সফল হতে যা প্রয়োজন..

 

জীবনে সফল হতে সবাই চায় । কিন্তু এই সোনার হরিণটা সবার হাতে আসে না ।
একটা শিশু যখন জানে তার খেলনা কেনা হচ্ছে না টাকার অভাবে অথবা সে কোন এক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার বাবার উপার্জন অক্ষমতার কারণে তখন সেই ছোট বাচ্চাটিও চায় সফলতার স্বর্ণশিখরে পৌছাতে । আমার মতে সুযোগ সুবিধা বলতে একটা ভালো স্কুলে পড়া, ভালো কাপড় পরা, বছরে অন্তত একবার পরিবার নিয়ে ছুটে যাওয়া এইসব প্রয়োজনীয়তাকে বোঝায় । যদিও অনেকের মতে এইগুলো বিলাসিতা । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এইগুলো বিলাসিতা নয় ।সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এইগুলো অপরিহার্য । এইটা যে শুধু আমার কথা তা নয়, এইটা বিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের কথা ।
যাই হক মূলকথায় আসি । বাচ্চাটা যখন পদে পদে এ সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কিন্তু তার স্কুলের বন্ধু বা পাশের বাসার বন্ধুটিকে এই সকল সুযোগ সুবিধা অবলীলায় পেতে দেখছে তখন সেও সফল হওয়ার স্বপ্নটি লালন পালন করতে থাকে । শিশুটা বড় হওয়ার সাথে সাথে তার প্রয়োজনও বাড়ে, চাহিদাও বাড়ে এবং অভাববোধটা আরও সুস্পষ্ট হয়, সাথে সাথে তার সফল হওয়ার জেদটাও বাড়তে থাকে । কিন্তু সকলে সফল হতে পারেনা । গোটা বিশ্বের সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখা কোটি কোটি শিশুর মধ্যে মাত্র শ’খানেক
শিশু জীবনে সফল হতে সক্ষম । স্বপ্ন তো সবাই দেখে, জেদ তো অনেকেরই আছে তাহলে সবাই পারেনা কেন ?
কারণ তাদের কি তাহলে ঈশ্বর প্রদত্ত কোন প্রতিভা(God Gifted Talent) নাই !?
আসলে সত্যি বলতে ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা নজরুলের আমল পর্যন্তই শেষ দেখা গেছে । তারপরের যত সাফল্য ও অর্জন তার মধ্যে ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা অন্তত আমি দেখিনি ।
এখন হইত বলবেন , মার্ক জুকারবারগ, সাকিব আল হাসান , বিল গেট্‌স এইরকম আরও অনেকের কথা । কারণ বর্তমানে এরাই পৃথিবী কাপিয়ে রেখেছে এবং এদের মধ্যে অধিকাংশই graduate না । তাহলে এরা কীভাবে সফল হল ?? তাদের কাছে কি তাহলে ঈশ্বর প্রদত্ত সেই ক্ষমতাই আছে……………
নাহ , এইটা পুরোপুরি সঠিক কথা নয় , কেননা তাঁরা সফল মূলত তাদের পরিশ্রমের জোরে । শুধুই তাই নয় । তাদের সফলতার পিছনে তাদের মা-বাবাও সহায়ক ভুমিকা পালন করেছেন । অর্থাৎ তাদের পরিশ্রম ও মা-বাবার সহযোগিতা তাদের সাফল্যের মূল কারণ । কিন্তু যে তাঁরাই শুধুই ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভার অধিকারী সেটা পুরোপুরি সঠিক না । হয়ত এখন আর একটা কথা আসতে পারে যে , বিল গেট্‌স যখন ছোট ছিল তখন তাঁর শিক্ষক তাঁর মা-বাবাকে দেখে বলেছিল বিল অনেক মেধাবী ছাত্র – এইটা নিঃসন্দেহে ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভাবানের পরিচয় হতে পারে ।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এইটা ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভার পরিচয় না , কারণ প্রতিটা শিশুই একটা না একটা বিশেষ গুণাবলী নিয়েই পৃথিবীতে আসে। বর্তমান যুগের বাচ্চাদেরই খেয়াল করেন, তারা কেও কি কারও থেকে কম যায় ? সবাই এত্ত এত্ত মেধাবী কিন্তু সফলতা কি সবাই পাবে ? এই ক্ষেত্রে বিল গেট্স এর একটা কথা আমার মনে আসছে –
“If you know how to use your intelligence , you can reach to your goal and target”
আসলে প্রতিভা বা ট্যালেন্ট সকলের মধ্যেই সমানভাবে থাকে কিন্তু সকলেই সেইটা অনুধাবন করতে পারে না । এই জন্য কারও কারও ক্ষেত্রে এইটা সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায় সারাজীবনের জন্য ।
আমরা যখন কাওকে কান নাড়াতে দেখি তখন অবাক হয় । ভাবি এইটা সে কিভাবে পারলো ? আমি কেন পারি না !!
কিন্তু এইটা কি জানেন কি যে প্রতিটা শিশুই জন্মের সময় কান নাড়ানোর প্রতিভা নিয়েই জন্মায় । তবুও আমরা কান নাড়াতে পারি না, কেন ? কারণ – চেষ্টা , অনুশীলন ও সাহসের অভাবে

মন্তব্যসমূহ

কল্পবিলাসী আমি বাস্তবতা থেকে অজ্ঞাত নই। আমি সেই বিহঙ্গিনী যে ডানা ভর্তি ভালোবাসা নিয়ে পাখা মেলতে চাই চিলের সাথে সুদূর আকাশে.. ডানা ঝাপটিয়ে লিখে যেতে চাই স্বরচিত কল্পকথা ও মুক্তির মন্ত্র I

মন্তব্য করুন