ফর্সা হতে মাত্র দুটি উপকরণের ফেস প্যাক

ফর্সা হতে মাত্র দুটি উপকরণের ফেস প্যাক

উজ্জ্বল ফর্সা ত্বক যেকোন বাঙ্গালী নারীর প্রথম চাওয়া। আসলে ফর্সা ত্বক আমরা সকলেই চাই। কিন্তু দূষিত পরিবেশ আর করা রোদের তাপের কারণে এই ফর্সা ত্বক পাওয়াটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তার উপর যদি রোজ রোজ বাসার বাইরে বের হওয়া লাগে কিংবা প্রতি দিন চুলার আগুনের তাপে রান্না করা লাগে তাহলে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখাটা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সমস্যা যেমন থাকে তার সমাধানও আমাদের আশে পাশেই কোথাও থাকে। আমাদের কাজ হচ্ছে শুধু সঠিক সমাধানটা খুজে বের করা। আর যে কোন ত্বক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে প্রাকৃতিক উপাদানের থেকে বড় আর কার্যকারি সমাধান আর কিছু হতে পারে না। আজ তাই আমি ফর্সা ত্বক পাবার জন্য ভীষণ ভাবে কার্যকরি একটা প্রাকৃতিক ঘরোয়া ফেস প্যাক এর রেসিপি শেয়ার করব।

এই ফেসপ প্যাকটি মাত্র দুটি উপাদান দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু এই দুটি উপাদানই ত্বক এর উপর ম্যাজিকের মত কাজ করতে পারে। বিশেষ করে ত্বককে ফর্সা করার জন্য এই উপাদান দুটির কোন তুলনা হয় না। আর মাত্র দুটি উপাদান হবার কারণে এই ফেস প্যাকটি বানানো ও ব্যবয়াহ্র করা যথেষ্ঠ সাশ্রয়ী। অন্তত বাজারে যে সকল নামি দামি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সা কারি ক্রীম কিনতে পাওয়া যায় সেগুলো থেকে তো এই ফেস প্যাক অনেক অনেক বেশি সাশ্রয়ী। আর সব থেকে বড় কথা এই সকল ত্বক ফর্সাকারি ক্রীমের কিছু না কিছু সাইড ইফেক্ট থেকেই যায়। কিন্তু ঘ্রোয়া উপাদান ব্যবহার করে এই ফেস প্যাক তৈরী হবার কারণে এটির কোন সাইড ইফেক্ট নেই। তাই আপনি আওনার ত্বক ফর্সা করার জন্য এবং এই উজ্জ্বল রঙ ধরে রাখার জন্য যত দিন ইচ্ছা তত দিন এই ফেস প্যাক ব্যবহার করতে পারবেন।

আসুন কি কি উপকরণ কি পরিমাণে ব্যবহার করে এই ফেস প্যাক বানাতে হবে তা জেনে নেই। সেই সাথে এটি ব্যবহারের নিয়ম ও কিছু সাধারণ সতর্কতাও জেনে নেয়া যাক।

ফেস প্যাক বানাতে যে যে উপাদান লাগবে

  • চন্দন গুড়া ১ চা চামচ
  • লেবুর রস দেড় চা চামচ

ফেস প্যাক যেভাবে বানাতে হবে

একটা পাত্রে চন্দন গুড়া নিতে হবে। এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। একটা সফট ও স্মুথ পেস্ট তৈরী হবে। ফেস প্যাক যদি খুব বেশি ঘন মনে হয় তবে সামান্য পানি যোগ করা যেতে পারে।

ফেস প্যাক যেভাবে ব্যবহার করতে হবে

যে কোন ফেস প্যাক ব্যবহার করার আগে মুখ ও গলার ত্বক ভাল ভাবে পরিস্কার করে নেয়াটা খুবই জরুরী। এর জন্য প্রথমে আপনার ত্বককে স্যুট করে এমন একটা ফেস ওয়াশ দিয়ে আপনার মুখ ও গলার ত্বক ভা মতন পরিস্কার করে নিতে হবে। এরপর একতা পরিস্কার শুকনা তোয়ালে দিয়ে মুখ ও অলার ত্বক শুকনো করে নিতে হবে। এর পরে শুকনো ত্বক এর উপর এই তৈরী করে রাখা ফেস প্যাক সমান ভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। ২০ মিনিট থেকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে এইই ফেস প্যাক একদম শুকিয়ে যাবে। আর ফেস প্যাক যদি না শুকায় তবে আরো ৫ মিনিট অপেক্ষা করা যেতে পারে। এর পরে ঠান্দা পানি দিয়ে ত্বক ভাল ভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে। ভাল ফলাফলের জন্য সম্ভব হলে প্রতি দিন এক বার করে এই ফেস প্যাকটি ত্বকে ব্যবহার করতে হবে।

ফেস প্যাক ব্যবহারের সতর্কতা

এই ফেস প্যাকটিতে লেবুর রস ব্যবহার করা হয়েছে। লেবুর রস হচ্ছে প্রাকৃতিক ব্লিচ। যে কোন কেমিকেল ব্লিচের মতই লেবুর রস মেখে সরাসরি তাপের কাছে আসলে ত্বক পুরে কালো হয়ে যেতে পারে। এই কারণে এই ফেস প্যাকটি ব্যবহার করে এক ঘন্টা থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে কোন ভাবেই বাইরে রোদে যাওয়া যাবে না। একই ভাবে এই সময়টাতে চুলার আগুনে রান্না করাও যাবে না। এই জন্য খুব ভাল হয় যদি রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এই ফেস প্যাক ব্যবহার করে যায়।

ফেস প্যাকটির উপকারিতা

এই ফেস প্যাকে যে দুটি উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে দুটি উপকরণই তাদের ত্বক ফর্সা কারি গুণাবলির জন্য পরিচিত। বহু প্রাচীণ কাল থেকেই রূপচর্চায় চন্দন গুরা ব্যবহার হয়ে আসছে এর এই ত্বক ফর্সাকারি গুণের জন্য। চন্দন নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের উপরিস্তর আস্তে আস্তে হাওকা হয়ে যায়। আর এটি ব্যবহারের কোন সাইড ইফেক্টও নেই।

এছারা লেবু হচ্ছে প্রাকৃতিক ব্লিচ। যে কোন কার্যকরি কেমিকেল ব্লেচের মতই এটি ত্বকের উপরিভাগ আস্তে আস্তে হালকা করে দেয়। তাছাড়া লেবুর রসে আছে এন্ট ব্যাকটেরিয়াল প্রোপার্টিজ। ফলে এটি ত্বককে বিভিন্ন জীবাণু থেকে রক্ষা করে। ফলে ত্বকে কোন ব্রণের আক্রমণ হয় না। আর ব্রণ থাকলেও সেগুলো নির্মুল হয়ে যায়।

 

মন্তব্যসমূহ

আমি সাদিয়া রিফাত ইসলাম। একজন মা , হোমমেকার এবং ব্লগার। ভালভাসি রান্না করতে, বই পড়তে এবং লেখালেখি করতে।

মন্তব্য করুন