টকদই দিয়ে কাঁচকলার খোসা ভর্তা

টকদই দিয়ে কাঁচকলার খোসা ভর্তা

শিরোনাম দেখে নিশ্চই বেশ অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন কাঁচকালার ভর্তা তো শুনেছি, কিন্তু কাঁচকলার খোসার ভর্তা আবার কি? কাঁচকলার খোসা আবার কেউ খায় নাকি? আসলে কাঁচকলার খোসা কিন্তু খাওয়া যায়। আর যদি সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে কাঁচকলার খোসা রান্না করা হয় তবে কাঁচকলা থেকে কাঁচকলার খোসা দিয়ে বানানো সবজি বেশি টেস্টি হয়ে থাকে। আর সব থেকে বেশি ভাল লাগে যদি কাঁচকলার খোসা ভর্তা করে খাওয়া যায়।

আমরা যখন সবজি রান্না করি তখন বেশির ভাগ সবজির খোসাটা ছিলে আগে ফেলে দেই। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে সবজির এই খোসাতেই সব থেকে বেশি ফাইবার থাকে। এই ফাইবার আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফাইবার আমাদের হজমে সাহায্য করে, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে, শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে, আরো না জানি কত উপকার করে। আর সবজির খোসাতে ফাইবার ছাড়াও সবজির মধ্যকার অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই আমরা যখন সবজির খোসা ফেলে দেই তখন আসলে সবজির সব থেকে মূল্যবান ও পুষ্টিকর অংশটাই ফেলে দেই। এজন্য আমাদের উচিত সবজির খোসা ফেলে না দিয়ে যতটা সম্ভব সেগুলোকে বিভিন্ন ভাবে রান্না করে খাওয়া।

কলার খোসা দেখে অনেকের অরুচি লাগতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি কলার খোসার বাইরের অংশটা চেচে তুলে ফেলতে পারেন। চিচিঙ্গার বাইরে অংশ যেভাবে চেচে তুলে ফেলা হয় সেভাবে কলার খোসার বাইরের সবুজ অংশটা তুলে ফেলা যায়। তবে এটা না তুললেও চলে। শুধু ভাল করে কাঁচকলার খোসাটা ধুয়ে ফেললেই হল।

টকদই দিয়ে কাঁচকলার খোসা ভর্তা শুনতে একটু আহামরি লাগলেও এটা কিন্তু মোটেও আহামরি কঠিন কোন রেসিপি নয়। আর এটা বানাতে যে সমস্ত উপকরণ দরকার হয় সেগুলোও অনেক সাধারণ। আপনার হাতের কাছেই আপনি এই সব গুলো উপকরণ পেয়ে যাবেন। আসুন দেরি না করে টকদই দিয়ে কাঁচকলার খোসা ভর্তা বানাতে কি কি উপকরণ দরকার হবে তা জেনে নেই। সেই সাথে এই ভর্তাটা কিভাবে বানাতে হবে তাও জেনে নেয়া যাক।

টকদই দিয়ে কাঁচকলার খোসা ভর্তা বানাতে যা যা লাগবে

  • কাঁচকলার খোসা কুচি ১ কাপ
  • পানি পরিমাণ মত
  • সরষের তেল ২ টেবিল চামচ
  • মিহি করে কুচি করা পেঁয়াজ ২ চা চামচ
  • মিহি করে কুচি করা রসুন ১ চা চামচ
  • মিহি করে কুচি করা আদা ১ চা চামচ
  • মিহি করে কুচি করা কাঁচা মরিচ ১ চা চামচ
  • মিহি করে কুচি করা টমেটো ২ চা চামচ
  • কাশ্মিরি লাল মরিচ গুড়া ১ চা চামচ
  • ভাজা জিরা গুড়া ১ চা চামচ
  • ভাজা ধনে গুরা ১/২ চা চামচ
  • কালো গোল মরিচ গুড়া ১ চা চামচ
  • লবণ পরিমাণ মত
  • চিনি ১/২ চা চামচ
  • টকদই ১/৪ কাপ
  • মিহি করে কুচি করা ধনেপাতা ২ চা চামচ

কাঁচকলার খোসা ভর্তা যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

১ম ধাপ

প্রথমে কলার খোসা খুব ভাল করে পরিস্কার করে নিতে হবে। এরপর ছোট ছোট করে কেটে পরিমাণ মত পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে। যদি প্রেশার কুকারে সিদ্ধ করেন তবে একটা সিটি দিলেই হবে। কাঁচকলার খোসা সিদ্ধ হয়ে গেলে একটা ঝাঝড়িতে পানি ঝরাতে দিতে হবে। সিদ্ধ করে নেয়া কাঁচকলার খোসা থেকে পানি ঝরে গেলে এগুলো শীল পাটায় সুন্দর করে বেতে নিত হবে। আপনি ইচ্ছা হলে ব্লেন্ডারেও সিদ্ধ কাঁচকলার খোসা বেতে নিতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে খুব সামান্য পানি যোগ করা লাগতে পারে মিহি সফট ভর্তার জন্য।

২য় ধাপ

একটা বাটিতে টকদই নিতে হবে। এর মধ্যে চিনি, ভাজা জিরা গুড়া, ভাজা ধনে গুড়া আর কালো গোল মরিচ গুরা মিশিয়ে নিতে হবে। খুব ভাল করে ফেটে নিতে হবে।

৩য় ধাপ

একটা ফ্রাইং প্যানে সরষের তেল গরম করতে হবে। সরষের তেল গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে মিহি করে কুচি করা পেঁয়াজ দিতে হবে। সেই সাথে মিহি করে কুচি করা রসুন, কাঁচা মরিচ ও আদা দিতে হবে। অনেকে অবশ্য খাবার এর মধ্যে মুখে আদার টুকরা পড়লে খুব বিরক্ত বোধ করে থাকেন। আপনিও যদি সেই দলের হয়ে থাকেন তবে আদা কুচির বদলে হাফ চা চামচ আদা বাটাও দিতে পারেন।

এই মশলা গুলো বেশ লাল লাল করে ভেজে নিতে হবে। এরপর এর মধ্যে মিহি করে কুচি করে রাখা টমেটো দিয়ে দিতে হবে। টমেটো ভাজা ভাজ করে নিতে হবে। টমেটো গলে গেলে এর মধ্যে আগে থেকে বেটে রাখা সিদ্ধ কাঁচকলার খোসা দিয়ে দিতে হবে। একই সাথে লবণ আর কাশ্মিরি লাল মরিচ গুড়া দিয়ে দিতে হবে। পাঁচ মিনিত থেকে সাত মিনিট খুব ভাল ভাবে নেড়ে চেড়ে পাক দিতে হবে।

এরপর আগে থেকে রডি করে রাখা টকদই ও গুড়া মশলার মিশ্রণ ঢেলে দিতে হবে। খুব ভাল ভাবে মিশিয়ে নিয়ে আরো তিন মিনিট থেকে চার মিনিট রান্না করতে হবে। এরপর উপর থেকে মিহি করে কুচি করে রাখা ধনে পাতা ছড়িয়ে দিতে হবে। আরো দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট খুনতি দিয়ে নেড়ে চেড়ে রান্না করতে হবে। এরপর একটা সার্ভিং বোলে সার্ভ করে গরম গরম সাদা ভাতের সাথে সার্ভ করতে হবে।

 

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন