পাকা পেপের হালুয়া

পাকা পেপের হালুয়া

আমাদের দেশে সে সব সবজি সব সময় পাওয়া যায় তার মধ্যে একটা হচ্ছে পেপে। কাঁচা পেপে যদিও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়, তবে পাকা পেপে কিন্তু আমরা ফল হিসেবেই খেয়ে থাকি। এই মিষ্টি পাকা পেপেতে কিন্তু প্রচুর ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে যা আমাদের শরীর ভাল রাখার জন্য খুবই জরুরি। তবে আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ এই পাকা পেপে খেতে চান না। আজ তাদেরকে পাকা পেকে কিভাবে খাওয়ানো যেতে পারে সেই উপায় আপনাদের সাথে বলে দেব। পাকা পেপের হালুয়া খুব ভাল একতা উপায় হতে পারে তাদেরকে পেপে খাওয়ানোর। এই হালকা, কিচুটা টক, কিছুটা মিষ্টি হালুয়া যে কেউ চেটে পুটে খেয়ে নেবে। খাওয়ার সময় প্রথমে হয়ত বুঝতেই পারবে না যে এই হালুয়াটা পাকা পেপে দিয়ে বানানো। আর এই পাকা পেপের হালুয়া এতই টেস্টি যে যারা পাকা পেপে খান না তারাও দিত্বীয়বার এই হালুয়াটা খেয়ে দেখতে চাইবেন।

আমাদের দেশে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে ভারি খাবার খাওয়ার শেষে একটু মিষ্টি জাতীয় খাবার যেন না খেলে হয় না। কিন্তু আমাদের দেশীয় ডজার্ট গুলো সাধারণত একটু ভারি হয়। এজন্য ভরপেট খাওয়া দাওয়া করার পর অনেকের জন্য এই ডেজার্ট আইটেম গুলো এনজয় করাটা একটু কঠিন হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে এই মজাদার পাকা পেপের হালুয়া খুব ভাল একতা অপশন হতে পারে। কারণ পাকা পেপে এমনিতেই বেশ মিষ্টি হয়ে থাকে। এজন্য পাকা পেপের হালুয়াতে ঘি ও চিনি এই দুটো উপকরণের পরিমাপই একটু কম ব্যবহার করা হয়েছে। আর তাছাড়া এই হালুয়াটা বেশ নরম আর পাতলা হয়ে থাকে। তাই খাওয়ার সময় অতটা ভারী মনে হয় না। এজন্য রাতে ডিনার এর শেষে এই পাকা পেপের হালুয়া ডেজার্ট হিসেবে খুব ভাল ভাবে জমে যাবে।

পাকা পেপের হালুয়া বানাবার জন্য আপনি ম্যাশ করা কিংবা গ্রেট করা পাকা পেপে ব্যবহার করতে পারেন। পেপে যেহেতু পাকা থাকে তাই এই দুই ধরনের অবস্থার কনসিস্টেনসি প্রায় একই থাকে।

পাকা পেপের হালুয়া বানাতে যে যে উপকরণ দরকার হয়

  • গ্রেট করা পাকা পেপে ১ কাপ
  • চালের গুড়া ১ চা চামচ
  • চিনি ৪ টেবিল চামচ
  • আস্ত এলাচ ১টি থেকে ২টি
  • ঘি ২ টেবিল চামচ
  • আস্ত কাজু বাদাম ৪ থেকে ৫টি
  • আস্ত পেস্তা বাদাম ৪ থেকে ৫টি
  • আস্ত চিনা বাদাম ৪ থেকে ৫টি
  • আস্ত কাঠ বাদাম ৪ থেকে ৫টি
  • আস্ত কিশমিশ ৪ থেকে ৫টি
  • গোলাপ জল ১ চা চামচ
  • কেশর ৪ থেকে ৫ দানা

পাকা পেপের হালুয়া যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

১ম ধাপ

প্রথমে পাকা পেপে ছিলে নিয়ে গ্রেট করে নিতে হবে। আপনি চাইলে এটি ছোট ছোট করে কেটে নিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করেও নিতে পারেন। মোটামুটি এক কাপ মত গ্রেট করা কিংবা ব্লেন্ড করা পাকা পেপে আমাদের দরকার হবে।

২য় ধাপ

একটা পাত্রে গোলাপ জল নিয়ে এর মধ্যে কেশর ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে করে কেশর দানা গুলো থেকে এর রঙ ও ফ্লেভার আস্তে আস্তে গোলাপ জলের সাথে মিশে যেতে থাকবে। এবং এই দুই উপাদান মিলে মিশে খুব সুন্দর রঙ ও খুশবু তৈরী করবে।

৩য় ধাপ

একটা ছোট পাত্রে কিশমিশ গুলো ২০ মিনিটের জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। ২০ মিনিট পর কিশমিশ গুলো ফুলে উঠবে। তখন কিশমিশ গুলো থেকে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।

একটা ফ্রাইং প্যানে অল্প একটু ঘি নিতে হবে। এর মধ্যে কাজু বাদাম, প্সতা বাদাম, চিনা বাদাম ও কাঠ বাদাম দিয়ে দিতে হবে। একই সাথে ফুলে ওঠা কিশমিশ গুলোও দিয়ে দিতে হবে। সুন্দর করে এই বাদাম ও কিশমিশ গুলো ভেজে নিতে হবে। বাদাম ও কিশমিশ ভাজার সময় একটা ব্যাপার খুব খেয়াল রাখতে হবে। এই সময় কোন মতেই চুলার আঁচ বাড়ানো যাবে না। একদম কম আঁচে অনবরত খুনতি দিয়ে বাদাম ও কিশমিশ গুলো নেরে চেড়ে ভাজতে হবে। তা না হলে বাদাম পুড়ে যাবে কিংবা বেশি করা করে ভাজা হয়ে যাবে। খুব বেশি সময় ধরে এগুলো ভাজার দরকার নেই। মোটামুটি দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট সময় ভাজলেই এগুলো হালুয়াতে ব্যবহার করার জন্য রেডি হয়ে যাবে।

এরপর আপন্নি যদি হালুয়ার মধ্যে ছোট ছোট বাদামের টুকরা পছন্দ করেন তবে এগুলো আপনার পছন্দ মত ছোট ছোত টুকরা করে কুচি করে নিতে হবে। আর যদি আপনার মনে হয় বাদাম খুব বেশি ভাঙ্গার দরকার নেই তাহলে শুধু মাঝখান থেকে এগুলো দুই ভাগ করে কেটে নিলেই হবে।

৪র্থ ধাপ

এই বার একটা বড় কড়াতে বাকি ঘি টুকু দিয়ে দিতে হবে। ঘি গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে গ্রেট করা কিংবা ব্লেন্ড করা পাকা পেপে দিয়ে দিতে হবে। মিডিয়াম আঁচে নেরেচে চেড়ে রান্না করতে হবে ৩ মিনিট থেকে চার মনিট। দেখবেন এই সময়ের মধ্যে পাকা পেপে থেকে কিছুটা পানি বের হয়ে আসছে। এই পানিতেই পাকা পেপে সিদ্ধ হয়ে যাবে।

কিছুক্ষণ পর এই পাকা পেপের মধ্যে চালের গুড়া দিয়ে দিতে হবে। চালের গুড়া পাকা পেপে থেকে বের হওয়া বাড়তি রস টেনে নেবে। তা না হলে এই রান্নাটা শেষ করতে অনেক বেশি সময় লেগে যেতে পারে। এই সময়ে পরিমাণ মত চিনিও দিয়ে দিতে হবে। চিনি দেবার সময় একটা ব্যাপারে একটু খেয়াল রাখতে হবে। পেপে যদি বেশি পাকা ও মিষ্টি হয় তাহলে চিনি একটু কম লাগতে পারে। আর পেপে যদি একটু কাঁচার ধাঁচে থাকে তাহলে চিনির পরিমাণটাও বাড়িয়ে দিতে হবে। এই ব্যাপারটা সম্পুর্ণ আপনার রুচি আর আন্দাজের উপর নির্ভর করবে। এজন্য পেপে ব্লেন্ড করার সময় একটু চেখে নেবেন। তারপর পেপের মিষ্টতা বুঝে হালুয়াতে চিনি যোগ করবেন।

৫ম ধাপ

এই ভাবে বেশ খানিক্ষণ রান্না করতে হবে। এই সময়ে আগে থেকে ভেজে রাখা বাদাম ও কিশমিশ গুলো যোগ করে দিতে হবে। মোটামুটি ১৫ মিনিট থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে এই হালুয়াটা সম্পূর্ণ তৈরী হতে। এটি রেডি হয়ে গেলে আপনি নিজেই তা দেখলে বুঝতে পারবেন। পাকা পেপের হালুয়া হয়ে গেলে এর মধ্য থেকে ঘি আলাদা হতে শুরু করে। এবং সেই সাথে পাকা পেপের হালুয়ার পরিমাণও বেশ কিছুটা কমে আসে।

যখন দেখবেন হালুয়ার মধ্য থেক ঘি ছেরে দিচ্ছে তখন এর মধ্যে কেশর ভেজানো গোলাপ জলটা দিয়ে দিতে হবে। এরপর আরো দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট নাড়া চাড়া করে রান্না করতে হবে। তারপর কোন পছন্দমত সার্ভিং বোলে ঢেলে উপর থেকে বাদাম আর কিশমিশ ছড়িয়ে সার্ভ করে দিতে হবে। এই পাকা পেপের হালুয়া ঠান্দা কিংবা গরম দুইভাবেই ভাল লাগে। তবে আমি পার্সোনালি ঠান্ডা ঠান্ডা পাকা পেপের হালুয়াই বেশি পছন্দ করি।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন