে একটি হচ্ছে এ ত্বকের জন্য সঠিক মেকআপ পণ্য নির্বাচন করা অনেকটা কঠিন হয়ে যায় এবং ত্বকে মেকআপ দীর্ঘ সময় স্থায়ীও হয় না। যারা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্যই আমাদের এ আয়োজন। এই আর্টিকেলে আমরা জানিয়ে দিব তৈলাক্ত ত্বকে মেকআপ দীর্ঘ সময় ধরে রাখার টিপস। তবে আসুন জেনে নেই টিপসগুলো কি কি-

ত্বকের মৃত কোষ : এক্সফোলিয়েশন বা ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর করা অবশ্যই জরুরি। তবে সেজন্য খুব বেশি স্ক্র্যাব কিংবা পিল মাস্ক ব্যবহার করবেন না। কারণ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সবসময় মাইল্ড এক্সফোলিয়েশন উত্তম!

ত্বক পরিষ্কার করা : এবার আসি ক্লিনজিংয়ের ব্যাপারে। মেকআপ দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী করতে চাইলে প্রথমেই মুখ পরিষ্কার করে নেয়া উচিত। এতে ত্বক থেকে তেল ও ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করা : তৈলাক্ত ত্বকে মেকআপ প্রয়োগের কিছুক্ষনের মাঝেই মেকআপ মুখের পোরস বা ছিদ্রে জমে গিয়ে বিশ্রী এক অবস্থার সৃষ্টি করে। এতে মেকআপ কেমন যেন ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। এ ধরণের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে ক্লিনজিংয়ের পরপর ত্বকে টোনার লাগিয়ে নিবেন। এতে করে মেকআপ যেমন মসৃন হবে তেমনি দীর্ঘক্ষণ স্থায়ীও হবে।

ময়শ্চারাইজিং: তেল মুক্ত, নন ক্রিম বেজড ময়শ্চারাইজার দিয়ে ত্বককে ময়শ্চারাইজ করুন। এসপিএফ ১৫ বা এর অধিক এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। সানস্ক্রিন কেনার আগে সবসময় খেয়াল রাখবেন এর উপাদানগুলির মধ্যে জিঙ্ক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড আছে কি না, যেহেতু এসব উপাদানে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

প্রাইমার : আপনি যদি ত্বকে ৫ ঘন্টারও বেশি সময় মেকআপ ধরে রাখতে চান, তবে আপনার মেকআপ বেস শুরু করুন ম্যাট প্রাইমার দিয়ে। এ প্রাইমার আপনার ত্বকে দীর্ঘক্ষন মেকআপ দৃঢ়ভাবে আটকে রাখতে সাহায্য করবে।

সঠিক কন্সিলার নির্বাচন : যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা কন্সিলার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্টিক কন্সিলারগুলো নির্বাচন করুন। ব্রাশ বা স্পঞ্জের পরিবর্তে রিং ফিঙ্গারের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিবেন। তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা অয়েল বেজড লিকিউড কন্সিলার অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন। আপনারা ত্বক উপযোগী স্পট কারেক্টর কন্সিলার পেনও বেছে নিতে পারবেন।

সঠিক ফাউন্ডেশন নির্বাচন : তৈলাক্ত ত্বকের জন্য দীর্ঘ স্থায়ী ফাউন্ডেশন কিনতে চাইলে তেল ও সুগন্ধিহীন ফাউন্ডেশন বেছে নেয়া ভালো। তৈলাক্ত ত্বকে ভালো করে ফাউন্ডেশন বসাতে ফাউন্ডেশন ব্রাশ ব্যবহার করুন। সেই সাথে ত্বকের কালচে দাগ ঢাকতে রিং ফিঙ্গারের উপরিভাগের সাহায্যে ফাউন্ডেশন ঘষে নিবেন। ফাউন্ডেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেকআপ স্পঞ্জ এড়িয়ে চলতে হবে।

সঠিক আইশ্যাডো নির্বাচন : তৈলাক্ত ত্বক আইশ্যাডো নির্বাচনেও হতে হবে সচেতন। এ ধরণের ত্বকে ক্রিম প্যালেটের চেয়ে পাউডার আইশ্যাডোটাই বেশি উপযোগী। আইশ্যাডো দিতে আঙ্গুল নয় বরং ভালো মানের আইশ্যাডো ব্রাশ ব্যবহার করুন।

ব্লাশ বাছাই : ব্লাশ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবসময় পাউডার ব্লাশকে প্রাধান্য দিন এবং ব্লাশ ব্যবহারের সময় বড় আকারের ব্লাশ ব্রাশের সাহায্য নিন। তৈলাক্ত ত্বক যাদের তারা স্টিক ব্লাশ কিংবা ক্রিম বেজড ব্লাশ থেকে দূরে থাকাটাই ভালো।

লিপস্টিকের ধরণ : গ্লসি বা চকচকে লিপস্টিক ব্যবহারে ত্বক অনেকখানি তৈলাক্ত দেখায়। তাই এমন ত্বকের ম্যাট লিপস্টিক বেশি মানানসই। লিপস্টিক ব্যবহারের পর ঠোটে সামান্য পাউডার ছিটিয়ে দিতে পারেন। অন্যদিকে, লিপগ্লস ব্যবহার করতে চাইলে উপর ও নিচের ঠোটের মাঝ অংশে লাগিয়ে নিবেন। এতে ঠোট খুব বেশি চকচকে না হয়ে হালকা গ্লসি ভাব আসবে।

এবার তো জেনে গেলেন তৈলাক্ত ত্বকে মেকআপ ধরে রাখার প্রয়োজনীয় কিছু টিপস। ত্বকের তেল ও মেকআপে মাখামাখি হয়ে আপনাকে আর নিশ্চয় নাজেহাল হতে হবে না!

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন