বাচ্চাদের জন্য মজাদার আলু কলিজার খিচুড়ি

বাচ্চাদের জন্য মজাদার আলু কলিজার খিচুড়ি

যে কোন শিশুর জন্য বিভিন্ন রকম পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ খাবার খুবই জরুরী। একটি ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী বাচ্চাকে সাধারণত বিভিন্ন ধরণ এর খাবার এক সাথে ভাতের সাথে মেখে দেয়া যায় না। তারা খেতে চায় না। এক্ষেত্রে তাদেরকে খিচুড়ি খাওয়ানো হয়। খিচুড়িতে চাল, ডাল, সবজি, মাংস সহ নানা উপকরণ এক সাথে দিয়ে রান্না করা হয়। ফলে বাচ্চা একবারেই কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস সহ বিভিন্ন রকম পুষ্টি উপাদান পেয়ে যেতে পারে। তাছাড়া যদি বিভিন্ন রকম মশলার সংমিশ্রণে খিচুড়িটা একটু মজা করে রান্না করা যায় তাহলে তো বাচ্চারা মজা করেই সেটা খেয়ে নেবে। কারণ বাচ্চাদের টেস্ট বাড আমাদের থেকে বেশি সংবেদনশীল থাকে। তাই তাদের খাবার রান্না করার সময় আরো বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত।

আমি আগেই বলেছি বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন রকম পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ খিচুড়ি রান্না করা উচিত। আজ তাই আমি বাচ্চাদের জন্য কিভাবে আলু কলিজার খিচুড়ি বানাতে হয় তা নিয়ে কথা বলব। যে কোন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারই কিন্তু বাচ্চাদের কলিজা খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে সেই কলিজাটা দেশি মুরগিতে কলিজা হলে ভাল হয়। তবে বাচ্চাদের শারিরিক অবস্থা বুঝে কলিজা খাওয়ানো উচিত। কোন কোন ডাক্তার আট মাস বয়স থেকেই কলিজা খাওয়ানোর অনুমতি দিয়ে থাকেন। অনেকে আবার এক বছর বয়স না হলে কোন ধরণ এর কলিজা খেতে মানা করে থাকেন। এজন্য যে কোন খাবার বাচ্চাকে খাওয়ানো শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার বাচ্চার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে।

আমার বাচ্চার বয়স এক বছরের বেশি হয়ে গেছে। তাই আমি যখন তার জন্য এই খিচুড়িটা রান্না করি তখন লবণ আর চিনি দুইটাই ব্যবহার করি। কিন্তু অনেক দেশের ডাক্তাররাই কিন্তু এক বছর এর নিচে এর বয়সী বাচ্চাদের লবণ আর চিনি এই দুটো জিনিসই খেতে নিষেধ করে দেন। সেক্ষেত্রে আপনি এই দুটো উপকরণ ছাড়াই এই খিচুড়িটা বানিয়ে খাওয়াতে পাড়েন।

আলু কলিজার খিচুড়ি বানাতে যা যা লাগবে

বাচ্চাদের খাবার আসলে খুব বেশি উপকরণ দিয়ে বানানো উচিত না। কারণ খাবার এর স্বাদ খুব বেশি কমপ্লেক্স হয়ে গেলে বাচ্চারা সেটা পছন্দ করে না। এই কারণে আমি খুব কম উপকরণ দিয়েই এই আলু কলিজার খিচুড়ি বানিয়ে থাকি। আসুন কি কি উপকরণ দিয়ে এই আলু কলিজার খিচুড়ি বানাতে হবে তা দেখে নেই। যদিও আমি এখানে এক থেকে দেড় বছর বয়সী বাচ্চার মাপে উপকরণ এর পরিমাণ দিয়েছি। আপনি ইচ্ছা হলে একটূ বেশি বা কম নিতে পাড়েন আপনার বাচ্চার চাহিদা অনুসারে। আসুন উপকরণ গুলোর মাপ জেনে নেই।

  • পোলাও চাল ৩ টেবিল চামচ
  • মুগ ডাল ১ চা চামচ
  • ঘি ১ চা চামচ
  • মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ ১ চা চামচ
  • মিহি করে কুচি করে রাখা রসুন ১/২ চা চামচ
  • আদা বাটা ১/২ চা চামচ
  • মিহি করে কুচি করে রাখা টমেটো ১ চা চামচ
  • হলুদ গুড়া ১/২ চা চামচ
  • ভাজা জিরা গুড়া ১/৪ চা চামচ
  • লবণ পরিমাণ মত
  • চিনি খুব সামান্য এক চিমটি
  • পানি ১ কাপ
  • ছোট এলাচ ১টি
  • আলু ছোট একটি
  • দেশি মুরগির কলিজা ১টি

আলু কলিজার খিচুড়ি যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

১ম ধাপ

প্রথমে আলু কেটে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। আলু একটু ছোট ছোট টুকরা করে কাটলে ভাল হয়।

২য় ধাপ

এই বার কলিজা রেডি করে নিতে হবে। আমরা বড়রা যখন মুরগির কলিজা খাই তখন কিন্তু সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে সরাসরি রান্না করে খেয়ে নেই। তবে একদম ছোট বাচ্চাদের কলিজা খাওয়ানোর ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করলে ভাল হয়। যেমন কলিজাটা প্রথমে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এর পরে গরম পানির মধ্য দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এর পরে মুরগির কলিজাটা আরো এক বার খুব ভাল মত ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে সাফ করে নিতে হবে। এর পরে কলিজাটা রান্না করে বাচ্চাদের খাওয়ালে হজমে কোণ সমস্যা হবে না।

৩য় ধাপ

একটা শুকনা ফ্রাইং প্যানে মুগ ডাল হালকা ভেজে নিতে হবে। খুব বেশি ভাজা যাবে না। কারণ মুগ ডালের পরিমাণ খুব অল্প। তাই ফ্রাইং প্যান হালকা গরম থাকা অবস্থায় মাত্র ক মিনিট থেকে দুই মিনিট মুগ ডালটা একটু নেড়ে চেড়ে নামিয়ে নিতে হবে। এতে করে ডালের গন্ধ আর টেস্ট দুই টাই বেশি আসে। বাচ্চাদের খিচুড়িতে মুগ ডাল ব্যবহার করার দুটো কারণ আছে। প্রথমত এটার টেস্ট মসুর ডাল থেকে বেশি ভাল। তাই বাচ্চারা এটা ঝামেলা ছাড়াই খেয়ে নেয়। আর দ্বিতীয়ত অন্যান্য ডাল থেকে মুগ ডাল হজম করতে বেশি সুবিধা হয়।

মুগ ডাল ভাজা হয়ে গেলে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। এর পরে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। খুব বেশি সময় ভেজানো লাগবে না। মোটামুটি এক ঘন্টা থেকে দেড় ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলেই হবে। এর পরে একতা ঝাঝরিতে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।

৪র্থ ধাপ

একটা প্রেশার কুকারে ঘি গরম করতে হবে। ঘি গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে একটা এলাচ ফোড়ন দিতে হবে। এর পরে মিহি করে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ ও রসুন দিয়ে দিতে হবে। পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি লাল লাল করে ভেজে নিতে হবে। পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি গোল্ডেন ব্রাউন হয়ে গেলে আদা বাটা দিতে হবে। সেই সাথে মিহি করে কুচি করে রাখা টোমেটোও দিয়ে দিতে হবে। টমেটো গলে গেলে এর মধ্যে ভাজা জিরা গুড়া দিয়ে দিতে হবে। অল্প পানি দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে।

৫ম ধাপ

মশলা কষে তেল ছেড়ে দিলে এর মধ্যে আগে থেকে ধুয়ে রাখা চাল আর মুগ ডাল দিয়ে দিতে হবে। ভাল মত নেড়ে চেড়ে মশলা গুলোর সাথে ভাল মত মেখে নিতে হবে। পরিমাণ মত লবণ ও চিনি যোগ করতে হবে। এর পরে পানি দিয়ে সব কিছু ভাল ভাবে খুনতি দিয়ে নেড়ে মিশিয়ে নিতে হবে। প্রেশার কুকারের ঢাকনা লাগিয়ে দিতে হবে। মিডিয়াম আঁচে রান্না করতে হবে। দুইটা থেকে তিনটা সিটি উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। খুব বেশি সময় লাগবেনা। মোটমুটি পাঁচ মিনিট থেকে দশ মিনিট এর মধ্যে দুইটা থেকে তিনটা সিটি উঠে যাবে। তখন চুলা বন্ধ করে দিতে হবে।

৬ষ্ঠ ধাপ

খিচুড়ি সম্পূর্ণ সিদ্ধ হয়ে গেলে ঢাকা খুলে বের করে নিতে হবে। এক এক জন বাচ্চা এক এক ভাবে খিচুড়ি খেয়ে থাকে। কেউ কেউ সম্পূর্ণ ব্লেন্ড করে খাবার খায় সেক্ষেত্রে খিচুড়ীটা একটূ ঠান্ডা হলে একটা ব্লেন্ডারে আপনি ব্লন্ড করে নিতে পাড়েন। অনেক বাচ্চা আবার হালকা দানাদার খিচুড়ি খেতে পারে। সেক্ষেত্রে একটা বড় চামচ কিংবা ডাল ঘুটোনি দিয়ে খিচুড়িটা ঘুটে নিয়ে ঠান্ডা করে বাচ্চাদের খাওয়ানো যেতে পারে। তবে বাচ্চাকে যাই খাওয়ান না কেন তা টাটকা খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন। এক বেলার খাবার বেচে গেলে সেটা ফ্রিজে রেখে পরের বেলায় আবার গরম করে বাচ্চাকে না খাওয়ানোই ভাল।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন