মাইল্ড ময়শ্চারাইজিং ফেস প্যাক

মাইল্ড ময়শ্চারাইজিং ফেস প্যাক

আমাদের ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য নিয়মিত ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করাটা খুবই জরুরী। কিন্তু আমাদের দেশের মেয়েদের মধ্যে ময়শ্চারাইজার নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা আছে। যার মধ্যে দুটি ধারণা খুবই কমন। সব থেকে বড় ভুল ধারণ হচ্ছে শীত কালছাড়া যেহেতু আমাদের ত্বক শুষ্ক হয় না, তাই শীত কাল ছাড়া অন্যান্য সময়ে ময়শ্চারাইজার লাগানোর কোন দরকার নেই। আর একটি বড় ভ্রান্ত ধারণা হচ্ছে ময়শ্চারাইজার শুধু মাত্র শুষ্ক ত্বকের মেয়েদেরকেই ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু মিশ্র ত্বক কিংবা তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের কখনোই ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত না। অথচ এই দুটি ধারণাই খুবই ভুল। আর আপনার ত্বক যেমনই হোক না কেন দীর্ঘদিন যাবত ময়শ্চারাইজার ব্যবহার না করলে তা খারাপ হয়ে যেতে বাধ্য। এজন্য আমি আজ একটি মাইল্ড ময়শ্চারাইজিং ফেস প্যাক নিয়ে আলোচনা করব।

আমি আজ যে ফেস প্যাকটি নিয়ে আলোচনা করব সেটি বানাতে খুব কম উপকরণ লাগবে। এই উপকরণ গুলোর মধ্যে বেশির ভাগই ত্বকে আর্দ্রতা যোগাতে সাহায্য করে। তবে এই সব গুলো উপাদানই খুব মাইল্ড ময়শচারাইজার। এজন্য এই উপাদান গুলো ব্যবহার করলে ত্বকে আর্দ্রতা তো আসবে, কিন্তু ত্বকে বাড়তি তেলতেলে কোন ভাব আসবে না। আমাদের মধ্যে যাদের ত্বক মিশ্র কিংবা তৈলাক্ত তারা কিন্তু এই অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাবের ভয়তেই মুখে কোণ ময়শ্চারাইজার লাগাই না। সেক্ষেতের এই প্যাকটি কিন্তু খুব ভাল কাজে দিতে পারে। এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক আস্তে আস্তে বেবি সফট হয়ে যাবে। কিন্তু ত্বকে কোণ আলগা তেলতেলে ভাব আসবে না। চলুন আর দেরি না করে কি কি উপকরণ কি পরিমাণ ব্যবহার করে এই মাইল্ড ময়শ্চারাইজিং ফেস প্যাকটি বানাতে হবে তা জেনে নেই। সেই সাথে এটি কিভাবে ব্যবহার করতে হবে তাও জেনে নেই চলুন।

মাইল্ড ময়শ্চারাইজিং ফেস প্যাক বানাতে যা যা লাগবে

  • এলোভেরা জেল ১ চা চামচ
  • মধু ১/২ চা চামচ
  • টক দই ১/২ চা চামচ
  • চন্দন গুড়া ১/২ চা চা চামচ

মাইল্ড ময়শ্চারাইজিং ফেস প্যাকটি যেভাবে বানাতে হবে

প্রথমে একটা বাটিতে এলোভেরা জেল নিতে হবে।খুব ভাল হয় যদি আপনি গাছ সরাসরি পিউর এলোভেরা নিতে পাড়েন। গাছ হেকে নেয়া পিউর এলোভেরার কোন তুলনা হতে পারে না। তবে আপনি যদি গাছের পিউর এলোভেরা জেল যোগাড় করতে না পাড়েন তবে সমস্যা নেই। যে কোন ভাল ব্রান্ডের এলোভেরা জেল ব্যবহার করলেও চলবে। তবে একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন। অবশ্যই কোন ভাল দোকান থেকে ভাল ব্রান্ডের এলোভেরা জেল কিনবেন। তা না হলে যদি এলোভেরা জেলের মধ্যে ভেজাল থাকে তবে তা আপনার স্কিনের জন্য ভালর থেকে খারাপ হবে।

এলোভেরা জেলটা একটা কাটা চামচ দিয়ে আগে একটু ফেটে নিতে হবে। এতে করে এলোভেরা জেল বেশ নরম হয়ে যাবে। এর মধ্যে মধু আর টক দই যোগ করতে হবে। ভাল মত এই তিনটি লিকুইড উপকরণ একত্রে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর এই লিকুইড মিশ্রণের মধ্যে চন্দন গুড়া যোগ করতে হবে। য়াবারো ভাল ভাবে সব উপকরণের সাথে চন্দন গুড়া মিশিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন লাম্পস না থাকে। ফেস প্যাক বানানো রেডি।

মাইল্ড ময়শ্চারাইজিং ফেস প্যাকটি যেভাবে ব্যবহার করতে হবে

এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করার পূর্বে অবশ্যই খুব ভাল ভাবে মুখ ও গলার ত্বক পরিস্কার করে নিতে হবে। এর জন্য যেকোন ভাল মানের ফেস ওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। এরপর মুখ ও গলার ত্বক পরিস্কার করে ধুয়ে শুকনা করে মুছে নিতে হবে।

এরপর পরিস্কার ত্বকের উপর সুন্দর করে এই ফেস্ প্যাকটি লাগিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন মুখ ও গলার সব অংশে সমান ভাবে এই ফেস প্যাকটি লেগে থাকে। এরপর মোটামুটি ২০ মিনিট থেকে ২৫ মিনিট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যেই ফেস প্যাকটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়া উচিত। যদি এই সময়ের মধ্যেও ফেস প্যাকটি না শুকায় তবে আরো পাঁচ মিনিট থেকে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তবে চেষ্টা করবেন যেন ফেস প্যাকটি সম্পূর্ণ ভাবে মুখ ও গলার ত্বক এর উপর শুকিয়ে যায়। এতে করে এই ময়শ্চারাইজিং উপাদান গুলো থেকে সম্পূর্ণ আর্দ্রতা ও পুষ্টি ত্বক শোষণ করে নিতে পারবে।

ফেস প্যাকটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে খুব ভাল ভাবে এই ফেস প্যাকটি পরিস্কার করে নিতে হবে। এরপর একটা পরিস্কার ও নরম তোয়ালেঠান্দা পানিতে ভিজিয়ে নিংড়ে নিতে হবে। তারপর এটি দিয়ে ভালভাবে মুখ ও গলার ত্বক মুছে নিতে হবে। এই ফেস প্যাকটি ব্যবহার করার পর এই ভাবে ভুজা তোয়ালে দিয়ে মুখ ও গলা পরিস্কার করে নেয়াটা জরুরী। কারণ ফেস প্যাকটি পরিস্কার করার পরও ত্বকের উপর হালকা তেলতেলে ভাব থেকে যায়। কিন্তু ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছে নিলে এই বাড়তি তেলটাও পরিস্কার হয়ে যায়। ফলে ত্বক নরম হবার সাথে সাথে অনেক বেশি গ্লোয়িং ও ফ্রেশ লাগে।

মাইল্ড ময়শ্চারাইজিং ফেস প্যাক এর উপকারিতা

আগেই বলেছি যে এই ফেস প্যাকটি ত্বকে আর্দ্রতা যোগাবে। এবং এই প্যাকটি কোন রকম বাড়তি তেলতেলে ভাব ছাড়াই সব রকম ত্বকে আর্দ্রতার যোগান দেবে। তবে এই ফেস প্যাওটি শুধু আর্দ্রতা যোগানর জন্যই ব্যবহার করতে হবে তা কিন্তু না। এই অসধারণ ফেস প্যাকটি আর্দ্রতা যোগানোর সাথে সাথে আপনার ত্বকে আরো অনেক উপকার করবে। আসুন এই ফেস প্যাকটি ব্যবহারের বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

এলোভেরা জেলের উপকারিতা

এলোভেরা জেল আসলে যে কোন ধরণের ত্বকের জন্য একটা আশির্বাদ স্বরূপ। যদিও এই ফেস প্যাকটিতে এওটি আর্দ্রতা দানকারি উপাদান হিসেবে এই এলোভেরা জেল ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এটির উপকারিতা শুধু আর্দ্রতা দানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এলোভেরা জেল ত্বকে আর্দ্রতা দানের সাথে সাথে ত্বককে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল ও ফর্সা করে তোলে। সেই সাথে এর মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপাদান ত্বককে গভীর থেকে পরিস্কার ও জীবাণু মুক্ত রাখতে খুব সাহায্য করে। এই উপাদানটি মাইল্ড ময়শ্চারাইজারের সাথে সাথে মাইল্ড ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে।

মধুর উপকারিতা

রূপচর্চায় মধুর ব্যবহার নতুন কিছু না। রূপচর্চায় আজ না, বরং বহু প্রাচীন সময় কাল থেকেই বিভিন্ন ভাবে মধু ব্যবহার হয়ে আসছে। এই মধুর ময়শ্চারাইজিং ইফেক্টের কথা প্রায় সকলেই জানেন। সামান্য একটু মধুর ব্যবহারই আপনার ত্বকের সারাদিন এর আর্দ্রতার যোগান দিতে যথেষ্ঠ।

টক দই এর উপকারিতা

টক দই তে আছে ল্যাকটোজ এসিড। এই ল্যাকটোজ এসিড মাইল্ড স্ক্রাবারের মত কাজ করে। ফলে কোন রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই খুব ভাল মত ত্বকের হালকা একটা স্ক্রাবিং হয়ে যায়। ত্বক হয়ে ওঠে আরো গ্লোয়িং।

চন্দন গুড়ার উপকারিতা

চন্দনের ভূমিকা রূপচর্চার ক্ষেত্রে প্রায় সকলেরই জানা। চন্দন ত্বককে আস্তে আস্তে ফর্সা ও উজ্জ্বল করে তোলে।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন