অথেনটিক ব্যানানা কেক রেসিপি

অথেনটিক ব্যানানা কেক রেসিপি

বাচ্চাদের খুব পছন্দের একটা খাবার হচ্ছে কেক। শুধু বাচ্চচা কেন, ছোট বড় যে কোন বয়সের মানুষের পছন্দের খাবারের তালিকায় কেক একদম উপরের দিকেই থাকে। তবে আমরা সাধারণত ঘুরে ফিরে দুই রকম ভাবেই কেক বানিয়ে থাকি। হয় ভ্যানিলা স্পঞ্জ কেক, কিংবা চকোলেট কেক। অথচ আপনি হয়ত জানেন না আরো হাজারটা রকমে কেক বানানো যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন ফল সহযোগে ভিন্ন ভিন্ন কেক খুবই দারুণ লাগে। আজ আমি ফল দিয়ে বানানো যায় এমনি একটি কেকেক রেসিপি শেয়ার করব। সেটি হচ্ছে অথেনটিক ব্যানানা কেক রেসিপি।

আমাদের ওয়েবসাইটে এর আগেও ব্যানানা কেক এর রেসিপি শেয়ার করা হয়েছে। তবে সেটি ছিল এগ লেস ব্যানানা কেক। মুলত যারা ভেজিটেরিয়ান এবং ডিম থাকার কারণে কেক খেতে পাড়েন না, তাদের জন্য উপযোগী করেই এই রেসিপিটা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু একদম ট্রাডিশনাল ব্যানানা কেক বানাতে কিন্তু ডিম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আজ আমি সেই অথেনটিক ব্যানানা কেক এর রেসিপিই আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

আসলে কলা খুব পুষ্টিকর একটা ফল। বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য এটা খুবই জরুরী। কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরণের খনিজ ও ভিটামিনস। তাই বাচ্চাদের সঠিক শারিরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য রোজ একটা করে কলা খাওয়া খুবই দরকার। তবে বাচ্চা কেন অনেক বড়রাও প্রতি দিন ফল খাওয়ার কথা শুনলে কান্না কাটি করা শুরু করে দেয়। সেক্ষেত্রে ফল দিয়ে বিভিন্ন রকম ডেজার্ট বানিয়ে তাদের সামনে পরিবেশন করা যেতে পারে। কারণ যে কোন ধরণের ডেজার্ট বিশেষ করে কেক তো সকলের বিশেষ করে বাচ্চাদের অনেক পছন্দ। আর সেই সাথে ভ্যানিলা আর চকোলেট ফ্লেভার বাদে অন্য ফ্লেভারের কেক বানালে সেটা বাচ্চাদের কিংবা বড়দেরও স্বাদে একটু ভিন্নতা এনে দেবে। আর রাধুণী হিসেবে আপন্নার প্রশংসা তো হবেই, সেটা তো বাড়তি পাওনা।

অথেনটিক ব্যানানা কেক বানাতে খুব বেশি উপকরণ দরকার হয় না। সাধারণ কেক বানাবার উপকরণ গুলোদিয়েই খুব সহজে এই অথেনটিক ব্যনানা কেক বানানো যায়। আসুন এই অথেনটিক ব্যানানা কেক কিভাবে বানাতে হবে আর এটা বানাতে কি কি উপকরণ লাগবে তা জেনে নেই।

অথেনটি ব্যানানা কেক বানাতে যে যে উপকরণ দরকার হবে

  • ময়দা ২ কাপ
  • বেকিং পাউডার ২ চা চামচ
  • লবণ ১ চিমটি
  • চিনি গুড়া ১ কাপ
  • মাখন ১০০ গ্রাম
  • ডিম ২টা
  • ভ্যানিলা এসেন্স ১/২ চা চামচ
  • দুধ ১/২ কাপ
  • পাকা কলা ১টি

অথেনটিক ব্যানানা কেক যে পদ্ধতিতে বানাতে হবে

১ম ধাপ

প্রথমে পাকা কলা রেডি করে নিতে হবে। আমি বেশ বড় সাইজের সাগর কলা ব্যবহার করেছি এই রেসিপি তৈরী করতে। এই জন্য একটা কলা দিয়েই রেসিপিটা হয়ে গেছে। আপনি যদি ছোট সাইজের কলা অথবা চম্পা কলা ব্যবহার করেন তবে দুটা কলা ব্যবহার করতে হবে। একদম পাকা নরম কলা ব্যবহার করতে হবে। কলা ছিলে একটা ম্যাশার কিংবা হাত দিয়ে খুব ভাল মত কলা ম্যাশ করে নিতে হবে। আরো ভাল হয় যদি কলা গুলো ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নেয়া যায়। তাহলে একদম মিহি ভাবে আর মসৃণ ভাবে পাকা কলা ব্লেন্ড হয়ে যাবে।

২য় ধাপ

এই বার দুটো ডিমের খোসা ছিলে নিতে হবে। খুব সাবধানে ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম আলাদা করে নিতে হবে। এই বার ডিমের সাদা অংশ খুব ভাল ভাবে ইলেকট্রিক এগ বিটারে বিট করে নিতে হবে। চার মিনিট থেকে পাঁচ মিনিট এগ বিটারে হাই পাওয়ারে বিট করার পর দেখা যাবে যে ডিমের সাদা অংশ একটা ঘন ফোমে পরিণত হয়েছে। ডিমের সাদা অংশের এই ঘন ফোমকে মেরাং বলা হয়ে তাহকে। কেক বানাবার সময় ডিমের সাদা অংশের মেরাং বানিয়ে নেয়াটা খুবই জরুরী। এতে করে কেক ব্যাটারে প্রচুর বাতাস প্রবেশ করে কেকের আয়তন বেড়ে যায়। এবং কেক অনেক সফট হয়। অনেকে বলেন সঠিক উপাদান দেবার পরও কেক নরম হয় না। ঠিক ভাবে কেকের মেরাং বানানো না হলে কেক কখনোই নরম হবে না।

৩য় ধাপ

ডিমের সাদা অংশের ফোমের মধ্যে এই বার কুসুম দুটো ছেড়ে দিতে হবে। একটু বিট করে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর এর মধ্যে ভ্যানিলা এসেন্স, ব্লেন্ড করা কলা দিতে হবে। এবং বিটার ব্যবয়াহ্র করে বিট করে নিতে হবে। এই উপকরণ গুলো বিট করা হয়ে গেলে দুধ যোগ করে আবারো বিট করে নিতে হবে। এরপর অল্প অল্প করে মাখন যোগ করতে হবে। এবং বিট করে নিটে হবে। এই ভাবে সব গুলো লিকুইড উপকরণ একে একে অল্প অল্প করে যোগ করতে হবে এবং খুব ভাল ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। আপনার মনে হতে পারে সব উপকরণ এক সাথে নিয়ে বিট করলেই তো হয়। এই ভাবে অল্প অল্প করে বিট করার দরকার কি? আসলে আমরা যদি হটাত করে সব উপকরণ এক সাথে ডিমের সাদা অংশের ফোমের মধ্যে দিয়ে দেই তাহলে ফোমটা ভেঙ্গে তরল হয়ে যেতে পারে। তখন আর কেক সফট হবে না। এই জন্য সব উপকরণ অল্প অল্প করে যোগ করাটাই শ্রেয়।

৪র্থ ধাপ

এই বার একতা পাত্রে সকল শুকনা উপকরণ এক সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। এর জন্য একটা পাত্রে ময়দা, চিনি আর বেকিং পাউডার নিয়ে একতা চামচ দিয়ে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর একতা বড় ছাকনিতে এই শুকনা উপকরণ গুলার মিশ্রণ ঢেলে দিতে হবে। এই বার চালনি দিয়ে এই তিনটি উপকরণের মিশ্রণ চেলে নিতে হবে। এতে করে বেকিং পাউডার সমস্ত ময়দার সাথে সমান ভাবে মিশে যাবে। এবং কেক সব দিকে সমান ভাবে ফুলে উঠবে।

৫ম ধাপ

এই বারের স্টে্পটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে একটা বড় চামচ দিয়ে অল্প অল্প করে শুকনা উপকরণের মিশ্রণ লিকুইড উপকরণের মিশ্রণে ঢালতে হবে। এবং খুব সাবধাণে আস্তে আস্তে পুরো লিকুইড উপকরণের মিশ্রণের সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এই সময় একটু ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। প্রথমের উপকরণ টুকু মিশে গেলে আবারো অল্প করে শুকনা উপকরণ লিকুইড উপকরণের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে একই ভাবে। এই ভাবে সম্পূর্ণ শুকনা উপকরণ আস্তে আস্তে লিকুইড উপকরণের মিশ্রণের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে।

এই কাজটা করার সময় তাড়াহুড়া করা যাবে না। আপনি যদি এই সময় একবারে বেশি শুকনা উপকরণ যগ করে দেন তাহলে কেক ব্যাটারে লাম্পস বেধে যেতে পারে। আর যদি এই সময়ে আপনি বেশি জোরে আড়া চাড়া করেন তাহলে ডিমের সাদা অংশের যে ফোম বানানো হয়েছিল তা থেকে বাতাস বের হয়ে যাবে। ফলে কেক আর বানানোর পর নরম থাকবে না। এই জন্য পুরো কাজটা বেশ খানিকটা সময় নিয়ে আস্তে আস্তে করাটাইবুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৬ষ্ঠ ধাপ

ইলেকট্রিক অভেন ১৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে দশ মিনিট প্রিহিট করে নিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে কেক ডাইস রেডি করতে হবে। যে ডাইসে কেক বানাতে হবে সেটার ভিতর একদম শুকনা থাকতে হবে। এই শুকনা ডাইসে অল্প একটু মাখন নিয়ে চারপাশে ব্রাশ করে দিতে হবে। এই মাখনের উপর হালকা করে ময়দা ছিটিয়ে দিতে হবে। এরপর এই ডিসের মধ্যে আগে থেকে রেডি করে রাখা কেক ব্যাটার ঢেলে দিতে হবে।

অভেন প্রিহিট হয়ে গেলে এর মধ্যে কেকের ডাইস রেখে অভেন ২০ মিনিটের জন্য সেট করে দিতেহবে। ২০ মিনিট পর একটা টুথ পিক দিয়ে কেকের মধ্যে ফুটো করে দেখতে হবে। যদি দেখেন যে টুথ পিকের গায়ে কিছু উঠে আসেনি তাহলে বুঝতে হবে কেকটা রেডি হয়ে গেছে। আর যদি দেখেন টুথ পিকটা সম্পূর্ণ পরিস্কার না কিংবা এর গায়ে অল্প সল্প কেক ব্যাটার লেগে আছে, তাহলে বুঝতে হবে কেকটা এখনো পুরোপুরি রেডি হয়নি। তখন এটি আরো পাঁচ মিনিটের জন্য বেক করতে হবে।

কেকতা রেডি হবার পর সাথে সাথেই এটি ডাইস থেকে খুলতে যাবেন না। তাহলে কেক ভেঙ্গে যেতে পারে। দশ মিনিট থেকে পএরো মিনিট কেকের জন্য স্ট্যান্ডিং টাইম দিতে হবে। এর পরে একতা ছুরি দিয়ে কেকের চারপাশ হালকা করে ডাইস থেকে আলগা করে নিতে হবে। তারপর একটা প্লেটে ঢেলে নিতে হবে। ব্যাস রেডি আপনার জন্য মজাদার অথেনটিক ব্যানানা কেক। কাটুন আর গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন