মাত্র দুটি উপকরণে ঘরেই বানান ড্রাই ফেস ওয়াশ

 

যে কোন ধরণের ত্বক ভাল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখার প্রথম ও প্রধাণ শর্ত হচ্ছে ত্বক পরিস্কার রাখতে হবে। আর ত্বক পরিস্কার রাখার জন্য আমরা মূলত ফেস ওয়াশের উপরই আমরা মূলত নির্ভর করে থাকি। বাজারে তো বিভিন্ন ব্রান্ডের বিভিন্ন রকম এর ফেশ ওয়াশ পাওয়া যায়। ত্বকের ধরণ আর ব্র্যান্ড ভেদে এসব ফেশ ওয়াশের দামও কম বেশি হয়ে থাকে। তবে যে কোন ভাল ব্রান্ডের ভাল মানের ফেশ ওয়াশ কিনতে গেলে আপনাকে যথেষ্ঠ বেশি টাকাই খরচ করতে হবে। তবে কেমন হয় যদি এই ফেশ ওয়াশ বাড়িতে বসেই বানিয়ে নেয়া যায়? তাও আবার মাত্র দুটো উপকরণ দিয়ে? আজ আমি সেই উপায়টাই আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি। মানে আজ আমি আপনাদের সাথে মাত্র দুটি উপকরণ দিয়ে বানানো যায় এমন একটি ড্রাই ফেস ওয়াশ এর রেসিপি শেয়ার করতে চলেছি।

এই ড্রাই ফেশ ওয়াশের রেসিপি দেবার আগে আসুন আমরা জেনে নেই ড্রাই ফেশ ওয়াশটা আসলে কি? ড্রাই ফেশ ওয়াশ আসলে নরমাল ফেস ওয়াশের পাউডার ভার্সন। এই গুড়া ফেস ওয়াশ অল্প করে হাতে নিতে হয়। তারপর এর মধ্যে অল্প পরিমাণে পানি যোগ করে একটা পেস্ট মত বানিয়ে নিতে হয়। এর পরে অন্যান্য লিকুইড ফেস প্যাশের মত করেই এটি মুখে ম্যাসাজ করে নিতে হয়। এবং তারপর ঠান্দা পানি দিয়ে মুখ পরিস্কার করে ফেলতে হয়। আপনি যদি সঠিক ধরণের ড্রাই ফেস ওয়াশ ব্যবহার করেন তাহলে যে কোন ভাল ব্র্যান্ডের দামী ফেস ওয়াশের মতই এটি আপনার ত্বক পরিস্কার করবে। আর এই ড্রাই ফেস ওয়াশের উপকরণ গুলি যদি হয় আমাদে তচারপাশে ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান তাহলে তো কথাই নেই। এটি আপনার ত্বককে কোন রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই পরিস্কার ও জীবাণ মুক্ত করে তুলবে। আর সেই সাথে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করার কারণে আপনার খরচও অনেক কম হবে।

আমি আগেই বলেছি আজ যে ড্রাই ফেস ওয়াশ বানাবার পদ্ধতি আপনাদের সাথে শেয়ার করব সেটি মাত্র দুটি উপকরণ ব্যবহার করে বানানো হয়ে থাকে। আসুন উপকরণ দুটির পরিমাণ ও ফেস ওয়াশ বানাবার পদ্ধতি জেনে নেয়া যাক।

ড্রাই ফেস ওয়াশ বানাতে যা যা লাগবে

  • মসুর ডালের বেসন ৪ টেবিল চামচ
  • মুলতানি মাটি ৪ টেবিল চামচ

ড্রাই ফেস ওয়াশ যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

এই ড্রাই ফেস ওয়াশ বানাবার জন্য সমান পরিমাণে বেসন ও মুলতানি মাটি দরকার হবে। আমি এখানে দুটি উপকরণই ৪ তেবিল চামচ করে নিয়েছি। আমি সাধারণত এক সপ্তাহ ব্যবহার করার মত ড্রাই ফেস ওয়াশ এক সাথে বানিয়ে রাখি। আপনি আপনার প্রয়োজন মত পরিমাণে ড্রাই ফেস ওয়াশ বানিয়ে রাখবেন। শুধু একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে যে দুটি উপকরণই যেন সমান পরিমাণে নেয়া হয়। এই দুটি উপকরণ এক সাথে খুব ভাল ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর একটা পরিস্কার কাঁচের কৌটাতে এটি ভরে রাখতে হবে।

ড্রাই ফেস ওয়াশ যে পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে হবে

প্রথমে হাতে মোটামুটি এক চা চামচ পরিমাণ ড্রাই ফেস ওয়াশ নিতে হবে। এর সাথে অল্প অল্প করে পানি যোগ করে একটা মোটামুটি ঘন পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। এক চা চামচ ড্রাই ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ও গলা পরিস্কার করা হয়ে যাবে। এই ঘন পেস্ট দিয়ে মুখ ও গলার ত্বক আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। মোটামুটি দুই মিনিট থেকে তিন মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। এই সময় এই ফেস ওয়াশের সাথে সাথে মুখ ও গলার ত্বক থেকে ময়লা উঠে আসবে। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে মুখ ও গলার ত্বক পরিস্কার করে নিতে হবে।

সাধারণ কেমিকেল ফেস ওয়শ দিনে তিন বার থেকে চার বারের বেশি ব্যবহার করতে হয় না। কিন্তু এই ড্রাই ফেস ওয়াশ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরী করা হয়। এজন্য আপনি দিনে যত বার ইচ্ছা এই ড্রাই ফেস ওয়াস দিয়ে মুখ পরিস্কার করতে পারবেন। এমনি ভাবে ইচ্ছা হলে গোসলের সময় বডি ওয়াশের বদলেও এই ড্রাই ফেস ওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ড্রাই ফেস ওয়াশের উপকারিতা

এই ড্রাই ফেস ওয়াশ ব্যবহারের প্রথম ও প্রধাণ উপকারিতা হচ্ছে এটি সম্পূর্ণ ন্যাচারাল উপাদান দিয়ে তৈরী করা হয়ে থাকে। ফলে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে কিংবা বার বার ব্যবহার করলেও এটি ত্বকের কোন ক্ষতি করে না। এছাড়াও এই ড্রাই ফেস ওয়াশে রয়েছে বেসন। বেসন বহু প্রাচীন আমল থেকেই প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বেসন ত্বকের গভীর থেকে ময়লা আর জীবাণু তুলে আনে। ফলে যে কোন কেমিকেল থেকে এই বেসন ভাল মত ত্বক পরিস্কার করতে পারে।

বেসন ছাড়াও এই ড্রাই ফেস প্যাকে মুলতানি মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। মুলতানি মাটি আমাদের ত্বক থেকে বাড়তি তেল শুষে নিতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়। এটি ত্বকে নতুন করে তেল তৈরী হতেও বাধা দেয়। ফলে আমাদের ত্বক অনেক সময় পর্যন্ত সজীব আর সতেজ থাকে। সেই সাথে এটি আআদের ত্বকের রঙ হালকা করে একে ধীরে ধীরে ফর্সা করে তুলতেও সাহায্য করে থাকে।

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন