কলাপাতায় চিংড়ি পাতুরি

কলাপাতায় চিংড়ি পাতুরি

চিংড়ি মাছ যেভাবেই রান্না করা হোক না কেন সেটার স্বাদ অসাধারণ। তবে আমাদের দেশের দক্ষিণঅঞ্চলের রান্নায় কলাপাতার ব্যবহার অনেক। এই পাতায় রান্না করলে কলাপাতার একটা দারুন ফ্লেভার তারসাথে পাতা তাপে পুড়ে একটা স্মোকি ফ্লেভার নিয়ে আসে, সেটা এক কথায় অসাধারণ। আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব দক্ষিনাঞ্চলের অসম্ভব মজার রেসিপি কলাপাতায় চিংড়ি পাতুরি।

উপকরণ

ছোট চিংড়ি মাছ – ১ কাপ

বা মাঝারী / বড় চিংড়ি – ৭/৮ টি

নারিকেল কুরানো – ১/৪ কাপ  

সরিষার তেল – ২ টেবিল চামচ

সরিষা বাটা – ১ টেবিল চামচ

লবণ – ১/২ চা চামচ বা পরিমানমত

মিহি কুচানো পেঁয়াজ – ১/৪ কাপ

রসুন  – ১ কোয়া

হলুদ গুঁড়া –  সামান্য

মরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচ

ধনেপাতা কুচি – ২ টেবিল চামচ

আস্ত কাঁচামরিচ – ৪/৫ টি

বোম্বাই মরিচ –  ১ টি

কলা পাতা – ১টি  

প্রণালী

** এই ঐতিহ্যবাহী রেসিপি কলাপাতায় চিংড়ি পাতুরি তৈরির জন্য প্রথমে চিংড়ি মাছের মাথা ও খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এইখানে ব্যবহার করার জন্য ছোট চিংড়ি বা মাঝারী আকারের চিংড়ি নেয়া যেতে পারে।

** সরিষা ভাল করে ধুয়ে, পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর পাটায় বা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। তবে বাটার বা ব্লেন্ড করার সময় অবশ্যই একটু লবণ ও ১টি কাঁচামরিচ দিয়ে বাটুন, এতে সরিষার তেতো ভাব কেটে যাবে।

** এবারে খোসা ছাড়ানো চিংড়ি মাছ, কুড়ানো নারিকেল, রসুন, সামান্য লবণ দিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড বা পাটায় বেটে নিন।

** এখন একটা বাটিতে ব্লেন্ড করা চিংড়ি ও নারকেলের মিশ্রণ , সরিষা বাটা, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, দিয়ে ভালভাবে হাত দিয়ে মেখে নিন। এটা মিশানোর জন্য চামচও ব্যবহার করা যায়, কিন্তু হাত দিয়ে মাখালে এর স্বাদ আরও ভাল হবে। এতে সব মশলা চিংড়ির মিস্রনের সাথে ভালভাবে মিশবে।   

** এখন চিংড়ি- নারিকেলের মিস্রনের সাথে ধনেপাতা কুচি, মিহি পেঁয়াজ কুচি হালকা হাতে মিশিয়ে নিন। বেশি জোরে মাখাবেন না, এতে পেঁয়াজ থেকে যেমন পানি বের হয়ে যাবে তেমন পেঁয়াজ নরম হয়ে যাবে। এই রেসিপিতে পেঁয়াজ কুচি একটু কচকচে থাকবে। এরপর সরিষার তে দিয়েও আবার মেখে নিন।

** কলাপাতার ছোট টুকরা করে ধুয়ে তারপর মুছে নিন। এখন ২টি কলাপাতার টুকরার উপরে তেল ব্রাশ করে নিন। বা একটি টিস্যু বা পাতলা কাপড়ে তেল নিয়ে সেটা কলাপাতার উপরে লাগিয়ে নিন।

** মাখানো চিংড়ির মিশ্রণ কলাপাতার উপরে বিছিয়ে দিন। চিংড়ির উপরে আস্ত কাঁচামরিচ মুখের দিকে একটু চিঁড়ে দিয়ে দিন বা যারা ঝাল পছন্দ করেন তারা আস্ত বোম্বাই মরিচ রেখে,  উপরে আর একটা কলাপাতার তেলযুক্ত অংশ ভেতরের পাশে দিয়ে একটা সুতা দিয়ে বেঁধে দিন।

** চুলায় শুকনো ফ্রাইপ্যান বা তাওয়া গরম করে নিন। এখন কলাপাতার প্যাকেটটাকে গরম তাওয়া বা প্যানে রেখে উপরে একটা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন। এই সময় চুলার আঁচ অল্প রাখতে হবে। এভাবে কলাপাতার দুই পাশই একটু পোড়া পোড়া না হওয়া পর্যন্ত রান্না করতে হবে। এই জন্য মোটামুটি ১ পাশ হতে ১০-১২ মিনিট লাগতে পারে।

** কলাপাতার দুই পাশে যখন পোড়া পোড়া হয়ে যাবে তখন তুলে নিন। কলাপাতা খুলে নিন, আর থেকে যে এক সুন্দর ঘ্রাণ বের হবে সেটা এক কথায় অসাধারণ।

** কলাপাতার চিংড়ি পাতুরি পরিবেশনের জন্য গরম সাদা ভাত আর এক টুকরো লেবুই যথেস্ট।

কলাপাতা খোলার পরে চিংড়ি পাতুরির উপরে সামান্য কাঁচা সরিষার তেল দিয়ে দেয়া যায়। তবে কেউ না চাইলে বাদ দিতে পারেন।

** একবার ট্রাই করে দেখুন গ্রাম-বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী কলাপাতায় চিংড়ি পাতুরি, বার বার খেতে মন চাবে। 

মন্তব্যসমূহ

নিজের পরিচয় দিতে গেলে সবার আগে বলব, আমি একজন মা। তার সাথে একজন হোমমেকার, শিক্ষক ও ব্লগার। লিখতে ভালবাসি। তার চাইতে ভালবাসি পড়তে, জানতে। এইতো! ছোট এক জীবনে অনেক কিছু, আলহামদুলিল্লাহ!!

মন্তব্য করুন