সহজ ও মজাদার কুমড়োর হালুয়া

সহজ ও মজাদার কুমড়োর হালুয়া

আমাদের দেশে মিষ্টি প্রিয় মানুষ এর সংখ্যা কিন্তু নেহাতই কম নয়। তবে হাতে বানানো মিষ্টি বলতে আমরা কিন্তু শুধু পায়েস আর সেমাইকেই বুঝে থাকি। শবে বরাত কিংবা রোজা রমযান মাসে টুকটাক হালুয়া আর বরফি যদিও বানানো হয়, তবে সেগুলোর মধ্যে খুব বেশি ভ্যারাইটি কিন্তু থাকে না। ঘুরে ফিরে সেই নারকেল এর হালুয়া, ছোলার ডালের হালুয়া আর সুজির হালুয়া। কেউ কেউ অবশ্য একটু ভিন্নতার জন্য ডিমের হালুয়া বানিয়ে থাকেন। তবে আমরা চাইলে এই হালুয়ার মধ্যে প্রচুর রকম ভ্যারাইটি নিয়ে আসতে পারি। যেমন পাকা পেপের হালুয়া, কিংবা বেসনের হালুয়া। এই দুটি রেসিপিই কিন্তু আমাদের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে। এক বার ক্লিক করে দেখতে পাড়েন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমি আপনাদের সাথে কুমড়োর হালুয়া কিভাবে বানাতে হয় তা শেয়ার করব। শুনতে একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। কিন্তু কুমড়োর হালুয়া খেতে কিন্তু মোটেও অদ্ভুত না। বরং এটা বেশ টেস্টি আর হেলদি একটা ডেজার্ট।

সবজি দিয়ে মিষ্টি বানাবার চল আমাদের দেশে খুব একটা নেই বললেই চলে। তবে কিছু কিছু সবজি দিয়ে খুব মজার মিষ্টি বানানো সম্ভব। কুমড়ো হচ্ছে সেই সব সবজি গুলোর মধ্যে অন্যতম। আসলে কুমড়ো তো এমনিতেই মিষ্টি একটা সবজি। এজন্য এই সবজিটা দিয়ে হালুয়া বানাবার জন্য খুব বেশি কষ্ট করার দরকার হয় না। আমাদের বাড়িতে সব সময় থাকে এমন কিছু সাধারণ জিনিস দিয়েই কিন্তু এই মজাদার কুমড়োর হালুয়া বানিয়ে নেয়া যায়। আসুন আর দেরি না করে কি কি উপকরণ কতটুকু পরিমাণে ব্যবহার করে কুমড়র হালুয়া বানাতে হবে তা দেখে নেই। সেই সাথে এই কুমড়োর হালুয়া কিভাবে বানাতে হবে তাও দেখে নেই চলুন।

কুমড়োর হালুয়া বানাতে যা যা লাগবে

  • কুমড়ো একটার চার ভাগের এক ভাগ
  • গ্রেট করা নারকেল ১/৪ কাপ
  • চিনি ২/৩ কাপ
  • ঘি ১/৪ কাপ
  • দুধ ১ কাপ
  • কাজু বাদাম ১০ থেকে ১২টি
  • পেস্তা বাদাম ১০ থেকে ১২টি
  • চিনা বাদাম ১০ থেকে ১২টি
  • কাঠ বাদাম ১০ থেকে ১২টি
  • কিশমিশ ১০ থেকে ১২টি
  • গোলাপ জল ১ চা চামচ
  • কেওড়া জল ১ চা চামচ
  • কেশর ৫ থেকে ৬ দানা
  • আস্ত এলাচ ১ থেকে ২টি

কুমড়োর হালুয়া যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

১ম ধাপ

একটা পাত্রে গোলাপ জল ও কেওড়া জল নিতে হবে। এর মধ্যে কেশর দানা গুলো ভিজিয়ে রাখতে হবে।

২য় ধাপ

আর একটি পাত্রে পানি নিতে হবে। এর মধ্যে কিশমিশ গুলো ভিজিয়ে দিতে হবে। প্রায় ২০ মিনিট থেকে ২৫ মিনিট কিশমিশ গুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর একতা ঝাঝরিতে অয়ানি ঝরিয়ে নিতে হবে।

এরপর একটা ফ্রাইং প্যানে এক চা চামচ ঘি গরম করতে দিতে হবে। ঘি গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম, কাঠ বাদাম ও চিনা বাদাম দিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে জল ঝরানো ফুলে ওঠা কিশমিশ গুলোও দিয়ে দিতে হবে। হালকা করে ভেজে নিতে হবে। এই সময় একতা ব্যাপার খুব খেয়াল রাখতে হবে। কোন ভাবেই চুলার জ্বাল যেন বেড়ে না যায়। কারণ চুলার আঁচ বাড়িয়ে দিলে বাদাম গুলো হুট করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুড়ে যাবে। তাই খুব অল্প আঁচে নেড়ে চেড়ে বাদাম গুলো ভেজে নিতে হবে। খুব বেশি সময় ধরে বাদাম ও কিশমিশ গুলো ভাজার দরকার নেই। দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট সময় নিয়ে নেরে চেড়ে ভেজে নিলেই দেখবেন এগুলো থেকে খুব সুন্দর একটা সুগন্ধ আসা শুরু করেছে। তখন চুলা বন্ধ করে দিলেই হয়ে যাবে।

ভেজে নেয়া বাদাম গুলো একটু ঠান্ডা হয়ে গেলে আপনার পছন্দ মত শেপে কুচি কুচি করে কেটে নিতে পাড়েন। আর যদি ইচ্ছা হয় শুধু মাঝ খান থেকে অর্ধেক করে দু ভাগে কেটে নিলেও খেতে খারাপ লাগবে না।

৩য় ধাপ

এই বার কুমড়োর টুকরাটা থেকে খোসা ছিলে নিতে হবে। এবং খুব ভাল ভাবে পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এই বার এই আস্ত টুকরাটাই পানি সিদ্ধ করতে দিতে হবে। পুরোপুরি সিদ্ধ করা যাবে না। মোটামুটি দুই ত্তৃতীয়াংশ সিদ্ধ করতে হবে। এর একটা কারণ আছে। কুমড়ো আধা সিদ্ধ করার পর আবার গ্রেট করার দরকার হয় কুমড়র হালুয়া বানাবার জন্য। আমরা যদি কুমড়োটা আগে থেকেই পুরোপুরি সিদ্ধ করে ফেলি তখন এটা আর গ্রাট করা সম্ভব হবে না। সব থেকে ভাল হয় যদি কুমড়োর টুকরোটাকে একটু স্টিম করে নেয়া হয়। এতে করে কুমড়ো নরম হয়ে যাবে কিন্তু পুরোপুরি গলে যাবে না।

সিদ্ধ হয়ে যাওয়া কুমড়োর টুকরাটাকে একটা গ্রেটারে খুব সুন্দর করে মিহি ভাবে গ্রেত করে নিতে হবে। এই গ্রেট করে নেয়া হাফ সিদ্ধ কুমড়ো আমাদের ১ কাপ পরিমাণ দরকার হবে।

৪র্থ ধাপ

এই বার একটা সস প্যানে দুধ গরম করতে দিতে হবে। দুধ এর মধ্যে আস্ত এলাচ ছেরে দিতে হবে। আপনি চাইলে আস্ত এলাচের বদলে এক চিমটি কিংবা ১/৪ চা চামচ এলাচ গুরাও দিতে পাড়েন। এরপর দুধটা ফুতাতে হবে। খুব বেশি ফুটানর দরকার নেই,। দুধটা ফুটে ওঠার পর দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট ফুটালেই হবে। আমাদের কুমড়োর হালুয়া বানাবার জন্য অনেক বেশি ঘন দুধ এর আসলে দরকার নেই। গ্রেট করা কুমড়োর সাথে জ্বাল দেবার সময় দুধ এমনি থেকেই ঘন হয়ে যাবে।

দুধটা আসলে অন্য কারণে ফুটানো হচ্ছে। প্রথমত এলাচ দিয়ে ফুটানোর ফলে দুধ এর মধ্যে খুব সুন্দর এলাচের গন্ধ যোগ হয়ে যাবে। আর দ্বিতীয়ত গ্রেট করা কুমড়ো বেশ কিছুক্ষণ ভাজার পর দুধ যোগ করতে হয়। আমরা যদি এই ভেজে নেওয়া গরম কুমড়োর মধ্যে ঠান্ডা দুধ যোগ করি তাহলে অনেক সময়ই কুমড়োর হালুয়া থেকে সেই মজার স্বাদ ও গন্ধটা মিসিং হয়ে যায়। তাই যে কোন হালুয়া বানাবার সময় যদি পরবর্তি সময়ে দুধ যোগ করা লাগে তাহলে তা গরম করে যোগ করাই ভাল।

৫ম ধাপ

এই বার একতা বড় কড়াতে ঘি গরম করতে হবে। ঘি গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে আগে থেকে গ্রেট করে রাখা কুমড়ো ও নারকেল যোগ করতে হবে। খুব কম আঁচে এই দুটো উপকরণ খুব সুন্দর ভাবে ভাজতে হবে। প্রায় দশ মিনিট থেকে পনেরো মিনিট অনবরত ভাজার পর দেখা যাবে যে কুমড়ো ও নারকেলের মিশ্রণ থেকে ঘি আলাদা হতে শুরু করেছে। তখন বুঝতে হবে যে কুমড়ো ও নারকেল এর কাঁচা ভাব একদম চলে গেছে।

এই সময়ে এই মিশ্রণ এর মধ্যে আগে থেকে গরম করে রাখা দুধ ঢেলে দিতে হবে। সেই সাথে চিনি যোগ করতে হবে। একটু নেরে চেরে মিশিয়ে দিতে হবে। আগে থেকে ভেজে কুচি করে রাখা বাদাম ও কিশমিশ গুলোও এই সময়ে যোগ করে দিতে হবে। অল্প আঁচে নেরে চেরে হালুয়াটা রান্না করতে হবে। যখন দেখনে হালুয়া প্রায় হয়ে এসেছে মানে প্রায় শুকন মত হয়ে গেছে তখন কেশ ভিজানো গোলাপ জল ও কেওড়া জল এর মিশ্রণটাও এর মধ্যে ঢেলে দিতে হবে খুব ভাল ভাবে খুনতি দিয়ে নেড়ে চেড়ে মিশিয়ে দিতে হবে। য়ারো দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট থেকে রান্না করতে হবে। ব্যাস রেডি আপনার কুমড়োর হালুয়া।

এই হালুয়াটা ঠান্দা কিংবা গরম দু ভাবেই ভাল লাগে। যদি ঠান্দা খেতে চান তবে দুই ঘন্টা থেকে তিন ঘন্টা ফ্রিজে রেখে তারপর সার্ভ করুন।

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন