ভীষণ মজার ও একদম ভিন্ন স্বাদের আপেলের হালুয়া

ভীষণ মজার ও একদম ভিন্ন স্বাদের আপেলের হালুয়া

আমাদের শরীরের সার্বিক সুস্থতার জন্য রোজ অন্তত যে কোন একটা করে ফল অবশ্যই খাওয়া উচিত। আর সেই ফলটা যদি হয় আপেল তাহলে তো আরো ভাল হয়। কারণ আপেলের মত উপকারি আর পুষ্টি গুণে ভরপুর ফল খুব কমই আছে। এজন্যই তো বলা হয়ে থাকে যে বাড়িতে রোজ একটা করে আপেল খাওয়া হয় সেই বাড়িতে কোন্ডাক্তার আসে না। এই কথাটা আসলে ছোট বড় সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে আমাদের বাসার বড়রাই তো রোজ একটা করে আপেল খেতে নানা রকম তালবাহানা করে। সেখানে বাচ্চাদেরকে নিয়মিত আপেল খাওয়ানো তো মোটামুটি যুদ্ধ জয় করার সামিল। তবে আজ আমি আপনাদের সাথে এই মহা যুদ্ধ জয় করার একতা পদ্ধতি শেয়ার করতে চলেছি। পদ্ধতিটা হচ্ছে মজাদার আপেলের হালুয়া। এই আপেলের হালুয়া বানিয়ে আপনি যে কোন বাচ্চাকে বেশ সহজেই আপেল খাইয়ে দিতে পারবেন।

আমার জানা মতে অতি সহজ কিছু রেসিপির মধ্যে একটি হচ্ছে এই আপেলের হালুয়া। খুব সহজে পাওয়া যায় এমন কিছু উপকরণ দিয়ে কিন্তু এই আপেলের হালুয়া বানানো হয়। অথচ স্বাদ ও গন্ধে এই আপেলের হালুয়া যে কোন শাহি ডেজার্ট থেকে কোন অংশে কিন্তু কম নয়। বরং অন্যান্য ডেজার্ট থেকে এর স্বাদ আরো বেশি। সেই সাথে পুষ্টি গুণের কথা আর নতুন করে নাই বা বললাম। এই আপেলের হালুয়া সকলের জন্যই ভাল, তবে বাড়ন্ত বয়সী বাচ্চাদের জন্য এটি খুব দারূন ও উপকারি একটি খাবার। এর কারণ হচ্ছে এই আপেলের হালুয়া বানাবার জন্য আপেলের সাথে সাথে দুধ, ঘি আর বিভিন্ন রকম বাদাম ব্যবহার করা হয়েছে। এই সব কটি উপকরণই বাচ্চাদের শারিরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খুব উপকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।

আপেলের হালুয়া যদিও একটূ আনকমন খাবার। কিন্তু এর উপকরণ গুলো মোটেও কিন্তু আনকমন নয়। আপেল বাদের অন্য সব উপকরণই হালুয়া বানাবার সাধারণ উপকরণ গুলোর মতই। আসুন আপেলের হালুয়া বানাতে কি কি উপকরণ কি কি পরিমাণে দরকার হবে তা জেনে নেয়া যাক। সেই সাথে এই আপেলের হালুয়া কিভাবে বানাতে হবে তাও জেনে নেই চলুন।

আপেলের হালুয়া বানাতে যা যা লাগবে

  • আপেল ২টি
  • ঘি ১/৪ কাপ
  • দুধ ১/২ কাপ
  • মাওয়া ১/৪ কাপ
  • চিনি ১/৪ কাপ
  • কাজু বাদাম ৪ থেকে ৫টি
  • কাঠ বাদাম ৪ থেকে ৫টি
  • পেস্তা বাদাম ৪ থেকে ৫টি
  • চিনা বাদাম ৪ থেকে ৫টি
  • কিশমিশ ৪ থেকে ৫টি
  • গোলাপ জল ১/২ চা চামচ
  • কেওড়া জল ১/২ চা চামচ
  • কেশর ৪ থেকে ৫ দানা

আপেলের হালুয়া যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

১ম ধাপ

প্রথমে কিশমিশ গুলো পানিতে ভিজিয়ে দিতে হবে। অন্তত ২০ মিনিট থেকে ২৫ মিনিট এগুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর আর একটা ছোট বাটিতে কেওড়া জল ও গোলাপ জল নিতে হবে। এই কেওড়া জল ও গোলাপ জল এর মিশ্রণ এর মধ্যে কেশ দানা গুলোও ভিজিয়ে দিতে হবে। কেশর দানা গুলোও মোটামুটি দশ মিনিট থেকে পনেরো মিনিট এর জন্য ভেজানো থাকতে হবে। এতে করে কেশর এর গন্ধ ও রঙ বের হয়ে গোলাপ জল ও কেওড়া জল এর মিশ্রণ এর সাথে মিশে যাবে। এবং পরবর্তিতে যখন এই মিশ্রণ আপেলের হালুয়াতে যোগ করা হবে তখন এটিই হালুয়ার টেস্টে এক অন্য মাত্রা যোগ করে দেবে।

২য় ধাপ

এই বার একটা ফ্রাইং প্যানে দুই টেবিল চামচ ঘি গরম করতে হবে। ঘি গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে একে একে কাজু বাদাম, চিনা বাদাম, কাঠ বাদাম ও পেস্তা বাদাম যোগ করতে হবে। একই সাথে কিশমিশ গুলো থেকে পানি ঝরিয়ে সেগুলোও গরম ঘি এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। খুব অল্প আচেঁ দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট ধরে বাদাম ও কিশমিশ গুলোর মিশ্রণ ভেজে নিতে হবে। এর থেকে বেশি সময় ধরে ভাজার দরকার নেই। তা না হলে বাদাম পুড়ে যেতে পারে কিংবা কড়া হয়ে যাবে। শুধু মাত্র বাদাম গুলো থেকে একটু খুশবু আসা শুরু করলেই চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে যাতে করে বাদাম গুলো একটু ঠান্ডা হয়ে যায়। বাদাম গুলো ঠান্ডা হয়ে গেলে নিজের ইচ্ছা মত শেপে এগুলো কুচি করে নিতে হবে।

৩য় ধাপ

এই বার আপেল গুলো রেডি করে নিতে হবে। এই হালুয়ার জন্য আমাদের এক কাপ মত গ্রেট করা আপে লাগবে। মোটামুটি বড় সাইজ এর দুটো আপেল যদি গ্রেট করে নেয়া হয় তাহলে এক কাপ মত গ্রেট করা আপেল পাওয়া যাবে। এর জন্য প্রথমে আপেল্র ধুয়ে পরিস্কার করে ছিলে নিতে হবে। এরপর গ্রেট করে নিতে হবে। আপেল গ্রেট করে খুব বেশি সময় রেখে দেয়া যাবে না। তা না হলে গ্রেট করা আপেল কালচে মত হয়ে যাবে। এজন্য গ্রেট করার পর যত দ্রুত সম্ভব হালুয়া রান্না করা শুরু করতে হবে।

৪র্থ ধাপ

এই বার একটা বড় কড়াতে বাকি ঘি টুকু দিতে হবে। ঘ একটু গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে গ্রেট করে রাখা আপেল দিয়ে দিতে হবে। মিডিয়াম আঁচে নারা চাড়া করে ভাজতে হবে। আপেল এমনিতেই নরম জিনিস তাই খুব দ্রুত এটি গলে যায়। এজন্য খুব বেশি সময় ধরে ভাজা লাগবে না। মোটামুটি চার মিনিট থেকে পাঁচ মিনিট ভাজলেই হবে। এই সময়ের মধ্যেই আপেল থেকে এর কাঁচা কাঁচা ভাবটা পুরোপুরি চলে যাবে।

আপেল মোতামুটি ভাজার পর এর মধ্যে গ্রেট করে রাখা মাওয়া দিয়ে দিতে হবে। মাওয়া দেবার পর আরো দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট ভেজে নিতে হবে। এরপর দেখবেন ভেজে নেয়া আপেল ও মাওয়া এক সাথে মিশে খুব সুন্দর একটা গন্ধ বের হচ্ছে। তখন এর মধ্যে চিনি ও দুধ দিয়ে দিতে হবে। চুলার জ্বাল এই সময় একদম কমিয়ে দিতে হবে। কারণ দুধ খুব দ্রুত হাড়ির তলায় লেগে যায়। এজন্য যে কোন হালুয়াতে দুধ দেবার সাথে সাথে চুলার আঁচ একদম কমিয়ে দিতে হয়। এবং পুরোটা সময় হালুয়ার মিশ্রণ নাড়া চাড়া করতে হয়।

৫ম ধাপ

আর) পাঁচ মিনিট থেকে দশ মিনিট হালুয়াটা কম আঁচে রান্না করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে হালুয়া ঘন হয়ে আসতে শুরু করবে। তখন আগে থেকে ভেজে রাখা বাদাম ও কিশমিশের মিশ্রণ ঢেলে দিতে হবে। ভাল মত সব উপকরণ এক সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। আরো দুই মিনিট থেকে পাঁচ মিনিট অল্প আঁচে নাড়া চাড়া করে রান্না করতে হবে।

৬ষ্ঠ ধাপ

আপেলের হালুয়া যখন প্রায় রেডি হয়ে যাবে তখন এর মধ্যে আগে থেকে রেডি করে রাখা গোলাপ জল, কেওড়া জল ও কেশর এর মিশ্রণটা দিয়ে দিতেহবে। ভাল মত সব কিছু এক সাথে মিশিয়ে নিয়ে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। এরপর আপনার পছন্দ মত সার্ভিং বোলে ঢেলে সার্ভ করতে হবে। এই আপ্লের হালুয়া গরম কিংবা ঠান্ডা দুই ভাবেই খাওয়া যেতে পারে। তবে এই হালুয়াটা ঠান্ডাই বেশি ভাল লাগে। তাই খাওয়া আগে দুই ঘন্টা থে তিন ঘন্টা যদি এই আপেলের হালুয়া ফ্রিজে রেখে দেয়া যায় তাহলে খুব ভাল হয়। কাহয়া আগে আপনার পছন্দ মত বাদাম কুচি কিংবা কেশর দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে পাড়েন।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন