সহজ ও সুস্বাদে ভরা বেসনের হালুয়া রেসিপি

সহজ ও সুস্বাদে ভরা বেসনের হালুয়া রেসিপি

বেসনের হালুয়া নাম শুনে একটু অবাক লাগছে নাকি? অবাক লাগারই কথা। কারণ আমাদের দেশে বেসন খুব পরিচিত একটি খাদ্য উপকরণ হলেও এটি শুধু নানা রকম নাস্তা বানাতেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষত রোজা রমযানের সময় ইফতার এর জন্য নানা রকম চপ কিংবা পাকোড়া বানাবার কথা তো আমরা বেসন ছাড়া চিন্তাই করতে পারি না। কিন্তু এই বেসন দয়ে মিষ্টি বানাবার কথা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছেন। আত আবার হালুয়া বানাবার কথা? মনে হয় না। চলুন আজ আমি কিভাবে বেসন দিয়ে এই মজাদার হালুয়া বানাতে হয় তা দেখিয়ে দেই।

উতপত্তি

বেসনের হালুয়া আমাদের দেশে অত বেশি প্রচলিত না হলেও এটি কিন্তু আমাদের পার্শবর্তি দেশ ভারতের খুব জনপ্রিয় একটি সুইট ডিশ। আর এই সুইট ডিশটি জনপ্রিয় হবার পিছনে যথেষ্ঠ কারণও আছে। প্রথম কারণ হচ্ছে এই বেসনের হালুয়ার টেস্ট ও সুগন্ধ। এমনিতে বোঝা যায় না। কিন্তু যখনি আপনি ঘি এর মধ্যে বেসন ভাজা শুরু করবেন, কিছুক্ষণ পর দেখবেন কি সুন্দর একটা বাদাম বাদাম ফ্লেভার আসা শুরু করেছে। এই সুন্দর ফ্লেভারটা কিন্তু বেসনের। আর এরপর যখন দুধ, চিনি ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে এই হালুয়াটা পুরোপুরি রান্না করা হয় তখন এর স্বাদ ও গন্ধ কয়েক গুণে বেড়ে যায়।

বেসনের হালুয়া বানাতে তেমন কোন আহামরি উপকরণ দরকার হয় না। আমরা অন্যান্য সাধারণ হালুয়া বানাতে যে উপকরণ গুলো ব্যবহার করি সেগুল দিয়েই কিন্তু বেসনের হালুয়াও বানাতে হয়। তবে অন্যান্য হালুয়া যেমন নারকেলের হালুয়া কিংবা মুগ ডালের হালুয়া থেকে বেসনের হালুয়া বানাতে সময় অপেক্ষাকৃত কম লাগে। মূলত বেসন ঘি এর মধ্যে ভাজার জন্য একটু সময় এর দরকার হয়। ঘি এর মধ্যে বেসন যদি ভাল মত ভাজা না হয় তবে হালুয়ার মধ্যে হালকা কাঁচা কাঁচা গন্ধ থেকে যেতে পারে। এজন্য বেসনের হাল্যা বানাবার সময় এই ধাপটি একটু সময় নিয়ে ও ধৈর্য ধরে করতে হয়। এছাড়া বেসনের হালুয়া বানাবার অন্যান্য ধাপ গুলো খুব কম সময়ের মধ্যেই হয়ে যায়। বিশেষ করে ভেজে নেয়া বেসন এর মধ্যে গরম দুধ দেবার পর বাকি রান্নাটা হতে আর মাত্র দশ মিনিট থেকে বারো মিনিট সময় এর দরকার হতে পারে।

আসুন দেরি না করে কি কি উপকরণ কি পরিমাণে ব্যবহার করে এই বেসনের হালুয়া বানাতে হয় তা দেখে নেই। সেই সাথে কোন কোন ধাপ অনুসরণ করে বেসনের হালুয়া বানাতে হবে তাও জেনে নেই চলুন।

বেসনের হালুয়া বানাবার উপকরণ সমূহ

  • ঘি ১/৪ কাপ
  • বেসন ১ কাপ
  • চিনি ১/৩ কাপ
  • দুধ ১.৫ কাপ
  • আস্ত এলাচ ১টি থেকে ২টি
  • আস্ত কাজু বাদাম ৪ থেকে ৫টি
  • আস্ত পেস্তা বাদাম ৪ থেকে ৫টি
  • আস্ত চিনা বাদাম ৪ থেকে ৫টি
  • আস্ত কাঠ বাদাম ৪ থেকে ৫তি
  • আস্ত কিসমিশ ৪ থেকে ৫টি
  • গোলাপ জল ২ চা চামচ
  • কেশর ১০ থেকে ১২ দানা

বেসনের হালুয়া বানাবার ধাপ সমূহ

১ম ধাপ

প্রথমে গোলাপ জলে কেশর ভিজিয়ে দিতে হবে। এবং একতা ছোট বাটিতে পানিতে কিশমিশ ভিজিয়ে রাখতে হবে। মোটামুটি ২০ মিনিট থেকে ২৫ মিনিট কিশমিশ গুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে করে কিশমিশ গুলো ফুলে উঠবে এবং ঘি এর মধ্যে ভাজার সময় খুব ভাল ভাবে ভাজা হয়ে যাবে।

একটা ফ্রাইং প্যানে ঘি নিতে হবে। ঘি গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে কাজু বাদা, পেস্তা বাদাম, কাঠ বাদাম ও চিনা বাদাম দিতে হবে। একই সঙ্গে কিশমিশ থেকে পানি ঝরিয়ে ফুলে ওঠা কিশমিশ গুলোও গরম ঘ এর মধ্যে ছেরে দিতে হবে। বিভিন্ন রকম বাদামের মিশ্রণ ও কিশকিশ গুলো সুন্দর করে ঘি এর মধ্যে ভেজে নিতে হবে। খুব বেশি আঁচে ভাজা যাবে না। তা না হলে বাদাম গুলো পুরে যাবার ভয় থেকেই যাবে। অল্প আঁচে আস্তে আস্তে খুনতি দিয়ে নেড়ে চেরে বাদাম ও কিশমিশ এর মিশ্রণ ভেজে নিতে হবে। বেশিক্ষণ ভাজার দরকার নেই। মোটামুটী দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট ভেজে নিলেই বাদাম ও কিশমিশ গুলো বেসনের হালুয়াতে ব্যবহার করার জন্য রেডি হয়ে যাবে। এরপর একটা পাত্রে বাদাম ও কিশমিশ উঠিয়ে রাখতে হবে।

আপনি চাইলে বাদাম গুলো একটু ঠান্ডা হবার পর আপনার পছন্দ মত শেপে কুচি করে কেটে নিতে পারেন। আবার ইচ্ছা হলে বাদাম গুলো আস্তও রাখতে পারেন।

২য় ধাপ

এই বার একটা সস প্যানে দুধ গরম হতে দিতে হবে। এর মধ্যে আস্ত এলাচ দিয়ে দিতে হবে যাতে করে এলাচ দুধের সাথে ফুটতে থাকে। এতে করে এলাচের সুগন্ধ দুধের সাথে মিশে যাবে। এবং বেসনের হালুয়া আরো বেশি ফ্লেভারফুল হবে। দুধ খুব বেশি ফুটানর দরকার নেই। দুধে বলক উঠার পর আরো দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট ফুটালেই হবে। আসলে বেসনের হালুয়া এমনি থেকেই ঘন হয়ে যায়। এর জন্য দুধকে আলাদা ভাবে ঘুন করার দরকার হয় না। তবে হালুয়ার মধ্যে অবশ্যই গরম দুধ যোগ করতে হয়। তা না হলে বেসনের ফ্লেভার ভাল মত বের হয়ে আসে না। এজন্য দুধ ফুটানোর পর চুলা বন্ধ করে সস প্যানটা অবশ্যই একটা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। এতে করে দুধ বেশিক্ষণ গরম থাকে। এই সময়ের মধ্যে বেসন ভেজে নেয়ার কাজটা সেরে ফেলতে হয়।

৩য় ধাপ

একটা বড় কড়াতে ঘি নিতে হবে। এই হালুয়া বানাবার জন্য অবশ্য একটু বেশিই ঘি দরকার হয়। তবে আপনি ইচ্ছা হলে হাফ হাফ অনুপাতে ঘি ও সয়াবিন তেলও নিতে পারেন। ঘি গরম হলে এতে বেসন দিয়ে দিতে হবে। বেসন দেবার পর চুলার আঁচ একদম কমিয়ে দিতে হবে। তা না হলে বেসন যেহেতু গুরা জিনিস, তাই চট করে নিচে পুরে যেতে পারে। এই বার খুব অল্প আঁচে আস্তে আস্তে বেসন টুকু ভেজে নিতে হবে। এই সময় অনবরত খুনতি দিয়ে বেসন নাড়া চাড়া করতে হবে। তা না হলে বেসন সমান ভাবে ভাজা হবে না। এবং বেসন থেকে পরবর্তিতে কাঁচা কাঁচা গন্ধ বের হতে পারে।

প্রায় দশ মিনিট থেকে পনেরো মিনিট সময় পর্যন্ত এই ভাবে বেসন টুকু ভেজে নেবার পর দেখবেন বেসন থেকে ঘি আস্তে আস্তে আলাদা হতে শুরু করেছে। তখন বুঝবেন বেসনটা মোটামুটি ভাজা হয়ে গেছে। এই অবস্থায় আরো দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট বেসন ঘি এর মধ্যে ভেজে নিতে হবে।

৪র্থ ধাপ

বেসন ঘি এর মধ্যে ভাজা হয়ে গেলে এর মধ্যে আগে থেকে ফুটিয়ে গরম করে রাখা দুধ ঢেলে দিতে হবে। তবে এক্ বারে সব দুধ ঢেলে দেবেন না। তাহলে হালুয়ার মিধ্যে লাম্পস হয়ে যেতে পারে। দুই বার থেকে তিন বারের মধ্যে সব টুকু দুধ ঢেলে দিতে হবে এবং সাথে সাথে খুব ভাল ভাবে বেসনের সাথে তা মিশিয়ে দিতে হবে। বেসনের সাথে দুধ টুকু ভাল ভাবে মেশানো হয়ে গেলে এর মধ্যে আগে থেকে ভেজে রাখা বাদ্ম ও কিশমিশ গুলো দিয়ে দিতে হবে। ভাল ভাবে নেড়ে চেড়ে আরো দশ মিনিট থেকে বারো মিনিট রান্না করতে হবে। এই সময়ে চুলার আঁচ একদম কম রাখতে হবে। হালুয়া যখন প্রায় হয়ে আসবে তখন উপর থেকে কেশর ভেজানো গোলাপ জল ছড়িয়ে দিতে হবে। আরো দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট রান্না করতে হবে। ব্যাস রেডি আপনার জন্য সহজ ও সুস্বাদু বেসনের হালুয়া। ঠান্দা কিংবা গরম দুই ভাবেই এই হালুয়া দারুণ জমে যাবে।

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন